Home প্রবন্ধ কিশোর শ্রম আইনের কথা

কিশোর শ্রম আইনের কথা

শহীদুল ইসলাম ভূঁইয়া

বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ শিশু-কিশোর। আর এ শিশু-কিশোরদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ শ্রমজীবী। তারা কল-কারখানা, শিল্প বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট, যানবাহন, আবার কেউ বা ক্ষেত-খামারে কাজ করে। যে বয়সে ওদের বিদ্যালয়ে যাবার কথা ঠিক সেই বয়সে তাদেরকে রুটি রুজির চিন্তা করতে হয়। মূলত একটি ইনসাফপূর্ণ মানবিক সমাজের অনুপস্থিতিই এ দুর্ভাগ্যের প্রধান কারণ।
শ্রমজীবী শিশু-কিশোরদের জন্য আমাদের দেশে কিছু আইন-কানুন রয়েছে। এগুলো সবাইকে মেনে চলা প্রয়োজন। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, অনেক ক্ষেত্রেই আইন থাকলেও আইনের প্রয়োগ তেমন দেখা যায় না। এর ফলে শ্রমজীবী কিশোর-কিশোরীরা লাঞ্ছিত ও বঞ্চিত হয় এবং তাদের সার্বিক দুর্দশা বেড়ে যায়।

শিশু-কিশোরের সংজ্ঞা
প্রথমেই দেখা যাক, শ্রম আইন অনুযায়ী, শিশু-কিশোরের সংজ্ঞা কী। বাংলাদেশ শ্রম আইনে বলা হয়েছেÑ
ধারা-২ : সংজ্ঞাসমূহÑ বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এ আইনে-    (৮) ‘কিশোর’ অর্থ  চৌদ্দ বছর বয়স পূর্ণ করেছেন কিন্তু আঠার বছর বয়স পূর্ণ করেননি এমন কোন ব্যক্তি; (৬৩) ‘শিশু’ অর্থ চৌদ্দ বছর পূর্ণ করেননি এমন কোন ব্যক্তি।
ধারা-৩৬ : বয়স সম্পর্কে বিরোধÑ (১) যদি কোন ব্যক্তি শিশু কি কিশোর এ সম্পর্কে কোন প্রশ্ন উত্থাপিত হয়, তাহলে পরিদর্শক প্রশ্নটি, কোন রেজিস্টার্ড চিকিৎসক কর্তৃক প্রদত্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বয়স সংক্রান্ত প্রত্যায়নপত্রের অবর্তমানে, কোন রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের নিকট সিদ্ধান্তের জন্য প্রেরণ করবেন। (২) উপ-ধারা (১)-এ উল্লিখিত রেজিস্টার্ড চিকিৎসক কর্তৃক প্রদত্ত কোন ব্যক্তির বয়স সংক্রান্ত প্রত্যায়নপত্র তার বয়স সম্পর্কে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে।

