Home আইটি কর্নার বন্ধুত্বের বৃত্ত উবুন্টু

বন্ধুত্বের বৃত্ত উবুন্টু

মো: শামীমুজ্জামান

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। বন্ধুরা! আশা করি আল্লাহর রহমতে ভালো আছো! আজ তোমাদেরকে জানাবো আমার আরেক বন্ধুর কথা। যার জন্মই হয়েছে বিপ্লব বা স্বাধীনতার সার্থক উপমা হিসেবে। নাম তার ‘উবুন্ট’ু। যার আবির্ভাব স্বপ্নের তিন বিপ্লবী রাজপুত্রের সমন্বয়ে। উবুন্টু নামটা কেমন কেমন মনে হচ্ছে, তাই না! উবুন্টু শব্দটা দক্ষিণ আফ্রিকান হলেও অর্থটা কিন্তু বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। এর অর্থ হলো ‘যঁসধহরঃু ঃড় ড়ঃযবৎং’ বা সবার জন্য মানবতা। উবুন্টুর লোগোর আরেকটি নাম হচ্ছে সার্কেল অব ফ্রেন্ড যা সহজ বাংলায় বন্ধুত্বের বৃত্ত। তোমরা একটু গভীরভাবে খেয়াল করলেই দেখতে পাবে, উবুন্টুর এই লোগোটি তিনজন ভিন্ন বর্ণের মানুষ যেন হাতে হাত রেখে সীসাঢালা প্রাচীরের মতো একটা বন্ধন বৃত্ত তৈরি করেছে, যা ব্যাপক অর্থ বহুল তথা উবুন্টু নামের সাথে এর লোগো, কর্ম বা চরিত্রের ব্যাপক মিলনই বলে দেয় এর উদ্দেশ্য কত মহৎ আর লক্ষ্য কত সুদূরপ্রসারী। অপারেটিং সিস্টেম উবুন্টুর লক্ষ্য হচ্ছে, সকল মানুষ যাতে কম্পিউটারে বিনামূল্যে অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করতে পারে। শুধু তাই নয়, ওপেন সোর্সের মন্ত্রে উজ্জীবিত উবুন্টু বিশ্বাস করে যে, কম্পিউটার সফটওয়্যার কারো কুক্ষিগত হতে পারে না, সবাই স্বাধীনভাবে এটা ব্যবহারের অধিকার রাখে। সে জন্য উবুন্টু ব্যবহারে কোনো টাকা পয়সা লাগে না, বিনে পয়সায় যে কেউ এ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করতে পারে।

