Home সাক্ষাৎকার নৈতিক শিক্ষা মানুষকে পূর্ণতা দেয় -কবি আবদুল হাই শিকদার

নৈতিক শিক্ষা মানুষকে পূর্ণতা দেয় -কবি আবদুল হাই শিকদার

বছর ঘুরে আবারো আমাদের মাঝে আনন্দের মহান বার্তা নিয়ে ঈদুল ফিতর উপস্থিত হয়েছে। ঈদ এলেই আমরা চেষ্টা করি সাধ্য মতো এই আনন্দটা ভাগাভাগি করে পালন করতে। কিন্তু সমাজের যারা বিখ্যাত মানুষ, যারা আমাদেরকে ভালো মানুষ হওয়ার সুপরামর্শ দেন, কিংবা আমাদেরই বয়সী যারা কোনো একটা বিশেষ ক্ষেত্রে অবদান রেখে চলেছে, তাদের ঈদটা কেমন কাটে? এই দিনটিতে তাদের পরিকল্পনা কী থাকে? ঈদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কিশোরকণ্ঠের পক্ষ থেকে আমরা হাজির হয়েছিলাম বিশিষ্ট নজরুল গবেষক, আমাদের প্রিয় কবি আবদুল হাই শিকদার ও শিশু অভিনেতা আবু সায়াদ তামিম-এর কাছে। বিশেষ সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন কিশোরকণ্ঠের সম্পাদনা সহকারী
মাজহারুল ইসলাম

কিশোরকণ্ঠ : ঈদের খুশিকে আপনি এককথায় কী বলে উপস্থাপন করবেন?
আবদুল হাই শিকদার : আমরা যে জীবনটা ধারণ করি সে জীবনের চারপাশে খুশি হওয়ার মতো অজস্র উপকরণ আছে। কষ্ট পাওয়ার মতোও হাজার হাজার অযুত নিযুত উপকরণ আছে। এই যে খুশি হওয়ার মতো এতোগুলো উপকরণ চারদিকে ছড়ানো, আমার মনে হয় এই সব উপকরণের মধ্যে ঈদ এমন এক খুশি যে খুশির সঙ্গে আর কোনো কিছুর কোনো তুলনা হয় না। এতে একদিকে যেমন দৈহিক প্রশান্তি, একইসঙ্গে এর সাথে আত্মিক প্রশান্তি সংযুক্ত। দৈহিক এবং আধ্যাত্মিক, শারীরিক এবং আত্মিকÑ এই দু’টোর সংমিশ্রণে যে অভুতপূর্ব অনির্বচনীয় আনন্দ এবং খুশি ঈদ আমাদেরকে দেয়, এর সঙ্গে পৃথিবীর আর কোনো আনন্দের তুলনা হয় না। বিশেষ করে দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনার পরে একজন বিশ্বাসী মানুষ যখন ঈদের চাঁদ আকাশে দেখে তার হৃদয়ে যে আনন্দ উদ্বেল হয়ে ওঠে সে আনন্দ আসলেই নির্মল। ছোট বেলা হোক আর এখনই হোকÑ ঈদের আনন্দের সঙ্গে আমি কোনো আনন্দেরই শেয়ার করতে পারি না।

কিশোরকণ্ঠ : আপনার কিশোর বয়সের ঈদস্মৃতি কি মনে পড়ে? কিভাবে তখন ঈদ উদ্যাপন করতেন?
