Home কুরআন ও হাদিসের আলো হাদীসের আলো হাদিসের আলো

হাদিসের আলো

বিস্মিল্লাহির রাহমানির রাহীম
“হযরত রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন : যে ব্যক্তি আমাদের (মুসলমানদের) ছাড়া অন্যদেরকে আন্তরিকভাবে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে, সে আমাদের (মুসলমানদের) অন্তর্ভুক্ত নয়। সুতরাং তোমরা ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ (অনুসরণ) করো না।” (তিরমিযী শরীফ)
সুপ্রিয় বন্ধুরা, একটি বছর শেষ হয়ে আরেকটি নতুন বছর আমাদের মাঝে আগমন করেছে। বরাবরের ন্যায় এবারও আমরা নতুন বছরের শুরুতে নতুন পরিকল্পনা নেব এবং সে অনুযায়ী সারাটি বছর কাজ করবো। তাছাড়া পুরানো বছরের অসমাপ্ত কাজগুলোকে আমরা নতুন বছরে নতুন উদ্যমে করবার জন্যও প্রস্তুতি গ্রহণ করে থাকি। ফেলে আসা বছরটিতে যে সকল খারাপ দিক ছিল যেমন মানুষের বিভিন্ন অধিকার যা থেকে সে বঞ্চিত হয়েছে তা ফিরে পাবার জন্য নতুন আশায় বুক বাঁধে। অর্থাৎ আমরা সকলেই একটি সুন্দর সুখীময় জীবন গড়ে তোলার জন্য নতুন উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে পথচলা শুরু করে থাকি। আরেকটি বিষয় এখানে প্রণিধানযোগ্য, পৃথিবীতে আমাদের সংক্ষিপ্ত জীবন থেকে একটি বছর হারিয়ে ফেললাম। তাই আত্মসমালোচনা করে দেখা দরকারÑ আমাদের শেষ ঠিকানা পরকাল তথা জান্নাত প্রাপ্তির জন্য জীবনটাকে কতটুকু সাজাতে পেরেছি। আমরা কি আদৌ সে পথের জন্য কিছু জোগাড় করতে পেরেছি?
এখন আসা যাক উল্লেখিত হাদিসটির মূল বক্তব্যের দিকে। বর্তমান সময়ে আমরা রেডিও, টিভি, ইন্টারনেটের কল্যাণে পৃথিবীর কোথায় কখন কী হচ্ছে তার খবর সাথে সাথেই পেয়ে যাচ্ছি। এরই ফলশ্রুতিতে খ্রিষ্টীয় নববর্ষকে কেন্দ্র করে যে উৎসব হয় (Happy New Year) তা আমরাও অনেকে গভীর উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে পালন করে থাকি। নববর্ষকে আমরা পালন করবো, তবে সেটা উচ্ছৃঙ্খলা বা অশ্লøীলতা-বেহায়াপনার মাধ্যমে নয়। আর তাছাড়া আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরূপ করতে স্পষ্টভাবে নিষেধ করেছেন। অমুসলিমদের রীতি-নীতি এবং রেওয়াজ পালন হতে বিরত থাকার কথা বলেছেন। তাদের কাজকর্মকে অনুসরণ করা যাবে না। আলোচ্য হাদিসে কিন্তু সেটারই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। এমনকি যারা তাদেরকে অর্থাৎ কোনো মুসলিম অন্য কোনো অমুসলিমকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করবে তারা মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত নয় সে কথা স্পষ্ট জানিয়ে দেয়া হয়েছে। আর মুসলিম ছাড়া তো অন্য কেউ আল্লাহর রহমত ও সাহায্য লাভের অধিকারী হয় না।
প্রিয় বন্ধুরা, এসো আমরা নতুন বছরে নতুন উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে, নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করে পথচলা শুরু করি। অতীতের সকল অপ্রাপ্তি, গ্লানি ছুড়ে ফেলে সুখী ও সুন্দর জীবন গঠনে তৎপর হই। সমাজকে আলোকিত করি। আর পরকালের জীবনে মহান প্রভুর সান্নিধ্য লাভের উপযোগী করে নিজেদেরকে গড়ে তুলে চিরসুখের জান্নাতে বসতি পাবার উপযোগিতা অর্জন করি। আল্লাহ আমাদেরকে নতুন বছরটিকে সেভাবেই বরণ করে নেয়ার তাওফিক দিন। আমীন।
গ্রন্থনা : মোহাম্মদ ইয়াসীন আলী

SHARE

2 COMMENTS

Leave a Reply