Home ফিচার আকাশছোঁয়ার পণ

আকাশছোঁয়ার পণ

আকাশকে যদি ছোঁয়া যেত তাহলে কতই না মজার হতো! কিন্তু তা কি সম্ভব? তুমি আমি না পারলেও বিশ্বে এমন কিছু ভবন নির্মিত হয়েছে যেগুলো দেখলে মনে হবে ওরা বুঝি সত্যিই আকাশটাকে ছুঁয়ে দিতে চায়। আর একের পর এক যেভাবে উঁচু উঁচু ভবন নির্মাণ হচ্ছে এবং আগেরটার উচ্চতাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে যেন আকাশছোঁয়ার পণ নিয়েই তারা মাঠে নেমেছে। প্রযুক্তি, মেধা, অর্থ, আভিজাত্য আর স্থাপত্যকলার অনুপম ছোঁয়ায় বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার আকাশচুম্বী ভবন নির্মিত হয়েছে। যেগুলোর উচ্চতা, সুযোগ-সুবিধা, নির্মাণশৈলী এবং নির্মাণব্যয় অবাক করে দেয়ার মতো। আকাশ ছুঁই ছুঁই এসব ভবনের অনেকগুলোর সাথেই আমরা পরিচিত। আবার অনেকগুলোর নাম জানলেও তাদের সম্পর্কে খুব কমই জানি বা কোনো কোনোটা সম্পর্কে একেবারেই জানি না। বিশ্বের আলোচিত কয়েকটি আকাশছোঁয়া ভবনের কথা জানাচ্ছেন মাসুম কবীর

বুর্জ খলিফা
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইতে অবস্থিত বুর্জ খলিফা বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে উচ্চতম ভবন। ২০১০ সালের ৪ জানুয়ারি ভবনটির উদ্বোধন করা হয়। আরব আমিরাতের দুবাই শহরে অবস্থিত হওয়ার কারণে এটি দুবাই টাওয়ার নামেও পরিচিত। নির্মাণকালে এর বহুল প্রচারিত নাম ছিল বুর্জ দুবাই। তবে উদ্বোধনকালে এর নাম পাল্টে বুর্জ খলিফা রাখা হয়।

