Home স্বাস্থ্য কথা শিশু-কিশোরদের ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার ইতিকথা

শিশু-কিশোরদের ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার ইতিকথা

ডা: এ কে এম মেজবাহ উদ্দীন (টিপু)।

Sasthoফিজিও অর্থ শারীরিক আর থেরাপি অর্থ রোগের চিকিৎসা। ‘ফিজিওথেরাপি’ অর্থ শারীরিক রোগের চিকিৎসা। পৃথিবীতে প্রায় ১০০ বছরের আগে থেকেই এই চিকিৎসা চলে আসছে। কিন্তু আমাদের দেশে প্রায় ৪০ বছর ধরে এই চিকিৎসার গুরুত্ব পেয়ে আসছে।
শিশু-কিশোরদের যে সকল শারীরিক সমস্যার জন্য ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার প্রয়োজন হয় যেমন : শরীরের কোনো অংশে ভেঙে যাওয়ার পর জয়েন্ট হাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, জন্মগত কারণে শিশুদের শারীরিক সমস্যা যেমন : সেরিব্রাল পালসি, আর্মস পালসি, মুখের প্যারালাইসিস বা ফেসিয়াল পালসি (ভাইরাসজনিত কারণে হয়ে থাকে), ঘাড় ও কোমরের মেরুদণ্ডের জন্মগত ত্রুটিজণিত কারণে যেমন- ঘাড়ে হাড় বেড়ে গেলে সারভাইকেল রিব বলা হয়, কোমরের ক্ষেত্রে সেকরালাইজেশন বলা হয়।
কিশোর শ্রমিকের শারীরিক অক্ষমতা থেকেও কিছু শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হলো শিশু-কিশোর। আর এই শিশু-কিশোরদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ শ্রমজীবী। তারা কল-কারখানা, শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট, যানবাহন, আবার কেউ বা ক্ষেত ও খামারে কাজ করে। উক্ত পেশাগত কারণে আমাদের দেশের কিশোরদের ঘাড়, কোমর ব্যথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে ভাঙার পর জয়েন্ট শক্ত হয়ে যায় যা পরবর্তীতে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা বা থেরাপিউটিক ব্যায়ামের প্রয়োজন হয়।
পৃথিবীর বড় বড় চিকিৎসাকেন্দ্রের বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে মেরুদণ্ডের ব্যথা প্রতিরোধের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হচ্ছে জীবনধারা পাল্টানো বা লাইফস্টাইল মডিফিকেশন। কিন্তু মানুষ যে জীবনধারায় অভ্যস্ত তা সহজে পাল্টে ফেলা সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন লাগাতার অধ্যবসায়। সেই কারণে রোগ প্রতিরোধে অপরিহার্য ও প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে রোগীর শিক্ষা।
ঘাড়ের ব্যথা খুব কষ্টকর এবং অস্বস্তিদায়ক একটি সমস্যা। বিগত দশকের অন্য একটি গবেষণায় দেখা গেছে ঘাড়ের ব্যথায় আক্রান্ত কিশোরদের সংখ্যা আগের থেকে বাড়ছে। এমনকি ১১-১৩ বছরের শিশুদের অনেকেই এই সমস্যায় ভুগছে বলে কিছু কিছু গবেষণায় দেখা গেছে। দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন কারণে শারীরিক ও মানসিক চাপ থেকে সাধারণত ঘাড়ের ব্যথা উৎপত্তি হয়ে থাকে। বিভিন্ন গবেষণায় দীর্ঘমেয়াদি ঘাড়ের ব্যথার কারণ হিসেবে বেশ কিছু পেশা বা কাজকে চিহ্নিত করা হয়েছে। যেমন : দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারে বা টেবিল-চেয়ারে বসে কাজ করা, ঘাড়ে বা মাথায় ভারী জিনিস বহন, রঙমিস্ত্রির কাজ ইত্যাদি।

কিশোররা যা করবে না
ষ    ঘাড় ঝুঁকিয়ে বা মেরুদণ্ড বাঁকিয়ে কাজ করা।
ষ    এক টানা অনেকক্ষণ বসে কাজ।
ষ    হাতে বা কাঁধে ভারী জিনিস বহন।
ষ    ঝাঁকুনি লাগানো (যানবাহনের)।
ষ    ত্রুটিপূর্ণ বিছানা ও বালিশ ব্যবহার।
ষ    ত্রুটিপূর্ণ আসবাবপত্র ও কম্পিউটার ব্যবহার।

কিশোরদের যা করতে হবে
ষ    সঠিক দেহভঙ্গিতে কাজ।
ষ    প্রয়োজনমত বিশ্রাম নেয়া।
ষ    কাজের ফাঁকে ফাঁকে জড়তা কাটানোর জন্য স্ট্রেচিং ব্যায়াম।
ষ    পরামর্শ অনুযায়ী আসবাবপত্র ও বিছানা-বালিশ পরিবর্তন।
ষ    নিজেকে অতিরিক্ত শারীরিক ও মানসিক চাপ থেকে মুক্ত রাখা।
ষ    ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের পরামর্শমত থেরাপিউটিক ব্যায়াম জানা।
ষ    যথাসময়ে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ রাখা।
ষ    ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত অন্য কোনো চিকিৎসকের ভুল পরামর্শ না নেয়া।
ষ    ঘাড়, কোমর ব্যথার ক্ষেত্রে ব্যায়ামের পাশাপাশি ইলেকট্রো থেরাপি ন্ত্রপাতির মাধ্যমেও চিকিৎসা গ্রহণ করা।
ষ    কিশোর বয়সে ব্যথানাশক ঔষধ ব্যবহার থেকে যথাসম্ভব দূরে থাকা।

SHARE

Leave a Reply