Home আইটি কর্নার গল্পে গল্পে আইটি এনড্রয়েড

গল্পে গল্পে আইটি এনড্রয়েড

আলফাজ হোসেন

ITআসসালামু আলাইকুম। বন্ধুরা! কেমন আছো তোমরা। যারা এনড্রয়েড সম্পর্কে জানতে চাও তাদেরকে এমন একটা ঘটনা বলবো যা শুনে মনে হতে পারে যেন কোন মোবাইল ফোনের অ্যাডের গল্প বলছি। আসলে কিন্তু তা না। ঘটনাটি একেবারেই সত্য এবং অবাক করার মতো! একেবারে ভাবনায় ফেলে দেয়ার মতো। আমিও তোমাদের মতো হয়তো বিশ্বাস করতাম না যদি না স্বয়ং আমার চোখের সামনেই এ ঘটনাটি না ঘটতো। সত্যই অবিশ্বাস্য ঘটনা। তাহলে শোনই না!

সেদিন গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়ের জন্য আমার ফ্রেন্ড শাহীনের বাসায় যেতে হলো। তো আমি আর শাহীন ল্যাপটপে কাজ করছিলাম। এমন সময় শাহীনের ছোট্ট মেয়ে নুসাইবা হামাগুড়ি দিয়ে আমাদের কাছে এলো। তাহলে বোঝ নুসাইবার বয়স কত? হ্যাঁ ঠিক ধরেছো একেবারেই ছোট্ট। এখনো হাঁটতেই পারে না। এই মেয়েটা কাছে আসতেই আদর করে কোলে নিলাম এবং এক হাত দিয়ে নুসাইবাকে ধরে রাখলাম এবং অন্য হাত দিয়ে ল্যাপটপে কাজ করছিলাম। ল্যাপটপে আলাদা কিবোর্ড কানেক্ট ছিলো। নুসাইবা কিছুক্ষণ কাজ করা দেখলো। এর পর হঠাৎ করে কিবোর্ডে হাত দিতে শুরু করলো। আমি যতবার ওর হাত সরিয়ে দিতে চাইলাম ও ততবারই হাত দেয়ার চেষ্টা করলো। কিন্তু আমার সাথে না পেরে কান্না শুরু করলো। আমি নুসাইবার কান্না থামাতে কিবোর্ড ল্যাপটপ থেকে খুলে ওর হাতে দিয়ে পাশে বসিয়ে দিলাম। নুসাইবা বিজয়ের ভাব নিয়ে আনন্দে কিবোর্ড চাপতে থাকলো। কিন্তু আশ্চর্য বিষয় হলো খেয়াল করে দেখলাম একবার কিবোর্ডের কি প্রেস করে ল্যাপটপের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে কী যেন বোঝার চেষ্টা করে। এই সময় আমি কাগজে লিখে শাহীনকে কী যেন বলছিলাম। তো নুসাইবা দেখে যে ও যখন কিবোর্ডে কি প্রেস করে তখন ল্যাপটপের স্ক্রিনে কোন পরিবর্তন হয় না। তখন কিবোর্ড রেখে ল্যাপটপের যে কিবোর্ড আছে সেখানে আসে এবং কি চাপতে শুরু করে। আমি তাড়াতাড়ি ওকে ধরে সরিয়ে দিলাম এবং আমার কাজগুলো সেভ করার চেষ্টা করলাম আর এদিকে নুসাইবা সজোরে কান্নাকাটি শুরু করলো। আমি হাসতে লাগলাম। আরে এতটুকু বাচ্চা মেয়ে সে কী করে বুঝলো ওর কাছে যে কিবোর্ড আছে তাতে পাওয়ার নেই। আমি আরো অবাক হলাম, ওর আব্বু আমাকে বললো দুটো মোবাইল যদি এক সাথে রাখা হয় একটা টাচ স্ক্রিন এনড্রয়েড অন্যটা নরমাল মোবাইলÑ তা হলে নরমাল মোবাইল না ধরে এনড্রয়েড মোবাইলটা ধরে এবং যত তাড়াতাড়ি মোবাইল নষ্ট করা যায় সেই চেষ্টা চালায়। আমি বিস্ময়ে মুষড়ে গেলাম। ওরে বাপরে বাপ! এতটুকু মেয়ে পরিবেশের সাথে সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য সে নিজেই যথেষ্ট। কেউ তাকে শিখিয়ে দিচ্ছে না আব্বু-আম্মু মোবাইলে যা করে তা দেখে নিজেকে মেলে ধরার চেষ্টা করে। অথচ আমার ছোটবেলার কথা মনে পড়ে। আমার ছোট চাচার একটা রেডিও ছিলো। সেই রেডিও ছোট চাচা ছাড়া আমরা ধরা তো দূরে থাক ছুঁয়ে দেখার চেষ্টা পর্যন্ত করতাম না। যদি রেডিও নষ্ট হয়ে যায় এই ভয়ে।
যাক সে কথা তোমাদেরকে এখন জানাবো এনড্রয়েডের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, তা হলো এনড্রয়েডের উৎপত্তির বিবরণ এবং এর ব্যবহার।

