Home বিজ্ঞান রাসায়নিক অস্ত্র কী ও কেন

রাসায়নিক অস্ত্র কী ও কেন

ওবায়দুল্লাহ আল মামুন|

Scienceসিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে রাসায়নিক গ্যাস হামলার পর বিশ্বব্যাপী ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। ফলশ্রুতিতে দেশটির ওপর হামলা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের মিত্র দেশগুলো সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু জাতিসঙ্ঘ ও অন্যান্য দেশের সমর্থন না থাকায় শেষ পর্যন্ত হামলা থেকে সরে আসে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে বিভিন্ন যুদ্ধে ব্যবহার হচ্ছে নানাবিধ গোলাবারুদ। সম্প্রতি এসব গোলাবারুদে নতুন মাত্রা হিসেবে যোগ হয়েছে রাসায়নিক গ্যাস বা অস্ত্র। রাসায়নিক গ্যাসের মধ্যে মাস্টার্ড, ভিএক্স, জিবি, সারিন উল্লেখযোগ্য। সারিন গ্যাসটি ইদানীং ব্যাপক আলোচিত। গত ২১ আগস্ট সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক শহরে এ গ্যাস হামলায় একইসাথে প্রায় দেড় হাজার লোকের প্রাণহানি ঘটে। এর মধ্যে ৪২৬ জন শিশুও মারা যায়। রাসায়নিক গ্যাস সারিন কী এবং এর ব্যবহার কবে থেকে শুরু হয়েছে, কারা এ গ্যাসের মালিক বা কোন কোন দেশে রয়েছে এর মজুদ এ নিয়ে ইদানীং তুমুল ঝড় শুরু হয়েছে বিজ্ঞানের জগতে।
মানবজাতির ক্ষতি কিংবা সমূলে ধ্বংস করতে ব্যবহার করা হয় এ গ্যাস
রাসায়নিক অস্ত্র হচ্ছে এমন একটি ডিভাইস যা মানবজাতি এবং যেকোনো প্রাণীর ক্ষতি কিংবা সমূলে ধ্বংস করতে ব্যবহার করা হয় এ ভয়ানক মারণাস্ত্র। ব্যাপক ধ্বংসের ক্ষেত্রে তারা নানাবিধ হতে পারে। যেমন রাসায়নিক অস্ত্র, পারমাণবিক অস্ত্র, জৈবিক অস্ত্র ইত্যাদি। রাসায়নিক গ্যাস খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে অন্য যেকোন মারণাস্ত্রের চেয়ে। নার্ভ এবং টিয়ার গ্যাস হচ্ছে এর আধুনিক রাসায়নিক গ্যাসের একটি উদাহরণ। আমাদের দেশেও হরতালে ব্যবহার করা হয় টিয়ার গ্যাস বা কাঁদানে গ্যাস।
বিষাক্ত নার্ভ গ্যাস হচ্ছে সারিন
সাংঘাতিক বিষাক্ত নার্ভ গ্যাস হচ্ছে সারিন। এ গ্যাস ¯œায়ুতন্ত্রকে আক্রমণ করে অকার্যকর করে দেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে সারিন গ্যাসের কার্যকারিতা প্রাণঘাতী সায়ানাইডের চেয়েও ২৬ গুণ বেশি। এক ঘনমিটার আয়তনের একটি প্রকোষ্ঠে কাউকে রেখে মাত্র ১০০ মিলিগ্রাম সারিন গ্যাস প্রয়োগ করা হলে মিনিটের মধ্যে তার মৃত্যু হবে। বন্ধুরা বুঝতেই পারছো এ গ্যাস কতটা ভয়াবহ ও বিপজ্জনক । এ গ্যাস ও বর্ণ গন্ধহীন হওয়ায় আক্রান্ত হওয়ার আগেই গ্যাসের উপস্থিতি বোঝা যায় না। বাতাসের চেয়ে ভারী হওয়ায় কোথাও এ গ্যাস ছেড়ে দিলে ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত স্থিতিশীল থাকতে পারে।
জার্মানিরা আবিষ্কার করে এ গ্যাস