শৃঙ্খলিত বিশ্বে মুক্ত অপারেটিং সিস্টেম
সার্ভার ও ডেস্কটপ পিসির বাজার যখন বেশির ভাগই মাইক্রোসফট বা অ্যাপেল ম্যাকের মতো বড় বড় কোম্পানিগুলোর অধীনে অর্থাৎ ব্যবসানির্ভর বা কমার্শিয়াল সফটওয়্যার কোম্পানিগুলো যখন পৃথিবীর মানুষের তাদের হাতের মুঠোয় পুরে ফেলার সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, ঠিক তখনই সময়ের এক সাহসী প্রতিবাদী সন্তান একাই দাঁড়িয়ে গেলেন ঐসব বাঘা বাঘা ব্যবসানির্ভর কোম্পানির বিপক্ষে। শুরু হলো আরব্য উপন্যাসের মতো আরেক সিন্দাবাদের কাহিনী। শৃঙ্খলিত বিশ্বকে কিছু কমার্শিয়ালদের গোলামির জিঞ্জির ভেঙে বিশ্ব মানবতাকে রক্ষার এক দুঃসাহসিক অভিযাত্রা! কী পরিমাণ সাহস, কী পরিমাণ ধীশক্তিসম্পন্ন মেধা, নিজের প্রতি কী পরিমাণ আত্মবিশ্বাস থাকলে মানুষ এমন দুঃসাহসিক চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে পারে! তা-ও আবার বিশ্ব সেরা পুঁজিপতিদের বিপক্ষে! কমার্শিয়াল সফটওয়্যার কোম্পানিগুলো চাচ্ছিল, সফটওয়্যার লিখতে যেই কোডগুলো দরকার সেগুলোকে নিজেদের আয়ত্তে রাখবে, পৃথিবীর আর কেউ সেগুলো দেখতে পারবে না। সেই কোড দিয়ে যে সফটওয়্যার তারা তৈরি করবে, মানুষ কেবল সেগুলোই টাকা দিয়ে কিনে ব্যবহার করতে পারবে। কেউ সেগুলো নিজের ইচ্ছেমতো সেসব কোড পাল্টাতে পারবে না বা কাস্টমাইজ করতে পারবে না। সফটওয়্যার তথা সমগ্র কম্পিউটার বিশ্ব থাকবে তাদের পদতলে! কিন্তু ঐ প্রতিবাদী তরুণটি এমন সূক্ষ্ম সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র মেনে নিতে পারলেন না। তিনি এসব অনুচিত ও অনৈতিক পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ করলেন। তিনি বললেন, সবকিছুই হতে হবে ওপেনসোর্সভিত্তিক অর্থাৎ সবাই সব সোর্স কোড দেখতে পাবে, নাড়াচাড়া করতে পারবে, নিজের সৃষ্টিশীলতাকে কাজে লাগিয়ে নতুন কিছু তৈরি করবে। সোর্স কোড কুক্ষিগত করে রাখার অধিকার কারো নেই! বাঁধাধরা নিয়ম দিয়ে সফটওয়্যার ব্যবস্থাপনাকে আটকে ফেলা হবে চরম স্বার্থপরতা। সফটওয়্যারের উন্নয়নের স্বার্থে এটা মেনে নেয়া হবে না। সেই সাহসী কণ্ঠস্বরের দুঃসাহসিক তরুণটি হলেন- রিচার্ড স্টলম্যান। উল্লেখ্য, এই সোর্স কোড হচ্ছে একটা প্রোগ্রামের সেই কোড যার ওপর পুরো সফটওয়্যার দাঁড়িয়ে থাকে। এই কোড যদি কেউ পায় তাহলে ইচ্ছে করলেই সে সেই প্রোগ্রামে পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করতে পারবে।