একনজরে বুর্জ খলিফা

অবস্থান : দুবাই, ইউনাইটেড আরব আমিরাত
নির্মাণকাজের সূচনা : ২১ সেপ্টেম্বর ২০০৪
উদ্বোধন : ৪ জানুয়ারি ২০১০
তলা : বাসযোগ্য বা অফিস করার যোগ্য ১৬০টি
মোট প্রায় ২০০টি বাসস্থান ও অফিস স্পেস : ৩৫ লাখ ৯৫ হাজার ১০০ বর্গফুট
নকশাকারী : স্কিডমোর, ওয়িংস এন্ড মেরিল
কন্ট্রাক্টর : স্যামসাং সিএন্ডটি, বেসিং অ্যান্ড আরবটেক
লিফট কন্ট্রাক্টর : ওটিস
ডেভেলপার : এমার প্রোপার্টিজ
উদ্বোধনের সময় আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল-নাহিয়ানের সম্মানেই ভবনের সঙ্গে খলিফা জুড়ে দেয়া হয়। কারণটা অবশ্য সবারই জানা। খলিফার একান্ত সহযোগিতা ছাড়া ভবনের নির্মাণকাজ শেষ করা সম্ভব হতো না। শেখ খলিফা বিন জায়েদ আবার প্রতিবেশী রাজ্য আবুধাবিরও শাসক। অর্থনৈতিক মন্দার সময়ও এরকম ব্যয়বহুল উচ্চাভিলাষী নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে বিপাকেই পড়ে গিয়েছিল দুবাই আর সেই সময় দুবাইকে বিপুল পরিমাণ অর্থকড়ি দিয়ে সহয়তা করেছেন খলিফা।
সমুদ্রের বুকে বিলাসবহুল কৃত্রিম দ্বীপ তৈরি করে এর আগে বিশ্ববাসীকে চমকে দিয়েছিল আরব আমিরাতের লোকজন। আর এরপর ডাঙায় গড়া পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু স্থাপত্য আরব আমিরাত ও দুবাইকে নিয়ে গেছে অন্যরকম উচ্চতায়। তাদের নির্মিত বুর্জ খলিফা এখন বিশ্বব্যাপী কোটি মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। মজার ব্যাপার হলো বুর্জ খলিফার কাজ যখন চলছিল তখন আমেরিকাসহ গোটা বিশ্বব্যাপী চলছিল ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দা। আর সেই অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যই বুর্জ খলিফার নির্মাণ সাফল্যের সঙ্গে শেষ করে বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে দেন দুবাইয়ের শাসকেরা।
বিশ্বব্যাপী আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা বুর্জ খলিফার উচ্চতা ৮১৮ মিটার বা ২,৭১৭ ফুট (প্রায় আধা মাইল)। এটি তাইওয়ানের তাইপে ১০১ তলা টাওয়ার থেকে এক হাজার ফুটেরও বেশি উচ্চতর। তাইপে ১০১ তলা ভবনটির উচ্চতা ১,৬৬৭ ফুট। ২০০৪ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত এটিই ছিল পৃথিবীর উচ্চতম স্থাপনা। বুর্জ খলিফা এতই উঁচু একটি ভবন যে, নিচতলা আর সর্বোচ্চ তলার মধ্যে তাপমাত্রার পার্থক্য ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুর্জ খলিফার নির্মাণকাজ ২০০৪ সালে শুরু হয়ে শেষ হয় ২০০৯ সালে। এটি তৈরিতে প্রায় ১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হয়েছে। এর বহিরাঙ্গনে অবস্থিত ফোয়ারা নির্মাণেই ব্যয় হয়েছে ১৩৩ মিলিয়ন পাউন্ড। এই ভবনে এক হাজার ৪৪টি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে; ১৫৮তলায় আছে একটি মসজিদ; ৪৩তম এবং ৭৬তম তলায় আছে দু’টি সুইমিং পুল। আরও আছে ১৬০ কক্ষবিশিষ্ট একটি হোটেল। ১২৪তম তলায় দর্শকদের জন্য প্রকৃতি দর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ভবনে সংস্থাপিত কোনো কোনো লিফটের গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ মাইল। ২০০৪ সালে কাজ শুরুর পর থেকে অতি দ্রুত নির্মাণকাজ অগ্রসর হয়েছে। এমনও দিন গেছে, যে দিন ১২ হাজার কর্মী একযোগে নির্মাণপ্রক্রিয়ায় নিযুক্ত ছিলেন। সে সময় প্রতি তিন দিন পর পর একটি ছাদ তৈরি করা হয়েছে। বুর্জ খলিফা নির্মাণের পর এতদিন সর্বোচ্চ ভবন হিসেবে পরিচিত তাইওয়ানের তাইপে-১০১ এর রেকর্ডকে যেমন ভেঙে দিয়েছে তেমনি উচ্চতার দিক থেকে আরও কিছু রেকর্ড ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে এটি। বুর্জ খলিফা নর্থ ডাকোটার কেভিএলওয়াই- টিভি মাস্টের সবচেয়ে উঁচু মনুষ্য নির্মিত কাঠামো এবং টরন্টোর সিএন টাওয়ারের মুক্তভাবে দাঁড়িয়ে থাকা সবচেয়ে উঁচু স্থাপনার রেকর্ডও ভেঙেছে।
সরকারের আংশিক মালিকানায় থাকা ডেভেলপার কোম্পানি এমার প্রোপার্টিজ বুর্জ খলিফা তৈরি করেছে। শিকাগোভিত্তিক স্কিডমোর, ওয়িংস অ্যান্ড মেরিল (এসওএম) ভবনটির নকশা করেছে। এককালে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন সিয়ার্স টাওয়ারসহ বিশ্বের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক উঁচু ভবনের নকশা করেছে এ প্রতিষ্ঠান। প্রথম দফায় পরিকল্পনা ছিল এটি তাইপে ১০১ এর চেয়ে ১০ মিটার উঁচু করে বানানো হবে। তবে এমার প্রোপার্টিজের তাগাদায় আরও উঁচু করে গড়ে তোলা হয় বুর্জ খলিফা। যেনতেন উঁচু নয়, আগের তাইওয়ানের তাইপে ১০১-এর চেয়ে এক হাজার ফুট ছাড়িয়ে গেছে বুর্জ খলিফার চূড়া। বুর্জ খলিফার প্রাথমিক নির্মাতা হলো দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং সিএন্ডটি। প্রতিষ্ঠানটি তাইপে ১০১ ও পেট্রোনাস টুইন টাওয়ারও নির্মাণ করেছিল। পরে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় বেলজিয়ান দল বেসিঙ্ ও ইউএইর আরবটেক। ভবনটি দাঁড় করাতে খরচ হয়েছে ১৫০ কোটি ডলার। তবে এরই মধ্যে এ অর্থ উঠে এসেছে। ভবনটি নির্মাণে প্রায় দুই কোটি ২০ লাখ শ্রম-ঘণ্টা লেগেছে। যে পরিমাণ অ্যালুমিনিয়ম ব্যবহার করা হয়েছে তা দিয়ে পাঁচটি এয়ারবাস এ-৩৮০ বিমান তৈরি করা যাবে। এতে আছে ৫৭টি এলিভেটর ও আটটি এসকেলেটর। এ প্রকল্পে জড়িত ছিলেন ৩৮০ জন দক্ষ প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদ।

পরিবেশবান্ধব ভবন তাইপে ১০১
তাইওয়ানের রাজধানী তাইপেতে অবস্থিত এ ভবনটির অপর নাম তাইপে ফিন্যান্সিয়াল সেন্টার। ১০১ তলাবিশিষ্ট এ ভবনটির উচ্চতা ১৬৭১ ফুট (৫০৯ মিটার)।
বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ জ্বালানিই খরচ হয় বাড়িঘর ও বিভিন্ন ভবনে। আর এই খরচ কমানোর লক্ষ্যে একটি ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ নিয়েছে তাইওয়ান। সঠিক প্রযুক্তির আশ্রয় নিয়ে বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাসের অনেকটাই বাঁচিয়েছে তাইওয়ানের একটি ভবন। বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু এই পরিবেশবান্ধব ভবনটির নাম ‘তাইপে ওয়ান হান্ড্রেড ওয়ান’ বা ‘তাইপে ১০১’।

একনজরে তাইপে ১০১
নির্মাণকাল : ১৯৯৯-২০০৪
মোট আয়তন : ৪১২৫০০ বর্গমিটার
এলিভেটরস : ৬১টি
ব্যবহার : কনফারেন্স, ফিটনেস সেন্টার, পাঠাগার, অফিস, রেস্টুরেন্ট, শপিংমল
উচ্চতা : ১৬৭০ ফুট (চূড়া), ১৪৭৩ ফুট (ছাদ), ১৪৪০.৯ ফুট (সর্বোচ্চ তলা)
ব্যয় : ৫৮ বিলিয়ন (তাইওয়ান ডলার), ১.৭৬ বিলিয়ন (মার্কিন ডলার)
স্থাপত্য নকশা : সি ওয়াই লি অ্যান্ড পার্টনার্স
স্ট্র্যাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার : থর্নটর্ন টমাসেটি
কন্ট্রাক্টর : স্যামসাং সি অ্যান্ড টি, কেটিআরটি জয়েন্ট ভেঞ্চার
মালিকানা : তাইপে ফিন্যান্সিয়াল সেন্টার কর্পোরেশন
পরিচালনায় : আরবান রিটেইল কর্পোরেশন প্রপার্টিস।
এশিয়ার অন্যতম বাণিজ্যিক নগরী তাইওয়ানের তাইপে আজ পরিচিত ১০১ তলাবিশিষ্ট আকাশচুম্বী ভবন ‘তাইপে ১০১’-এর পরিচয়ে। ১৬৭০ ফুট উঁচু এই ভবন তাইওয়ানকে এনে দিয়েছে বিশ্বজোড়া পরিচিতি। ২০০৬ সালে নিউজউইক ম্যাগাজিনের জরিপে নতুন সপ্তমাশ্চর্য হিসেবে ‘তাইপে ১০১’-কে ঘোষণা করা হয়।
২০০৪ সালে এর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার পর থেকে ২০১০ সালে বুর্জ খলিফা উদ্বোধনের আগ পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবনের মর্যাদা ছিল ‘তাইপে ১০১’-এর দখলে। তার আগে মালয়েশিয়ার পেট্রোনাস টুইন টাওয়ারকে পেছনে ফেলে শীর্ষস্থানটি দখল করে তাইপে।
২০০১ সালে নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে সন্ত্রাসী হামলার পরও আকাশচুম্বী ভবন নির্মাণে মাল্টিবিলিয়নিয়ারদের মধ্যে এতটুকু ভাটা পড়েনি। বরং বিশ্বের ২০০ উঁচু ভবনের মধ্যে প্রায় ৮০টির মতো নির্মিত হয় ২০০০ সালের পরই। এর মধ্যে ‘তাইপে ১০১’ অন্যতম বিশাল বাজেটের স্থাপনা। ৮ সংখ্যাটি চায়নিজ ও তাইওয়ানিদের কাছে সৌভাগ্যের সংখ্যা হিসেবে বিবেচিত আর তাই চায়নিজ সংস্কৃতিতে ঐতিহ্যবাহী ও সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত এই সংখ্যা নকশা প্রণয়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়। প্রতি আটটি ফ্লোরের একটির সঙ্গে আরেকটির কাঠামো যুক্ত। এই অনন্য বৈশিষ্ট্যই ‘তাইপে ১০১’-কে বিশ্বের সবচেয়ে মজবুত ও শক্ত ভিত্তি কাঠামো দিয়েছে।
ডিজাইনার সি ওয়াই লি অ্যান্ড পার্টনার জানায়, ভিত্তি নির্মাণের সময় ৮০টি পিলার স্থাপন করা হয়, যা মাটির ২৬২ ফুট গভীরে স্থাপিত এবং একেকটি পিলারের ব্যাস ৫ ফুট যার ধারণক্ষমতা ১০০০ থেকে ১৩২০ মেট্রিক টন। ৮৯ তলা ভ্রমণের জন্য সময় লাগবে মাত্র ৩৭ সেকেন্ড, যা বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতিসম্পন্ন লিফট। লিফট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান জাপানের তোশিবা জানায়, প্রতি সেকেন্ডে এর গতি প্রায় ৫৫.২২ ফুট, যা পূর্ববর্তী রেকর্ড সৃষ্টিকারী ভবনের লিফট জাপানের ইয়োকোহামা ল্যান্ডমার্কের চেয়ে ৩৪.৩৭ গুণ বেশি দ্রুতগতিসম্পন্ন। এছাড়াও ৮৯ এবং ৯১ তলায় রয়েছে ভেতরকার এবং বাইরের দৃশ্য অবলোকন করার অভূতপূর্ব ব্যবস্থা, যা থেকে ৩৬০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে পর্যটকেরা অবলোকন করতে পারবেন। তবে এর জন্য আপনাকে টিকিট কাটতে হবে যার পরিমাণ স্থানীয় মুদ্রায় ৪০০ ডলার (মার্কিন ডলার ১৩)। বিভিন্ন ব্যাংক এবং অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও এ ভবনে রয়েছে বিশ্বের নামকরা শতাধিক রেস্টুরেন্ট। তবে এতে দুবাই বুর্জের মতো বসবাসের জন্য কোনো ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্টের ব্যবস্থা নেই। এই ভবনের পেছনে মোট ব্যয় হয়েছে ১.৭৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্যামসাং সি অ্যান্ড টি এবং কেটিআরটি যৌথভাবে সংবাদ সম্মেলনে জানায়, এশিয়া প্যাসিফিক রিজিয়নের যে কোনো ধরনের টাইফুন এবং ভূমিকম্প মোকাবেলা করার মতো ক্ষমতা ‘তাইপে ১০১’-এর আছে।

