Home ক্যারিয়ার গাইড লাইন মোরা বড় হতে চাই দশ বছরের ঘানি

মোরা বড় হতে চাই দশ বছরের ঘানি

আহসান হাবীব ইমরোজ…

Imroz-Vaiসুপ্রিয় বন্ধুরা, আসসালামু আলাইকুম। আশা করি ভালো আছো সবাই। নব্বই দিন পর আবার তোমাদের সাথে আলাপন।
ওরে বাপরে, ৯০ দিন! মানে নয় দশে নব্বই। ব্যতিক্রম করে একটু ধারাপাতের নিয়মেই বললাম, আর কী। কারণ এখন তো ডিজিটাল যুগ। তাই অনেক সময়ই আমরা গুণ, ভাগ এমনকি যোগ বিয়োগ করতেও ক্যালকুলেটর খুঁজি; না পেলে সব সমস্যার সমাধান ‘একের ভেতরে দশ’ মোবাইল মিয়াতো আছেই। এই মাথার চর্চাহীনতা আমাদের কোথায় নিয়ে যাবে, আল্লাহ মালুম। সে যাকগে, আসল কথায় আসি।
ইদানীং চাইলেও নিয়মিত লিখতে পারছি না। যদি ‘এসএসসি’ পরীক্ষার ঢঙে প্রশ্ন আসে, ‘১. কেন কিশোরকণ্ঠে নিয়মিত লিখতে পারছো না; বিস্তারিতভাবে বুঝিয়ে বর্ণনা কর।’ তাহলেও হয়তো কমপক্ষে ১০ পৃষ্ঠা পর্যন্ত লিখতে মাথা একবারও চুলকাতে হবে না। এক ডজন কারণ লেখা যাবে। আজকে মাত্র দু’টি বলি, কেমন?
এক. আমি পিএসসি (পাবলিক সার্ভিস কমিশন) পরীক্ষা দিয়েছিলাম ৩০ বছর বয়সে। আর আমার ছেলে ফারাবী পিএসসি (প্রাইমারি স্কুল সার্টিফিকেট) পরীক্ষা দিলো ১১ বছর বয়সে; হা-হা-হা, বুঝ ঠেলা। পরীক্ষার আয়োজন, আয়তন ভিন্ন হলেও চাপ কিন্তু একেবারে কম না। এ রকম নানা শিক্ষা, অর্থনীতি আর রাজনীতির ডিজিটাল চাপে আমাদের ভর্তা হওয়ার অবস্থা।
দুই. গত নভেম্বরেই বলেছি, বাসায় এক নতুন বিচ্ছু এসেছে। নতুন মেহমান। কবির ভাষায়, ‘এই পারে এলি তুই, শিশু যাদুকর…’। সেই শিশু যাদুকরের জন্য কোনো কাজেই মন দেয়া যায় না। এক ঘণ্টা কাজ করলেও কমপক্ষে পাঁচবার উঠতে হয়। আজ ওর ১৫৪ দিন বয়স। আল্লাহ, বাবা, দাদা এই তিনটি শব্দ কেবল আওড়াতে পারে। তবে অদ্ভুত ব্যাপার! যিনি সারাদিন কোলে পিঠে আগলে রাখেন এখনো সেই মা বা আম্মাকে ডাকছে না। এটিও ডিজিটাল যুগের প্রভাব কি না, কে জানে। তবে ওর চোখের ভঙ্গি আর হাসি দেখলে মনে হয় সে দুনিয়ার সব ভাষা এমনকি ইশারা-ইঙ্গিতও বুঝতে পারে। অনেক ঘেঁটে-ঘুঁটে নাম রাখলাম, ‘রাহনুমা’ মানে পথপ্রদর্শক। তবে সবাই ডাকে ‘বুড়ি’। মানুষের ওপর নামের হয়তো কিছু তাছির থাকে।
