Home গল্প কোকিলের সাতকাহন

কোকিলের সাতকাহন

নয়ন রহমান

একটা পাখি থেমে থেমে ডেকে যাচ্ছে কুহু কুহু। ডাক শুনে মজা পাচ্ছে আসিফ। ও জানে এটা কোকিলের ডাক। শীত চলে গেছে। এখন বসন্তের ফুরফুরে হাওয়া চারদিকে। এই হাওয়া গায়ে মেখেই প্রকৃতির আঙিনায় এসে হাজির হয়েছে কোকিল। সময় সুযোগ বুঝে কোকিল এসে হাজির হয়। সময় ফুরিয়ে গেলে বিদায় নেয়। আসিফের স্যার একদিন হাসতে হাসতে বলেছেন, ‘বসন্তের কোকিল’-এর মানে জানো তো? সুসময়ের বন্ধু। মানুষের সমাজেও এর ঢের উদাহরণ আছে। এসব মানুষকে বলা হয় বসন্তের কোকিল। তারপর ঝপ করে প্রশ্ন রাখলেনÑ কোকিল নিয়ে কে কতটুকু জানো, বল তো! ক্লাসে পিনপতন নীরবতা। মিটি মিটি হেসে বললেন, ঠিক আছে, কোকিল নিয়ে একটা রচনা লিখে এনো তো? এক সপ্তাহ সময় দিলাম। এখন ক্লাস টেনে উঠেছ। ক্লাস থ্রিতে গরু নিয়ে রচনা লিখেছ। ক্লাস টেনে উঠে গরু নিয়ে একই রকম রচনা লিখলে চলে না। কোকিল নিয়ে রীতিমত পড়াশোনা করে রচনা লিখে আনবে। যার রচনা উত্তম হবে তাকে পুরস্কার দেব।
পুরস্কারের কথা শুনে ছেলেরা নড়ে চড়ে বসে। একজন জিজ্ঞেস করে, স্যার কী পুরস্কার?
উহু, আগে গুমর ফাঁক করব না।
অন্য একজন বলে, স্যার, বই পুরস্কার দেবেন তো?
হ্যাঁ, বই খুব ভালো পুরস্কার। তবে আমি বই পুরস্কার দেব না। আমি তোমাদের বলধা গার্ডেনে বেড়াতে নিয়ে যাব।
সবাইকে স্যার!
হ্যাঁ, সবাইকে। একজন বা দু’ তিনজনের কৃতিত্বে তোমাদের সবাইকে আমি বেড়াতে নিয়ে যাব।
স্যার, যদি লেখা ভালো না হয়?
হতাশার কথা বলবে না, আর ‘না’ শব্দটা খুব খারাপ। ভাল হবে, মোটামুটি ভালো হবেÑ এই চিন্তাটা মাথায় রাখবে।
ছুটির ঘণ্টার পর আসিফ বন্ধুদের সাথে সামান্য আলাপ আলোচনা করে। কিন্তু কেউই কোকিল সম্পর্কে খুব একটা কিছু বলতে পারে না। বাসায় ফিরে আসিফ ওর মাকে কথাটা বলে। মা ওর ভালো বন্ধু। মা বলেন, বাবা আমি কোকিল সম্পর্কে যা জানি তা খুবই সামান্য। তুমি এক কাজ করো, পাবলিক লাইব্রেরিতে চলে যাও, ওখানে পাখির ওপর অনেক বই আছে। খুঁজে দেখো, আর আমার জানা কথাও তোমাকে বলব। সব মিলিয়ে তোমার লেখা দাঁড় করিও। দেখো, কেমন হয়।
আসিফ উল্লাসে এক পাক ঘুরে বলে, মা তুমি আমার মোহিত স্যারের কথা ভুলে গেলে কেন? উনি তো সপ্তাহে দু’দিন পড়াতে আসেন। ওনাকে একটা ফোন করে দিই?
সে তুমি ফোন করতেই পারো। বুয়েটের ছাত্র। পাখি নিয়ে তার পড়াশোনা কতটুকু বলো? তুমি বরং পাবলিক লাইব্রেরিতেই চলে যাও।
মা, মোহিত স্যার গ্রামের ছেলে। কোকিল নিয়ে আমাদের চেয়ে তার ধারণা বেশি, লাইব্রেরি তো হাতে রইলোই। আসিফ ক্লাসের ফার্স্ট বয়। ওর রচনাটা তো ভালো হতেই হবে। এটা একটা প্রেসটিজের ব্যাপার।
মোহিত স্যারও তার পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত। তিনি সরাসরি জানালেন, আমি সময়মতো আসব আসিফ। তুমি চিন্তা করো না। একটা সপ্তাহ তো হাতে আছে?
আসিফের তবু বুকের ভেতর উত্তেজনা। স্যার কখন আসবেন এ নিয়ে অস্থিরতা।