পেট্রোনাস টাওয়ার
মালয়েশিয়ার পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার বিশ্বের অন্যতম সুদৃশ্য ভবন। উচ্চতা ১৪৮৩ ফুট (৪৫২ মিটার)। উচ্চতার দিক থেকে বর্তমান বিশ্বে তৃতীয় স্থানে রয়েছে মালয়েশিয়ার টুইন টাওয়ার বা পেট্রোনাস টাওয়ার। তবে ১৯৯৮ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত এ টাওয়ারটি বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু টাওয়ার ছিল।
পেট্রোনাস টুইন টাওয়ারকে উচ্চতায় প্রথম ছাড়িয়ে যায় তাইওয়ানের ‘তাইপে-১০১’ নামের ১০১ তলার সুউচ্চ ভবনটি। এরপর উচ্চতার দিক দিয়ে সবাইকে ছাড়িয়ে মাথা তুলে দাঁড়ায় দুবাইয়ের ১৫৮ তলাবিশিষ্ট ভবন ‘বুর্জ খলিফা’। ৮৮ তলাবিশিষ্ট পেট্রোনাস টুইন টাওয়ারটির অবস্থান মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের কেন্দ্রস্থলে। এ টাওয়ারটি তৈরি করতে সময় লেগেছে একটানা সাত বছর। মালয়েশিয়ার মোবাইল কোম্পানি মাক্সিস ও তেল কোম্পানি পেট্রোনাসের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে এ টাওয়ারটি। এই টুইন টাওয়ারই হচ্ছে পেট্রোনাসের প্রধান কার্যালয়। এটি নির্মাণ করতে খরচ হয়েছে ১.৬ বিলিয়ন ডলার। আর এই টুইন টাওয়ারটি নির্মাণে আর্জেন্টিনা, ফিলিপাইন ও মালয়েশিয়ার দক্ষ ইঞ্জিনিয়াররা কাজ করেছেন। টুইন টাওয়ার নির্মাণে মূল কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে স্টিল ও পাথর। যদিও টাওয়াটিকে বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় শুধু স্টিল দ্বারা নির্মিত হয়েছে।
টাওয়ারের ৪১ এবং ৪২তম তলাকে সংযুক্ত করেছে একটি ব্রিজ। ব্রিজটির নাম হচ্ছে স্কাই ব্রিজ। এই ব্রিজের সাহায্যেই এক ভবন থেকে অন্য ভবন যেতে হয়। এখানে রয়েছে ৮ তলাবিশিষ্ট শপিংমল। এই শপিংমলটির ৫ তলা মাটির নিচে এবং বাকি ৩ তলা সমতলে অবস্থিত। কুয়ালালামপুর শহরের যে স্থানে পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার অবস্থিত তার নাম কেএলসিসি বা কুয়ালালামপুর সিটি সেন্টার। কেএল সেন্ট্রাল থেকে মনোরেলে সরাসরি যাওয়া যায় কেএলসিসিতে। স্টেশনের নামও কেএলসিসি। এটি টুইন টাওয়ারের একদম নিচেই ভূগর্ভে অবস্থিত। পেট্রোনাস টুইন টাওয়ারের চারপাশ খুব সুন্দর করে সাজানো-গোছানো। টাওয়ারের পেছনের দিকটা শুধুই পর্যটকদের জন্য। এখানে রয়েছে নানা ধরনের বিনোদনের ব্যবস্থা। এখানে বিকাল বেলায় আয়োজন করা হয় ওয়াটার শো’র। এখানে রয়েছে কৃত্রিম একটি সেতু। এই সেতুতে দাঁড়িয়ে পুরো টাওয়ারের ছবি তোলা যায়। পর্যটকদের জন্য স্কাই ব্রিজ হচ্ছে সেরা আকর্ষণ। সেখানে উঠতে পারাটা জীবনের এক বিশাল সংগ্রহ। আর তাই কেউই কুয়ালালামপুরে এসে স্কাই ব্রিজ না ঘুরে যায় না।
তবে পর্যটকদের জন্য শুধু ৪১তম তলায় যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। উপরের অংশটি পেট্রোনাস টুইন টাওয়ারের কর্মকর্তাদের জন্য সংরক্ষিত। প্রতিদিন সকাল ৯টা পর্যন্ত পর্যটকদের মধ্যে স্কাই ব্রিজ পরিদর্শনের টিকিট বিনামূল্যে দেয়া হয়। ১৯৯৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হয় মালয়েশিয়ার টুইন টাওয়ার। বিভিন্ন দেশ থেকে আসা হাজার হাজার পর্যটক প্রতিদিন ভিড় করেন টুইন টাওয়ারের সামনে।

