Home জানার আছে অনেক কিছু জা না র আ ছে অ নে ...

জা না র আ ছে অ নে ক কি ছু

দিবানিদ্রা কেন হয়?
আমরা দিনের বেলা কাজ করি। রাতের বেলা ঘুমাই। বিশ্রাম নিই। কেউ কেউ আবার দিনের বেলা ঘুমাও। এই ঘুমকে বলে দিবানিদ্রা। কিন্তু কখনো কি মনে হয়েছে, আমাদের ঘুম পায় কেন? আমরা যখন জেগে থাকি তখন মস্তিষ্কের কোষগুলো অনুভূতি জাগানোর কাজে ব্যস্ত থাকে। কয়েক ঘণ্টা অবিরাম ব্যস্ত থাকার পর কোষগুলো একসময় দুর্বল হয়ে পড়ে। তখন আমরা খুব ক্লান্ত বোধ করি। সে কারণে আমাদের ঘুম পায়। ঘুমিয়ে পড়লে কোষগুলো বিশ্রাম পায়। বিশ্রাম পেলে কোষগুলো আবার তরতাজা হয়ে ওঠে। আমরা যখন ঘুমিয়ে পড়ি তখন আমাদের মগজ কিন্তু ঘুমায় না। সে তার কাজ অনবরত করে চলে। আমাদের রক্ত চলাচল, শ্বাস-প্রশ্বাসসহ সব কিছু ঠিকঠাক রাখে। সকাল, দুপুর কিংবা রাতে যে সময়ই আমরা ঘুমাই না কেন সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য ঘুমটা খুবই জরুরি।

সূর্যের আলোর রং

সূর্যের আলোর রং সাদা দেখায়। কিন্তু এ আমাদের দেখার ভুল। সূর্যের আলো আসলে সাতটি রঙের মিলন। একটি প্রিজম নিয়ে যদি সূর্যের কিরণের সামনে ধরা যায়, তাহলে দেখা যাবে বিপরীত দিকে দেয়ালে পর পর সাতটি রং পড়েছে। প্রিজমের মধ্যে ঢুকে তা থেকে বেরিয়ে আসার সময় এক রঙের আলো একেকভাবে বেঁকে যায় বলে সবগুলো আলাদা আলাদাভাবে দেখা যায়। এই সাতটি রংÑ বেগুনি, নীল, আসমানি, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল।
দুধের রং সাদা কেন?
দুধের রং সাদা হয় মূলত ক্যাসেন-এর জন্য। ভাবছো, এই ক্যাসেন আবার কী জিনিস! ক্যাসেন এক ধরনের প্রোটিন। দুধে এই প্রোটিনটি-ই সবচেয়ে বেশি পরিমাণে থাকে। এই ক্যাসেনে থাকে প্রচুর ক্যালসিয়াম। আর ক্যালসিয়াম আমাদের দরকার কী জন্যে, জানো তো? এই ক্যালসিয়াম-ই যে আমাদের হাড়গুলোকে শক্তপোক্ত করে তোলে। এই ক্যাসেন তোমাদের আরো কিছু প্রিয় খাবারের মূল উপাদান। কেন, চিজ আর ছানা খেতে তোমরা পছন্দ করো না? ক্যাসেন আবার কিছু জিনিস বানাতেও খুব জরুরি। সেগুলোর নাম শুনবে? প্লাস্টিক, রং, এমনি আরো অনেক কিছু।
তবে দুধ যে শুধু ক্যাসেনের জন্যই সাদা দেখায়, তা নয়। দুধকে সাদা দেখাতে আরো অবদান রাখে দুধের ক্রিম। খেয়াল করলে দেখবে, যে দুধে ক্রিমের পরিমাণ বেশি, সেই দুধকে বেশি সাদা দেখায়। দুধের ক্রিমে সাদা রংয়ের ফ্যাট থাকে তো, তাই ক্রিম দুধকে আরো সাদা দেখাতে সাহায্য করে।

