Home আইটি কর্নার গল্পে গল্পে আইটি এনড্রয়েড

গল্পে গল্পে আইটি এনড্রয়েড

আলফাজ হোসেন

IT– তোমাদের কম্পিউটারের পাসওয়ার্ড কী?
– আমি তো জানি না। জিসানের সহজ সরল উত্তর।
– কে জানে?
– আব্বু জানে।
– তুমি জানো না কেন?
– আমি শুধু গেম খেলি তো! তাই আমাকে বলে না। গেম খেললে নাকি কম্পিউটার নষ্ট হয়ে যায়। বুদ্ধিমানের মত কথা বলল জিসান।
– হুম! বুঝলাম কিন্তু আমার একটু কাজ আছে যে কম্পিউটারের। তা ছাড়া ল্যাপটপ তো সাথে করে আনা হয়নি। তাহলে কি পাসওয়ার্ডের জন্য তোমার আব্বুকে ফোন দিতে হবে?
– না! আব্বুকে ফোন দিতে হবে না। আমি পাসওয়ার্ড না জানলেও কম্পিউটার খুলতে পারি।
– তাই নাকি?
– দাঁড়াও আমি খুলে দিচ্ছি? বলে জিসান তার স্কুল ব্যাগ থেকে খাতা বের করলো এবং কম্পিউটারের কিবোর্ড নিয়ে Ctrl + Alt + Delete  ২ বার Press করলো সঙ্গে সঙ্গে
একটা Window চলে এলো।  User Name-এর জায়গায় পরিবর্তন করে Administrator লিখলো এবং Enter Press করলো, সঙ্গে সঙ্গে কম্পিউটার খুলে গেল। আমি তো অবাক! এটা জিসান বাবু জানলো কিভাবে? আমিও এটা জানি কিন্তু তাৎক্ষণিক মনে আসেনি। আর এটা শুধু উইনডোজ এক্সপি সার্ভিস প্যাকের জন্য হবে, উইনডোজ ৭ কিংবা ৮ এ এই প্রদ্ধতি কাজ করবে না। তা ছাড়া ল্যাপটপে উইনডোজ ৮ ইনস্টল থাকায় এটা মনে ছিলো না। তো জিসানকে জিজ্ঞাসা করতেই হুড়মুড় করে উত্তর দিলো- আব্বু একদিন পাসওয়ার্ড ভুলে গিয়েছিলেন। তখন উনি এভাবে খুলছিলেন। সেটা আমি খাতায় লিখে রেখেছিলাম। কারণ আব্বু অফিসে চলে গেলে আমি লুকিয়ে তো প্রতিদিন-ই গেম খেলি।
– এবার তাচ্ছিল্য করে বলল- আর জানো! আব্বুর সামনে গেম খেললে কম্পিউটার নষ্ট হয়। আর যখন লুকিয়ে গেম খেলি তখন আর কম্পিউটার নষ্ট হয় না।
আমি জোরে জোরে হাসতে শুরু করলাম। আমার সাথে সাথে জিসান বাবুও হাসতে লাগলো। ছোট এতটুকু বাচ্চা ছেলে বুঝে না বুঝে কম্পিউটার চালানোর যে আগ্রহ, দেখে আমি তো অবাক! সে আমাকে আরো বললো, আব্বুর সামনে যখন কম্পিউটার চালাই তখন ছবি আঁকা, লেখালেখি, গান শোনা, কার্টুন দেখা- এগুলো করি। আব্বু তখন হাসেন, অনেক আদর করেন। আবার মাঝে মাঝে সমস্যা হলে আমাকে বকা দেন। আমি তখন চুপ করে থাকি।
আমি বললাম তুমি বিকেলে খেলাধুলা করো না। বললো, আমার গেম খেলতে ভালো লাগে। আবার বললো আচ্ছা ছোট চাচ্চু! আমাদের স্কুলের অপুর আব্বুর মোবাইলে গেম খেলা যায়, আমাদের কম্পিউটারের মত অথচ আমার আব্বুর মোবাইলে এই রকম গেম নেই। এটা কী ধরনের মোবাইল? যা অপুর আব্বুর মোবাইলে আছে অথচ আমার আব্বুর মোবাইলে নেই? আমি আরো অবাক হতে লাগলাম। প্রযুক্তির কারণে আজ বাচ্চারা কত মজা পাচ্ছে, কত শত জিজ্ঞাসা। নিজের আব্বু-আম্মুর সাথে পর্যন্ত লুকোচুরি খেলা। মনে মনে খুব পুলক অনুভব করলাম। মনে হলো এসব ছোট ছোট প্রযুক্তিপ্রেমিককে নিয়ে কিছু লেখালেখি করার দারকার।
জিসান বাবু মূলত এনড্রয়েড সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলো। আজকে আমরা মোবাইল, ট্যাবলেট, নোটবুক-এর জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেম এনড্রয়েড সম্পর্কে জানবো।