রাত বাড়লে ঘুম পাড়ানি মাসিপিসি বা খালা-ফুফুদের আলতো ছোঁয়ায় সবাই ঘুমাতে থাকে। এমনকি সারা দিনের পরিশ্রমে ওর মার চোখও লালচে হতে থাকে। কিন্তু ওর চোখ ধবধবে সাদা। ঘুমের কোনো ছায়াও নেই তাতে। টিকটিক ঘড়ি চলে, ২৪টা চ্যানেলের টকশো একে একে শেষ হতে থাকে। আর কত? মধ্যরাতে নতুন দিনের সূচনায় রাত ১টা ২০ মিনিটে জিল্লুর রহমানের তৃতীয়মাত্রা শুরু হয়। কাঁধে নিয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করি কিন্তু ওর চোখ, কান তৃতীয় মাত্রায় আটকে আছে। মনে হয় মরিয়ম জামিলা বা জয়নাব আল গাজালির মতো একজন তুখোড় বোদ্ধা। পিঠে আস্তে আস্তে চাপড় দিই, হয়তো ছন্দের তালে তালে ঘুমিয়ে পড়বে। কিন্তু ওমা! সেই উল্টো আমার কাঁধে শুয়ে আমারই পিঠে তার ছোট্ট মাখনের মতো হাত দিয়ে মৃদু চাপর দিচ্ছে। সেই আলতো ছোঁয়ায় আমারই ঘুম এসে যায়, আর কী! ওই যে বললাম, নামের প্রভাব; তার নামতো ‘রাহনুমা’ বা পথপ্রদর্শক আবার সবাই ডাকে ‘বুড়ি’। তাই বুঝি এত কিছু।
এত্তসব কাঠখোট্টা কথা বললাম। একটি মজার কৌতুক বললে কেমন হয়? সব স্কুলেই দাদাগিরি (ভাগ্যিস এখনও বাংলাদেশের অভিধানে আসেনি) টাইপের কিছু স্যার থাকেন। প্রশ্নবাণে ছাত্রদের কুপোকাত করাই যেন তাদের কাজ। এ রকম একজন হলেন শফিক স্যার। তিনি খুবই চটপটে ছেলে অনিককে ক্লাসে কোনভাবেই আটকাতে না পেরে; অবশেষে বললেন, আচ্ছা তোমাকে বইয়ের বাইরে থেকে একটি প্রশ্ন করছি; আচ্ছা বলো তো, তোমার বাবা ও মা এর মধ্যে হুবহু কী মিল আছে? (স্যার ভেবেছিলেন, নারী-পুরুষ, বয়স, শিক্ষা এমনকি তাদের বাপের বাড়ি আলাদা হওয়ায় হুবহু কোনো মিলই অনিক খুঁজে পাবে না)। কিন্তু না, অনিক হেসে বললো, ‘বাবা আর মা একই দিন একই সময় বিয়ে করেছেন।’ স্যারের মুখটা কেমন কাঁচুমাচু হয়ে গেল। ওখান দিয়েই যাচ্ছিলেন, ‘গণিতের বাঘ’ বলে খ্যাত মনির স্যার, তিনি সব শুনেছেন। শফিক স্যারকে বাঁচাতে এবার তিনি এগিয়ে এলেন। বললেন, আচ্ছা, অনিক আমি একটি প্রশ্ন করি, ‘বলো তো, তোমার ও তোমার বাবার মধ্যে হুবহু কী মিল আছে? (স্যারের ধারণা, উভয়ের বয়সের প্রায় ৩০ বছরের পার্থক্য; কোনো মিলই খুঁজে পাবে না, এবার বাছাধন।) একটু মাথা চুলকে অনিক হেসে বললো, ‘আমি এবং বাবা একই দিনে হয়েছি। মনির স্যার, শফিক স্যার চিৎকার করে বললেন, ‘এটি কিভাবে সম্ভব! সে তো তোমার কমপক্ষে ৩০ বছরের বড়।’ অনিক এবার দুই কান পর্যন্ত বিস্তৃত হাসি দিয়ে বললো, ‘স্যার এটা ঠিক কিন্তু তার জন্মের পর তিনি ছিলেন সন্তান, বিয়ের পর হলেন স্বামী; আর আমার জন্মের দিনই তিনি হলেন ‘বাবা’। কারণ আমিই পরিবারের বড় সন্তান। তাই আমি যে দিন জন্মেছি তখনই কেবল তিনি বাবা হয়েছেন, তার আগে নয়। কাজেই এই বিচ্ছুদের সাথে পারা কঠিন।