সাংহাই ওয়ার্ল্ড ফিন্যান্সিয়াল সেন্টার
সাংহাইয়ের সবচেয়ে উঁচু ভবনটি হলো ওয়ার্ল্ড ফিন্যান্সিয়াল সেন্টার। সেখানকার চূড়া থেকে চতুর্দিকে তাকিয়ে দেখলে যে কেউ বিমুগ্ধ হয়ে পড়বে। গত কয়েক বছরে এখানে উন্নয়ন এত অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে হয়েছে যে সাংহাই এখন হংকং, নিউ ইয়র্ক ও টোকিওর সঙ্গে সমানে পাল্লা দিতে পারে। এত উঁচু থেকে দেখলে সাংহাইকে একটা ধনী ও অত্যাধুনিক মেট্রোপলিস মনে হবে।
পিডারসন ফক্সের নকশায় জাপানের মোরি বিল্ডিং কোম্পানি এটির নির্মাণকাজ সমাপ্ত হয়। বিশ্বের অন্যতম উচ্চ এই বিল্ডিংয়ে একসাথে অফিস, হোটেল, কনফারেন্স রুম ও অবজারভেশন কেন্দ্র এবং নিচের তলায় শপিং মল অবস্থিত। ১৭৪ রুম বিশিষ্ট বিশ্বের দ্বিতীয় উচ্চতম হোটেল পার্ক হায়াৎ সাংহাই এখানেই অবস্থিত।