অক্টোপাসের হাত থেকে বিশ্ববাসীকে বাঁচানোর লড়াই
প্রায় অসম্ভব এই অধিকার বা চাওয়াকে প্রতিষ্ঠার জন্য বিদ্রোহী ও প্রখর মেধাবী প্রোগ্রামার হিসেবে খ্যাত রিচার্ড স্টলম্যান একাই যুদ্ধ ঘোষণা করলেন কমার্শিয়াল সব সফটওয়্যার কোম্পানিগুলোর রাজত্বের বিরুদ্ধে। শুরু করলেন সামগ্রিক তৎপরতা। ধীরে ধীরে তার সাথে যোগ দিলেন অনেকই। তাদের সমন্বয়ে গড়ে তুললেন নিজেদের মুক্ত রাজত্ব গ্নু (এঘট)। সে রাজত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য এবং কমার্শিয়াল সফটওয়্যার কোম্পানিগুলোর বিপক্ষে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য একটা অপারেটিং সিস্টেমের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। তারা ভালোভাবেই বুঝতে পারে, বিপক্ষ শক্তি যে অস্ত্র নিয়ে বিশ্বকে কুক্ষিগত করতে আদাজল খেয়ে নেমেছে, তাদেরকে প্রতিহত করতে, বিকল্প তেমন ধরনের অতি ধারালো অস্ত্র দরকার।
চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার এ কঠিন সময়ে তেমনি এক অস্ত্র নিয়ে সেই সময়ে গ্নু (এঘট) রাজ্যের পাশে এসে দাঁড়ায় ভিনদেশী আরেক রাজপুত্র, নাম তার লিনুস টরভাল্ডস। সঙ্গে নিয়ে আসেন তার সদ্য আবিষ্কৃত অস্ত্র ‘লিনাক্স’। এরপর লিনাক্সকে কেন্দ্র করে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে ফ্রি ওপেনসোর্স সফটওয়্যারের বিশাল সাম্রাজ্য। আর সে সাম্রাজ্যের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ারও হয়ে ওঠে লিনাক্স। সেই সাম্রাজ্যের সুনাম চারিদিকে বিকিরিত হতে থাকে জ্যামিতিক হারে। কেননা, ভাইরাসের ভয়াবহতায় বিশ্ব যখন দিশেহারা, তথ্যের নিরাপত্তা (উধঃধ ঝবপঁৎরঃু) নিয়ে যখন সবাই উদ্বিগ্ন, হ্যাকারদের উৎপাতে যখন সবাই হতাশাগ্রস্ত তখন ‘লিনাক্স-অপারেটিং সিস্টেম’ এর মাধ্যমে, গ্নু (এঘট) কম্পিউটার জগতে বয়ে দেয় শান্তির পরশ। যদিও সেই শান্তির পরশ দেয়া হাতিয়ারে প্রান্তিক ইউজারদের জন্য কিছুটা সীমাবদ্ধতা ছিল বা বর্তমান আছে। লিনাক্স-অপারেটিং সিস্টেমটি, সার্ভার বা সুপার কম্পিউটারের মতো ‘অতি’ প্রফেশনাল কাজে, নিরাপদভাবে ব্যবহার করা গেলেও ডেস্কটপ ইউজারদের জন্য এটা সেই অর্থে ব্যবহারবান্ধব নয়। ফলে কম্পিউটারের সবচেয়ে বড় ইউজার এরিয়া যেই ডেস্কটপ, তাতে লিনাক্স ছিল প্রায় অপরিচিত একটা শব্দ। এবার সেই সমস্যা মেটাতে আবির্ভূত হয় আরেকজন রাজপুত্র। নাম তার মার্ক শ্যাটলওর্থ। ২০০৪ সালের অক্টোবরে এই রাজপুত্র বিশ্বের দরবারে হাজির করেন লিনাক্সের ডেস্কটপ ফ্লেভার উবুন্টু। লিনাক্স জগতে উবুন্টুই হচ্ছে এখনকার সময়ে সবচেয়ে শান দেয়া সেই দুর্ধর্ষ অস্ত্র যেটাকে সাধারণ (ডেস্কটপ ইউজার) ব্যবহারকারীরা একেবারে আপন করে নিচ্ছে প্রতিনিয়ত। বিশেষ করে, সম্প্রতি মাইক্রোসফটের কমার্শিয়াল সফটওয়্যার উইন্ডোজ এক্সপি অপারেটিং সিস্টেম, ধরা থেকে বিদায় নেয়ায় এখন অনেকেই উবুন্টুর দিকে ঝুঁকছে।

পূর্ণাঙ্গ অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে উবুন্টু
জনপ্রিয় এ মুক্ত অপারেটিং সিস্টেমের সর্বশেষ ও পূর্ণাঙ্গ নতুন সংস্করণ ১৪.০৪ সম্প্রতি রিলিজ হয়েছে। গত ১৭ এপ্রিল ২০১৪ থেকে নতুন সংস্করণটি অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে। ডেস্কটপ ও ল্যাপটপ কম্পিউটারে ব্যবহারের উপযোগী এ সংস্করণে নানা রকম বৈশিষ্ট্য যুক্ত হয়েছে। উবুন্টুর এই ‘লং টার্ম সাপোর্ট (এলটিএস) সংস্করণটির সাঙ্কেতিক নাম হচ্ছে ‘ট্রাস্টি টার’। এর আগের উবুন্টুর সংস্করণে যেসব সুবিধা ছিল, তার সঙ্গে আরও নতুন বৈশিষ্ট্য যুক্ত হয়েছে এতে।
নতুন সংস্করণে অ্যাপ্লিকেশনের ওপরের মেনু অপশন অ্যাপ্লিকেশন উইন্ডোতেই যুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া ইউনিটি লঞ্চারে আগে অ্যাপ ক্লিক করলে সেটি একই জায়গায় মিনিমাইজের সুবিধা ছিল না। এবার সে সুবিধাও যুক্ত করা হয়েছে। উবুন্টু ও ক্যানোনিকেলের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক শ্যাটলওর্থ বলেন, এবারের সংস্করণে ক্লাউডভিত্তিক বেশ কিছু সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে, যা ব্যবহারকারীদের পছন্দ হবে। নতুন সংস্করণে আরো যুক্ত হয়েছে ইউনিটি লক স্ক্রিন সুবিধা। আগের চেয়ে উন্নত ইন্টারফেস সুবিধা ব্যবহারকারীদের নতুন এক উবুন্টু ব্যবহারের সুবিধা দেবে বলে মনে করছেন মুক্ত সফটওয়্যার গবেষকেরা। তাদের মতে, সারা বিশ্বে মুক্ত সফটওয়্যার ব্যবহারকারী অনেকেরই পছন্দ হবে নতুন উবুন্টু। কারণ এতে নতুন অনেক কিছুই যুক্ত হয়েছে। নতুন সংস্করণের নানা পরিবর্তনের ভিডিও দেখা যাবে যঃঃঢ়://মড়ড়.মষ/ইকমকণী ঠিকানায়। আর তোমরা এ নতুন সংস্করণটি নামাতে পারবে যঃঃঢ়://িি.িঁনঁহঃঁ.পড়স/ফড়হিষড়ধফ ঠিকানা থেকে।