আজ, ঠিক এমন এক দেশী বিচ্ছুর কাহিনী শোনাব তোমাদের। বীর চট্টলার বীর সে। ভালো করে খেয়াল করলে দেখবে ওর টি-শার্টের বুকে লেখা আছে ‘হিরো’। নানা জাতীয় পত্রিকায় এমনকি হানিফ সঙ্কেতের জনপ্রিয় ‘ইত্যাদি’তেও তাকে দেখা গেছে হিরো হিসেবে। চলো, জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোর অক্টোবর ২৬, ২০১৩ সংখ্যা থেকে পড়ে নেই, ওর কিছু চুম্বকতথ্য।

উত্তেজনায় ভরা ক্রিকেট ম্যাচ। সবার মধ্যে উৎকণ্ঠা। মাঠের পিচে থাকা দলের ক্যাপ্টেনের কপালেও চিন্তার ভাঁজ। আর বেশি সময় নেই। বাকি আছে ১০ বল। এর মধ্যে তুলতে হবে ১৪ রান। বোলারের একটি ফুলটস পেয়ে সজোরে ব্যাট চালাল ক্যাপ্টেন। ওভার বাউন্ডারি হয়ে বল চলে গেল সীমানার বাইরে। এভাবে শেষ ছয় বলে ১০ রান আর সঙ্গীর চার রানে জিতল দল। ম্যাচ শেষে জয়ের নায়ক ক্যাপ্টেনকে ঘিরে সতীর্থদের সে কী উচ্ছ্বাস। ভাবছেন, বাংলাদেশ দলের কোনো খেলার দৃশ্য? আর ক্যাপ্টেন মুশফিকুর রহিম? আদতে তা নয়। দলটি চট্টগ্রামের পশ্চিম মাদারবাড়ীর কামালগেট জুনিয়র বয়েজ। আর ক্যাপ্টেন ১৬ বছরের কিশোর মোহাম্মদ শরীফ। ১১ অক্টোবর কলেজিয়েট স্কুল মাঠে বসেছিল সীমিত ওভার (৮ ওভার) ক্রিকেটের এই আসর। কিন্তু কেন এই ক্রিকেটের আসর কিংবা ক্যাপ্টেন শরীফের কথা?
পাঠক, এই কিশোর অন্যদের চেয়ে আলাদা। ছয় বছর আগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই পা আর এক হাত হারিয়েছে। এর পরও সে দমে যায়নি। বিন্দুমাত্র কমেনি ক্রিকেটের প্রতি তার অমোঘ টান। এই এক হাতেই সব করে সে। বুঝিয়ে দিয়েছে, মনের জোর থাকলে সব সম্ভব। ব্যাটিং, বোলিং ও চমৎকার ফিল্ডিংয়ের জন্য তার অলরাউন্ডার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে আশপাশে। দলের অধিনায়ক হওয়ার পেছনেও কাজ করেছে তার ক্রীড়া নৈপুণ্য। তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য নয়, প্রতিপক্ষ দলের খেলোয়াড়ও সমীহের চোখে দেখে এই কিশোরকে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন টুর্নামেন্টে খেলেছে তার দল। চ্যাম্পিয়ন হয়েছে দু’টি টুর্নামেন্টে। দু’টি টুর্নামেন্টেরই ফাইনালে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছে শরীফ।
শরীফ বলে, ‘দলের সবাই ভালো খেলে। আমার চেষ্টা থাকে যেন সবার ভালো খেলাটা দিয়েই দল জেতে।’ একেবারে পেশাদার ক্রিকেটারের মতো কথা! শরীফের খেলা দেখে আমাদেরও বিস্ময়ের ঘোর কাটে না। এও সম্ভব!