১৯৩৮ সালে অধিকমাত্রায় কার্যকর কীটনাশক তৈরি করতে গিয়ে জার্মানি বিজ্ঞানীরা কাকাতালীয়ভাবে সারিন গ্যাস তৈরি করে ফেলেন। পরে জার্মান সরকার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানে এ গ্যাস ব্যবহার করে। কিন্তু জার্মানির সেনাবহিনী একে ১৯৩৯ সালে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের উদ্যোগ নেয়। পরবর্তীতে প্রাণঘাতী এ গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে দেশ হতে মহাদেশে। প্রাণঘাতী এ গ্যাসটি বর্ণ ও গন্ধহীন। এ গ্যাস ছাড়া হলে দেখা যাবে না বা গন্ধকে আগে থেকে ধরা যাবে না। যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নসহ বিশ্বের অনেক পরাশক্তিই সারিন গ্যাসের মজুদ গড়ে তুলেছিল। তবে এখন সারিন গ্যাসের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। গত শতাব্দীর শেষ দিকে জাপানের একটি ধর্মীয় গোষ্ঠী সারিন গ্যাস ব্যবহার করে ফের আলোচনায় এসেছিল। ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের শাসনামালে কুর্দি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে এ গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছিল। ইরানের সৈন্যদের বিরুদ্ধেও ইরাক সারিন গ্যাস ব্যবহার করেছিল। সে সময় ইরানের সৈন্যদের অবস্থানের তথ্য স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সংগ্রহ করে সরবরাহ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। সাম্প্রতিক সারিন গ্যাসের ব্যবহার ঘটেছে সিরিয়ায়। এ ঘটনায় সিরিয়ায় নারী শিশুসহ কমপক্ষে দেড় হাজার লোক প্রাণ হারায়
ক্ষতিকর প্রভাব
সারিন গ্যাসের প্রভাবে ¯œায়ুতন্ত্র অকার্যকর হয়ে পড়ায় পেশির ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকে না। খিচুনি শুরু হয়। অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অসাড় হয়ে পড়তে পারে। অন্যান্য লক্ষণের মধ্যে আছে চোখে ঝাপসা দেখা, দুর্বলতা, ডায়রিয়া, চোখে পানি আসা, বমি আসা, মাথা ব্যথা ইত্যাদি। সারিন গ্যাসের প্রভাবে ফুসফুসের পেশি অকার্যকর হয়ে পড়তে পারে। ফলশ্রুতিতে দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হতে পারে। তবে সারিন গ্যাস প্রয়োগের মাত্রার ওপর নির্ভর করছে কী ধরনের লক্ষণ দেখা যাবে এবং কতটা সময় পরে দেখা যাবে। সারিন গ্যাস যে শুধু নিঃশ্বাসের মাধ্যমেই প্রবেশ করে তা নয় বরং চামড়ার মাধ্যমে এ গ্যাস শরীরে প্রবেশ করে। এ গ্যাস এতটাই ক্ষতিকর যে এ গ্যাসের বিস্তারের ফলে খাবার ও পানি সরবরাহ দূষিত হয়ে পড়তে পারে। তবে আশার কথা হলো এ গ্যাসের বিষক্রিয়া বিরোধীও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠান সিডিসি জানিয়েছে সারিন খাদ্য ও পানি সরবরাহকে দূষিত করে।
বর্তমানে কারা এ গ্যাসের অধিকারী
বর্তমানে সারিন গ্যাস মজুদ রয়েছে কমপক্ষে এমন পাঁচটি দেশ এ কথা ঘোষণা করেছে। পাঁচটি দেশ হলোÑ যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, লিবিয়া, ইরাক এবং জাপান। তবে চীন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তাদের কাছে মজুদ সারিন গ্যাস ধবংসের কথা স্বীকার করলেও তা ছিল খুবই মন্থরগতিতে। সবশেষ জুলাই ২০১৩ এ জানা যায় চীনে বর্তমানে ১৩ হাজার টন রাসায়নিক গ্যাস বিদ্যমান রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা মনে করছে সিরিয়া, ইরান ও উ. কোরিয়ায় এ রাসায়নিক গ্যাস রয়েছে। বিশেষ করে সিরিয়ায় ভিএক্স, সারিন, মাস্টার্ডসহ বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক গ্যাস মজুদ রয়েছে। এ ছাড়াও আরো কিছু দেশ রয়েছে যাদের সারিন গ্যাস উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে কিন্তু জনসমক্ষে তারা এটা প্রকাশ করছে না। সম্ভাব্য এ দেশগুলো হচ্ছে- ভারত, পাকিস্তান, মিসর, সার্বিয়া সুদান, তাইওয়ান এবং ভিযেতনাম। ভারত ১৯৯৭ সালে তাদের কাছে রাসায়নিক গ্যাস সারিন আছে বলে ঘোষণা করে।