কিশোর শ্রমিকের শারীরিক সক্ষমতা
কোন মালিক বা কর্তৃপক্ষ ইচ্ছা করলেই বা চাইলেই কোন শিশু বা কিশোরকে কাজে নিয়োগ করতে পারেন না। এ জন্য কিছু বাধা নিষেধ রয়েছে। মালিক বা কর্তৃপক্ষকে একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের কাছ থেকে ঐ শিশু বা কিশোরের শারীরিক সক্ষমতার বিষয়ে একটি সনদ নিতে হবে। আইনে বলা হয়েছে- ধারা-৩৪ : শিশু ও কিশোর নিয়োগে বাধা-নিষেধÑ (১) কোন পেশায় বা প্রতিষ্ঠানে কোন শিশুকে নিয়োগ করা যাবে না বা কাজ করতে দেয়া যাবে না। (২) কোন পেশায় বা প্রতিষ্ঠানে কোন কিশোরকে নিয়োগ করা যাবে না বা কাজ করতে দেয়া যাবে না, যদি না- ক. বিধি দ্বারা নির্ধারিত ফরমে একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসক কর্তৃক তাকে প্রদত্ত সক্ষমতা প্রত্যায়ন পত্র মালিকের হেফাজতে থাকে, এবং খ. কাজে নিয়োজিত থাকাকালে তিনি উক্ত প্রত্যায়নপত্রের উল্লেখ সংবলিত একটি টোকেন বহন করেন।  (৩) কোন পেশায় বা প্রতিষ্ঠানে কোন কিশোরের শিক্ষাধীন হিসেবে অথবা বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের জন্য নিয়োগের ক্ষেত্রে উপ-ধারা (২) এর কিছুই প্রযোজ্য হবে না। (৪) সরকার যদি মনে করে যে, কোন জরুরি অবস্থা বিরাজমান এবং জনস্বার্থে এটি প্রয়োজন, তাহলে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এতে উল্লিখিত সময়ের জন্য উপ-ধারা (২) এর প্রয়োগ স্থগিত ঘোষণা করতে পারবে।
ধারা-৩৭ : সক্ষমতা প্রত্যায়নপত্রÑ (১) কোন কিশোর কোন পেশা বা কোন প্রতিষ্ঠানে কাজের জন্য উপযুক্ত কি না তা পরীক্ষা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কিশোর বা তার পিতা-মাতা বা অভিভাবক কর্তৃক অনুরুদ্ধ হলে, অথবা কোন মালিক কর্তৃক অনুরূপভাবে অনুরুদ্ধ হলে, কোন রেজিস্টার্ড চিকিৎসক কিশোরটিকে পরীক্ষা করবেন এবং তার সক্ষমতা সিদ্ধান্ত দেবেন :
তবে শর্ত থাকে যে, কোন কিশোর বা তার পিতা-মাতা বা অভিভাবক উক্তরূপ আবেদন পেশকালে আবেদনটির সাথে যে প্রতিষ্ঠানে কিশোর চাকরি প্রার্থী, সে প্রতিষ্ঠানের মালিক কর্তৃক প্রদত্ত এ মর্মে পত্র সংযোজন করতে হবে যে, কিশোরটি সক্ষম বলে প্রত্যায়িত হলে তাকে চাকরি প্রদান করা হবে।  (২) এ ধারার অধীন প্রদত্ত কোন সক্ষমতা প্রত্যায়নপত্র তা প্রদানের তারিখ হতে বারো মাস পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। (৩) উক্তরূপ প্রত্যায়নপত্রের জন্য প্রদেয় ফিস মালিক প্রদান করবেন, এবং তা সংশ্লিষ্ট কিশোর বা তার পিতা-মাতা বা অভিভাবকের নিকট থেকে আদায় করা যাবে না।
ধারা-৩৮ : ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য আদেশ প্রদানের ক্ষমতাÑ যে ক্ষেত্রে কোন পরিদর্শক এরূপ মত পোষণ করেন যে- ক. কোন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কোন ব্যক্তি কিশোর, কিন্তু তার কোন সক্ষমতা প্রত্যায়নপত্র নেই; অথবা খ. উক্তরূপ প্রত্যায়নপত্রসহ কর্মরত কোন কিশোর প্রত্যায়নপত্রে উল্লিখিত কাজের জন্য আর সক্ষম নন; সে ক্ষেত্রে তিনি নোটিশ মারফত মালিককে কোন রেজিস্টার্ড চিকিৎসক কর্তৃক কিশোরটিকে পরীক্ষা করার অনুরোধ করতে পারবেন, এবং কিশোরটি উক্তরূপ পরীক্ষান্তে সক্ষম বলে প্রত্যায়িত না হওয়া পর্যন্ত অথবা কিশোরটি আর কিশোর নয় এ মর্মে প্রত্যায়িত না হওয়া পর্যন্ত তাকে কোন কাজ না দেয়ার জন্য নির্দেশ দিতে পারবেন।