আবরাজ আল বায়িত
সৌদি আরবের মক্কায় অবস্থিত এই টাওয়ারটি মক্কা রয়েল হোটেল ক্লক টাওয়ার নামেও পরিচিত। বাদশাহ আবদুল আজিজের ওয়াকফকৃত প্রকল্পের একটি অংশ এই টাওয়ার যেটা মক্কা নগরী তথা সমগ্র মুসলিম বিশ্বের ইসলাম ধর্মীয় মূল্যবোধের পরিচয় বহন করে। এটি বিশ্বের বেশ কয়েকটি রেকর্ড ধারণ করে আছে যেমনÑ বিশ্বের দীর্ঘাকার এবং বৃহৎ ঘড়ি ইত্যাদি। এই ঘড়ির আকার (৪৩ী৪৩) মিটার। এর মাথায় ৭১ মিটার (২৩৩ ফুট) চূড়া স্থাপন করা হয়েছে। ২০১২ সালে আবরাজ আল বায়িত কমপ্লেক্সের হোটেল বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অট্টালিকার স্থান দখল করে ছিল। পৃথিবীর সর্ববৃহৎ মসজিদ এবং ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র স্থান মসজিদ আল-হারাম থেকে মাত্র কয়েক মিটার দূরে এর অবস্থান। সৌদি আরবের বৃহৎ নির্মাণ কোম্পানি সৌদি বিন-লাদিন গ্রুপ এটির নির্মাণকাজ সমাধা করে। ৬০১ মিটার (১,৯৭২ ফুট) উচ্চতাবিশিষ্ট এই অট্টালিকাটি বর্তমানে পৃথিবীর অন্যতম সর্বোচ্চ ভবন।
যারা কাবা ঘর তাওয়াফ করতে আসেন তাদের জন্য আবরাজ আল বায়িত টাওয়ার একটি বড় ইবাদতের জায়গা হিসেবে বিবেচিত হয় যেখানে একত্রে দশ হাজারের বেশি মুসল্লি অংশ নিতে পারেন। এখানে আবরাজ আল বায়িত নামে একটি শপিং মল আছে যার পার্কিং গ্যারেজে একসাথে এক হাজারের বেশি গাড়ি পার্কিং করা সম্ভব। এর অভ্যন্তরে প্রায় দশ হাজার লোকের আবাসস্থল রয়েছে। ভবনটিতে একটি মুসলিম জাদুঘর এবং পবিত্র মাসগুলোতে চাঁদ দেখার সুবন্দোবস্ত আছে।
মজার ব্যাপার হচ্ছে, ২০০৬ সালে যখন এই ভবনের পরিকল্পনা করা হয় তখন উচ্চতা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭৩৪ মিটার, কিন্তু ২০০৯ সালে এই উচ্চতা পুনর্নির্ধারণ করা হয় ৬০১ মিটার।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকেন্দ্র
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকেন্দ্র (The International Finance Centre) সংক্ষেপে ওঋঈ নামে পরিচিত। এই বাণিজ্যিক ভবনটি হংকংয়ের সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টে অবস্থিত। হংকং আইল্যান্ডের এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এর উচ্চতা ৪৫০ মিটার এবং এতে আছে ৮৯টি ফ্লোর।

সিয়ার্স টাওয়ার
সিয়ার্স টাওয়ার যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে অবস্থিত। নির্মাণকাল ১৯৭০ থেকে ১৯৭৪। সিয়ার্স রোইবাক অ্যান্ড কোং ১১০ তলাবিশিষ্ট এবং ১৪৫০ ফুট উচ্চতার এ ভবন নির্মাণ করেছেন।
সিয়ার্স টাওয়ার বর্তমান নাম উইলস টাওয়ার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে অবস্থিত একটি আকাশচুম্বী অফিস ভবন। ১৯৭৩ সালে এর নির্মাণ শেষ হয়। তখন থেকে শুরু করে নব্বই এর দশকের শেষভাগ পর্যন্ত এটি ছিল বিশ্বের উচ্চতম ভবন। এর নকশা ও গঠনকৌশল প্রণয়ন করেন বাঙালি স্থপতি ফজলুর রহমান খান।

