Home ছড়া-কবিতা কুরবানি

কুরবানি

আবুল হোসেন আজাদ

ডুবে গেছে চাঁদ শুধু জেগে তারা রাত বেড়ে নিঝুম
নেই কোন সাড়া নীরব নিথর চোখ জুড়ে নামে ঘুম।
খেজুর পাতার মর্মর ধ্বনি দূর হতে এসে ভেসে
ধুধু বালু ভূমি মরু সাহারার রাতের আঁধারে মেশে।
পুবের আকাশে শুকতারা হাসে রাত নেই বেশি বাকি
মুয়াজ্জিনের আজানের সাথে গাইবে ভোরের পাখি।
ঘুমিয়ে আছেন নবী ইব্রাহিম নিজ গৃহে ভাই
দাও কুরবানি স্বপন দেখে ঘুম তাঁর ভেঙে যায়।
সকালে উঠেই দেন কুরবানি একশত উট তিনি
সবার মহান পালনকর্তা জগতের রব যিনি।
একই স্বপ্ন ঘুমালে আবার দেখেন পরের রাতে
আবারও উট কুরবানি দেন পরদিন সাথে সাথে।
কুরবানি তবু হয় না কবুল আল্লাহর দরবারে
দাও কুরবানি যা আছে তোমার সব থেকে প্রিয়, তারে।
তৃতীয় রাতের স্বপ্নে এমন পান তিনি নির্দেশ
সব থেকে তাঁর প্রিয় কী তাহা বুঝিলেন সবিশেষ।
ইসমাইল সে পুত্র যে তাঁর অতি আদরের প্রাণ
করলেন ঠিক আল্লাহর রাহে তাকে দেবে কুরবান।
শোনালেন নবী পুত্রকে তাঁর স্বপ্নের কথা সব
হাসিমুখে কয় পালন করুন চেয়েছেন যাহা রব।
স্বপ্নের আদেশ করতে পালন খুশি ভরা অন্তরে
রওনা দিলেন পিতা ও পুত্র তারা মিনা প্রান্তরে।
মাটিতে শুইয়ে পুত্রের গলে চালালেন ছুরি তাঁর
কাটে না কিছুই শত চেষ্টাতে ব্যর্থ বারংবার।
কাপড়েতে বাঁধা চোখ দুটো তাঁর খুলিলেন হাতে টানি
দেখিলেন এক সবল দুম্বা হয়ে গেছে কুরবানি।
রয়েছে দাঁড়িয়ে ইসমাইল যে তাঁর পাশে খুশি মনে
আনন্দে মেতে গাহিয়া উঠিল বুলবুলি বুঝি বনে।
সেই থেকে এই নবীর মহান ত্যাগের স্মৃতি ঘিরে
বছর পেরোলে ঈদুল আজহা কুরবানি আসে ফিরে।

SHARE

Leave a Reply