শরীফের ভাড়ার দুই কক্ষের ছোট্ট বাসা। দোতলার বাসায় সিঁড়ি বেয়ে উঠে গেল কারও সাহায্য ছাড়াই। ছোট্ট ঘরটার শোকেসে সাজানো বিভিন্ন ট্রফি আর মেডেল। বিজয়ের স্মারকে যেন জ্বলজ্বল করছে শরীফের হাসিমাখা মুখ।
কিভাবে কী হলো? শরীফের পাশে বসা মা বেবী খাতুন খুললেন স্মৃতির ঝাঁপি।

২০০৬ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। শরীফ তখন সবে ১০-এ পা দিয়েছে। পড়ত মাদারবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীতে। ঘরের পাশের ভবনের চারতলার ছাদে ঘুড়ি উড়াচ্ছিল এক বন্ধুর সঙ্গে। আশপাশের আরও কিছু ভবনে অন্যরা ঘুড়ি উড়াচ্ছিল। কাটাকাটি চলছিল শরীফের সঙ্গে। এক সময় শরীফের ঘুড়ি কাটা পড়ে আটকে যায় পাশের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে। এত কিছু না ভেবে ঘুড়ি তুলে আনতে গেল সে। কিন্তু জানত না সেখানেই ওঁৎ পেতে আছে জীবনের সবচেয়ে বড় বিপদ। যেই তারে ঝুলে থাকা ঘুড়িতে হাত দিলো, অমনি বিকট শব্দে আছড়ে পড়ল শরীফ। পড়েই অচেতন। নিথর দেহ। বন্ধু দ্রুত বাড়িতে খবর দিলে মা-বাবা এসে দেখেন কোনো নড়চড় নেই তার। সবাই বলল, মারা গেছে। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করালে আস্তে আস্তে জ্ঞান ফেরে তার। কিন্তু গুরুতর আঘাতের ব্যথায় কুঁকড়ে যায় ছোট্ট শরীরটা। পুড়ে যায় বেশির ভাগ অংশ। অবস্থার কোনো উন্নতি না দেখে ছেলেকে বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করান আলম। কিন্তু চিকিৎসার খরচ জোগাতে অথই সাগরে পড়লেন। কারণ, আয় বলতে কেবল সবজি বিক্রির টাকা। নিজের জমাজাতি, স্ত্রীর গয়না যা ছিল, ছেলের জন্য উজাড় করে দিলেন সব। হাত পাতলেন মাদারবাড়ীর স্থানীয় লোকজনের কাছেও। সবার সাহায্যে চলতে থাকল চিকিৎসা। বিপত্তিটা বাধল মূল চিকিৎসা শুরু হওয়ার পর। কারণ, তত দিনে হাত-পায়ের পুড়ে যাওয়া অংশে পচন ধরেছে। চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচার করে পচন ধরা অংশ বাদ দিলে আবার নতুন করে পচন শুরু হয়। এভাবে অস্ত্রোপচার হয় ছয়বার। শেষে দুই পায়ের হাঁটুর ওপর পর্যন্ত ও ডান হাতের পুরোটাই কেটে বাদ দিতে হলো। হাসপাতালে থাকতে হয়েছে টানা আড়াই মাস। এখন আছে শুধু বাঁ হাতটা। এই এক হাতই শরীফের সম্বল।
ক্রিকেটের প্রতি শরীফের টানটা ছোটবেলা থেকেই। সারাক্ষণ ব্যাট-বল নিয়ে পড়ে থাকত। দুই ভাই, দুই বোনের মধ্যে শরীফ মেজো।