আবদুল হাই শিকদার : দীর্ঘ ৫৮ বছর পার হয়ে এসেছি জীবনে। সব তো ঝাঁপসা হয়ে আসছে। পেছনে তাকালে কেবল ধূ ধূ করে। কিন্তু ছোটবেলার যেসব জিনিস এখনো মনের মণিকোঠায় উজ্জ্বলভাবে সজীব হয়ে আছে, জেগে আছেÑ তার মধ্যে ঈদের স্মৃতিগুলো অন্যতম। প্রত্যন্ত গ্রামে আমার বাড়ি। আমার আব্বা ছিলেন একজন কৃষিবিদ। আমাদের খামার বাড়ি ছিল কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারিতে গোপালপুর গ্রামের দুধকুমার নদীর পাড়ে। আমার আব্বা-মা খুব গুরুত্ব দিতেন যে তার ছেলেমেয়েরা প্রকৃতির সাথে মিশেই বড় হোক। শহরের মতো সুষ্ঠং কাষ্ঠং বা অত্যন্ত বিদ্বেষী বুদ্ধিমান হয়ে উঠি আব্বা তা চাইতেন না। আব্বা চাইতেন যে আমরা প্রকৃতির মতো সচ্ছল হয়ে উঠি। প্রকৃতির মতো অনাশ, প্রকৃতির মতো অনাবিল, প্রকৃতির মতো প্রশান্তময় হয়ে উঠি। সে জন্যই আমাদের গ্রামে থাকা মূলত। রমজানের শেষের যে ঈদ এবং ঈদুল আজহার যে ঈদ, এই দু’টো ঈদ তো আমাদের জীবনে। বিশেষ করে রোজার ঈদে একটা সাজ সাজ রব পড়ে যেত। আমাদের বাড়ির (আমাদের বাড়িটা গ্রামের ঠিক সেন্টার পয়েন্টে) ঠিক সামনে ঈদগাহ। বাড়ির সাথে গ্রামের সবচেয়ে বড় মসজিদটা। মসজিদ, ঈদগাহ এবং গোরস্তানÑ এই তিনটা হলো গ্রামের সেন্টারে। এর চারদিক দিয়ে হলো অন্যদের বাড়িঘর। ফলে আমরা ছোটবেলায় ঘুম থেকে উঠেই বাইরে মসজিদে গিয়েছি, ঈদগাহে গিয়েছি, গোরস্তান দেখেছি। গ্রামের মক্তবও আমাদের বাড়ির পাশেই। ছোটবেলায় দেখতাম রোজার সময় সমস্ত গ্রামের মানুষরা বিশেষ করে পুরুষরা তাদের ইফতারি নিয়ে মসজিদে আসতো। মসজিদের ভেতরে এবং বাইরে ফরাস বিছিয়ে আমরা দল বেঁধে ইফতারি করতাম। সারাদিন ধরে আমরা অপেক্ষা করতে থাকতাম কখন সন্ধ্যা হবে আর আমরা ইফতার খাবো। সবার বাড়ি থেকে আনা ইফতারিগুলো একত্র করে সবার মাঝে ভাগ করে দেয়া হতো। সেই ইফতারি খাওয়া কী যে মজার, কী যে আনন্দের তা বলে বোঝানো যাবে না। বলতে দ্বিধা নেই, আমরা অনেকেই শুধু এই ইফতারি খাওয়ার জন্যেই রোজা রাখতাম। এখান থেকেই আমাদের আনন্দ শুরু হয়ে যেত। এর পরে রোজার শেষের দশদিন আরম্ভ হয়ে যেত ঈদের কেনাকাটা। কে কী কিনবো, কে কী নেব, আব্বা কী নিয়ে আসবেন, আমাদের বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন কারা কে আসবেÑ তখন থেকেই আনন্দের শুরু আর কি।
ঈদের চাঁদ দেখার সাথে পৃথিবীর আর কোনো আনন্দের বোধহয় তুলনা চলে না। আমরা ছেলেমেয়েরা দলবেঁধে মাঠে চলে যেতাম। চাঁদ দেখা মাত্রই মিছিল বের করে ফেলতামÑ আনন্দ মিছিল। কে আগে চাঁদ দেখবে এই নিয়ে আমাদের মধ্যে হট্টগোল লেগে যেত।
নতুন জামাকাপড় বাড়িতে আসতো। আব্বা যে জুতো নিয়ে আসতেন তা পরে মাটিতে হাঁটতাম না, পাছে তাতে ধুলো লেগে যায়। বিছানায় হাঁটতাম। সবকিছুই করতাম ঘরের মধ্যে। ঈদের দিনের আগে কাউকে দেখানোর তো প্রশ্নই আসতো না। বড় ভাইয়েরা, আব্বা আমাদের জন্য অনেক জামাকাপড় নিয়ে আসতেন। আত্মীয়স্বজনরাও উপহার পাঠাতো। আমার দুলাভাই রাজশাহী থেকে উপহার পাঠাতেন। সব মিলিয়ে একটা আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি হতো আমাদের চারদিকে। আর সমাজটা তখন ছিল এতো নিবিড়, এতো গভীরÑ পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, পরস্পরের প্রতি মমত্ববোধ, পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা এগুলো তখন খুব বেশি ছিল। গ্রামের মুরুব্বিদের সবাই মানতো। মসজিদকেন্দ্রীক জীবন ছিল অনেকটা গ্রামগুলোতে এবং আমাদের গ্রামের বিচার সালিশ আদালতÑ ছোটবড় সব বিষয় মসজিদে ফয়সালা হতো। মুরুব্বিরা বসতেন, হুজুর থাকতেন। সবাই বসে দশজনে দশটা ব্যাপার চিন্তাভাবনা করে একটা সিদ্ধান্ত নিতেন। এবং যে সিদ্ধান্ত মুরুব্বিরা দিতেন, সমস্ত গ্রামের লোক সেটা মাথানত করে মেনে নিত। কোথাও কোনো কোলাহল ছিল না। চুরি কী জিনিস আমি ছোটবেলায় জানিই না। একবার শুনেছিলাম রায়গঞ্জ নামের কোন্ এক জায়গা সেখানে একটা লোক খুন হয়েছে। আমার ছোটবেলায় আমি ওই একটাই খুনের কথা শুনেছি। এতো সুন্দর প্রীতিমগ্ন গভীর স্নিগ্ধময় একটা সমাজ ছিল তখন। আমাদের যারা গরিব বন্ধু-বান্ধব ছিল, আমাদের কিছু বর্গা চাষিও ছিল যারা আমাদের জমিজমা চাষ করতো, আব্বা বলতেন, ওদের ছেলেমেয়েদের জন্য নতুন জামাকাপড় কেনা হয়নি। তোমরা এই যে নতুন নতুন জামাকাপড় পরে মাঠে যাবে তখন ওদের দিকে তাকালে তোমাদের লজ্জা করবে না? আব্বার এই কথা দ্বারা আমরা দারুণ উদ্বুদ্ধ হতাম। আব্বাই সব কেনাকাটা করতেন। কিন্তু আমাদের কাছ থেকে পরামর্শ করেই সিদ্ধান্ত নিতেন। ওদের ঈদের কেনাকাটা করার জন্য আব্বা একটা বাজেট করতেন। সেই বাজেট থেকে ওদেরকে জামাকাপড় দেয়া হতো। গরিব ছেলেমেয়েগুলো নতুন জামাকাপড় পেয়ে যে লাফালাফি করতো আনন্দেÑ এই দৃশ্যটা আমাদের বুকের মধ্যে গভীরভাবে দাগ কাটতো।
ঈদের দিন খুব সকালবেলা (সকাল সাড়ে ছয়টা সাতটার সময়) ঘুম থেকে উঠতাম। গোসল ওজু শেষ করতাম। আম্মা সবাইকে একসাথে বসিয়ে পায়েস খাওয়াতেন। এরপর ভাইবোনেরা সিরিজ ধরে মা-বাবাকে সালাম করতাম। মা আমাদের কপালে চুমু খেতেন। আব্বা বুকে জড়িয়ে দোয়া করতেন। তারপর আব্বার সাথে দলবেঁধে ঈদগাহে যেতাম। ইমাম সাহেবের বাইরে একজন লোক ঈদের মাঠে বক্তৃতা করতেনÑ তিনি ছিলেন আমার আব্বা। আব্বা ছিলেন ফারসি এবং উর্দুতে খুব সুপণ্ডিত। আব্বা ঈদের তাৎপর্য, রোজা কেন দরকার, পারস্পরিক রেসপেক্ট কেন রাখতে হবে, ঈদের দিনে কী কী সুন্নাত আমাদের অবশ্যই পালন করা উচিত তা বর্ণনা করতেন। প্রত্যেককে তিনি অনুরোধ করতেন প্রত্যেকের বাড়ির পাশে যে পাঁচটি বাড়ি আছে সেখানে পায়েস সেমাই রান্না করা হয়েছে কি না তা খোঁজ নিতে। যদি রান্না না হয়ে থাকে তাহলে এখানে এসে বললে মসজিদ থেকে তাদের বাড়িতে পায়েস-শিন্নি পাঠিয়ে দেয়া হবে বা রান্নার ব্যবস্থা করা হবে। এভাবে একটা পরিবারের মতো আমরা আমাদের গ্রামে ঈদ উদ্যাপন করতাম। সেখানে প্রত্যেকেই প্রত্যেকের প্রতি মমত্বশীল ছিল। ছোট কি বড় এগুলো নিয়ে কেউ মাথা ঘামাতো না। একটা আনন্দকে সকলে শেয়ার করতো। সে রকম একটা আবহের মধ্যে আমরা ছোটবেলায় ঈদ উদ্যাপন করেছি। আমার কাছে মনে হয় এইসব স্মৃতি এখন আর নেই অনেকটা। মানুষ এখন একটা কেমন যেন মেকানিক্যাল হয়ে গেছে। জীবনটা বাণিজ্যিক হয়ে গেছে। একটা শোবিজের মতো হয়ে গেছে। আত্মার যে সৌন্দর্যগুলো ছিল সেগুলো কোথায় যেন লুপ্ত হয়ে গেছে!

কিশোরকণ্ঠ : এখন কিভাবে কাটে আপনার ঈদ?
