Home কুরআন ও হাদিসের আলো হাদীসের আলো মুসলিমের দোষ-ত্রুটি গোপন রাখা

মুসলিমের দোষ-ত্রুটি গোপন রাখা

হযরত আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে বান্দাই অন্য বান্দার দোষ-ত্রুটি এ পার্থিব জগতে গোপন রাখবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবেন। (মুসলিম শরীফ)

প্রিয় বন্ধুরা, মানুষ মাত্রই ভুল করে থাকে। কেউ কম কেউ বেশি। তবে প্রত্যেকটি মানুষের উচিত অন্যায় ও পাপের কাজ থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করা। তবে কেউ অন্যায়-পাপ কাজে জড়িত হয়ে গেলে অন্য কারো সেটা মানুষের সামনে বলে বেড়ানো-প্রচার করা কোনো সঠিক কাজ নয়। বরং তা না করে যে ব্যক্তি ভুল পথে পরিচালিত তাকে আন্তরিকতার সাথে ব্যক্তিগতভাবে শোধরানোর কাজ তথা সঠিক পথে নিয়ে আসার কাজ করা যেতে পারে। কেননা আল্লাহতায়ালা বলেন : “যেসব লোক চায়, ঈমানদার লোকদের মধ্যে নির্লজ্জতা-বেহায়াপনা বিস্তার লাভ করুক, তাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে রয়েছে কঠিন শাস্তি।” (সূরা আন-নূর : ১৯)
প্রিয় বন্ধুরা, আমরা অনেকেই একটি খারাপ অভ্যাসের সাথে পরিচিত। তা হলো কোনো খারাপ কাজের কোনো সংবাদ পেলে তা মানুষের মাঝে ঢাকঢোল পেটানো। এতে সমাজে খারাপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ থেকে বেঁচে থাকার জন্য হাদীসে বিশেষভাবে নির্দেশ এসেছে। যেমন, হযরত আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূল (সা) কে বলতে শুনেছি : আমার উম্মতের সবার গুনাহ মাফ হবে, কিন্তু দোষ-ত্রুটি প্রকাশকারীদের গুনাহ মাফ হবে না। দোষ-ত্রুটি এভাবে প্রকাশ করা হয় : কোন ব্যক্তি রাতের বেলা কোনো (খারাপ) কাজ করলো। আল্লাহ তার এ কাজ গোপন রাখলেন। সে (সকালবেলা) নিজেই বলবে, হে অমুক! আমি গত রাতে এই এই কাজ করেছি। অথচ সে রাত যাপন করেছিল এমন অবস্থায় যে, আল্লাহ তার কাজগুলো গোপন রেখেছিলেন। আর সকালবেলা আল্লাহর এ আড়ালকে সে সরিয়ে দিল।
সুতরাং প্রিয় বন্ধুরা, আমরা নিজেরা খারাপ-মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য সচেষ্ট হই। পাশাপাশি এ সিদ্ধান্ত নিই যে, কোনো খারাপ-পাপের কাজ সম্পর্কে শুনলে তা প্রচার না করে বরং পাপের সাথে জড়িত ব্যক্তিকে সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ করবো ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ আমাদের কবুল করুন। আমিন॥
মোহাম্মদ ইয়াসীন আলী

SHARE

Leave a Reply