শ্রমজীবী কিশোরের কাজের ধরন
কিশোর-কিশোরীদের দিয়ে সব ধরনের কাজ করানো যায় না। আইনে কতিপয় কাজে বিধিনিষেধ আরোপ করা সহ বিপদজনক ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে ওদেরকে সুরক্ষা দিয়েছে। বলা হয়েছেÑ
ধারা-৩৯ : কতিপয় কাজে কিশোর নিয়োগে বাধাÑ কোন প্রতিষ্ঠানের যন্ত্রপাতি চালু অবস্থায় তা পরিষ্কারের জন্য তাতে তেল প্রদানের জন্য বা একে সুবিন্যস্ত করার জন্য বা উক্ত চালু যন্ত্রপাতির ঘূর্ণায়মান অংশগুলির মাঝখানে অথবা স্থির এবং ঘূর্ণায়মান অংশগুলোর মাঝখানে কোন কিশোরকে কাজ করতে অনুমতি দেয়া যাবে না। কোন মালিক বা কর্তৃপক্ষ কোন বিপজ্জনক যন্ত্রপাতির কাজ কিশোরদেরকে দিতে পারেন না। জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে এমন ধরনের যন্ত্রপাতির কাছ থেকে কিশোরদের সরে রাখার বিধান আছে।
ধারা-৪০ : বিপজ্জনক যন্ত্রপাতির কাজে কিশোর নিয়োগÑ (১) কোন কিশোর যন্ত্রপাতির কোন কাজ করবেন না, যদি না-   ক. তাকে উক্ত যন্ত্রপাতি সংক্রান্ত বিপদ সম্পর্কে এবং এ ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বন সম্পর্কে সম্পূর্ণভাবে ওয়াকেবহাল করানো হয়; এবং খ. তিনি যন্ত্রপাতিতে কাজ করার জন্য যথেষ্ট প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছেন, অথবা তিনি যন্ত্রপাতি সংক্রান্ত অভিজ্ঞ এবং পুরোপুরি জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে কাজ করেন। (২) এ বিধান কেবল মাত্র ঐ সকল যন্ত্রপাতি সম্পর্কে প্রযোজ্য হবে যে সম্পর্কে সরকার বিজ্ঞপ্তি মারফত ঘোষণা করে যে, এগুলো বিপজ্জনক যে এতে উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত শর্তাদি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোন কিশোরের পক্ষে কাজ করা উচিত না। (৩) সরকার সময়ে সময়ে গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজের যে তালিকা প্রকাশ করবে ঐ সকল কাজে কোন কিশোর-কিশোরীকে নিয়োগ করা যাবে না।
ধারা-৪২ : ভূগর্ভে এবং পানির নিচে কিশোরের নিয়োগ নিষেধÑ কোন কিশোরকে ভূগর্ভে বা পানির নিচে কোন কাজে নিয়োগ করা যাবে না।
ধারা-৪৪ : কতিপয় ক্ষেত্রে শিশু শ্রমিক নিয়োগে ব্যতিক্রমÑ (১) এ অধ্যায়ে যা কিছুই থাকুক না কেন, বারো বছর বয়ঃপ্রাপ্ত কোন শিশুকে এমন কোন হালকা কাজে নিয়োগ করা যেতে পারবে যা তার স্বাস্থ্য ও উন্নতির জন্য বিপজ্জনক নয় অথবা যা তার শিক্ষা গ্রহণকে বিঘিœত করবে না :
তবে শর্ত থাকে যে, শিশু যদি বিদ্যালয়গামী হয় তা হলে তার কর্ম সময় এমনভাবে নির্ধারণ করতে হবে যেন তা তার বিদ্যালয় গমনকে বিঘিœত না করে। (২) কিশোর শ্রমিকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এ অধ্যায়ের সকল বিধান যতদূর সম্ভব, উক্ত শিশু শ্রমিকের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
ধারা-৭৯ : বিপজ্জনক চালনাÑ যে ক্ষেত্রে সরকার এ মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, কোন প্রতিষ্ঠানের কোন কর্ম পরিচালনায় এতে নিযুক্ত কোন ব্যক্তির সাংঘাতিক শারীরিক জখম, বিষাক্রান্ত বা ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, সে ক্ষেত্রে সরকার বিধি দ্বারা উক্ত প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে লিখিত বিধান প্রণয়ন করতে পারবে, যথা- (খ) মহিলা, কিশোর এবং শিশুদের উক্ত কাজে নিয়োগ নিষিদ্ধ করা;  ধারা-১১২ : সড়ক পরিবহন শ্রমিকের জন্য বিশেষ বয়সসীমা :    (১) একুশ বছর বয়স পূর্ণ না হলে কোন সড়ক পরিবহন প্রতিষ্ঠানে কোন ব্যক্তিকে গাড়ি চালক হিসেবে নিয়োগ করা যাবে না।   (২) আঠারো বছর বয়স পূর্ণ না হলে অন্য কোন ব্যক্তিকে উক্তরূপ কোন প্রতিষ্ঠানে অন্য কোন পদে নিয়োগ করা যাবে না।

