Home কুরআন ও হাদিসের আলো কুরআনের আলো জ্ঞানীরাই মর্যাদাবান

জ্ঞানীরাই মর্যাদাবান

বিস্মিল্লাহির রাহমানির রাহীম
“হে মুমিনগণ! যখন তোমাদেরকে বলা হয়, মজলিশে বসার জায়গা প্রশস্ত করে দাও, তখন তোমরা জায়গা প্রশস্ত করে দেবে। যখন বলা হয়, উঠে যাও, তখন উঠে যেও। তোমাদের মধ্যে যারা ঈমানদার এবং যারা জ্ঞানী, আল্লাহ তাদের মর্যাদা উচ্চ করে দেবেন। আল্লাহ খবর রাখেন যা কিছু তোমরা করো।” (সূরা আল-মুজাদালাহ, আয়াত নম্বর ১১)

সুপ্রিয় বন্ধুরা, যাদের মধ্যে ২ ধরনের গুণ আছে তারা আল্লাহর নিকট মর্যাদাবান। গুণ দুইটি হচ্ছেÑ ঈমানদার হওয়া এবং জ্ঞানী হওয়া। মূলত জ্ঞানী লোক ও মূর্খ লোকদের মধ্যে চিন্তা, আচরণ প্রভৃতিতে বিশাল এক পার্থক্য রয়েছে। এ জন্যই তো বলা হয় “মূর্খ বন্ধুর তুলনায় জ্ঞানী শত্রু উত্তম”।
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে বলা হয়েছে, ‘রাতের কিছু সময় ইলমে দীনের পারস্পরিক আলোচনা করা সারারাত জেগে ইবাদত করা অপেক্ষা উত্তম।’ (দারেমী) আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা)-কে যখন রিসালাতের দায়িত্ব দেয়া হয় তখন সর্বপ্রথম যে বাণী নাজিল হয়েছিল তার প্রথম কথাই ছিল ‘পড়’।
মহান আল্লাহর নিকট সর্বাধিক সম্মানিত হবার গুণ হচ্ছে তাকওয়া বা খোদাভীরুতা অর্জন করা। আর খোদাভীতি সম্পন্ন হতে গেলে আল্লাহর দেয়া কুরআন, রাসূলের হাদিসসহ ইসলামী ও অন্যান্য নৈতিক জ্ঞান অর্জন করা প্রয়োজন। কেননা, জ্ঞান না থাকলে কোনো বিষয়ের সঠিক মর্যাদা ও মাহাত্ম্য বোঝা যায় না। আল্লাহপাক বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে জ্ঞানীরাই কেবল তাঁকে ভয় করে।” মূলত এর মাধ্যমেই আল্লাহর নিকট সর্বাধিক সম্মানিত হওয়া যায়।
আখেরাতে কামিয়াবী ও পৃথিবীতে উন্নতি লাভ করতে হলে জ্ঞানার্জনের বিকল্প নেই। বর্তমান আধুনিক এ পৃথিবীতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, তথ্য-প্রযুক্তি, যানবাহন, কল-কারখানাসহ প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে যে অভূতপূর্ব উন্নতি সাধিত হয়েছে, তা জ্ঞানার্জনের ফলেই সম্ভব হয়েছে। আর ইসলামই জ্ঞানার্জনকে সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করেছে। যখন ইউরোপ অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল, তখন ইসলামী সাম্রাজ্যে জ্ঞানের আলোকবর্তিকা মশালের কাজ করছিল। আল্লাহপাক অন্ধকার সমাজকে আলোকিত করার জন্য কুরআন নাজিল করে ঘোষণা করলেন, “আপনি (রাসূল সা) বলুন, যারা জানে আর যারা জানে না, তারা কি সমান হতে পারে? বুদ্ধিমান লোকেরাই তো নসীহত কবুল করে থাকে।” (সূরা যুমার : ৯)
বন্ধুরা, এসো আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই, এখন থেকে জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে আমাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করে পৃথিবীকে আলোকিত করবো এবং পরকালে আমাদের মুক্তি নিশ্চিত করবো ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দিন। আমিন।
গ্রন্থনা : মোহাম্মদ ইয়াসীন আলী

SHARE

1 COMMENT

Leave a Reply