Home নিয়মিত রহস্যভেদ মাথা খাটাও

মাথা খাটাও

Rohosso-vedরহস্যপ্রিয় বন্ধুরা, আস্সালামু আলাইকুম। বরাবরের ন্যায় এই সংখ্যায়ও ছোট্ট একটি রহস্যগল্প থাকছে তোমাদের জন্য। মাথা খাটিয়ে রহস্যটা বের করে পাঠিয়ে দিয়ে জিতে নাও আকর্ষণীয় পুরস্কার। উত্তরপত্রে মাসের নাম ও পূর্ণ ঠিকানা থাকতে হবে। খামের ওপরে ‘রহস্যভেদ’ লিখতে ভুল করো না। -বিভাগীয় পরিচালক
এবার ষোলোই ডিসেম্বর ঘটল ঘটনাটা। বিকেলে পাড়ার সব শিশু রাসেল মাহফুজকে ঘিরে ধরল। ওদেরকে তার গোয়েন্দা গিরির একটি চমৎকার গল্প বলতেই হবে। রাসেলের অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল। কিন্তু বাচ্চারা এমনভাবে চেপে ধরল যে ও আর না করতে পারল না। তবে গল্প শোনানোর জন্য একটা শর্ত বেঁধে দিল- ও একটা ধাঁধা বলবে। যদি বাচ্চাদের মধ্য থেকে কেউ একজনও তার জবাব দিতে পারে, তাহলেই ও গল্প বলবে। একটু ‘না না’ করলেও শেষে রাজি হয়ে গেল ওরা।
রাসেল মাহফুজ ধাঁধাটি বলতে শুরু করল : বড় একটা শিমুল গাছের ডালে রঙবেরঙের কয়েকটি পাখি বসে আছে। হঠাৎ লাল রঙের পাখিটি বলল, চলো, কোথাও থেকে বেড়িয়ে আসি।
সবুজ রঙের পাখিটি বলল, তাহলে মন্দ হয় না। কিন্তু কোথায় যাব? তার এই কথা শুনে হলুদ রঙের পাখিটি বলল, পাশের গ্রামে সুন্দর একটি জঙ্গল আছে। ওই জঙ্গলের গাছগুলো টক মিষ্টি ফল আর কীট-পতঙ্গে ভরা। ওখানে গেলে খাবারেরও কোনো অভাব হবে না। কালো রঙের পাখিটি বলল, তাই নাকি! তাহলে আর দেরি কেন। চলো, এখনই রওনা দেয়া যাক। তখন সব পাখি একসঙ্গে বলল, তবে তাই হোক। চলো এখনই যাই।
দলবেঁধে ওড়া শুরু করল পাখিরা। নীল আকাশ আর সাদা মেঘ ছুঁয়ে পাখির দল এগিয়ে চলেছে। উড়ছে তো উড়ছেই। পথ আর কিছুতেই যেন শেষ হতে চায় না। হঠাৎ একটি পাখি বলল, ভাই, উড়তে উড়তে ডানা তো অবশ হয়ে গেল। চলো কোথাও বসে একটু জিরিয়ে নিই। এই কথা শুনে হলুদ রঙের পাখিটি বলল, সামনে একটি পুকুর দেখে আমরা বসবো।
তখনই সামনের পাখিটি বলল, ওই তো একটা পুকুর দেখা যায়। ওই পুকুরেই আমরা বসতে পারি। একটু সামনে এগুতেই তারা দেখল সাদা সাদা শাপলা ফুলে ভরা বড় একটা পুকুর।
সবুজ রঙের পাখিটি বলল, আমরা একটা ফুলের ওপর একজন করে বসব। তার কথা মতো সব পাখি তাই করল। কিন্তু ফোটা ফুল আর না থাকায় একটা পাখি বসতে পারল না। পাখিটি বসে থাকা পাখিগুলোর চারপাশ দিয়ে উড়তে লাগল।
এমন অবস্থা দেখে হলুদ রঙের পাখিটি বলল, এসো আমরা এক কাজ করি। আমরা একটি ফুলের ওপর দু’জন করে বসি। অর্থাৎ জোড়ায় জোড়ায় বসি। তাহলে আমরা সবাই একসঙ্গে বসতে পারব। তাই করা হলো। দেখা গেল সব পাখি ফুলের ওপর বসতে পারল। কিন্তু একটি ফুল ফাঁকা থাকল।
এই পর্যন্ত বলে রাসেল মাহফুজ উৎসুক শ্রোতাদের মুখের ওপর দিয়ে একবার দৃষ্টিটা ফিরিয়ে নিয়ে এলো। তারপর বলল, এখন মাথা খাটিয়ে বলতে হবে ওই দলে মোট কতটি পাখি ছিল। আর ওই পুকুরে কতটি শাপলা ফুল ফুটে ছিল।
অক্টোবর ২০১৩ সংখ্যার সমাধান : তোমায় দিলাম ঘোড়ার ডিম।
পুরস্কার বিজয়ী :
রুম্মান মারযিয়া, কালিগঞ্জ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সাতক্ষীরা

SHARE

1 COMMENT

Leave a Reply to Nakbt Cancel reply