Home তোমাদের গল্প কাজলপরী

কাজলপরী

ফাতেমা আক্তার রিমি

kajolpuriঅনেক অনেক দিন আগের কথা। স্বপ্না নদী নামে ছোট্ট একটি নদীর তীরে গড়ে উঠেছিল একটি ছোট্ট গ্রাম। সেই  গ্রামে বাস করত এক বুড়ো আর এক বুড়ি। গ্রামটির পাশেই ছিল একটি বড় বন। সে বনে কাঠ কেটে তা বিক্রি করে বুড়ো আর বুড়ির সংসার বেশ ভালোই চলত। কিন্তু তাদের কোনো ছেলেমেয়ে ছিল না। এ নিয়েই তাদের মনে ছিল ভীষণ দুঃখ। একদিন বুড়ো কাঠ কাটতে গেলো, বুড়ি গেলো নদীতে পানি আনতে। হঠাৎ বুড়ির চোখে পড়ল নদীর স্রোতে ভেসে আসা আপেলের মতো একটি ফল। ফলটি যখন কাছে এলো, বুড়ি ফলটি হাতে নিয়ে দেখল আপেল নয়, এটি একটি মম ফল। বুড়ো আসলে খাবেÑ এই ভেবে বুড়ি ফলটি ঘরে নিয়ে রাখল।
সন্ধ্যাবেলায় বুড়ো বাড়ি ফিরে ফলটি দেখে তো মহা খুশি। এত বড় মম ফল সে আগে কখনও দেখেনি। অনেক আশা নিয়ে বুড়ো যখন কাটতে শুরু করল, সাথে সাথে ফলটি দুই ভাগ হয়ে গেল। আর ভেতর থেকে  বেরিয়ে এল ফুটফুটে ছোট্ট একটি মেয়ে। এমন সুন্দর একটি মেয়ে পেয়ে নিঃসন্তান বুড়ো-বুড়ি তো আনন্দে আত্মহারা!
অনেক আদর যতেœ তারা মেয়েটিকে লালন পালন করতে লাগল। তার নাম দিল কাজলপরী।
হঠাৎ একদিন ঘটল এক অদ্ভুত কাণ্ড! রাতে ঘুমের মধ্যে বুড়ো স্বপ্নে দেখল সে এক বিশাল সুসজ্জিত রাজপ্রাসাদে ঘুমিয়ে আছে। ঘুম ভাঙলে সত্যিই বুড়ো রাজপ্রাসাদে রাজার পোশাক পরিহিত অবস্থায় নিজেকে আবিষ্কার করল।
সেই থেকে শুরু হলো বুড়ো আর বুড়ির রাজকীয় জীবন। দেখতে দেখতে কাজলপরীও বেশ বড় হয়ে উঠল। একদিন বুড়ো রাজার কাছে কাজলপরী একটি পুকুরের জন্য বায়না ধরল। কাজলপরীর ইচ্ছা পূরণ করতে রাজার নির্দেশে হাজার হাজার লোক পুকুর খোঁড়ার কাজ শুরু করে দিলো। এক সপ্তাহের মধ্যে পুকুর খোঁড়ার কাজ শেষ হলো।
কিন্তু পুকুরে এক ফোঁটা পানিও উঠল না। এ নিয়ে বুড়ো রাজা চিন্তায় পড়ে গেল। এরই মাঝে এক রাতে বুড়ি রানী স্বপ্ন দেখল যদি কাজলপরী তিন দিন পুকুরের মাঝখানে ধ্যানমগ্ন থাকে তবেই সেখানে পানি উঠবে। স্বপ্নের কথা শোনার সাথে সাথেই কাজলপরী তাতে রাজি হয়ে গেল। সেখানে তিন দিন থাকার ব্যবস্থা করা হলো। পুকুরের মাঝখানে দুই দিন থাকার পর তৃতীয় দিনে পুকুরে একটু একটু পানি উঠতে শুরু করল। তার পর হঠাৎ চার পাশ থেকে পানি এসে কাজলপরীকে ঘিরে ফেলল।
কাজলপরীকে আর খুঁজে পাওয়া গেল না। এমনকি তার লাশটিরও খোঁজ মিলল না। তার পর থেকে পুকুরটির নাম হলো কাজলদিঘি। এরপর শত শত বছর পেরিয়ে গেলেও পুকুরটির পানি শুকায়নি কখনো। শত চেষ্টাতেও কেউ পারেনি তার পানি সেচে ফেলতে। আজও যেন কাজলপরীর সেই স্মৃতি ভেসে বেড়াচ্ছে পুকুরে টলটলে পানিতে।

SHARE

Leave a Reply