Home ফিচার অবিশ্বাস্য জয়

অবিশ্বাস্য জয়

হাসবিতুল হাসান নিঝুম

পঞ্চম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষা দিয়ে ষষ্ঠ শ্রেণীতে উঠেছি। ধরাবাঁধা নিয়মকে দূরে ঠেলে আমাদের নেশা হয়ে উঠল খেলা। বিভিন্ন ক্লাসের সাথে বাজিতে ক্রিকেট খেলা রাখতাম। আমার বন্ধুদের পরস্পরের ঐবধৎঃষু সম্বোধন ছিল মামু। আমরা সবাই মোটামুটি ক্রিকেট খেলায় পারদর্শী। ব্যাটিংয়ের কথা বললে প্রথম নাম হবে ‘সাদ্দাম’। বোলিংয়ে হলো সজীব। আলরাউন্ডার খোকন এবং ঝড় কাপালি হলো আবদুল্লাহ।
ষষ্ঠ শ্রেণীর শুরু থেকেই বিভিন্ন শ্রেণীর সাথে খেলতাম। কোনোটাতে জিততাম আবার কোনোটাতে হারতাম। তবে সবচেয়ে স্মরণীয় জয় হলো অষ্টম শ্রেণীর বিপক্ষে।
২০১১ সালের ঘটনা। আমাদের দলে আছে সাদ্দাম, সজীব, খোকন, শরীফ (সার্বজনীন মামু), আবদুল্লাহ, শওকত, রিফাত, মাসুদ, এখলাস, সারোয়ার এবং আমি। অষ্টম শ্রেণীর দলে আছে আনোয়ার, মাসুদ, সবুজ, জামান, পারভেজ, জাহিদ আসাদুল, আলামিন, রাহাত, খায়রুল ও সাদেক। তারা সকলেই ভালো খেলোয়াড়।
খেলাটা হয়েছিল বুধবার (আমাদের স্পোর্টস ক্লাস)। প্রধান শিক্ষকের কাছে আবেদনপত্র জমা দিয়ে খেলার জন্য অর্ধ দিবসের ছুটি নিয়েছিলাম। খেলার জন্য মাঠে নামার পর টস হলে তারা টস জিতলো। তারা ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিলো।
প্রথম ওভার করলো সজীব। রান দিলো পাঁচ। অতঃপর খোকন, সাদ্দাম, রিফাত, শওকতÑ এরা সবাই ওভার করে ১২৫ রানের ইনিংস শেষ করলো। সজীব ৩টি, সাদ্দাম ৩টি ও খোকন ২টি উইকেট পেলো। আমাদের টার্গেট ১২৬। প্রতি ওভারে রান তুলতে হবে ১০.৫ করে। কারণ তা ছিল ১২ ওভারের খেলা। আমাদের পক্ষে তা ছিল একরকম অসম্ভব!
সাদ্দাম ব্যাটিংয়ে ভালো হলেও ক’দিন ধরে তার ব্যাট থেকে রান আসছিলো না। ওপেনিংয়ে নামল খোকন ও আবদুল্লাহ। আনোয়ারের প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলে খোকন ক্যাচ আউট। আমরা ভাবলাম হেরে গেছি। সাদ্দামকে বুঝিয়ে মাঠে নামালাম। পঞ্চম বলে সাদ্দাম এক রান নিলো। লাস্ট বলে আবদুল্লাহ আউট! এবার আমরা নিশ্চিত হেরে গেছি। নামলো সজীব। কিন্তু সাদ্দামের সেদিনের ব্যাটিং ঝড়ে মাত্র ৮.৫ ওভারে আমরা জিতে গেলাম। অবিশ্বাস্য জয়! আমরা সকলে মামু মামু বলে চিৎকার করে উঠলাম। সাদ্দাম সেদিন ক্রিকেটদানব ক্রিস গেইলের মতো ব্যাটিং ঝড় তুলেছিল। তার পর থেকে অনেকে তাকে ক্রিস গেইল বলে সম্বোধন করেছিল। এতো কঠিন একটা ম্যাচ এতো সহজে জিতে গেলাম।
এবার মোদের ঠেকায় কে?

SHARE

Leave a Reply