কিশোর শ্রমিকের কর্মঘণ্টা :
অনেক মালিক কিশোরদের দিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করিয়ে নেন। এটি বেআইনি। এতে ওদের কচি দেহ ও কোমল মনের ভারসাম্য বজায় থাকে না। আইনে কিশোরদের একটি কর্মঘণ্টা রয়েছে।
ধারা- ৪১ : কিশোরের কর্মঘণ্টাÑ (১) কোন কিশোরকে কোন কারখানা বা খনিতে দৈনিক পাঁচ ঘণ্টার অধিক এবং সপ্তাহে ত্রিশ ঘণ্টার অধিক সময় কাজ করতে দেয়া হবে না।    (২) কোন কিশোরকে অন্য কোন প্রতিষ্ঠানে দৈনিক সাত ঘণ্টার অধিক এবং সপ্তাহে বিয়াল্লিশ ঘণ্টার অধিক সময় কাজ করতে দেয়া যাবে না। (৩) কোন কিশোরকে কোন প্রতিষ্ঠানে সন্ধ্যা ৭ ঘটিকা থেকে সকাল ৭ ঘটিকার মধ্যবর্তী সময়ে কোন কাজ করতে দেয়া যাবে না। (৪) যদি কোন কিশোর অধিককাল কাজ করেন, তাহলে অধিককালসহ তার কাজের মোট সময়- ক. কারখানা বা খনির ক্ষেত্রে, সপ্তাহে ছত্রিশ ঘণ্টা; খ. অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে, সপ্তাহে আটচল্লিশ ঘণ্টা; এর অধিক হবে না।    (৫) কোন প্রতিষ্ঠানে কোন কিশোরের কাজের সময় দু’টি পালায় সীমাবদ্ধ রাখতে হবে, এবং এর কোন পালার সময়সীমা সাড়ে সাত ঘণ্টার বেশি হবে না। (৬) কোন কিশোরকে কেবলমাত্র একটি রিলেতে নিয়োগ করা যাবে এবং পরিদর্শকের নিকট হতে লিখিত পূর্ব অনুমোদন ব্যতীত ত্রিশ দিনের মধ্যে তা একবারের বেশি পরিবর্তন করা যাবে না।    (৭) এ আইনের অধীন সাপ্তাহিক ছুটি সংক্রান্ত বিধান কিশোর শ্রমিকের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে এবং এ বিধানের প্রয়োগ কিশোর শ্রমিকের ক্ষেত্রে স্থগিত করা যাবে না। (৮) একই দিনে কোন কিশোর একাধিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে পারবেন না।
ধারা-৪৩ :  কিশোরের কাজের সময়ের নোটিশÑ (১) কোন প্রতিষ্ঠানে কিশোর শ্রমিক নিযুক্ত থাকলে তাতে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে কিশোরের কর্মঘণ্টা সম্পর্কে, তার কাজের নির্দিষ্ট সময় উল্লেখসহ, একটি নোটিশ প্রদর্শন করতে হবে। (২) উপ-ধারা (১)-এ উল্লিখিত নোটিশে প্রদর্শিত সময় কাজ আরম্ভ হওয়ার পূর্বে, প্রাপ্ত বয়স্ক শ্রমিকের ক্ষেত্রে যেভাবে স্থির করতে হবে, এবং তা এমন হবে যেন উক্ত সময়ে কর্মরত কোন কিশোরকে এ আইনের খেলাপ কোন কাজ করতে না হয়।    (৩) কোন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত পূর্ণ বয়স্ক শ্রমিকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এতদসংক্রান্ত বিধান উপ-ধারা (১)-এর অধীন নোটিশের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। (৪) সরকার বিধি দ্বারা উক্ত নোটিশের ফরম এবং তা রক্ষণাবেক্ষণের পদ্ধতি নির্ধারণ করতে পারবে।