আবদুল হাই শিকদার : এখনকার ঈদে যে আনন্দ নেই তা না, অবশ্যই আনন্দ আছে। ঈদের আনন্দ এক অন্য রকম আনন্দ। আমি মনে করি পৃথিবীতে মুসলমানরা যতদিন থাকবে, পৃথিবীতে মানুষ যতদিন মানুষকে ভালোবাসবে, পৃথিবীতে মানুষ যতবার বিনোদনের কথা ভাববে তখন ঈদ চলে আসবে সবার আগে। এখনকার ঈদ হলো এমন যে সকালবেলা ঘুম থেকে উঠি, প্রস্তুতি নিই ঈদগাহে যাওয়ার। এখন তো আবার ঈদগাহেও যাওয়া হয় না। আমার বাসা থেকে (থাকি শহরতলীতে) জাতীয় ঈদগাহর দূরত্ব হলো প্রায় তেরো কিলোমিটার। এই তেরো কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে যেয়ে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা সময় চলে যায়, এই সময়টা নষ্ট করতে ইচ্ছে করে না। সে জন্য মহল্লার মসজিদেই আমি ঈদের নামাজটা পড়ি। আমার ছেলেমেয়েকে সঙ্গে নিয়ে যাই। তবে সাধ্যমতো ফিতরাটা আদায় করে তবেই মসজিদে যাই। যাকাতটাও আদায় করার চেষ্টা করি। পাড়া-প্রতিবেশীর খোঁজ-টোজ নিই। সাধ্যমতো দান-খয়রাত করি। ফিরে এসে ঘুমায়, প্রায় সারাদিন।

কিশোরকণ্ঠ : আপনি সাহিত্যাঙ্গনে এলেন কিভাবে? কারো কোনো বিশেষ অনুপ্রেরণার কথা মনে পড়ে কি?
আবদুল হাই শিকদার : পাখিকে তো আমি কখনো জিজ্ঞেস করি না পাখি তুমি কিভাবে গান করলে? গান শিখলে কোথায়? জিজ্ঞেস করলে পাখি কী বলবে! বলবে যে শিখেছি (হাসি)। তবে আমার মনে হয়, এই যে প্রকৃতির কাছে, গাছের কাছে, লতার কাছে, পাতার কাছে, এই ফুলের কাছে, বাতাসের কাছে, এই জোসনা রাতের কাছে, নক্ষত্রখোচিত আকাশের কাছে, বহমান নদীর কাছে, এই মৃত্তিকার কাছে, ঘাসের কাছে, এই অরণ্য, এই নগর, এই গ্রাম, এই যে প্রান্তরÑ সব কিছ্ইু বোধহয় আমাকে কিছু কিছু শিখিয়েছে। তারাই হয়তো চেয়েছিল যে আমি কবি হয়ে উঠি। সেটা একটা ব্যাপার। আরেকটা ব্যাপার হলো যে, আমাদের গ্রামটা এমন একটা প্রাকৃতিক পরিবেশে অবস্থিত, যার একপাশ দিয়ে বয়ে গেছে দুধকুমার নদী, অন্য পাশ দিয়ে বয়ে গেছে শালমারা নদী। শোলডুবরি নামে একটা বিলও আছে আমাদের গ্রামে, যেটা অনেকটা হাওড়ের মতোÑ এখন অবশ্য শুকিয়ে গেছে সবÑ আসলে একটা টিলার মতো আমাদের গ্রামটা। দিগন্ত বিস্তৃত বাঁশের বন, ধানের মাঠ, মাঠের মাঝখানে বটবৃক্ষ, এই বটগাছের নিচে বসে রাখাল বাঁশি বাজাতো। এই প্রকৃতি আমাকে সমৃদ্ধ করেছে। আমার ভেতরে প্রকৃতির ভাষাটা ছোটবেলা থেকেই বোঝার চেষ্টা করেছি। একটা গাছের পাতা একরকম, আরেকটা গাছের পাতা অন্য রকম কেন? ফুলের রঙে ভিন্নতা কেন? আব্বাকে জিজ্ঞেস করতাম, আব্বা, এই শুকনো লিকলিকে একটা ডাটা গোলাপের, তার ভেতর থেকে এমন টকটকে গোলাপ ফুল বেরোয় কেমন করে? অবাক কাণ্ড! ভেতরে কি তাহলে লাল রঙ আছে? আব্বা বলতেন, না, লাল রঙ থাকবে কেন? আমি বাগান সাফ করতাম আর দেখতাম গাছের ভেতরে কোথাও লাল রঙ আছে কি না। কিন্তু না, কোথাও লাল রঙ দেখতাম না। তাহলে এটা আসে কোত্থেকে? আব্বা বলেন, এটা হলো শিল্প। প্রকৃতির স্রষ্টা এই লাল রঙ ওর ভেতরে দিয়ে দিয়েছেন যা কেউ দেখতে পারে না। ওর সারাজীবনের সাধনা একটা লাল ফুল ফোটাবে। ফুল ফোটানোর ড্রিমটা (স্বপ্ন) ওর বুকের ভেতরে থাকে। ওর শিকড়ে থাকে, ওর কাণ্ডে থাকে, ওর পাতায় থাকে। ওর প্রবাহমনতার মধ্যে থাকে। এই ফুল ফোটানোর যে ড্রিম, সে ড্রিম ওর মধ্যে আছে সেজন্য ও ফুল ফোটাতে পারছে। তাহলে মানুষে লেখে কী করে?