দুর্ঘটনার পর খেলা বন্ধ হয়ে গেল। সারাক্ষণ বিছানায় শুয়ে কাটত শরীফের। তবে এত কিছুর মধ্যে ক্রিকেট ছাড়েনি সে। টেলিভিশনে খেলা দেখত নিয়মিত। এভাবে পাঁচ-ছয় মাস কেটে যাওয়ার পর একদিন বন্ধুরা এসে তাকে মাঠে নিয়ে গেল। আবার ব্যাট হাতে নিলো শরীফ। সঙ্গে সঙ্গে শরীরে যেন জোর চলে এলো। সেদিনের কাহিনী শুনুন শরীফের মুখেই : ‘ভেবেছিলাম পঙ্গুজীবন নিয়ে আর কী-ই বা করতে পারব। কিন্তু আমার বন্ধুরা সেই ধারণা পাল্টে দিয়েছে। তারা আমাকে মাঠে ফিরিয়েছে। ব্যাট হাতে নিয়ে আমি নতুন জীবন পেয়েছি। প্রথম দিকে খেললে ব্যথা লাগত। কয়েক দিন পর সব স্বাভাবিক হয়ে গেল। আমিও দলে ফিট হয়ে গেলাম। এখন ব্যাটিং, ফিল্ডিং ও বোলিং সব করি। শুধু ব্যাটিংয়ের সময় রানার লাগে। এ ছাড়া চলাফেরার সময়ও কারও সাহায্য লাগে না। বাবাকেও তাঁর কাজে সাহায্য করি।’

বাংলাদেশের কোনো ম্যাচ মানে শরীফের নাওয়া-খাওয়া বাদ। সাকিবের মতো অলরাউন্ডার হওয়ার স্বপ্ন দেখেই ক্রিকেটের সঙ্গে বসতি গড়েছে। তবে ব্যাটিংয়ে আদর্শ তামিম ইকবাল। আর ফিল্ডিংটা নাসির হোসেনের মতো করতে চায়। এই তিনে মিলে পাড়ায়ও শরীফের খ্যাতি এখন অলরাউন্ডার হিসেবে। পা না থাকার দুঃখটা প্রায় সময় পোড়ায় শরীফকে। ‘দুই ‘পা আর হাতটা থাকলে মনে হয় আরও ভালো করতে পারতাম। হয়তো একদিন জাতীয় দলেও জায়গা হতো। তার পরও আমি অনুশীলন করে স্থানীয় টুর্নামেন্টে নিয়মিত খেলব।’ বলল শরীফ।
এ দিকে শরীফের পাশে দাঁড়িয়েছে বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সেন্টার ফর দ্য রিহ্যাবিলিটেশন অব প্যারালাইজড (সিআরপি)। সংস্থাটির চট্টগ্রাম কার্যালয়ের একটি দল ইতোমধ্যে শরীফের সঙ্গে দেখা করেছে। তারা কৃত্রিম পা ও হাত লাগিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কৃত্রিম পা আর হাত হলে আরও ভালো করে ক্রিকেট খেলবে বলে আশা শরীফেরও।
সিআরপির চট্টগ্রাম কার্যালয়ের বিভাগীয় সমন্বয়ক সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘শরীফের শরীরের যে অবস্থা তাতে কৃত্রিম হাত ও পা লাগানো সম্ভব। এই প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। পুরো কাজ শেষ হতে সময় লাগবে আরও এক মাসের বেশি। এরপর সে কৃত্রিম অঙ্গের সাহায্যে হাঁটাচলা করতে পারবে। আমরা তাকে আমাদের প্রতিবন্ধী ক্রিকেট দলেও অন্তর্ভুক্ত করে নেবো, যদি সে খেলতে চায়। এ ছাড়া সে যাতে স্বাবলম্বী হয়ে চলতে পারে, সে জন্য একটি দোকান করে দেয়া হবে।’