উবুন্টুর সফল জয়যাত্রা
সবার সাফল্য আসে ধীরে ধীরে কিন্তু উবুন্টুর ক্ষেত্রে ঘটনা ঘটেছে ঠিক উল্টো অর্থাৎ এর সাফল্য এসেছে জ্যামিতিক হারে। ব্যবহার যেমন সহজ, তেমনি সাবলীল ডেস্কটপ তথা দেখতে বেশ আকর্ষণীয় হওয়ার কারণে মুক্তি পাওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যে হাজার তিনেকের অধিক ইউজারের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে উবুন্টু ব্যবহারকারীদের কমিউনিটি। বর্তমানে এই কমিউনিটির সদস্য সংখ্যা অগণিত। এই কমিউনিটিই হলো উবুন্টুর মূল শক্তি। এরাই উবুন্টুকে চালাচ্ছে, উবুন্টুর জন্য বিভিন্ন ডকুমেন্টেশন করছে, প্রচারণা চালাচ্ছে, কেউ উবুন্টু নিয়ে সমস্যায় পড়লে সেটাকে সমাধান করার জন্য সবাই ঝাঁপিয়ে পড়ছেÑ সবই করছে নিঃস্বার্থভাবে, সবাই যেন একটা বিশাল পরিবার। এই কমিউনিটি বা পরিবারের ব্যাপ্তি সারা পৃথিবী জুড়ে। আর দিনকে দিন এর ব্যাপ্তি বেড়েই চলেছে। এমনকি উবুন্টুকে বেছে নিয়েছে ডেল, এইচপি, আইবিএম-এর মত বড় বড় কম্পিউটার নির্মাতা কোম্পানিগুলো। গুগলের মতো জায়ান্ট কোম্পানিও ব্যবহার করে উবুন্টু। ফার্স্ট ওয়ার্ল্ডের অনেক নাম করা প্রতিষ্ঠান, বড় বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে থার্ড ওয়ার্ল্ডের অনেকেরই প্রথম পছন্দ এখন উবুন্টু। উইন্ডোজ আর ম্যাক ওএস-এর শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উবুন্টু ইতোমধ্যেই জায়গা করে নিয়েছে কম্পিউটার জগতে। জন্ম নেয়ার কয়েক বছরের মধ্যে উবুন্টুর যখন এই অবস্থা, সামনে তো আরো পথ বাকি!