আমাদের বাসায় আমার এক ভাগনে ছিল। ও খুলনা জেলা স্কুলে পড়তো। ওই স্কুল থেকে একটা স্কুল ম্যাগাজিন পাঠিয়েছে আমাদের গ্রামে। আমি স্কুল ম্যাগাজিনটি হাতে নিয়ে অবাক হয়ে গেলাম। দেখলাম তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র এদের নামে লেখা রয়েছে। অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রের নাম, লেখা অষ্টম শ্রেণী রোল নম্বর এতো। আব্বা বললেন, যে এটা লিখেছে সে এই ক্লাসের ছাত্র। আমি তো অবাক! বলেন কী আব্বা? ক্লাস ফোরের ছেলে লিখেছে এটা? আব্বা বলেন, হ্যাঁ। আমি লিখতে পারবো না? তিনি বলেন, কেন পারবা না! তুমিও পারবা। এটা আমার চোখ খুলে দিয়েছিল। আমাদের ভুরুঙ্গামারীতে ষাটের দশকের প্রথমার্ধ থেকে শুরু করে এক্কেবারে সত্তর সাল পর্যন্ত দশটা বছর ‘বার্তাবহ’ নামে একটা পত্রিকা বের হতো। মাসিক বার্তাবহ। জয়নাল আবদুল ভাণ্ডারি নামে এক ভদ্রলোকের একটা প্রেস ছিল যা হাত দিয়ে চালাতে হতো, হাত দিয়ে কালি লাগাতে হতোÑ ওই প্রেস থেকে পত্রিকাটা বের হতো। এই পত্রিকাটাও আমাকে সাহায্য করেছিল। সেই পত্রিকায় আমার প্রথম লেখা ছাপা হয়। আরেকটা হলো আমার আব্বার বেশ বড় কালেকশন ছিল বইয়ের। সেখানে মাইকেল, কায়কোবাদ, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, শেকস্পিয়ার, হোমার, হাফিজ এরকম মোটামুটি অনেক বিখ্যাত লেখকের কালেকশন ছিল। ইতিহাসেরও অনেক বই ছিল সেখানে। আমি আব্বাকে জিজ্ঞেস করতাম এগুলো লেখে কারা? কারা এগুলো প্রকাশ করেছে? আব্বা আমাকে বোঝাতেন সবকিছু। এভাবেই আমার ভেতরে ধীরে ধীরে একটা পরিবেশ তৈরি হয়েছিল বোধকরি। আর মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর পরিবার ও আমরা প্রায় একই পরিবার ছিলাম। এক সাথেই থামতাম আমরা। মাওলানা ভাসানীর দুই মেয়েÑ আনোয়ার খাতুন ভাসানী ও মনোয়ারা খাতুন ভাসানী। আমরা তাদেরকে ফুফু ডাকতাম। আপন ফুফু ভাবতাম। ডাকতাম আনু ফুফু ও মনু ফুফু। তাদের ভাই আবু বকর খান ভাসানী। আনু ফুফু খুব রূপকথার গল্প বলতেন। আমি দুষ্টুমি করলে আম্মা ফুফুকে বলতেন ঘুম পাড়িয়ে দিতে। আনু ফুফু আমাকে কোলে নিয়ে রাক্ষস-খোক্ষস, ভূত-পেতœী, দৈত্য-দানোÑ এক অদ্ভুত পৃথিবীর গল্প শোনাতেন। এই সব গল্প শুনে আমি খুব ভয় পেতাম। ফুফুর গায়ের সাথে লেগে থাকতাম। আনু ফুফু মাঝে মাঝে জিজ্ঞেস করতেন, কি রে, ভয় পেলি? আমি বলতাম, না তুমি বলো। ভয়ে কাঁপতাম কিন্তু গল্প শুনতে ইচ্ছে করতো। আনু ফুফুর এই গল্পগুলোও আমার মধ্যে কাজ করেছিল।
এভাবে নানান মজার ভেতর দিয়ে আমার সাহিত্যের সাথে সম্পর্ক গড়ে উঠল। এসব আমাকে উদ্বুদ্ধ করেছিল। বাংলাদেশের অধিকাংশ কবি শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে না। এক পর্যায়ে গিয়ে ঝরে যায়। দু’একজন রয়ে যায়। এই দু’একজন রয়ে যাওয়ার মধ্যে হয়তো আমিও একজন। তাই এখনও লিখে যাচ্ছি।
কিশোরকণ্ঠ : কোন্টিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ বোধ করেনÑ কবিতা লেখা নাকি কবিতা আবৃত্তি?