কিশোর শ্রমিকের ছুটি :

কর্মে নিযুক্ত কিশোর-কিশোরীদেরকে বছরে নির্ধারিত নিয়মে বার্ষিক ছুটি প্রদানের বিধান রয়েছে। এ ছুটি কারখানা, চা-বাগান, দোকান-বাণিজ্য বা শিল্প প্রতিষ্ঠান সবক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
ধারা-১১৭ : মজুরিসহ বার্ষিক ছুটিÑ (২) কোন প্রতিষ্ঠানে অবিচ্ছিন্নভাবে এক বছর চাকরি পূর্ণ করছেন এমন প্রত্যেক অপ্রাপ্ত বয়স্ক শ্রমিককে পরবর্তী বারো মাস সময়ে তার পূর্ববর্তী বারো মাসের কাজের জন্য মজুরিসহ নিম্নবর্ণিত হারে গণনার ভিত্তিতে ছুটি মঞ্জুর করতে হবে; যথা- ক. কোন কারখানার ক্ষেত্রে, প্রতি পনের দিন কাজের জন্য একদিন; খ. কোন চা-বাগানের ক্ষেত্রে, প্রতি আঠার দিন কাজের জন্য একদিন; গ. কোন দোকান বা বাণিজ্য অথবা শিল্প প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে, প্রতি চৌদ্দ দিন কাজের জন্য একদিন। (৬) উপ-ধারা (৪)-এ যা কিছুই থাকুক না কেন, কোন অপ্রাপ্ত বয়স্ক শ্রমিকের এ ধারার অধীন ছুটি পাওনা বন্ধ হয়ে যাবে যখন তার পাওনা অর্জিত ছুটি-   ক. কোন কারখানা অথবা চা-বাগানের ক্ষেত্রে, ষাট দিন; খ. কোন দোকান বা বাণিজ্য অথবা শিল্প প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে, আশি দিন হয়।
ধারা-১১৯ : ছুটি অথবা বন্ধের সময়ের মজুরি হিসাব ও প্রদানÑ (২) যদি কোন প্রাপ্ত বয়স্ক শ্রমিককে একসঙ্গে অন্যূন চার দিনের এবং কোন অপ্রাপ্ত বয়স্ক শ্রমিককে একসঙ্গে অন্যূন পাঁচ দিনের বার্ষিক ছুটি মঞ্জুর করা হয় তাহলে, যতদূর সম্ভব, তার ছুটি শুরু হবার আগে তাকে ছুটির মজুরি প্রদান করতে হবে।
বেআইনিভাবে কিশোরকে কাজে নিয়োগ বা চুক্তির শাস্তি :
কোন ব্যক্তি, সংস্থা বা দপ্তর শ্রম আইনের বিধান অমান্য করে কিশোর-কিশোরীকে কাজে নিয়োগ দিলে বা চুক্তি করলে তাঁকে দণ্ড পেতে হবে। আইনে বলা হয়েছে-   ধারা-৩৫ : শিশু সংক্রান্ত কতিপয় চুক্তির ব্যাপারে বাধা-নিষেধÑ এ অধ্যায়ের বিধান সাপেক্ষে, কোন শিশুর মাতা-পিতা বা অভিভাবক শিশুকে কোন কাজে নিয়োগের অনুমতি প্রদান করে কারও সাথে কোন চুক্তি করতে পারবেন না।
ব্যাখ্যাÑ এ ধারায় ‘অভিভাবক’ বলতে শিশুর আইনগত হেফাজতকারী বা শিশুর ওপর কর্তৃত্ব আছে- এমন যে কোন ব্যক্তিকেও বুঝাবে।
ধারা-২৮৪ : শিশু এবং কিশোর নিয়োগের জন্য দণ্ডÑ কোন ব্যক্তি কোন শিশু বা কিশোরকে চাকরিতে নিযুক্ত করলে, অথবা এ আইনের কোন বিধান লংঘন করে কোন শিশু বা কিশোরকে চাকরি করার অনুমতি দিলে, তিনি পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন।
ধারা-২৮৫ : ধারা ৩৫ লংঘন করে শিশু সম্পর্কে কোন চুক্তি করার দণ্ডÑ কোন শিশুর পিতা-মাতা বা অভিভাবক ধারা ৩৫-এর বিধান লংঘন করে কোন শিশু সম্পর্কে চুক্তি সম্পাদন করলে, তিনি এক হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন।

