Home কুরআন ও হাদিসের আলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব

রাসূল (সা) বলেছেন, ‘পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক।’ (সহীহ মুসলিম ও তিরমিযী)
দৈহিক রোগব্যাধি থেকে মুক্ত থাকতে হলে দেহকে পরিচ্ছন্ন রাখতে হয়, কাপড়-চোপড় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হয়, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন খাবার খেতে হয়। মনোদৈহিক রোগ থেকে বেঁচে থাকার অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি পবিত্র মন। এ প্রসঙ্গে মহাগ্রন্থ আল কুরআনেও একাধিক স্থানে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। যেমন, আল্লাহ বলেন, ‘অবশ্যই আল্লাহ তাওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং যারা পবিত্র থাকে তাদেরকেও ভালোবাসেন।’ (সূরা আল বাকারা : ২২২)
আধুনিক বিজ্ঞান পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতাকে সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেছে। এ জন্য বলা হয়ে থাকে ‘চৎবাবহঃরড়হ রং নবঃঃবৎ ঃযধহ পঁৎব.’ অর্থাৎ প্রতিরোধ রোগ নিরাময়ের চাইতে শ্রেয়। আধুনিক যুগের এই ধ্যান-ধারণা পবিত্রতা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কিত ইসলামের মৌলনীতির অনুসরণ মাত্র।
দৈহিক পরিচ্ছন্নতা
হাত : হাত দিয়েই আমরা আহার করি, চোখ-মুখ মুছি এবং প্রয়োজনবোধে মুখগহ্বরে হাত দেই। আবার হাত দ্বারাই আমরা ময়লা আবর্জনা দূর করে থাকি। তাই হাত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রাসূল (সা) এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘তোমাদের কেউ ঘুম থেকে উঠে হাত তিনবার না ধুয়ে যেন কোন পাত্রে হাত না ঢোকায়।’
মুখ : মুখের ভেতর দিয়ে খাদ্যদ্রব্য ও পানীয় দেহে প্রবেশ করে। সে জন্য মুখ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা খুবই জরুরি। মুখের ভেতর কোনো সংক্রমণ হলে তা খাদ্যনালীতে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা মারাত্মক অবস্থার সৃষ্টি করে। দিনে ৫ বার অজুর মাধ্যমে মুখ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়ে যায়।
চোখ : চোখ হচ্ছে আল্লাহর অন্যতম বড় একটি নিয়ামত। এর যতœ নেয়া খুবই জরুরি। দিনে ৫ বার অজুর মাধ্যমে ১৫ বার চোখ ধুয়ে আমরা চোখ পরিষ্কার করতে পারি।
মাথা : মাথার ত্বকের অপরিচ্ছন্নতা থেকে রোগ-ব্যাধির জন্ম হতে পারে। এজন্য মাথার ত্বক এবং চুল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি। রাসূল (সা) বলেছেন, ‘যার মাথায় চুল আছে, সে যেন তার পরিচর্যা করে।’
পোশাক-পরিচ্ছদের পরিচ্ছন্নতা
সুস্থ শরীর ও সুস্থ মনের জন্য পরিষ্কার কাপড় পরিধান করা বাঞ্ছনীয়।
পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা
সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য চাই সুস্থ পরিবেশ। ঘর-বাড়ি, রাস্তাঘাট ইত্যাদি পরিবেশেরই গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট, খোলা মাঠ ইত্যাদি আবর্জনামুক্ত রাখা একান্ত প্রয়োজন।
খাদ্য ও পানীয়ের পরিচ্ছন্নতা
খাদ্য ও পানীয় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র না রাখলে এগুলো সংক্রামিত হতে পারে এবং তা দ্বারা পরিপাকতন্ত্রের বিভিন্ন ধরনের রোগ হতে পারে।
প্রিয় বন্ধুরা, এসো আমরা আজ থেকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই যে আমরা আমাদের জীবন চলার পথে প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অবলম্বন করে দৈহিক ও মানসিক সুস্থতা অর্জন করবো। আমিন।
গ্রন্থনায় : মোহাম্মদ ইয়াসীন আলী

SHARE

1 COMMENT

Leave a Reply