সারিন গ্যাস আন্তর্জাতিক আইনে নিষিদ্ধ কি না?Sarin-gas
যুদ্ধক্ষেত্রে এ ধরনের বিষাক্ত রাসায়নিক গ্যাস ব্যবহার ১৯২৫ সালে প্রথমবারের মতো জেনেভা প্রটোকোলে নিষিদ্ধ করা হয়। এরপর ১৯৯৩ সালে রাসায়ানিক অস্ত্র সম্মেলনে এর মজুদ, সরবরাহ, উৎপাদন, রাসায়নিক অস্ত্রেও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়। এই সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো তাদের কাছে মজুদকৃত রাসায়নিক গ্যাস সারিন কমিয়ে আনা ও এর ধ্বংস করার কথা অঙ্গীকার করে। ১৯৯৩ সালে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকটি দেশেই এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করে।
রাসায়নিক গ্যাস নিয়ে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক চুক্তি
আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে রাসায়নিক অস্ত্র সম্মেলনে (কেমিক্যাল উয়িপনস কনভেনশন) অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তিটি হচ্ছে একেবারেই সাম্প্রতিক। এ আইনের অধীনে রাসায়নিক অস্ত্র উৎপাদন, মজুদ, এর ব্যবহার নিষিদ্ধ। এ আইনটি নিয়ন্ত্রণ পর্যবেক্ষণ করেন অর্গানাইজেশন ফর দ্য প্রোহিবিশন অব কেমিক্যাল উয়িপনস বা (ওপিসিডাব্ল্উি)। এটি নেদারল্যান্ডের রাজধানী হ্যাগভিত্তিক একটি নিরপেক্ষ ও স্বাধীন সংগঠন। এ চুক্তিতে বিশ্বের ১৮৮টি দেশ স্বাক্ষর করে, যারা বিশ্বের ৯৮ শতাংশ লোকের প্রতিনিধিত্ব করে। এ সম্মেলনে ৭১ হাজার ১৯৪ টন মজুদ গ্যসের মধ্যে ৪৪৩১ টন গ্যাস কথা স্বীকার করেছ, এবং (৬১.৯৯) শতাংশ গ্যাস নিষ্ক্রিয় করার কথা জানিয়েছে।
যুগে যুগে সারিন হামলা
জার্মানি ১৯১৫ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় জিপরিস যুদ্ধে এ গ্যাসের ব্যববহার করে ফলে ৬ হাজার লোকের প্রাণহানি ঘটে। ১৯৩৫ সালে ইতালি ইথিওপিয়ার ওপর সারিন গ্যাস হামলা চালায়। হামলায় কমপক্ষে ১৫ হাজার লোক মারা যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপান চীনে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক গ্যাস হামলা চালায় এতে চীনের দুই হাজার লোকের প্রাণহানি ঘটে। ১৯৬২-৬৭ সালে আমেরিকা ভিয়েতনামের ওপর হার্বিসাইডস ও টিয়ার গ্যাস (কাঁদানে গ্যাস) ছুড়ে। ১৯৮০-৮৮ সালে ইরাক প্রতিপক্ষ ইরানের ওপর গ্যাস হামলা চালালে এত প্রায় ৫০ হাজার লোকের হতাহতের ঘটনা ঘটে। সবশেষ ২০১৩ সালের ২১ আগস্ট সিরিয়ায় বাসার আল আসাদ বিদ্রাহীদের ওপর বিষাক্ত সারিন গ্যাস হামলা চালায়। ফলশ্রুতিতে ৪২৬ জন নিষ্পাপ শিশুসহ ১৪২৯ জন লোক মারা যায়। তথ্যসূত্র : দি ইকোনমিস্ট।
Bigganসিডব্লিউসি সম্মেলনে চুক্তিতে সই করেনি যে দেশ
উত্তর কোরিয়া একমাত্র দেশ যারা সিডাব্লিউসি বা কেমিক্যাল উয়িপনস কনভেনশনে স্বাক্ষর করেনি এবং তাদের কাছে রাসায়নিক গ্যাস মজুদ রয়েছে এ কথা তারা কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি। উত্তর কোরিয়ায় রাসায়নিক গ্যাস তৈরিতে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রয়েছে। ২০০৯ সালে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ এক প্রতিবেদনে দেখিয়েছে যে উত্তর কোরিয়ায় মাস্টার্ড গ্যাস সারিন, জিবি এবং নার্ভসহ প্রায় ২৫০০ টন থেকে ৫ হাজার টন রাসায়নিক গ্যাস মজুদ রয়েছে।
