Home প্রতিবেদন স ম কা লী ন কি শো র প্র তি...

স ম কা লী ন কি শো র প্র তি বে দ ন

স্বাধীনতা দিবসসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবস সম্পর্কে অনেকটাই অজ্ঞ আজকের  শিশু-কিশোররা
আব্দুল হাদী আল-হেলালী

Sasamyekদীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে পৃথিবীর মানচিত্রে একটি ভূখণ্ড জন্ম নেয় স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশ। কোটি মানুষের প্রাণের নিরন্তর আকুতির বহিঃপ্রকাশে উদিত হয় নতুন সূর্য। কিন্তু সেই লাল-সবুজের আদলে যারা প্রতিনিয়ত বেড়ে উঠছে সেই শিশু-কিশোররা কতটুকুই বা জানে সেই দিনগুলোর কথা?
মুক্তিসংগ্রামের পালাবদলের নানা প্রেক্ষাপটে আমাদের মানসপটে স্বমহিমায় অঙ্কিত হয় কিছু দিন, যা পরবর্তীতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়ে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবস হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। যার মধ্যে কিছু কিছু দিন মিশে আছে আমাদের আত্মার সাথে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দিবসগুলো হলোÑ ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস ও ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস।
সদ্য বিদায় নেয়া আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিদায় নিতেই আবারো হাজির হলো বাঙালির চেতনার বাতিঘর মহান স্বাধীনতা দিবস। আর বিজয় দিবস বিদায় নিলো আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার মাসের ঠিক এক মাস আগে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও আজ বাস্তবিক অর্থে এসব দিবস সম্বন্ধে আজকের শিশু-কিশোররা অনেকটাই অজ্ঞতায় নিমজ্জিত। সম্প্রতি এক জরিপে দেখা যায় স্কুল ও মাদরাসায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের প্রায় ৬৫ শতাংশ শিক্ষার্থী স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসের পার্থক্য বোঝে না। ঢাকার ঐতিহ্যবাহী কয়েকটি বিদ্যাপীঠের প্রথম থেকে দশম শ্রেণীর কিছু শিক্ষার্থীর কাছে স্বাধীনতা দিবসের তারিখ জানতে চাইলে সঠিক উত্তর মেলেনি অনেকের কাছ থেকে। ঠিক একইভাবে স্বাধীনতা দিবস বা বিজয় দিবসে ’৭১-এর প্রেক্ষাপট জানতে চাইলে অনেকেই মুচকি হেসে অপারগতার কথা জানায়। কেউ কেউ রীতিমতো চিন্তায় পড়ে যায়। ঠিক একইভাবে প্রশ্ন ছিল মাদরাসার শিক্ষার্থীদের কাছে। বিশেষ করে কওমি মাদরাসায় অধ্যয়নরত অনেক শিক্ষার্থী দিবসগুলোর নাম জেনে থাকলেও দিনক্ষণ সম্পর্কে একেবারেই অজ্ঞ। এ ছাড়া আলিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীদের অবস্থা অনেকটা একই রকম। এসব শিক্ষার্থীর প্রকৃত ইতিহাস সম্পর্কে এমন অজ্ঞতার পেছনে কি তবে অসচেতনতা নাকি উদাসীনতাই দায়ী? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করতে কথা হয় কিছু স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও অভিজ্ঞ শিক্ষকমণ্ডলীর সাথে। শিক্ষার্থীদের এমন অভিব্যক্তি যেন হতাশ করেছে তাদেরকেও। কোনো কোনো শিক্ষককের মতে এর জন্য প্রকৃত অর্থে শিক্ষার্থীদের অসচেতনতাই দায়ী। কিন্তু শিক্ষার্থীদের সচেতন করে তোলাই যখন এই কারিগরদের প্রধান কাজ, তখন এমন অবস্থার দায় কি তারা আদৌ এড়াতে পারেন? এমন এক প্রশ্নের জবাবে কোনো কোনো শিক্ষক তাদের অপারগতাকেই মেনে নিলেন। আবার কোনো কোনো শিক্ষক বর্তমান শিশু-কিশোরদের এমন বেহাল অবস্থার জন্য তাদের প্রযুক্তিনির্ভর যান্ত্রিক জীবনের স্বার্থবাদী মনোভাবকেই দায়ী করেন। মাদরাসা শিক্ষকদের মধ্যে বিশেষ করে কওমি মাদরাসার শিক্ষকরা তাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও পাঠদান পদ্ধতির সাথে মাদরাসায় অধ্যয়নরত এসব শিক্ষার্থীর দৌরাত্ম্যের কথা জানালেন। কিন্তু আলিয়া মাদরাসার শিক্ষকদের মতে শিক্ষকদের পাশাপাশি দেশের নীতিনির্ধারকদের এসব দিবসে শিশু-কিশোরদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো উচিত। তবে কিছু কিছু শিক্ষকের সম্মিলিত মতামত ছিল পারিবারিকভাবে শিশু-কিশোরদেরকে আরো সচেতন করে তোলা।
এ ব্যাপারে অভিভাবকদের মতামত জানতে চাওয়া হলে তারা জানান, পরিবার সামলানো থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যস্ততায় সন্তানদের কাছে এ বিষয়গুলো নিয়ে মুক্ত আলোচনার সময় হয়ে ওঠে না। আবার কারো কারো মতে এ ব্যাপারে শিক্ষকদেরকেই প্রধান ভূমিকা নিতে হবে।
ঠিক এমন পরিস্থিতিতে সঠিক নির্দেশনা মূলত কার হতে পারে এমন এক প্রশ্নের জবাবে শিশু-সংগঠকরা জানান, এ ব্যাপারে সরকারকেই প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলো যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের সাথে সাথে এর সাথে আজকের শিশু-কিশোরদের সম্পৃক্ততা আরো বাড়াতে হবে। দিবসগুলোর প্রকৃত ইতিহাস শুধুমাত্র পাঠ্যবই বা বক্তৃতার মাঝে সীমাবদ্ধ না রেখে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শিশুদের কাছে উপস্থাপন করতে হবে যার মাধ্যমে গল্পের মতো এ বিষয়গুলো তাদের হৃদয়ে আঁচড় কেটে থাকে।
দেশের ভবিষ্যৎ কাণ্ডারিদের মাঝে যদি  লাখো শহীদের আকুতির বার্তা পৌঁছানো না যায় তবে এ দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যের ধারক খুঁজে পেতে হয়তো অনেকটা বেগ পেতে হবে আগামী দিনগুলোতে। তাই স্বাধীনতার এ মাসে ভবিষ্যৎ কাণ্ডারিদের প্রতি আহ্বান, স্বাধীনতার মূল-মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে দেশের প্রকৃত ইতিহাসের জীবন্ত বাহক হতে হবে তোমাদেরকেই।

SHARE

Leave a Reply