তোমরাও থাকতে পার উবুন্টুর সাথে
উইন্ডোজ এক্সপির ভ্যালিডিটি এক্সপায়ার হওয়ায় তোমাদের পিসিগুলো এখন ভাইরাস ও ম্যালওয়্যার আক্রমণের জন্য উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। এ থেকে মুক্তির জন্য তোমরা যদি কেউ নতুন এ মুক্ত সফটওয়্যার উবুন্টু অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করতে চাও, তাহলে তোমাদের পিসির সর্বনিম্ন সিস্টেম দাঁড় করাতে হবে : ৭০০ মেগাহার্টজের প্রসেসর (সেলেরন/পেন্টিয়াম৪), ৫১২ মেগাবাইটের মেমোরি, ৫ গিগাবাইট পরিমাণ হার্ডড্রাইভের স্থান, ১০২৪*৭৬৮ স্ক্রিন রেজুলেশনের ভিজিএ বা গ্রাফিক্স কার্ড, সিডি-ডিভিডি ড্রাইভ বা ইউএজবি পোর্ট সম্পন্ন ইনস্টলার মিডিয়া এবং মধ্যম গতির ইন্টারনেট সংযোগ। উল্লেখ্য, বাজার থেকে সিডি কিনে বা ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করে এটা অতি সহজে তোমরা ব্যবহার করতে পারবে। বিস্তারিত জানতে ভিজিট করতে পারো : যঃঃঢ়ং://যবষঢ়.ঁনঁহঃঁ.পড়স/পড়সসঁহরঃু/ওহংঃধষষধঃরড়হ/ঝুংঃবসজবয়ঁরৎবসবহঃং এই ঠিকানায়।

শেষ কথা
মানুষ মানুষের জন্য। সেই মানুষ ও মানবতার কল্যাণে আমাদের সকলকে কাজ করতে হবে আমাদের সর্বোচ্চ যোগ্যতা দিয়ে। সত্য ও ন্যায়ের মানদণ্ডে নিজকে উন্নিত করে কুক্ষিগতকারী সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিতে হবে রিচার্ড স্টলম্যান, লিনুস টরভাল্ডস ও মার্ক শ্যাটলওর্থদের মতো। জীবনের লক্ষ্য থাকবে হবে, আমাদের সামগ্রিক তৎপরতা তথা আমার জ্ঞানার্জন, আমার চিন্তা-চেতনা, আমার ভাবনা, আমার মেধা, আমার পরিশ্রম সবকিছুই যেন দেশ, জাতি তথা বিশ্ব মানবতার কল্যাণে নিয়োজিত-রেখে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। ঠিক যেমনটি লিনাক্সের স্লোগান। ‘খরহীঁ ভড়ৎ ঐঁসধহ ইবরহমং’ অর্থাৎ সর্বসাধারণের জন্য লিনাক্স’। বিশ্ব মানবতার দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে, স্লোগানের স্বমহিমায় উদ্ভাসিত লিনাক্স আজ যেমন সুপার কম্পিউটার ও সার্ভার দুনিয়াকে দখলে রেখেছে, তেমনি চটকদার কমার্শিয়াল সফটওয়্যার কোম্পানিগুলোর বিপরীতে ডেস্কটপের দুনিয়ায় পতাকাবাহী রূপে উবুন্টুর সফল পদচারণায় আজ কম্পিউটার জগৎ বিমুগ্ধ। ডেস্কটপ ইউজারদের ওপেনসোর্স ফ্রি সফটওয়্যারের স্বাদ দেবার জন্য উবুন্টু, ডেস্কটপকে এত সহজ করে দিয়েছে যে, নিজে চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। কম্পিউটার নিয়ে যার তেমন কোনো জ্ঞান নেই, সেও বেশ সহজে উবুন্টু ব্যবহার করতে পারবে। আর উবুন্টু ইনস্টল করলে অফিস থেকে শুরু করে অডিও ভিডিও প্লেয়ারসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সব সফটওয়্যার অটো ইনস্টল হয়ে যায়। অর্থাৎ একজন ডেস্কটপ ইউজারের জন্য তার পিসি পুরোপুরি তৈরি হয়ে যায়। সবচেয়ে বড় কথা হলো : উবুন্টু ব্যবহারের জন্য কোনো পয়সা খরচ করতে হয় না, হবে না। সত্যিকারের বন্ধু বা স্বাধীনতা হয়তো একেই বলে!

SHARE

Leave a Reply