একনজরে সিয়ার্স টাওয়ার
১.    উইলিস টাওয়ারের শীর্ষ ইলিনয়ের সর্বোচ্চ বিন্দু।
২.    এর অ্যান্টেনার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হল স্থলভাগের ১৭৩০ ফুট বা সমুদ্রতলের ২৩২৫ ফুট ওপরে।
৩.    এর ছাদ হলো স্থলভাগের ১৪৫০ ফুট ৭ ইঞ্চি উপরে বা সমুদ্রতলের ২০৪৬ ফুট ওপরে।
৪.    ১০৩তম তলার পর্যবেক্ষণ ডেক (স্কাই ডেক) হল স্থলভাগ থেকে ১৩৫৩ ফুট বা সমুদ্রতল থেকে ১৯৪৮ ফুট ওপরে।
৫.    ১০৩ তলায় অবস্থিত রেস্টরুম পশ্চিম গোলার্ধে সর্বোচ্চ।
১৯৭০ সালের আগস্ট মাসে সিয়ার্স টাওয়ারের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ভবনটি এর সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছায় ১৯৭৩ সালের ৩রা মে তারিখে। নির্মাণকাজ সমাপ্ত হওয়ার পর এটি নিউ ইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারকে ছাড়িয়ে বিশ্বের উচ্চতম ভবনে পরিণত হয়। ভবনটিতে ১০৮টি তলা রয়েছে (নির্মাতারা অবশ্য ছাদ ও এলিভেটর পেন্টহাউজকে হিসাব করে ১১০ তলা দাবি করেন)। পূর্ব দিকের প্রবেশপথ থেকে ছাদ পর্যন্ত উচ্চতা ১,৪৫০ ফুট ৭ ইঞ্চি (৪৪২ মিটার)। ১৯৮২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এর ছাদে দু’টি টেলিভিশন এন্টেনা বসানো হয়। এগুলিসহ মোট উচ্চতা দাঁড়ায় ১,৭০৭ ফুট (৫২০ মিটার)। পশ্চিম দিকের এন্টেনাটিকে পরে ২০০০ সালের জুন ৫ তারিখে বাড়িয়ে দেয়ায় ভবনের উচ্চতা দাঁড়ায় ১,৭২৯ ফুট (৫২৭ মিটার), যা ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের প্রথম টাওয়ারের এন্টেনাকে ছাড়িয়ে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্য যেকোন বাণিজ্যিক ভবনের চাইতে সিয়ার্স টাওয়ারের মোট এলাকা বেশি। সব ভবন বিচার করলে পেন্টাগন এর পরই এর স্থান। ৩০-৩২, ৬৪-৬৫, ৮৮-৮৯, ও ১০৬-১০৭ তলার মধ্যে ১ তলা উঁচু কালো ব্যান্ড রয়েছে, যা বায়ু চলাচল ও রক্ষণাবেক্ষণের যন্ত্রপাতি রাখার জন্য রাখা হয়েছে।
এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং
নিউ ইয়র্ক সিটির ম্যানহাটনের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে আছে ১২৫০ ফুট উঁচু বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এ ভবন। ১৯৩০-৩১ সালে নির্মিত এ ভবনের ডিজাইন করেছেন শ্রেভ, ল্যাম্ব এবং হার্মন ফার্ম। ১০২ তলাবিশিষ্ট এ ভবন দীর্ঘদিন বিশ্বের উচ্চতম ভবনের মর্যাদা দখল করেছিল।
এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং পৃথিবী তথা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গগনচুম্বী অট্টালিকা বা সুউচ্চ ভবন। নিউ ইয়র্কের ফিফথ এভিনিউ ও ওয়েস্ট থার্টিফোর্থ স্ট্রিটের মধ্যস্থলে অবস্থিত এ ভবনটির উচ্চতা ৩৮১ মিটার বা এক হাজার ২৫০ ফুট এবং এতে ১০২টি তলা রয়েছে। ৪১ বছর ধরে অট্টালিকাটি বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন হিসেবে স্বীকৃত ছিল। ভবনটির নামকরণ হয়েছে নিউ ইয়র্কের ডাকনাম দ্য এম্পায়ার স্টেট থেকে।
১৯৩১ সালে নির্মাণের পর থেকেই ভবনটি এর ঐতিহ্য ও গৌরবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিল। এটিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম জনপ্রিয় স্থাপনা ও মাইলফলক হিসেবে আখ্যায়িত হয়। ১৯৭১ সালে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের নর্থ টাওয়ার নির্মাণের পরপরই এটি তার গৌরব হারায়। কিন্তু এরপরও জনপ্রিয়তার বিচারে এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং ঠিকই নিজের আসনে সমাসীন রয়েছে। ৯/১১ হামলায় টুইন টাওয়ার বা ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ধ্বংসের পর এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং পুনরায় নিউ ইয়র্কের সবচেয়ে বড় ভবন হিসেবে নিজ স্থানে ফিরে যায়। কিন্তু ২০১৩ সালের মধ্যে নতুন ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার বা ফ্রিডম টাওয়ার নির্মাণ শেষ হলে আবারো গৌরব হারাবে এটি। এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের নকশা প্রণয়ন করেন ম্রিভ ল্যাম্ব অ্যান্ড হার্মন অ্যাসোসিয়েটস। এটি এমন এক সময় তৈরি হয়েছিল যখন বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে উঁচু আকাশচুম্বী অট্টালিকা তৈরিতে সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু সবাইকে ছাপিয়ে এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংই পৃথিবীর সর্বোচ্চ অট্টালিকার মর্যাদায় অভিষিক্ত হয়েছিল। ৪১০ দিনে এর নির্মাণকার্য সমাপ্ত হয়েছিল। ১ মে, ১৯৩১ সালে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হার্বার্ট হুভার বিল্ডিংটির উদ্বোধন করেছিলেন।
১০২তলা শেষে এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের উচ্চতা দাঁড়ায় এক হাজার ২৫০ ফুট (৩৮১ মিটার) এবং শৃঙ্গ বা চূড়ার দৈর্ঘ্য ছিল এক হাজার ৪৫৪ ফুট (৪৪৩.২ মিটার)। ৮৫ তলায় ব্যবসা-বাণিজ্য এবং অফিস পরিচালনায় ২১ লাখ ৫৮ হাজার স্কয়ার ফুট (২ লাখ ৫০০ বর্গ মিটার) ব্যবহৃত হয়। ৮৬তম তলায় অভ্যন্তরীণ এবং বহিঃস্থ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা রয়েছে। বাদ-বাকি ১৬তলায় আর্ট ডেকোর টাওয়ার রয়েছে। ১০২তলা থেকে চতুর্দিক পর্যবেক্ষণ করা হয়। ২০০৭ সাল পর্যন্ত প্রায় একুশ হাজার শ্রমিক প্রতিদিন কাজ করছেন। এর ফলে আমেরিকায় বিল্ডিংটি পেন্টাগনের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম অফিস কমপ্লেক্স হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। সম্পূর্ণ ভবনটি নির্মাণে এক বছর ও ৪৫ দিন সময় ব্যয় হয়। ৬৪টি লিফট কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। বর্তমানে সেবার লক্ষ্যে লিফটসহ ৭৩টি লিফট রয়েছে। ৮০তম তলা পর্যন্ত লিফটের মাধ্যমে উঠতে এক মিনিটেরও কম সময় লাগে। সেখান থেকে ৮৬তম তলায় যাওয়ার জন্য অন্য আরেকটি লিফট ব্যবহার করতে হয়। বিশালাকারের এই ভবনটিতে ৭০ মাইল (১১৩ কিলোমিটার) পাইপসহ বৈদ্যুতিক তার রয়েছে ২৫ লাখ ফুট।