যেভাবে এলো এনড্রয়েড
২০০৩ সালের অক্টোবর মাসে লুকিয়ে এন্ডি রুবিন, রিচ মাইনার, নিক সিয়ারস ও ক্রিস হোয়াইট এই চার মোবাইল বেজড অ্যাপ্লিকেশন ট্যালেন্ট মিলে একটা কোম্পানি শুরু করে এবং তার নাম দেন এনড্রয়েড ইনকর্পোরেট। যেহেতু এই চার ভদ্রলোক বিভিন্ন কোম্পানিতে কাজ করতো তাই এই প্রতিষ্ঠানটির কথা তারা লুকিয়ে রেখে ছিলো এবং প্রতিষ্ঠান থেকে বলা হতো শুধু মোবাইলের সফটওয়ার তৈরির জন্য তারা কাজ করছে। এভাবে মূলত এনড্রয়েডের পথ চলা শুরু। পরবর্তীতে এর অবস্থান যখন ভালোর দিকে গেল তখন এর দিকে দৃষ্টি দিলেন গুগলের মতো বড় কোম্পানি এবং ২০০৫ সালের আগস্ট মাসে গুগল এনড্রয়েড কিনে নেয়। এর অধীনস্থদের গুগলের সহপ্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। কী চিন্তা করে গুগল এনড্রয়েড কিনেছিলো তা বিস্তারিত জানা না গেলেও অনেকে ধারণা করেছিলেন গুগল মনে হয় বাজারে মোবাইল আনতে চাইছে। কিন্তু পরবর্তীতে তারা এই এনড্রয়েডের দ্বারা ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেন। যার প্রভাব এখন আমরা বুঝতে পারছি। বর্তমানে প্রায় পৃথিবীর সকল দেশে এনড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের মোবাইল ফোন ব্যবহৃত হয়। এখন পর্যন্ত এনড্রয়েডের মালিক গুগল।

এনড্রয়েডের ব্যবহার
এনড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম লিনাক্স কারনেলের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। গুগল এবং অন্যান্য মুক্ত হ্যান্ডসেট অ্যালায়েন্সের সদস্যরা এনড্রয়েডের উন্নয়ন এবং বাজারে উন্মুক্ত করা নিয়ন্ত্রণ করেন। এনড্রয়েড ওপেন সোর্স প্রজেক্টটি (এওএসপি) এনড্রয়েডের রক্ষণাবেক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নে কাজ করে থাকে। এনড্রয়েড হলো বিশ্বের শীর্ষ বিক্রীত স্মার্টফোন অপারেটিং সিস্টেম। যদিও এনড্রয়েড তৈরি করা হয়েছিল স্মার্টফোন এবং ট্যাবলেটগুলোর জন্য তবুও এর পরিবর্তন সক্ষমতা ও মুক্ত ব্যবহার বৈশিষ্ট্যের কারণে অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্রেও ব্যবহার করা হচ্ছে। যেমন, ল্যাপটপ, নেটবুক, স্মার্টবুক এবং ইবুক রিডার প্রভৃতি।
আরো জানা যায়, গুগল তাদের এনড্রয়েডকে টেলিভিশনে আনতে আগ্রহী গুগল টিভির মাধ্যমে। এ ছাডাও এই অপারেটিং সিস্টেমটি হাতঘড়ি, হেডফোন, গাড়ির সিডি এবং ডিভিডি প্লেয়ার, ডিজিটাল ক্যামেরা, বহনযোগ্য মিডিয়া প্লেয়ার এবং ল্যান্ড লাইনগুলোতে ব্যবহারেও আগ্রহী।

এনড্রয়েড মার্কেট
এনড্রয়েড মার্কেট হলো এনড্রয়েড মোবাইলগুলোর সফটওয়্যারের বাজার। এনড্রয়েড ফোনগুলোতে আগে থেকেই ‘মার্কেট’ নামে একটি অ্যাপ্লিকেশন আছে যা ব্যবহারকারীদের সফটওয়্যার ব্রাউজ এবং ডাউনলোড করার সুযোগ দেয়। এতে অন্য কোম্পানিও সফটওয়্যার তৈরি করে এবং মার্কেট সেগুলোর পক্ষে বাজারজাত করে। ২০১০ সালের ডিসেম্বরের তথ্যানুযায়ী, এনড্রয়েড মার্কেটে গেমস, অ্যাপ্লিকেশন এবং উইডগেট মিলিয়ে অ্যাপ্লিকেশনের সংখ্যা প্রায় দুই লাখের বেশি। ২০১১ সালের এপ্রিলে গুগল জানায়, প্রায় তিন লাখ কোটি এনড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশন ইন্সটল করা হয়েছে।
গুগলের ক্লোজ-সোর্সের সাথে খাপ খায় এমন মোবাইলগুলোই শুধু এনড্রয়েড মার্কেট অ্যাপ্লিকেশনটি ব্যবহার করতে পারে। মার্কেট ব্যবহারকারীর মোবাইলের সাথে চলবে এমন সফটওয়্যারগুলো প্রকাশ করে এবং যারা অ্যাপ্লিকেশন বানান তারাও কিছু কিছু দেশ বা মহাদেশে তাদের অ্যাপ্লিকেশন না চালানোর সিদ্ধান্ত নিলে (ব্যবসায়িক সীমাবদ্ধতার কারণে) এর মাধ্যমে সেটা ঠিক করা হয়।
ব্যবহারকারীরা সরাসরি অ্যাপ্লিকেশন ইন্সটল করতে পারে এপিকে ফাইল ব্যবহার করে অথবা বিকল্প কোন মার্কেট থেকে। অ্যাপলের মতো, গুগল তাদের এনড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশন বাজার ধরে রাখেনি বরং তারা স্বাধীনভাবে অ্যাপ্লিকেশন বাজার করতে দিয়েছে অন্যদেরকে।
মূলত এনড্রয়েডের আলোচনা সুদীর্ঘ যা এক সংখ্যায় তুলে ধরা সম্ভব নয়। তাই যত দূর পারা যায় আস্তে আস্তে তুলে ধরার চেষ্টা করা হবে ইনশাআল্লাহ। সেই অবধি ভালো থেকো, সুস্থ থেকো। আল্লাহ হাফেজ।

SHARE

Leave a Reply