Home জানার আছে অনেক কিছু মাথাব্যথা আসলে কী?

মাথাব্যথা আসলে কী?

Janarচিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় মাথাব্যথা বলতে আমাদের মাথা, গলা ও মেনিঞ্জেসের বিভিন্ন স্নায়ু এবং পেশিতে অনুভূত ব্যথাকে বোঝায়। আমাদের মস্তিষ্কের আসলে নিজ থেকে ব্যথা অনুভবের ক্ষমতা নেই। আমাদের মাথায় বিভিন্ন স্নায়ু এসে শেষ হয়েছে। তাই মাথাব্যথা আমাদের মস্তিষ্কে নয়, বরং হয়ে থাকে মস্তিষ্কের আশপাশ কোনো জায়গায়।
মাথাব্যথাকে আবার চিকিৎসাবিজ্ঞানীগণ দুই ভাগে ভাগ করেছেন- প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি।
প্রাইমারি মাথাব্যথা : এই শ্রেণীর মাথাব্যথার মূলত তিনটি কারণ রয়েছে-
১. মাইগ্রেন : ‘মাইগ্রেন’ নামক শব্দটির সাথে পরিচয় নেই এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া বেশ মুশকিল। যার হয় সেই কেবল বোঝে এই ব্যথার তীব্রতা কতটুকু। আমাদের সেরেব্রাল কর্টেক্সের বিভিন্ন অংশে রক্তপ্রবাহ কমে যাওয়াই মূলত এর জন্য দায়ী। মাইগ্রেনের উপসর্গের মধ্যে রয়েছে আলো ও গোলমালের প্রতি সংবেদনশীলতা, বিভিন্ন বিষয়ের প্রতি বিতৃষ্ণাবোধ, বমি হওয়া এবং মাথার কোনো এক পাশে তীব্র ব্যথা অনুভূত হওয়া।
২. দুশ্চিন্তা : আমাদের মাথা এবং গলার বিভিন্ন পেশিতে অতিরিক্ত স্ট্রেসের ফলে অথবা আবেগিক নানা কারণে দুশ্চিন্তাজনিত মাথাব্যথা হয়ে থাকে। এই ধরনের মাথাব্যথাগুলোর সময় মাথায় এক ধরনের ঝিম ধরা অনুভূতি হয় এবং সেই সাথে মাথার দুই পাশেই তীব্র ব্যথা হতে থাকে। চিকিৎসাবিজ্ঞানীগণ মনে করে থাকেন যে এর সাথে হয়তো মাইগ্রেনের খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
৩. ক্লাস্টার : এ ধরনের মাথাব্যথাগুলো সাধারণত কয়েক সপ্তাহ এমনকি কয়েক মাস ধরে নিজেদের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে চলে। এদের উৎপত্তিও মাথার যেকোনো এক পাশেই হয়ে থাকে। ক্লাস্টার টাইপের মাথাব্যথার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা না গেলেও ধারণা করা হয়ে থাকে রক্তপ্রবাহের পরিবর্তনের ফলেই এর উৎপত্তি। কারণ অ্যালকোহলের মতো যেসব উপাদান রক্তপ্রবাহকে প্রভাবিত করে তারা এই ধরনের মাথাব্যথার ক্ষেত্রে আরো উত্তেজক ভূমিকা পালন করে থাকে।
এ ছাড়া আমাদের মস্তিষ্কে অতিরিক্ত রক্তপ্রবাহের ফলেও প্রাইমারি টাইপের মাথাব্যথা হয়ে থাকে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে ক্যাফেইন আমাদের মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এখন কারো যদি নিয়মিত ক্যাফেইন নেবার অভ্যাস থাকে আর সে হঠাৎ করেই সেটা বন্ধ করে দেয় তবে মস্তিষ্কে অতিরিক্ত প্রবাহের ফলে তার মাথাব্যথা হয়ে থাকে।
সেকেন্ডারি মাথাব্যথা : এই শ্রেণীর মাথাব্যথাগুলো মূলত ইনফেকশন, জ্বর, মাথায় আঘাত, হাইপোগ্লাইকেমিয়া, টিউমার ইত্যাদি কারণে হয়ে থাকে।
মাথাব্যথা যে শ্রেণীরই হোক না কেন তা যদি মাঝে মাঝেই হয়ে থাকে তবে আমাদের উচিত কোনো চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া। কারণ অনেক সময় দেখা যায় খুব ছোট কোনো রোগও আসলে বড় কোনো রোগকে ডেকে নিয়ে আসে।

ফুলের সুবাস মিষ্টি কেন
ফুলের মিষ্টি সুবাসে আকৃষ্ট হয়ে পোকামাকড় ফুলের পরাগরেণু এবং নেক্টার নামক সুগন্ধী রসে এসে বসে। এসব পোকামাকড় আকৃষ্ট করার উদ্দেশ্য হলো ফুলের নিষেক কাজে সাহায্য করা। নিষেকে পরাগরেণু এক ফুল থেকে অন্য ফুলে বহন করার কাজে মৌমাছি এবং অন্য পোকামাকড় অনেক সাহায্য করে। যখন তারা ফুলের গন্ধে মোহিত হয়ে তার ওপর এসে বসে, তখন তাদের শরীরে পরাগরেণু লেগে যায়, যা পরে অন্য ফুলে স্থানান্তরিত হয় তাদের মাধ্যমেই। অনেক ফুলে কোনোরকম নেক্টার না থাকলেও দেখা যায় শুধু সুন্দর গন্ধের জন্যই পোকা এর ওপর এসে বসেছে। পতঙ্গের মাধ্যমে যেসব ফুলের পরাগরেণু স্থানান্তর তথা পরাগায়ণ ঘটে, তারা সাধারণত খুবই উজ্জ্বল ও আকর্ষণীয় হয়। ফলে পোকাদের আকৃষ্ট করা আরো বেশি সহজ হয়ে পড়ে।
হ জে হুসাইন

SHARE

1 COMMENT

Leave a Reply