Home তোমাদের গল্প অহঙ্কারের কুফল

অহঙ্কারের কুফল

রেজওয়ানা পারভীন মীম|

tomader-golpoকী  সুন্দর ফুল! আম্মু এটার নাম কী? প্রশ্নটা করলো অধরা খানম টুশি। মাত্র ৪ বছর চলছে ওর।
আর এক বছর পরই ওকে স্কুলে ভর্তি করে দেবেন ওর মা। টুশির বাবা নেই। ওর বয়স যখন দুই বছর, তখন তিনি এক দুর্ঘটনায় মারা যান।
টুশিকে নিয়ে তার মা ফুলের বাগানে পানি দিচ্ছেন। এমন সময়ই টুশি ঐ প্রশ্নটা করলো।
টুশির মা উত্তরে বললেন, গোলাপ ফুল।
টুশি একটু পরে অন্য একটা ফুল দেখিয়ে জিজ্ঞেস করলো, আম্মু এই ফুলটির নাম কী?
বেলি ফুল।
টুশি চিন্তায় ডুবে গেলো। এটার নাম কেন গোলাপ হলো? আর ওটার নামই বা কেন বেলি হলো? গোলাপটার নাম বেলি হলে কী দোষ ছিলো? আর বেলিটার নামইবা গোলাপ হলে কী দোষ ছিলো?
টুশির মা টুশির দিকে তাকিয়ে দেখলেন তার ছোট্ট সোনামণি গভীর মনোযোগে কী যেন চিন্তা করছে। কী হলো টুশি মামণি, কী চিন্তা করছো?
হঠাৎ মায়ের স্পর্শে টুশির চিন্তা ভাঙলো। টুশি জবাব দিলো, আচ্ছা মা এটার নাম কেন গোলাপ হলো? আর কথাটি শেষ করতে পারলো না টুশি, এরই মধ্যে তার দাদাভাই উপস্থিত। টুশির মা বললেন, মামণি তোমার দাদাভাইকে সালাম দাও।
আসসালামু আলাইকুম দাদাভাই।
ওয়ালাইকুম আসসালাম। কী করছো দাদুভাই? মায়ের সাথে গল্প হচ্ছে বুঝি?
জি দাদাভাই।
তা কী গল্প হচ্ছিল শুনি?
তার আগে দাদাভাই বল তো আমরা কথা বলতে পারি কিন্তু ঐ সুন্দর পাখিগুলো কেন কথা বলতে পারে না? আবার ঐ সুন্দর পাখিগুলো কী সুন্দরভাবে আকাশে উড়তে পারে। আমরা পারি না কেন? কোন গাছ এতটুকু ছোট, কোন গাছ এত বড় হয় কেন? প্রতিদিন সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে। পশ্চিম দিকে ওঠে না কেন? আর …
টুশি আরো প্রশ্ন করতে যাচ্ছিল। কিন্তু তার দাদাভাই তাকে থামিয়ে দিলেন। বললেন, দাদুভাই এতগুলো প্রশ্নের উত্তর আমি তোমাকে একসাথে কী করে দেবো? তুমি যদি একটি করে প্রশ্ন করতে, আমি একটি করে উত্তর দিতাম। এভাবে হলে তুমিও জিনিসটা বুঝতে আর আমিও উত্তর দিতে পারতাম।
টুশি বললো, আমি দুঃখিত দাদুভাই।
দাদাভাই বললেন, শোন টুশি, এই পৃথিবীর যা কিছু আছে সব কিছুই মহান আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টি করেছেন। তিনি নিরাকার। তিনি একক অদ্বিতীয়। এই যে বিশাল পৃথিবী এটাকেও তিনি সৃষ্টি করেছেন। আর তার সব সৃষ্টির মধ্যে মানুষ সর্বশ্রেষ্ঠ। মানুষকে বলা হয় আশরাফুল মাখলুকাত অর্থাৎ সকল সৃষ্টির সেরা। কেননা সব সৃষ্টির মধ্যে একমাত্র মানুষই কথা বলতে পারে। আর মানুষেরই বিবেকবুদ্ধি আছে। মানুষই একমাত্র মহান আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা ভাবনা করে। এই পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবকিছুই মানুষের উপকারের জন্য, ভালোর জন্য মহান আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টি করেছেন।
সুতরাং এটা এমন হলো না কেন? ওটার নাম এটা না কেন? সেটা এমন পারে, এটা পারে না কেন?Ñ ইত্যাদি প্রশ্ন করা একেবারেই বোকামি। বুঝলে দাাদুভাই?
জি দাদাভাই, আমি বুঝতে পেরেছি। বললো টুশি।
রাতে ঘুমাবার সময় দাদুভাই বললেন, আজ তোমাকে দুই বন্ধুর গল্প শুনাবো, কী বলো দাদুভাই?
টুশি হাসিমুখে সম্মতি দিয়ে বললো, শুরু করো দাদাভাই।
দাদাভাই শুরু করলেন, অনেক আগের কথা। এক গাঁয়ে দুই বন্ধু ছিলো। একজন ছিলো খুব বড়লোকের ছেলে আর অপরজন খুব গরিবের ছেলে। বড়লোক বন্ধুটি তার পড়ালেখা নিয়ে খুব অহঙ্কার করতো। সে পেতো পর্যাপ্ত পড়ালেখা করার সুযোগ এবং ভালো ভালো প্রাইভেট টিচার। অন্য দিকে গরিব বন্ধুটি লেখাপড়া করার কোনো সুযোগই পেতো না, সারাদিন ঘরের কাজ করতে হতো। আর প্রাইভেট পড়ার মতো সামর্থ্যও তার ছিলো না। এই কারণে বড়লোক বন্ধুটি সবসময় খুব ভালো রেজাল্ট করতো। আর গরিব বন্ধুটি খুব খারাপ রেজাল্ট করতো।
এ নিয়ে তার মনে দুশ্চিন্তার শেষ ছিলো না। তার চোখে ছিলো বড় হওয়ার অনেক স্বপ্ন। কিন্তু সে কেন সফল হতো না তা-ই সে বুঝতে পারতো না। একদিন সে কিশোরকণ্ঠ নামে একটি মাসিক ম্যাগাজিন পড়লো। পড়ার পর থেকে সে হয়ে গেলো অন্য রকম। সে যেটুকু সময় পায় মনোযোগ দিয়ে পড়ে। কিছু না বুঝলে ক্লাস টিচারদের সাহায্য নেয়। দেখতে দেখতে পরীক্ষার দিন ঘনিয়ে এলো। পরীক্ষা দিলো। রেজাল্টের দিন এলো। দুই বন্ধু পাশাপাশি বসে আছে। ধনী বন্ধুটি অহঙ্কার করে বললো, দেখিস এবারও আমিই ভালো রেজাল্ট করবো। গরিব বন্ধুটি কিছু বললো না।
কিছুক্ষণ পর রেজাল্ট ঘোষণা হলো। ধনী বন্ধুটি অবাক হয়ে শুনলো তার গরিব বন্ধুটি শুধু ভালো রেজাল্টই করেনি, ক্লওাসের প্রথম স্থান অধিকার করেছে।
দেখলে দাদুভাই, ধনী বন্ধুটি অহঙ্কার করতো বলে সেই অহঙ্কারের পতন ঘটেছে।
তাহলে বলো তো দাদুভাই, আমরা এ গল্পটি থেকে কী শিখলাম?
ছোট্ট টুশি বললো, অহঙ্কারই পতনের মূল।

SHARE

Leave a Reply