Home জানার আছে অনেক কিছু রাডার : যন্ত্রগোয়েন্দা

রাডার : যন্ত্রগোয়েন্দা

দূরের কোনো বস্তুর অস্তিত্ব সম্পর্কে জানার জন্য যে যন্ত্র ব্যবহৃত হয় তাকেই বলে রাডার। রাডার (RADAR) আসলে একটি শব্দসংক্ষেপ যার পূর্ণরূপ হচ্ছে Radio Detecting and Ranging। এই রাডারের সাহায্যে গণ অন্ধকার রাতেও দূরের বস্তুকে লক্ষ্য করা যায়। এর ফলেই রাডার উড়োজাহাজের পাইলট কিংবা সামুদ্রিক জাহাজের ক্যাপ্টেনের একটি তৃতীয় নয়ন হিসাবে কাজ করে।
রাডারের জন্মই হয়েছে যুদ্ধ থেকে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালেই ব্রিটিশ কূটনীতিকরা বুঝতে পারেন হিটলারের নাৎসি বাহিনী বিশ্ব জুড়ে যে তাণ্ডব চালাচ্ছে তার পেছনে প্রধান শক্তি হিসেবে কাজ করছে তাদের বোমারু বিমানগুলো। এজন্য তারা বিমিান বিধ্বংসী কামানের ব্যবহারও শুরু করেন। কিন্তু হিটলারের বোমারু বিমানগুলো হামলা চালায় অতর্কিতে। মিত্র বাহিনী কিছু বুঝে ওঠার আগেই নাৎসি বাহিনী তাদের ঘাঁটিতে বোমা ফেলে পালিয়ে যায়। তাই মিত্র দেশগুলোর কূটনীতিকরা বিশেষ একটা যন্ত্রের প্রয়োজন অনুভব করলেন। নাৎসি বিমান মিত্রবাহিনীর আকাশসীমায় ঢুকলেই সেই যন্ত্রের মাধ্যমে মিত্রবাহিনী তার অস্তিত্ব টের পেয়ে যাবে। অতপর কূটনীতিকরা কড়া নাড়লেন বিজ্ঞানী মহলের দরজায়। ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে ব্রিটেনের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের সাগরতীরে ৩৫০ উচ্চতার একটা টাওয়ারে বসানো হয় বিশ্বের প্রথম পূর্ণাঙ্গ রাডার।
রাডারের পর্দাটি আসলে একটি টেলিভিশন পর্দার মতো। এই পর্দার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে আছে একটি অপেক্ষাকৃত বড় আলোর বিন্দু। বড় আলোর বিন্দুটি হলো নিজের আবাস স্থান। এর চারপাশে যদি কোনো আলোর বিন্দু ফুটে ওঠে তাহলে ধরে নিতে হবে ওখানেই আছে বা এতো দূরে আছে নির্দিষ্ট বস্তুটি। রাডারের পর্দার নম্বর এবং অক্ষরই বলে দিতে পারে বস্তুটির অবস্থান কোথায়, কোন্ দিকে আছে এবং কত দূরে আছে।
রাডার শুধু বিমান সনাক্তকরণেই ব্যবহার হয় না, শত্রুপক্ষের সঠিক লক্ষ্যে আঘাত হানা, শত্রুপক্ষের বিমানের অবস্থান নির্ণয়, গভীর সমুদ্রে জাহাজ-সাবমেরিন সনাক্ত ও দূরত্ব নির্ণয় করা এমনকি আবহাওয়া পূর্বাভাসেও রাডারের ব্যবহার ব্যাপক।
রাডারের তিনটা পার্ট থাকে বেতার প্রেরক যন্ত্র, এরিয়েল এবং রিসিভার। বেতার প্রেরক যন্ত্র বেতার তরঙ্গ উৎপন্ন করে একটা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে ছড়িয়ে দেয়। সেই বেতার তরঙ্গ দূরের কোনো বস্তুতে প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসে। প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসা সেই তরঙ্গ রাডারের রিসিভারে ধরা পড়ে। এরিয়েলে যন্ত্রটার কাজ হলো রাডার থেকে নিক্ষেপ করা বেতার তরঙ্গ কোনো বস্তুতে আঘাত হানার পর যদি সোজা পথে ফিরে না এসে দিক পরিবর্তন করে অন্য পথে (দিক পরিবর্তন যতটুকুই হোক সেটা সরললেখায় হবে; এটাই বেতার তথা আলোক তরঙ্গের ধর্ম) আসে তখন রাডারের এরিয়েলের রিসিভার স্বয়ংক্রিয়ভাবে দিক পরিবর্তন করে সেদিকে ঘুরে যাবে এবং রিসিভারকে সেই তরঙ্গ সংগ্রহ করতে পুনরায় সাহায্য করবে। রাডারের সাথে একটা অসিলোস্কোপ যুক্ত থাকে। এই আসিলোস্কোপই প্রেরিত বেতার তরঙ্গ আর প্রতিফলিত বেতার তরঙ্গের ধরন পরীক্ষা করে লক্ষ্য বস্তুটার অবস্থান ও প্রকৃতি নির্ণয় করতে পারে।
হ জে হুসাইন

SHARE

Leave a Reply