বিমানের রঙ কেন সাদা হয়?
বিমান-রকেট-হেলিকপ্টারসহ প্রায় সকল আকাশযান যখন আকাশে থাকে তখন সূর্যের আলো এদের উপর পড়ে। তার ফলে এগুলো গরম হয়ে যাওয়ার কথা। আমরা সূর্যের আলোর নিচে ৫ মিনিট থাকতে পারব না এবং লোহা বা এ জাতীয় কিছু সূর্যের নিচে কিছুক্ষণ রেখে দিলে তা এত গরম হয়ে যায় যে হাত দিয়ে ধরা যায় না। তাহলে তো বিমান বা আকাশযানগুলো এতো গরম হতো যে এর ভিতরে থাকা যেত না। কারণ বিমানের বডি অ্যালুমিনিয়াম দ্বারা তৈরি। লোহা থেকে অ্যালুমিনিয়াম আরও তাড়াতাড়ি গরম হয়। তাহলে বিমানে করে দিনের বেলায় কীভাবে ভ্রমণ করে? আমরা সবাই জানি যে, অন্যান্য রঙের তুলনায় সাদা রঙ তাপ কম শোষণ করে এবং আলো বেশি প্রতিফলন করতে পারে। ফলে যখন সাদা রঙের বিমানের উপর সূর্যের আলো পড়ে তখন তার অধিকাংশই প্রতিফলিত হয়ে যায়। তাই বিমান, রকেট, হেলিকপ্টার-সহ প্রায় সকল আকাশযানের রঙ সাধারণত সাদা হয়। আর বিমানের বডির ভিতরের দিকে তাপ অপরিবাহী পদার্থ থাকে তাই যেটুকু তাপ শোষণ করে তা বিমানের ভিতরে প্রবেশ করতে পারে না। তাই বিমানের যাত্রীরা আরামেই ভ্রমণ করে।

তৃষ্ণা ছাড়াও পানি জরুরি
আমরা সবাই জানি, আমাদের শরীরের মোট ওজনের ৭৫ শতাংশই পানি। শরীরের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গে পানির উপস্থিতি রয়েছে। বিশেষ করে ফুসফুস এবং মস্তিষ্কের মতো শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোয় পানির উপস্থিতি অনেক বেশি। সাধারণত আমরা মনে করি, তখনই আমাদের তৃষ্ণা পায় যখন শরীরে পানির প্রয়োজন হয়। কিন্তু এ ধারণা কি আসলেই সত্যি? আমাদের মধ্যে অনেকেই দীর্ঘক্ষণ তাপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে কাজ করি, সে সময় আমাদের খুব বেশি তৃষ্ণা পায় না, তার মানে কি আমাদের শরীরে তখন পানির প্রয়োজন নেই?
বিজ্ঞানীরা বলছেন, তখনো শরীরে পানির প্রয়েজন হয়। তৃষ্ণা না পেলেও শরীরে পানির প্রয়োজন আছে। আর এটি পূরণ না হলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের অসুবিধা দেখা দিতে পারে। গবেষকদের মতে, আমাদের শরীরের ভেতরে পানির প্রবাহ বাড়তি থাকলে কোষগুলো উদ্দীপ্ত হয় এবং শক্তি আহরণ করে। এ ছাড়া ত্বকের এবং স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে পানির উপস্থিতি প্রয়োজন।
প্রতিদিন চার লিটার পানি শরীর থেকে নির্গত হয়। এ ঘাটতি পূরণ করার জন্য একই পরিমাণ পানি পান করা দরকার। তা তোমার তৃষ্ণা থাকুক আর না থাকুক।

মাছ ঘুমায় না কেন
আমরা অনেক প্রাণী দেখেছি, কিন্তু মজার ব্যাপার কি কেউ কখনো খেয়াল করে দেখেছি যে, মাছেরা ঘুমায় কি না। না, তাদের কখনো ঘুমাতে দেখা যায়নি। সব প্রাণীরই মস্তিষ্ক একধরনের বৈদ্যুতিক সিগনাল প্রেরণ করে যা বিজ্ঞানীরা বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে পরিমাপ করতে পারেন। বিভিন্ন স্তন্যপায়ী প্রাণী ও পাখির ক্ষেত্রে ঘুমানোর সময় এ সিগনাল পরিবর্তিত হয়। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে মাছ এবং ব্যাঙের ক্ষেত্রে এদেরকে ঘুমন্ত মনে হলেও এদের মস্তিষ্কের সিগনালের কোনো পরিবর্তন দেখা যায় না। মাছ এবং ব্যাঙ ঘুমায় না, কিন্তু আশপাশে কী ঘটছে সে দিকে মনোযোগ না দিয়ে কিছুক্ষণ স্থির হয়ে থেকে এরা ঘুমের কাজ চালিয়ে নেয়। এ ব্যাপারে মতপার্থক্য রয়েছে। কোনো কোনো বিজ্ঞানীর মতে এদের ঘুমানো প্রক্রিয়া আলাদা। অপর দিকে কোনো কোনো বিজ্ঞানীর মতে এ প্রাণীগুলো একেবারেই ঘুমায় না। আবার অনেক প্রাণী আছে যারা উদ্যান ও খোলা জায়গায় বসবাস করে এবং তাদের শত্রুরও অভাব নেই। এ প্রজাতির প্রাণীদের লুকানোর মতো কোনো নিরাপদ জায়গা নেই। ফলে এরা সর্বদাই সজাগ থাকে এবং  যেকোনো ধরনের আক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে প্রস্তুত থাকে। এ কারণেই এ ধরনের পশুরা দিনে মাত্র কয়েক ঘণ্টা ঘুমানোর সুযোগ পায় তাও আবার পায়ের উপর দাঁড়িয়ে। এরমধ্যে জিরাফ এবং ঘোড়া অন্যতম।

