Home কুরআন ও হাদিসের আলো হাদীসের আলো দু’টি বিষয়ে ঈর্ষা করা জায়েয

দু’টি বিষয়ে ঈর্ষা করা জায়েয

বিস্মিল্লাহির রাহমানির রাহীম

“হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সা) বলেছেন, কোনো ক্ষেত্রেই হিংসা করার অনুমতি নেই, কিন্তু দু’টি ক্ষেত্রে তা জায়েয। তা হলোÑ কোনো লোককে আল্লাহ ধনসম্পদ দান করেছেন, সে তা সত্য পথে ব্যয় করার জন্য নিয়োজিত করেছে। আর কোনো লোককে আল্লাহ তায়ালা হিকমত দান করেছেন, সে তা দ্বারা বিচার ফায়সালা করে এবং অপর লোককে শেখায়।” (সহীহ বুখারি ও মুসলিম)

সুপ্রিয় বন্ধুরা, হিংসা একটি জঘন্য অপরাধ। কিন্তু উক্ত দু’টি বিষয়ে হিংসা করার অনুমতি দেয়া বলতে ওই দু’টি কাজে উৎসাহিত হওয়ার জন্য নিজেদের মধ্যে আগ্রহ জন্মানোর কথা বুঝানো হয়েছে। এর মর্মার্থ হলোÑ এ গুণ অমুকের মধ্যে থাকার ফলে সে ভালো আমল করে এবং দান-খয়রাত করে আল্লাহর সন্তোষ অর্জনের মাধ্যমে জান্নাতে যাওয়ার কাজ প্রশস্ত করে ফেলছে। তাই এগুলো যদি আমার কাছেও থাকত তাহলে আমিও অত্যধিক ভালো আমল ও দান-খয়রাত করার মাধ্যমে জান্নাতে যাওয়ার পথ সুগম করে নিতাম।
জ্ঞান যে কত মূল্যবান বস্তু তা নিম্নের আয়াত ও হাদিস থেকে সহজেই অনুমান করা যায়Ñ
“যে ব্যক্তি জানে যে, যা কিছু পালনকর্তার পক্ষ থেকে আপনার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে তা সত্য, সে কি ওই ব্যক্তির সমান যে অন্ধ ও মূর্খ? কেবল বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিরাই বোঝে।” (সূরা রাদ : ১৯)। হযরত সাখবারা আযদী (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (সা) বলেছেন : যে ব্যক্তি দীনি ইলম অন্বেষণ করে তা তার পূর্বকৃত গোনাহের জন্য কাফফারা হয়। (তিরমিযি ও ইবনে মাজাহ)। এসব কারণেই জ্ঞান অর্জন করাকে রাসূল (সা) প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরজ ঘোষণা করেছেন।
জ্ঞান দুই ধরনের হতে পারেÑ দীনি জ্ঞান এবং দুনিয়াবী বা জাগতিক জ্ঞান। অনেকে মনে করেন জাগতিক জ্ঞান অর্জন করা জরুরি নয়। কিন্তু হাদিসে দীনি এবং জাগতিক জ্ঞান বলে কোনো পার্থক্য করা হয়নি। বরং ইসলাম মানবতার স্বভাবধর্ম হবার কারণে দু’টিকে একসাথেই বিবেচনা করা হয়েছে। অর্থাৎ জাগতিক জ্ঞান অর্জন করতে হবে দুনিয়ার জীবনকে সহজ ও সুন্দরভাবে পরিচালনা করার জন্য। পক্ষান্তরে পারলৌকিক জীবনের কামিয়াবী নিশ্চিত করার জন্য দীনের জ্ঞান অর্জন করতে হবে। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, যে ব্যক্তি ইলম (জ্ঞান) তালাশ করে পথ চলে আল্লাহতায়ালা তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন।
বন্ধুরা, এসো আমরা জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে পরস্পর প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হই এবং জীবনকে উন্নততর করে তুলি। পাশাপাশি অধিক ইবাদত-বন্দেগীর মাধ্যমে আখেরাতের জীবনে সাফল্য অর্জনের পথ সুগম করি।
গ্রন্থনা : মোহাম্মদ ইয়াসীন আলী

SHARE

2 COMMENTS

Leave a Reply