Home জানার আছে অনেক কিছু রিভার্স সুইংয়ের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

রিভার্স সুইংয়ের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

পেস বোলারের আজব অস্ত্র ‘রিভার্স সুইং’ করা যত না কঠিন, ব্যাখ্যা আরো দুরূহ। পদার্থবিদ্যার কোন্ নীতি মেনে বল ঘুরে যাচ্ছে তা মাথা ঘুরিয়ে দিয়েছে নাসার বিজ্ঞানীদেরও। বোলারের বল ছোড়ার ভঙ্গির ওপর নির্ভর করে সুইংয়ের ধরন বদলে যায়। বাতাস কেটে দ্রুতগতিতে বেরিয়ে যাওয়ার সময় বায়ুর এক পাতলা স্তর বলকে ঘিরে ধরে।
বলের অপ্রতিসমতার কারণে এক পাশের তুলনায় অপর পাশের বায়ুস্তর আগে সরে যায়। যে পাশে বাতাসের ধাক্কা বেশি থাকে বল সেদিকেই বাঁক নেয়। প্রচলিত সুইংয়ের জন্য বোলার যখন বলের সেলাই অংশটি স্লিপের দিকে হেলিয়ে ছুড়ে মারেন তখন আউট সুইং আর যখন ফাইন লেগের দিকে হেলিয়ে রাখেন তখন ইন সুইং হয়।
এ ক্ষেত্রে বায়ুচাপের তারতম্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক। বলের মসৃণ পাশ বাতাস কেটে দ্রুত ছুটে যায় আর খসখসে পাশ কাজ করে ব্রেক হিসেবে, সহজে সামনে যেতে চায় না। বলের দুই বিপরীত পাশে উচ্চ ও নিম্ন চাপের এলাকা সৃষ্টি করে বোলার বলকে বাঁক খাওয়াতে পারেন। প্রবাহী ধর্ম অনুযায়ী বাতাস বেশি চাপের এলাকা থেকে কম চাপের এলাকার দিকে ছুটে যায়। ফলে বলটিও বাতাসে ভেসে সোজা চলে যাওয়ার বদলে বেঁকে যায়। নতুন বলের জন্য সেলাইয়ের খসখসে ভাব ও বলের পিঠে মসৃণতা বৈপরীত্য হিসেবে কাজ করে।
নাসার বিজ্ঞানী রবীন্দ্র মেহতা পাকিস্তানি কিংবদন্তি ইমরান খানের সঙ্গে একই স্কুলে পড়েছেন। ক্রিকেট বলের আদ্যোপান্ত বুঝতে তিনি কাটিয়ে দিয়েছেন তিনটি দশক। ব্যাপক গবেষণার পর হাজির করেছেন সফল সুইংয়ের রেসিপি। বল পুরনো হয়ে এলে সেলাইয়ের ধারালো ভাব চলে যায়, ফলে স্বাভাবিকভাবে বল সুইং করতে চায় না। আর তখনই চালাক বোলার বের করে তুরুসের তাস রিভার্স সুইং। ২০ ওভার পরই রিভার্স সুইংয়ের জন্য প্রস্তুত হয়ে যায় বল।
তবে এখানে ফিল্ডিং দলের সবাই কিছু না কিছু অবদান রাখে। বলের দুই পাশে অসামঞ্জস্যতা ধরে রাখতে যেকোনো এক পাশ ক্রমাগত ঘষা হয় জামা বা রুমাল দিয়ে।
বারবার ঘষার ফলে একটি পাশ মসৃণ থেকে যায়। অপর পাশটি ক্ষয়ে যায়। ঘষার সময় কোনো না কোনো তরল পদার্থ ব্যবহার করা হয়। ফিল্ডারের ঘাম, থুথু, সানস্ক্রিন, হেয়ারজেল মাঠের মধ্যে সহজেই চাইলে যা পাওয়া যায়। চামড়ার বলের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ছিদ্রের মধ্যে দিয়ে এগুলো ভেতরে চলে যায়। ধুমধাড়াক্কা মার আর মাঠে গড়ানোর ফলে এসব ফাঁক বেড়ে যেতে থাকে।
একসময় গলফের মতো ক্রিকেট বলটির একপাশ ছেয়ে যায় ছোট ছোট ছিদ্রে। ওই পাশটি সহজে বাতাস ধরে রাখতে পারে। আর তাতেই উল্টোপাল্টা আচরণ করতে শুরু করে বল।
তবে খেলার মাঠে কেউ কেউ আবার অসদুপায় অবলম্বন করতেও ছাড়েন না। তাড়াতাড়ি বলের চকচকে ভাব নষ্ট করতে বল ছোড়ার বদলে গড়িয়ে মারা, বোলিংয়ের সময় হাত মোছার ছলে বালিতে ঘষে সেই বালি বলে ঘষা, পকেটে বোতলের ছিপি রেখে তার ওপর ঘষাÑ এগুলো তো মামুলি কৌশল। নিউজিল্যান্ডের পেস বোলার ড্যানি মরিসন একবার শুনিয়েছিলেন প্রতিপক্ষের অভিনব এক কৌশলের কথা। খেলোয়াড়টির আঙুলে একটি ব্যান্ডেজ পরা ছিল, এর বাইরের দিকটা ছিল শিরিষ কাগজের মতো খসখসে! আর তা দিয়েই আরামসে ঘষেছিলেন বলের একপাশ।
ঠাণ্ডা ও স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় বল বাঁক নেয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। উষ্ণ বায়ুর তুলনায় ঠাণ্ডা বায়ুর ঘনত্ব বেশি বলে এমনটা হয়।
বল ছোড়ার আগে বোলারের হাতের অবস্থান উঁচু হলে তিনি অপেক্ষাকৃত বেশি সুবিধা পেয়ে থাকেন। বলের সেলাই যথাসম্ভব খাড়াভাবে রেখে ছোড়া হলে পাশভেদে মসৃণ-অমসৃণ বল সবচেয়ে বেশি বাঁক নেবে।
স্বাভাবিক সুইংয়ের জন্য উপযুক্ত গতিবেগ হলো ঘণ্টায় ৭০ মাইল। এর বেশি হলে বল স্বাভাবিকভাবে বাঁক খায় না। বেশি গতি বোলারদের রিভার্স সুইংয়ের ওপর বেশি নির্ভর করতে হয়।
হ জে হুসাইন

SHARE

Leave a Reply