ডিম্ব সমাচার
পৃথিবীতে বাস করে নানা বিচিত্র প্রাণী। এগুলোর একেকটির আকার-আকৃতি, খাবার-দাবার, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য একেক রকম। প্রকৃতিতে টিকেও থাকে একেকটি একেকভাবে। প্রজনন কিংবা ডিম দেয়াও সবগুলোর এক রকম নয়। আমাদের পরিচিত কোকিলের কথা ধরো। পাখিটি ডিম পাড়ে কাকের বাসায়। কাক নিজের ডিম ভেবে তা দিয়ে বাচ্চা ফুটিয়ে বের করে। কিছু কিছু পোকামাকড়ের মধ্যেও রয়েছে এমন স্বভাব। স্টেলিস, মেলেক্টাসহ আরও কিছু মৌমাছি আছে, যেগুলো অন্য মাছির বাসায় ডিম পাড়ে। দক্ষিণ ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে সিটারিস নামে এক ধরনের পোকা দেখা যায়, যেগুলো মৌমাছির চাকের সামনে ডিম পেড়ে রাখে। এ ডিম থেকে নির্গত সিটারিসের শূককীট মৌমাছি যখন চাকে ঢোকে, তখন তাদের গায়ে আটকে যায়। মৌমাছির সঙ্গেই শূককীটগুলো ঢুকে পড়ে মৌচাকে। শূককীটগুলো শুধু মৌচাকের মধুই খায় না, আশ্রয়দাতা প্রাণীগুলোর ডিমও খেয়ে ফেলে। সমুদ্রে বাস করে রোডিয়াস নামে এক অদ্ভুত মাছ। মাছটি ডিম পেড়ে কায়দা করে ঝিনুকের খোলে ঢেলে দিয়েই খালাস! ডিম ফুটে পোনা বের হয় ঝিনুকের খোল থেকেই।
একই ডিম থেকে অসংখ্য বাচ্চা বের হওয়া প্রাণীও রয়েছে পৃথিবীতে। হেলিক্টোজেনস, এজেনিয়াসপিসসহ আরও কিছু পোকা আছে, যেগুলোর একটি ডিম থেকে বের হয় অসংখ্য বাচ্চা। কোনো কোনো চ্যাপ্টা কৃমির ডিম থেকেও একই ঘটনা ঘটে।
বেশিরভাগ পাখির ডিম প্রায় একই ধরনের অর্থাৎ হাঁস-মুরগির ডিমের মতোই একদিকে চওড়া এবং আরেক দিকে সরু। তবে পেঁচা আর দক্ষিণ আমেরিকার টেকিন পাখির ডিম গোলাকার। আবার সামুদ্রিক পাখি আউক ও গিলিমটের ডিম দেখতে লাগে অনেকটা নাশপাতির মতো। ডিম পাড়ার রেকর্ডও একেক প্রাণীর একেক রকম। যেমন কাক। প্রাণীটি ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চার থেকে পাঁচটি ডিম পাড়ে। মেরুদণ্ডী প্রাণীর মধ্যে স্যামন মাছ এক সময়ে ডিম পাড়ে দুই কোটি আশি লাখ। মেরুদণ্ডহীন প্রাণীর মধ্যে ওয়েস্টার নামের ঝিনুকটি একবারে ডিম দেয় এগারো কোটি চল্লিশ লাখ। মানবদেহে বসবাসকারী অ্যাসকারিস নামক গোলকৃমিও একদিনে ডিম পাড়ে সাত লাখ। তবে পরিণত অ্যাসকারিস নিজ দেহে সাতাশ কোটি ডিম ধারণ করতে পারে। পরিচিত প্রাণীর মধ্যে কুমির গড়ে ডিম পাড়ে দশ থেকে পনেরোটি, সাপ কুড়ি থেকে পঁচিশটি, শামুক পঞ্চাশ থেকে আশিটি, কচ্ছপ পঞ্চাশ থেকে একশটি, উইপোকা আশি হাজারটি আর বাইন মাছ ডিম পাড়ে এক কোটির মতো!

SHARE

Leave a Reply