Home ফিচার যেভাবে এলো চুয়িংগাম

যেভাবে এলো চুয়িংগাম

নাজনীন নাহার

Chuyenggamচুয়িংগাম আমেরিকার একটি অভিনব আবিষ্কার। চিউইং শব্দের অর্থ চর্বণ বা চিবানো। মানুষের চিবানোর অভ্যাস থেকেই বাংলায় চুইংগাম বা চুয়িংগামের সৃষ্টি। ১৮৬০ সালে রাবার শিল্প নিয়ে গবেষণা চালানোর সময় চুইংগাম তৈরির সূত্র পাওয়া যায়। তবে এর পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটে ১৮৬৯ সালে। চুইংগাম আবিষ্কারের আগে মেক্সিকো ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের লোকদের মধ্যে ‘চিকল’ নামের এক রকম জিনিস চিবানোর অভ্যাস ছিলো। চিকল মধ্য আমেরিকার সেপোডিলা নামে এক ধরনের গাছের ছাল বা বাকল থেকে তৈরি গাম। এই চিকল চিবানো থেকেই কালক্রমে চুইংগাম তৈরি শুরু হয়। চিকলই এখন চুইংগাম তৈরির প্রধান কাঁচামাল। চুইংগামে মোটামুটি বিভিন্ন অনুপাতে উপাদান থাকে। এই যেমন- শতকরা ২২-২৫ ভাগ গাম বেস, ৫০-৬০ ভাগ পাউডার চিনি, ১২-২০ ভাগ ভুট্টা সিরাপ এবং ১-২ ভাগ রঙ ও সুগন্ধ দ্রব্য।
প্রস্তত পদ্ধতিটা মোটামুটি এ রকম- প্রথমে গামকে ধুয়ে সেদ্ধ করে গলিয়ে ফিল্টারের সাহায্যে শোধন করা হয়। তারপরে এর সাথে অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপাদান পরিমাণ মতো মিশিয়ে জ্বালাতে হবে। জ্বালানোর জন্য প্রায় ৭৯.৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ১৭৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রার দরকার হয়। জ্বালানো অবস্থাতেই তা ধীরে ধীরে শক্ত এবং চিবানোর জন্য উপযোগী হয়ে ওঠে। ছাঁচের মধ্যে গাম ভালভাবে জমাট বাঁধলে ঠাণ্ডা করে তা কাটা হয়। তারপর প্যাকেট করে তা বাজারজাত করা হয়।
এখন পর্যন্ত পৃথিবীতে নেদারল্যান্ডের মানুষই সবচেয়ে বেশি চুইংগাম খেয়ে থাকে। সেখানে বছরে মাথাপিছু প্রায় ০.৯ কেজি (২ পাউন্ড) চুইংগাম বিক্রি হয়।
তথ্যসূত্র : ইন্টারনেট

SHARE

Leave a Reply