গৃহকর্মী হিসেবে কিশোর-কিশোরী :
এতক্ষণ পর্যন্ত যেসব আইন কানুন নিয়ে আলোচনা করা হলো সেসব শ্রমজীবী কিশোর-কিশোরীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলেও গৃহকর্মে নিযুক্ত কিশোর-কিশোরীদের বেলায় প্রযোজ্য হয় না। গৃহকর্মীদেরকে এখনও দেশের প্রচলিত শ্রম আইনের আওতাভুক্ত করা হয়নি। যদিও ওরা সংখ্যায় অনেক।
এ প্রেক্ষিতে মাননীয় হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১১ তারিখে এক রিট মামলার শুনানি শেষে এতদ্সংক্রান্ত আইনগত দিক নির্দেশনা দেন। ১২ বছরের কম বয়সীদের গৃহকর্মের কাজে নিয়োগ দেয়া নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী গৃহপরিচারীকাদের সুরক্ষা ও শিক্ষাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে বলেছেন আদালত।
গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতিমালা, ২০১০ : বাংলাদেশ সরকার ২০১০ সালে ‘গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতিমালা’ প্রণয়ন করেছেন। এ নীতিমালায় বলা হয় যে, ১৪ বছরের নিচে কাউকে গৃহকর্মী হিসেবে নিয়োগ করা যাবে না। নিয়োগের সাথে সাথেই নিবন্ধন করতে হবে। অপ্রাপ্ত বয়স্ক গৃহকর্মীর ক্ষেত্রে অভিভাবকের সাথে চুক্তি করতে হবে। গৃহকর্মীকে নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র দিতে হবে। ওকে তার মজুরি পরিশোধ করতে হবে মাসের প্রথম সপ্তাহে। সপ্তাহে একদিন ছুটি দিতে হবে। অসুস্থাবস্থায় ওকে কাজে বাধ্য করা যাবে না। চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে বাড়িতে পাঠানো যাবে না। এ বিষয়গুলো সরেজমিনে দেখভাল করার জন্য সরকার উপযুক্ত মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করবেন ইত্যাদি। এ নীতি আইন হিসেবে কার্যকর আছে।
এসবের পাশাপাশি ‘গৃহ শ্রমিকের জন্য শোভন কাজ’ শীর্ষক ওখঙ ঈড়হাবহঃরড়হ (ঘড়. ১৮৯) অনুসমর্থন ও বাস্তবায়ন করা আশু প্রয়োজন।
দারিদ্র্যের কশাঘাত সহ্য করেও যেসব কিশোর-কিশোরী সংসারের হাল ধরে ঠোঁটের কোণে হাসির রেখা ফুটিয়ে তোলার নিরন্তর সংগ্রামে নিয়োজিত আছে তাদের সবার প্রতি আমাদের সদয় হওয়া উচিত। তবেই ওরা একদিন জাতির বোঝা না হয়ে সম্পদ হয়ে উঠবে।

SHARE

Leave a Reply