Home কুরআন ও হাদিসের আলো আল্লাহর কাছে সম্মানিত হওয়ার মানদণ্ড হচ্ছে তাকওয়া

আল্লাহর কাছে সম্মানিত হওয়ার মানদণ্ড হচ্ছে তাকওয়া

হে মানবজাতি! আমি তোমাদেরকে একজন পুরুষ ও একজন নারী থেকে সৃষ্টি করেছি। তারপর তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোষ্ঠীতে বিভক্ত করে দিয়েছি যাতে তোমরা পরস্পরকে চিনতে পার। তোমাদের মাঝে সে ব্যক্তিই আল্লাহর কাছে অধিক সম্মানিত যে তোমাদের মধ্যে অধিক মুত্তাকি। (সূরা হুজুরাত : ১৩)

প্রিয় বন্ধুরা, নিশ্চয়ই তোমরা আল্লাহর রহমতে ভালোই আছ ইনশাআল্লাহ। আজকে তোমাদের জন্য জরুরি একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো। সেটা হলো মানুষের মর্যাদা ও সম্মানের ভিত্তি কী? তোমরা হয়তো ভাবছ ধন-দৌলত, টাকা-পয়সা, শিক্ষা, চাকরি, বংশমর্যাদা বা গৌরব ইত্যাদি। আসলে এগুলোর কোনোটাই আল্লাহর নিকট মর্যাদার মানদণ্ড নয়। বরং আল্লাহর নিকট মর্যাদার একমাত্র মানদণ্ড হলো তাকওয়া বা খোদাভীতি। তাকওয়া অর্থ হলো বিরত থাকা, পরহেজ করা ইত্যাদি। শরিয়তের পরিভাষায় তাকওয়া হলো একমাত্র আল্লাহর ভয়ে যাবতীয় অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা। আর যে ব্যক্তির মধ্যে তাকওয়া থাকে, তাকে মুত্তাকি বলা হয়।

প্রিয় বন্ধুরা, তাকওয়াবান লোকেরা কিন্তু কখনও নিজেকে মানুষের কাছে জাহির করে না বরং তাদের চালচলন, সামাজিক ওঠাবসা সবকিছুতে তাদের তাকওয়ার বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়। আমাদের সমাজে সাধারণত জুব্বা পরিহিত, দাড়িবিশিষ্ট, টুপিপরিহিত, খানকা কিংবা মাজারের মুতাওয়াল্লিদের মুত্তাকি বলে মনে করা হয়। কিন্তু আসলে বাহ্যিক পোশাক-আশাক কিংবা বেশভূষা কিন্তু মুত্তাকির পরিচয় নয়। বরং অন্যায় থেকে বিরত থাকা এবং ন্যায় কাজ করাই হলো মুত্তাকির বৈশিষ্ট্য। পবিত্র কুরআন ও হাদিসে মুত্তাকির গুণাবলি বর্ণনা করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনের সূরা বাকারার ৩ ও ৪ নম্বর আয়াতে কয়েকটি গুণের কথা বলা হয়েছেÑ ১. গায়েব বা অদৃশ্য যেমন আল্লাহ, ফেরেস্তা, জান্নাত-জাহান্নাম, আখেরাত ইত্যাদি বিষয়গুলোতে ঈমান রাখা ২. নামাজ কায়েম করা ৩. আল্লাহর পথে ব্যয় করা ৪. কুরআন এবং পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে ঈমান রাখা ৫. পরকালের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখা।

প্রিয় বন্ধুরা, মুত্তাকি হওয়ার জন্য তাই আমাদেরকে ভালো-মন্দ ভালোভাবে বুঝতে হবে। খারাপ কাজগুলা ছেড়ে ভালো কাজ করার মাধ্যমেই আমরা ধীরে ধীরে নিজেদেরকে মুত্তাকির স্তরে নিয়ে যেতে পারব।

সুতরাং প্রিয় বন্ধুরা, আমরা আজ থেকে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই যে, আমরা বেশি বেশি পড়াশোনার মাধ্যমে ভালো-মন্দ জেনে বুঝে ভালো কাজ করে মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে নিজেদেরকে মুত্তাকি হিসেবে গড়ে তুলব ইনশাআল্লাহ। আর এর মাধ্যমে আমরা আল্লাহর কাছে সম্মানিত হতে পারব। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দিন। আমিন।

মোহাম্মদ ইয়াসীন আলী

SHARE

Leave a Reply