কিংকি প্লাজা
চীনের অন্যতম আকাশচুম্বী বিল্ডিং। ১০০ তলার এ বিল্ডিংটি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে সেনজেন প্রদেশে। ২০০৭ সালে বিল্ডিংটির নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং শেষ হয় ২০১১-এর সেপ্টেম্বরে। ওই বছরের শেষে খুব ঘটা করে বিল্ডিংটির উদ্বোধন করে এর স্বত্বাধিকারী কিংকি গ্রুপ। ১০০ তলার এ বিল্ডিংয়ের মোট জায়গার পরিমাণ ২,৩৬৮,০৬০ স্কয়ার ফিট এবং বিল্ডিংটির নিচ থেকে ওপর পর্যন্ত বিভিন্ন পরিসরে ৬৬টি লিফট রয়েছে। এর বিভিন্ন ফ্লোরে বাণিজ্যিক অফিসের পাশাপাশি রয়েছে বেশ কয়েকটি হোটেল ও রিসোর্ট। বিল্ডিংটির ৭৫ থেকে ৯৮ তলা পর্যন্ত কারুকার্য ও বৈশিষ্ট্যে স্বাতন্ত্র্য লক্ষ্য করা যায়। এ কয়েকটি তলা বিল্ডিংয়ের অন্যান্য তলা থেকে একটু ব্যতিক্রম ও আকর্ষণীয়। হোটেলের পাশাপাশি বাচ্চাদের বিনোদনের জন্য রয়েছে পার্ক, ফুডকোর্ট ও বেশ কয়েকটি সিনেপ্লেক্স। সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে চীনের অন্যান্য প্রদেশ থেকে হাজার হাজার মানুষ বিনোদনের জন্য ছুটে আসে এ বিল্ডিংয়ে। এ ছাড়া এর পঞ্চম থেকে দশম তলা পর্যন্ত রয়েছে নামীদামি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সুপার শপ।
বিশ্বের নবম উচ্চতম বিল্ডিংয়ের স্থানটি দখল করে আছে এই কিংকি ফিন্যান্স সেন্টার প্লাজা।

SHARE

Leave a Reply