অপর দিকে ১৯২৫ সালে রাসায়নিক অস্ত্র সম্মেলনে যোগদান করেনি এমন ৭টি দেশের মধ্যে সিরিয়া একটি। ১৯২৫ সালের জেনেভা সম্মেলনে যুদ্ধে রাসায়নিক গ্যাস ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়। তবে এর উৎপাদন সরবরাহ মজুদকরণ সম্পর্কে কিছু বলেনি। অবশ্য পরে এ বিষয়ে সম্পূর্ণ নিষোধাজ্ঞা করা হয়।
রাসায়নিক গ্যাস নিষ্ক্রিয়করণ করা
রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংস করতে নানা কৌশল ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তবে অধিকাংশ পদ্ধতিই হয় ভস্মীভূত। রাসায়নিক দ্রব্যর বিষাক্ততা নষ্ট করতে এগুলো উচ্চতাপে পুড়িয়ে ফেলা হয়। বিস্ফোরকযুক্ত রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংস করার ক্ষেত্রে থাকে বাড়তি ঝুঁকি। এ ক্ষেত্রে একটি সমাধান হচ্ছে, ভ্রাম্যমাণ ইউনিট ব্যবহার করা। ধ্বংসের কাজে এ ধরনের ইউনিট ব্যবহার করা গেলে অপেক্ষাকৃত দ্রুত এক স্থান থেকে অন্যত্র সরে যাওয়া যায়। মার্কিন সামরিক বাহিনী এ ধরনের একটি ভ্রাম্যমাণ ইউনিট তৈরি করেছে, যার নাম এক্সপ্লোসিভ ডেস্ট্রাকশন সিস্টেম (ইডিএম) বিস্ফোরক নিস্ক্রিয়করণ পদ্ধতি। এটি বিষাক্ত গ্যাস নিস্ক্রিয় করতে রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করে। ২০০১ সালের পর থেকে এক হাজার ৭০০টি রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংসে এটি ব্যবহার করা হয়ছে। সিরিয়ায় কথিত ‘হট- ডেটোনেশন টেকনোলজি’ নামের আরেকটি পদ্ধতি ব্যবহার করা হতে পারে। এ পদ্ধতিতে রাসায়নিক অস্ত্রগুলোকে একটি চেম্বারের ভেতরে নিয়ে ৫৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা সৃষ্টি করা হয়। এ মাত্রার তাপ রাসায়নিক অস্ত্র ও এর উপাদানগুলো ধ্বংসের জন্য যথেষ্ট।
যুদ্ধাস্ত্রের ভেতরে ভরা হয়নি, এমন রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংস করা অনেকটা সহজ। উচ্চতাপের মাধ্যমে রাসায়নিক গ্যাসগুলোকে কম ক্ষতিকর দ্রব্যে রূপান্তরিত করা যায়। তখন এগুলো রাসায়নিক বর্জ্যের মতো নষ্ট করা যায়। তবে পরিবেশ দূষণ নিয়ে উদ্বেগ থাকায় রাসায়নিক অস্ত্র ভস্মীভূত করার চেয়ে নিষ্ক্রিয় করাই বেশি জনপ্রিয় পদ্ধতি। নিষ্ক্রিয় করতে রাসায়নিক অস্ত্র একটি ট্যাংকে ভরা হয়। সেখানে পানি ও কস্টিক সোডা মিশিয়ে এর বিষাক্ততা কমানো হয়। এরপর সেগুলো হয় ক্ষতিকারক বর্জ্যরে মতো করে নষ্ট অথবা দ্বিতীয় একটি ট্যাংকে নিয়ে ভস্মীভূত করা হয়।
যেখানে নিষ্ক্রিয় করা হবে
রাসায়নিক অস্ত্র চুক্তি (সিডব্লিউসি) অনুযায়ী, রাসায়নিক অস্ত্র সাগরে ফেলা বা মাটির নিচে পুঁতে ফেলার সুযোগ নেই। নব্বইয়ের দশকে ইরাকে মাটির অনেক গভীরে গর্ত করে নিয়ন্ত্রিতভাবে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছিল। রাসায়নিক অস্ত্র যেখানে আছে, সেখানেই ভ্রাম্যমাণ ইউনিট নিয়ে গিয়ে ধ্বংস করা হতে পারে।
তথ্যসূত্র : দি ইকোনমিস্ট, উইকিপিডিয়া, বিবিসি ও বিভিন্ন ব্লগ অবলম্বনে

SHARE

1 COMMENT

  1. বিশ্বকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে রাসায়নিক অস্ত্র তৈরী এবং ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

Leave a Reply