তবে এখন খেলার পাশাপাশি লেখাপড়াও আবার শুরু করতে চায় শরীফ। জানুয়ারি থেকে বিদ্যালয়ে ভর্তি হবে সে। জীবনের ময়দানেও প্রকৃত অলরাউন্ডার হয়েই বাঁচতে চায় শরীফ।
এই শরীফ (মানে ভদ্র), ক্যাপ্টেন (মানে দলনেতা) এবং হিরো (মানে নায়ক) এর সাথে দেখা করতে আমি চট্টগ্রাম অবধি গিয়েছিলাম। তবে চলমান ঘনঘটায় আর শেষ পর্যন্ত দেখা করতে পারিনি। কিন্তু তাতে কী; সে আমারও নেতা এবং বীর নায়ক।
তোমরা সবাই বড়, অনেক অনেক বড় হতে চাও, নয় কি? কিন্তু যারা এ দেশে জন্মেছি কোন না কোন সমস্যা আমাদের আছেই। সেটি হতে পারে পারিবারিক, সামাজিক, আর্থিকসহ বহুবিধ সমস্যা। সকল সমস্যাকে পায়ে দলে, পেছনে ফেলে এই দুই পা, এক হাত ছাড়া ‘ক্যাপ্টেন হিরো’ এর মতো কি আমরা এগিয়ে যেতে পারি না? এমন কেউ আছো কি, যে বলবে ওর চাইতে আমার সমস্যা আরো বেশি, আরো জটিল ও কঠিন? যদি না থাক, তবে আমরা কি ওর জীবন থেকে দীক্ষা নিয়ে, শপথ নিয়ে; হতে পারি না অনাগত জীবনের বিস্তীর্ণ পথের শিক্ষা, চরিত্র, দক্ষতা, নেতৃত্ব এবং আলোকিত মানুষ হওয়ার সকল আঙিনায় এক একজন সফল অলরাউন্ডার। কি রাজি? যদি রাজি থাক তবে দু’টি হাত করো মুষ্টিবদ্ধ, দৃষ্টিকে করো শাণিত। ঠিক হৃদয়ের অতল তল থেকে আমার সাথেই দৃঢ়ভাবে বলো, আমিন। আল্লাহুম্মা আমিন।
(গত নভেম্বর, ২০১৩ সংখ্যায় লেখকের নামসহ নিচের অংশটুকু ভুলে ছাপানো হয়েছিল, ‘আহসান হাবিব ইমরোজ’ এবং ‘আল্লাহর রহমতে গত ১৫ আগস্ট এক কন্যাসন্তানের জনক হলাম। হিসাব কষে দেখলাম বাংলাদেশের ১ কোটি মানুষের ভেতর প্রায় ২,১৯,১৭৮ জন মহিলা ইতোমধ্যেই গড় হিসাবে এই দিনে জন্ম নিয়েছে। সুতরাং।’
আসলে উক্ত স্থানসমূহে হবে ‘আহসান হাবীব ইমরোজ’ এবং ‘আল্লাহর রহমতে গত ১৫ আগস্ট এক কন্যাসন্তানের জনক হলাম। অনেকেই ভড়কে দিতে চাইলো শেষমেশ ১৫ আগস্ট! তাদের হিসেব কষে দেখালাম বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের ভেতর প্রায় ২,১৯,১৭৮ জন মহিলা ইতোমধ্যেই গড় হিসেবে এই দিনে জন্ম নিয়েছে। সুতরাং..।’)

SHARE

1 COMMENT

  1. সুপ্রিয় বন্ধুরা, আসসালামু আলাইকুম। আশা করি ভালো আছো সবাই। নব্বই দিন পর আবার তোমাদের সাথে আলাপন

Leave a Reply