আবদুল হাই শিকদার : কবিতা লেখার সঙ্গে যে আনন্দ আমি পাই, অন্য কিছুতে সে আনন্দ পাই না। কবিতা লেখার সময় মনে হয় যে আমি একটা অন্য কোনো জগতে চলে গেছি। এমন একটা বর্ণনাতীত পৃথিবী থেকে আমি কথাটা বলছি (মোবাইল ফোন বেজে ওঠায় তা রিসিভ করেন)…। কখনো কখনো হয়তো একটা শব্দ মাথার মধ্যে ঢুকে যায়। যেমন গত এক বছর ধরে একটা শব্দ আমার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। শব্দটি ‘আমার হোসেন’। আমার হোসেন কারবালা নয়/আমার হোসেন বিশ্ব/আমার হোসেন আমার হোসেন… কবিতাটা হবে এই স্টাইলের। এই রকম কোনো একটা শব্দ যখন মাথার মধ্যে ঢুকে যায় তখন সেটা নিয়ে মাথা কাজ করতে থাকে। আমার একটা কবিতা আছে যেটা কবি মতিউর রহমান মল্লিক খুব পছন্দ করতেনÑ রেলিং ধরা নদী। চারধারে তীর, মাঝখান দিয়ে নদীটি বয়ে যাচ্ছে। এই চারপাশটা যেন রেলিং। এই ‘রেলিং ধরা নদী’ শব্দটা কোনো সময় মাথার মধ্যে ঢুকে গিয়েছিল আমার। কবিতা যখন লিখি তখন আমার মধ্যে একটা ঘোরের পরিবেশ তৈরি হয়। বাথরুমে যেমন টপ টপ করে পানি পড়ে, তেমনি পানির শব্দের মতো, বৃষ্টির শব্দের মতো, প্রবাহমান বাতাসের মতো কিছু একটা মাথার মধ্যে ঘুরপাক খেতে থাকে। এই ঘুরপাকটা এক সময় ঘোরের তৈরি করে। এভাবে হৃদয়টা যখন একেবারে উদ্বেল হয়ে ওঠে তখন আমি লিখতে বসি। লিখতে বসলে বাইরের আর কোনো কিছু তখন মাথার মধ্যে থাকে না। এরপর লেখাটা যখন শেষ করি তখন অসম্ভব একটা আনন্দ লাগে। আমার ‘কসম’ নামের কবিতাটা এক দমে লিখেছি। বলা যায় ঊর্ধ্বশ্বাসে লিখেছি। অন্যভাবে বলতে গেলে, আমি যে লিখেছি এটা বলা ঠিক হবে না, যেন কেউ আমাকে দিয়ে লিখিয়েছেÑ বিষয়টা এমন। কবিতা লেখার মধ্যে যে একটা আরাম, অন্য কোনোটাতে সেটা পাই না।
আর কবিতা আবৃত্তিও একটা ভিন্ন মাত্রার শিল্প। এর মধ্যেও আমি মজা পাই। তবে বাংলাদেশের বেশিরভাগ আবৃত্তি শিল্পী এতো নিম্নমানের, হাতের মধ্যে কাগজ নিয়ে দেখে দেখে আবৃত্তি করে, আমার কাছে খুব খারাপ লাগে। মুখস্থ বলার মধ্যেও একটা আর্ট কাজ করে। সেটার বড় অভাব। বাক্যের শব্দের কোন্টা কিভাবে টেনে পড়া দরকার, অর্থের সাথে মিল রেখে উচ্চারণ করা দরকার, কোথায় ছেড়ে দেয়া দরকার, কোথায় ধীরে পড়া দরকারÑ এটা দেখা যায় না। তারপরও আমি বলবো কবিতা আবৃত্তিও মন্দ লাগে না আমার। তবে কবিতা লেখার মধ্যে বেশি আনন্দ পাই।
কিশোরকণ্ঠ : বর্তমান শিশু-কিশোররা তাদের সুপ্ত প্রতিভা কিভাবে বিকাশ করতে পারে?
