Home সাক্ষাৎকার আর্ন্তজাতিক সর্ম্পকবিদ হতে চাই -আবু সায়াদ তামিম

আর্ন্তজাতিক সর্ম্পকবিদ হতে চাই -আবু সায়াদ তামিম

অপসংস্কৃতির বিপরীতে সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা ও বিকাশে অনুপম সাংস্কৃতিক সংসদ কাজ করে যাচ্ছে। এই শিল্পী গোষ্ঠীর ব্যানারে বাংলাদেশের প্রথম ডিজিটাল শিশুতোষ চলচ্চিত্র “দূরবীন” নির্মিত হয়। আবু সায়াদ তামিম এই সংসদের শিশু অভিনেতা। চলচ্চিত্রটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করার মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের মনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে সে। তামিম বর্তমানে মতিঝিল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে দশম শ্রেণীতে পড়ছে।

কিশোরকণ্ঠ : তুমি কেমন আছো?
তামিম : আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি।
কিশোরকণ্ঠ : আচ্ছা তামিম, এবারের ঈদ তুমি কিভাবে কাটাবে? ঈদের দিনের কোন্ কাজটি তোমার সবচেয়ে প্রিয়?
তামিম : আশা করি এবারের ঈদ ভালোই হবে। ঈদের দিনের সবচেয়ে মজার কাজটি হয় ঈদের নামাজে যাওয়া, বাসায় এসে কিছু খাওয়া, আর এরপর ঘুরতে বের হওয়া।
কিশোরকণ্ঠ : তোমার আশপাশের গরিব-দুঃখী বন্ধুদের জন্য এবারের ঈদে তুমি কী আয়োজন করেছো?
তামিম : আশেপাশে কোনো গরিব বন্ধু না থাকলেও, গরিব আত্মীয়-স্বজন আছে। আর আমরা যৌথ পরিবারে থাকি। ঈদের দিন আমার নানাই এসব কিছু করেন। যেমনÑ কাপড় দেয়া অথবা দাওয়াত করে খাওয়ানো। আর আমাদের ভাইবোনদের বাধ্যতামূলকভাবে তার পাশে থাকতে হয়।
কিশোরকণ্ঠ : দূরবীনে অভিনয় করে তুমি শিশু-কিশোরদের মন কেড়েছো। আচ্ছা, তোমার এই সাফল্যের পেছনে কার অবদান সবচেয়ে বেশি?
তামিম : এই সাফল্যের পেছনে বাবা-মার উৎসাহ আর অনুপ্রেরণাতো আছেই, সবচেয়ে বেশি অবদান ছিল জাফর ফিরোজ ভাইয়ার। তার কাছেই আমার অভিনয়ের হাতেখড়ি। এরপর অনুপম সাংস্কৃতিক সংসদের কথা না বললেই নয়। অনুপমে ভর্তির পরই আমি এ কাজ করার সুযোগ পাই। অনুপমের বড় ভাইদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। শ্যুটিং-এর সময় বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা ও সাহস যোগানো, বিভিন্ন সময় বাসায় দিয়ে যাওয়া বা বাসা থেকে নিয়ে যাওয়া, শ্যুটিং শেষে বাসায় ফিরতে না পারলে তাদের সাথে থাকা, খাওয়াÑ সবমিলিয়ে আমার প্রতি তাদের সবারই একটি ¯েœহসুলভ অকৃত্রিম ভালোবাসা ছিল, যা কখনও ভোলার নয়। আমি তাদের কাছে ঋণী। মূলত তাদের জন্যই আজকে আমার এই সফলতা।
কিশোরকণ্ঠ : দেশের প্রথম ডিজিটাল শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘দূরবীন’-এ অভিনয়ের সময় মজার কোনো ঘটনা বলবে যা শুনলে কিশোরকণ্ঠের পাঠকরা বেশ মজা পাবে?
তামিম : দূরবীনে অভিনয়ের অনেক মজার ঘটনা আছে। সবচেয়ে মজার ছিল একটি নতুন জগতের সাথে পরিচিত ও স¤পৃক্ত হওয়া। তাছাড়াও প্রথমে একটি ভয় ছিল যে কখন না জানি কী হয়ে যায়! সবচেয়ে ভয়ের ছিল রেললাইনের শটের সময়। রেললাইনে আমি যখন দৌড় শুরু করি তখন অনেক দূর থেকে রেলের হুইসেল শোনা যাচ্ছিলো। ক্যামেরাম্যান ও পরিচালক তখন আমার অনেক সামনে ছিলেন। হুইসেল শোনার পরে তারা আমাকে দৌড় শুরু করতে বললেন। আমি দৌড় শুরু করি। ইতিমধ্যে ট্রেনও আমার পেছনে চলে আসে। শট নেয়া শেষ হলে পরিচালক আমাকে হাতের ইশারায় বের হয়ে আসতে বললে আমি দূর থেকে বুঝতে পারি আমাকে আরও দৌড়াতে বলা হচ্ছে। শেষে পরিচালক ভাইয়া দৌড়ে এসে আমার হাত ধরে টান দিয়ে আমাকে রেললাইন থেকে বাইরে নিয়ে আসেন। সেদিন অনেক কিছুই ঘটতে পারতো।
কিশোরকণ্ঠ : কোন্টি বেশি ভালোবাসোÑ কবিতা, গল্প, ভ্রমণ কাহিনী নাকি সায়েন্স ফিকশন?
তামিম : সবচেয়ে ভালো লাগে উপন্যাস, তারপর সায়েন্স ফিকশন ও ভ্রমণ কাহিনী।
কিশোরকণ্ঠ : বড় হয়ে তুমি কী হতে চাও?
তামিম : এখনও জানি না কী হব। তবে ইচ্ছা আছে একজন আন্তর্জাতিক স¤পর্কবিদ হওয়ার।
কিশোরকণ্ঠ : পড়াশোনা ও অভিনয়ের বাইরে আর কী কী করতে ভালো লাগে?
তামিম : বিভিন্ন বই পড়তে, আর সুযোগ পেলে ভ্রমণে যেতে ভালো লাগে।
কিশোরকণ্ঠ : কিশোরকণ্ঠের পাঠক-বন্ধুদের জন্যে তুমি কিছু বলবে?
তামিম : পিতা-মাতা ও গুরুজনকে অবশ্যই শ্রদ্ধা করবে। আর আমরা যেন নিজ দেশের প্রতি অকৃতজ্ঞ না হয়ে যাই এবং প্রত্যেকে যেন দেশের একজন সুনাগরিক হতে পারি।

SHARE

Leave a Reply