এনড্রয়েড কী?
এনড্রয়েড হলো একটি অপারেটিং সিস্টেম, যা মোবাইল ফোনের জন্য ব্যবহার করা হয়। কম্পিউটার চালাতে যেমন উইনডোজ এক্সপি, ভিসতা, উইনডোজ ৭, ম্যাক এবং লিনাক্সের মতো অপারেটিং সিস্টেমের প্রয়োজন তেমনি মোবাইল ফোনের জন্য একটি অপারেটিং সিস্টেম। এনড্রয়েড সে -ই রকম একটি মোবাইল ফোন অপারেটিং সিস্টেম। এনড্রয়েড ছাড়া আরো কিছু মোবাইল ফোন অপারেটিং সিস্টেম যেমন নকিয়ার সিম্বিয়ান, এপলের IOS, রিম-এর ব্ল্যাকবেরি OS এবং মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ ফোন ইত্যাদি। প্রথম দিকে এনড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম মোবাইল ফোনের জন্য হলেও এখন এই অপারেটিং সিস্টেমে চলছে নেটবুক, ট্যাবলেট ও গুগল টিভি।
আর অপারেটিং সিস্টেম হলো যে কোন ইলেকট্রনিকস ডিভাইসের প্রাণ। মানুষ যেমন প্রাণ ছাড়া অচল তেমনি কম্পিউটার মোবাইল এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিকস ডিভাইস অপারেটিং সিস্টেম ছাড়া অচল।
আমরা যেমন কম্পিউটারে বিভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবহার করি তেমনি এনড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের সাথে কিছু ইন-বিল্ট অ্যাপলিকেশন, গেম, উইজেট রয়েছে। এনন্ড্রয়েড SDK (Software Development Kit), যার সাহায্যে এনড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম বা প্লাটফর্মের জন্য এনড্রয়েড অ্যাপলিকেশন  তৈরি করা হয়। এনড্রয়েড SDK এর মধ্যে সোর্স কোডসহ স্যাম্পল প্রজেক্ট, ডেভেলপমেন্ট টুলস, ইমুলেটর এবং এনড্রয়েড প্রজেক্ট তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় লাইব্রেরি রয়েছে। এনড্রয়েড অ্যাপলিকেশন জাভা প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজে লেখা হলেও এনড্রয়েড SDK সাহায্যে তৈরি করা হয়।
এনড্রয়েড ফোন কী ?
যেসব মোবাইল ফোন প্রস্তুতকারক কোম্পানি এনড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে, যেমন- Samsung, Acer, Alcatel, Dell, Gigabyte, HTC, Huawei, LG, Motorola, Nexus, T-Mobile, Toshiba, Vodaphone, ZTE এর মত বড় বড় প্রায় সব কোম্পানি। এছাড়াও বাংলাদেশে কিছু চায়না ও ইন্ডিয়ান কোম্পানি কম খরচে এনড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম সাপোর্ট করে এমন মোবাইল ব্যবসা করে। যার কারণে বর্তমানে এনড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম খুবই জনপ্রিয় একটি নাম।
এনড্রয়েড কেন এত জনপ্রিয়?
এনড্রয়েড জনপ্রিয় হবার একটাই কারণ আর তা হলো এর ব্যবহারবান্ধব ইন্টারফেস, লাইসেন্স ফ্রি মুক্ত অপারেটিং সিস্টেম। যে কারণে দিন দিন লিনাক্স ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়ে চলছে, সে কারণেই আমরা অনেকেই এনড্রয়েডে আসক্ত হয়ে পড়ছি। আমরা তো সাধারণ ব্যবহারকারী কিন্তু বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় মোবাইল ফোন ও মোবাইল প্রোডাক্টের নির্মাতারাও এই আসক্তির শিকার হয়ে, উইন্ডোজ, সিমবিয়ান, আইওএস ইত্যাদি ছেড়ে এনড্রয়েডনির্ভর পণ্য তৈরি করে চলেছে। বর্তমান বিশ্বের ৪৫ ভাগ স্মার্ট ফোন এনড্রয়েড চালিত।
এনড্রয়েডের ভার্সন
এর বেশ কিছু ভার্সন আছে :
Android 1.0, 1.1
Android 1.5 Cupcake
Android 1.6 Donut
Android 2.0- 2.0.1- 2.1 Eclair
Android 2.2–2.2.3 Froyo
Android 2.3–2.3.2 – 2.3.3–2.3.7 Gingerbread
Android 3.0 -3.1-3.2 Honeycomb
Android 4.0–4.0.2 – 4.0.3–4.0.4 Ice Cream Sandwich
Android 4.1 – 4.2 – 4.3 Jelly Bean
Android 4.4 KitKat
এসব অপারেটিং সিস্টেম উন্মুক্ত। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো এনড্রয়েডের সব ভার্সনই কোন না কোন সুস্বাদু এবং মজাদার খাবারের নামে নামকরণ হয়েছে। যার কারণে যত আপগ্রেড ভার্সন আসে মনে হয় আবার কোন ভালো খাবারের সন্ধান দেবে। এমনিতেই উপরের যে ভার্সনগুলোর নাম এবং এই নামের খাবারগুলো যদি চোখের সামনে আসে তাহলে জিহবায় লালা চলে আসে। আমি নিজেও জানতাম না যে এত সুন্দর সব খাবার। না খেতে পারলেও এইগুলো গুগোল ইমেজে সার্চ করলেই বুঝা যাবে আসলে কত মজাদার খাবার! আর এই সুস্বাদু খাবারের মতো এর কাজও অনেক সুস্বাদু। আশা করা যাচ্ছে পরবর্তী যেসব ভার্সন আসবে সেগুলোও খাবারের নামে হবে।

SHARE

1 COMMENT

Leave a Reply