আবদুল হাই শিকদার : আমাদের সমাজটা বেসিক্যালি মানুষ এবং মানবতাবিরোধীদের দ্বারা শাসিত একটা সমাজ। আমাদের শাসকরা, আমাদের প্রশাসন, আমাদের অর্থনীতি, আমাদের সমাজনীতিÑ সবকিছুই হলো গণবিরোধী চক্রের হাতে বন্দি। এরাই কোনা না কোনোভাবে সমাজটাকে নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে এখানে একটা শিশুকে সুস্থভাবে বিকশিত করার জন্য, একটা নগরকে সত্যিকার অর্থে পরিকল্পিত নগর করবার জন্য যে মাস্টার প্ল্যান দরকার, সেগুলো আমাদের মধ্যে নেই। এই যে ঢাকা শহরÑ এটা ইটের জঞ্জাল। এর মধ্যে দম ফেলানোর মতোও কোনো জায়গা নেই। শ্বাসরুদ্ধকর একটি শহর। আমাদের উচ্চাভিলাষ, আমাদের স্বার্থপরতা, আমাদের নোংরামি, আমাদের ইতরতা, আমাদের পরিকল্পনাহীনতা, আমাদের স্বপ্নহীনতা, মহৎ হওয়ার অনিচ্ছাÑ এ সব কিছু মিলে আমাদের ঢাকা শহরটাকে যেভাবে সর্বনাশ করে দিয়েছে, বাংলাদেশটাকে যেভাবে সর্বনাশ করে দিয়েছে, সেরকমভাবে আমাদের শিশুদের বিকাশের পথগুলোকেও সর্বনাশ করে দিয়েছে। এই ঢাকা শহরে কমপক্ষে একশটা বিগ খেলার মাঠ থাকার কথা ছিল। এখানে দু’শোটা শিশু পার্ক থাকার কথা ছিল। এখানে মহল্লায় মহল্লায়  শিশুদের ব্যায়ামাগার (জিমনেশিয়াম) সরকারের উদ্যোগে থাকার কথা ছিল। কিন্তু ঢাকা শহরকে শেষ করে দেয়া হয়েছে। তো শিশুদের বিকাশের জন্য খোলা মাঠ নাই, খেলার মাঠ নাই, শিশু পার্ক নাই, পর্যাপ্ত লাইব্রেরি নাই, হাত-পা ছড়িয়ে বসার জায়গাটুকুও নাই। কাজেই প্রতিভা বিকাশের সুযোগ খুব কম। এখানে মহৎ মানুষ তৈরি করার কোনো সুযোগ নাই। গড়পরতা শাসকরা যেভাবে চেয়ে থাকে সে রকম স্তবক এবং অমানুষ তৈরির কলকবজাগুলো আমাদের এখানে প্রকট। এই রকম অবস্থায় আমাদের শিশুগুলোকে যদি আমরা বের করে আনতে চাই, সুপ্ত প্রতিভাগুলো বিকাশ ঘটাতে চাই, তাহলে তার মধ্যে সুকোমল বৃত্তি যাতে ডেভেলপ করে, তার চিত্ত যাতে প্রকৃতিকে ভালোবাসতে শেখে, একটি গাছের পাতাকে যাতে ভালোবাসতে শেখে, একটা ছোট্ট পাখিকে যাতে ভালোবাসতে শেখে, পৃথিবীর যা কিছু মহোত্তম সৃষ্টি মানুষের সে মহোত্তম জিনিসগুলোর প্রতি যাতে তাদের রেসপেক্ট জন্মে, সেগুলোর প্রতি যাতে তার কৌতূহল থাকেÑ সে ক্ষেত্রে কী কী করা দরকার সে কাজগুলো আমাদের করতে হবে। এবং তাদেরকে মানুষের সৃষ্টি যত মহৎ কর্মগুলো আছে সেগুলোর সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে। মহাপুরুষদের জীবনী তাদেরকে পাঠ করাতে হবে। তাদের মধ্যে বড় হওয়ার স্বপ্ন ঢোকাতে হবে। তাদের মধ্যে ড্রিম দিতে হবে। ভিশন দিতে হবে। টার্গেট ফিক্সড করে দিতে হবে। এভাবে করতে পারলে তাদের মধ্যে আকাক্সক্ষা ডেভেলপ হবে। কিছু কিছু মানুষ আছে, শিশু-কিশোর সংগঠন আছে, যেমন কিশোরকণ্ঠ, আমি কিন্তু আশাবাদী যে, কিশোরকণ্ঠের মাধ্যমে যে শিশুরা তৈরি হচ্ছে সেই শিশুদের মধ্যে অনেকেই একদিন বাংলাদেশের নায়ক-নায়িকায় পরিণত হবে। যারা এই সমাজটাকে রোল করবে। এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ কিশোরকণ্ঠ করছে। তো শিশু-কিশোরদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের জন্য এই পত্রিকার মাধ্যমে যা করা হচ্ছে, সে রকম কাজ যাতে অন্যরা করে সেজন্য আমাদের উদ্যোগী হতে হবে।

কিশোরকণ্ঠ : প্রকৃত চরিত্রবান, আদর্শ, দেশপ্রেমিক ও আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য শিশু-কিশোরদের কোন্ পদ্ধতি অবলম্বন করা উচিত বলে মনে করেন?
আবদুল হাই শিকদার : অন্য কোনো পদ্ধতি নেই। পদ্ধতি হলো তাকে নীতি-নৈতিকতা শেখাতে হবে। আমাদের শিশুদেরকে অবশ্যই ধর্শীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে। ধর্মের যে মহোত্তম দিক, ধর্ম যেভাবে সাম্য-মৈত্রী-ভ্রাতৃত্বের কথা বলে, ধর্ম যেভাবে মানুষকে ভালোবাসার কথা বলে, মানুষকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে বলে, জুলুমকে জুলুম বলতে বলেÑ সেই জিনিসগুলোর সাথে তাদেরকে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে। পাশাপাশি দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য, ভূগোল, সংস্কৃতি এগুলোর সাথেও তাদেরকে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে। সে যেন বিভ্রান্ত না হয়। তার উপরে প্রেসার ক্রিয়েট করা যাবে না। তাকে হেল্প করতে হবে, এগিয়ে নিতে হবে, সহযোগিতা করতে হবে। তার পায়ের নিচের পথটাকে একটু বড় করে দিতে হবে, শক্ত করে দিতে হবে। তারপর সে নিজের পায়ে নিজে হেঁটে যাবে। তবে আমি মনে করি, নীতি-নৈতিকতা বিষয়টা আজকে খুব জরুরি। কারণ ধ্বংস হওয়ার জন্য আমাদের চারদিকে হাজারটা পথ। কিন্তু ভালো হওয়ার পথ নেই একটাও। সে জন্য ভালো হওয়ার পথগুলো তাদের সামনে দেখাতে হবে যে, এইদিকে তুমি যদি আসো, তুমি যদি ফুলকে সুন্দরভাবে ফোটাতে চাও, তুমি যদি তোমার জীবনকে মহোত্তম মানুষের মতো উপস্থাপন করতে চাও, তুমি যদি আলবার্ট আইনস্টাইন হতে চাও, তুমি যদি ইমাম গাজ্জালী হতে চাও, তুমি যদি হাফিজ হতে চাও, তুমি যদি নজরুল হতে চাও, তুমি যদি এফ আর খান হতে চাও, তুমি যদি সাকিব আল হাসান হতে চাও তাহলে তোমাকে এই এই পথে আসতে হবে। এভাবে তাকে কাছে আনতে হবে। তাকে এগিয়ে দিতে হবে। সুনির্দিষ্ট কোনো পথ-পরিক্রমা নাই। যখন যেটা ভালো হবে তখন সেটাই তাকে দেখাতে হবে। তবে মাথায় রাখতে হবেÑ নৈতিক শিক্ষা তাকে অবশ্যই দিতে হবে। নৈতিক শিক্ষা মানুষকে পূর্ণতা দেয়।

কিশোরকণ্ঠ : কিশোরকণ্ঠের পাঠকদের জন্য কিছু বলুন।
আবদুল হাই শিকদার : আমি নিজেই তো কিশোরকণ্ঠের পাঠক। পাঠকদেরকে বলবো, পত্রিকার প্রত্যেকটা পাতা খুটিয়ে খুটিয়ে পড়–ন। পড়–ন পড়–ন এবং পড়–ন। পৃথিবীর যা কিছু ভালো যেখানে আছে, সেটা যে-ই রচনা করে থাক না কেন সেটা আপনার পড়া দরকার। এবং একই সাথে নীতি এবং নৈতিকতা শিক্ষা এবং পৃথিবীতে মানুষের মহোত্তম সৃষ্টিগুলোর সঙ্গে আত্মীয়তা স্থাপন করতে হবে। তবে লিখতেও হবে। লিখতে হলে অবশ্যই আগে প্রচুর পড়তে হবে। আমি নিজেও এখনো একজন চমৎকার পাঠক। পড়াশোনা অন্তরচক্ষুকে খুলে দেয়। যত বেশি পড়া যাবে তত বেশি জানা যাবে। তবে পড়ার সময় চুজি (বাছাই করে পড়তে হবে) হতে হবে। বই পড়লে কেউ দেওলিয়া হয় না কথাটা ঠিক না। চুজি বই পড়লে কেউ দেওলিয়া হয় না। আলতু-ফালতু বই পড়লে সে দেওলিয়া হতেই পারে।

SHARE

Leave a Reply