মোহিত স্যার হাসি হাসি মুখে ঘরে ঢুকেই প্রথম যে প্রশ্নটা ছুড়ে দিলেন, তা শুনে তো আসিফ থ। মনে করে দেখো, কোকিলকণ্ঠী কাকে বলা হয়? সারাদিন তো টিভিতে মুখ দিয়ে বসে থাকোÑ এ প্রশ্নটার উত্তর দিতে পারলে না?
আসিফ মুখ নিচু করে বসে থাকে।
মোহিত বলেন, কোকিলের কণ্ঠস্বর খুব মিষ্টি, খুব সুরেলাÑ তা জানো তো? কাকের কণ্ঠস্বর কর্কশ, তাই না? তাহলে আমরা বলতে পারি, যার কণ্ঠস্বর মিষ্টি ও সুরেলা কোকিলের মত তাকে আমরা বলি কোকিলকণ্ঠী। এই উপমহাদেশে কাকে কোকিলকণ্ঠী বলে জানো না? বিখ্যাত গায়িকা নূরজাহানকে কোকিলকণ্ঠী বলা হয় বুঝলে? তোমাকে-আমাকে বলা হয় না।
স্যার, বাংলাদেশেও তো…
হ্যাঁ, বাংলাদেশেও দু’জন বিখ্যাত গানের শিল্পী আছেন। তাদের কণ্ঠস্বরও অর্থাৎ গানের কণ্ঠ সুন্দর কিন্তু তাদের আজ পর্যন্ত কোকিলকণ্ঠী উপাধি দেয়া হয়নি। যাকগে, তুমি কোকিল নিয়ে কতটুকু ভেবেছ আগে তা শুনি। তারপর আমি তোমাকে শোনাব।
স্যার, আমি তো কোনদিন কোকিল দেখিইনি।
হ্যাঁ এটাই হলো মোক্ষম কথা। প্রথমত, তুমি থাকো খোদ ঢাকা শহরে। আর ঢাকা শহর এখন তো বলতে গেলে বৃক্ষবিবর্জিত। যেখানে ছায়াঘেরা গাছপালা নেই, সেখানে তুমি কোকিল দেখবে কি করে? আর কোকিল হল নিঃসঙ্গচারী। গাছের ডালে, পাতার আড়ালে থাকে। বসন্তের ফুলে ফুলে প্রকৃতি সেজে উঠলেই কোকিল এসে হাজির হয়। ডেকে ওঠে কুহু কুহু। গ্রামে বসন্তকালে গেলে এই ডাক তুমি অনবরত শুনতে পাবে। তবে এও বলি, ঢাকা শহরের কোথাও কোথাও কিছু গাছপালা আছে। তাই কোকিলের ডাক শুনতে পাচ্ছ। তোমাদের এই মিরপুর এলাকা যেমন, এখানে বহুতল ভবনের মাঝে মাঝে এখনো গাছপালা আছে। তাই কোকিল গাছে গাছে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
স্যার, কাকের বাসাও কিন্তু আমাদের বন্ধুরা দেখতে পায়Ñ আমিও দেখেছি।
খুব সহজ কথা আসিফ। কাক বাসা বাঁধে। কাকের বাসার কোন ছাদ-ছিরি নেই। তবুও তো বাসা, কোকিল তো বাসাই বাঁধে না।
বাসা বাঁধে না?
কোকিল খুব অলস প্রকৃতির। বাসা বাঁধার ঝক্কি পোহাতে চায় না।
ওমা, তাহলে কোকিল ডিম পাড়ে কোথায়? বাচ্চা ফোটে কী করে?
বুদ্ধিমানের মত প্রশ্ন করেছ। কোকিল কাকের বাসা খুঁজে খুঁজে বের করে সেখানে ডিম পাড়ে।
ওমা, তাই?
হ্যাঁ, তাই।
কাক ওর বাসায় ডিম পাড়তে দেয়?
মোটেই না, কাকের নজর এড়িয়ে কোকিল গিয়ে ডিম পেড়ে আসে। আমি আগেই বলেছি, কোকিল কাকের চেয়ে বুদ্ধিমান। মা কোকিল ডিম পাড়ার সময় হলেই বাবা কোকিলকে বলে, এবার তোমার কাজ শুরু করো।
কাজ? কী কাজ স্যার?
কাজ হল কোকিল কাকের বাসার সামনে গাছের ডালে বসে কুহু কুহু করে ডাকতে থাকে। কাক এ ডাক শুনলে ক্ষেপে যায়। বাসা থেকে বেরিয়ে এসে কোকিলকে তাড়া করে। কোকিল এ ডালে ও ডালে নেচে নেচে বেড়ায় আর কুহু কুহু ডেকে বলে, ধরতে পারবি না তো! কাকেরও জেদ চেপে যায়। কোকিলকে তাড়া করতে থাকে, কোকিল কাককে বিভ্রান্ত করে অনেক দূরে উড়ে যায়। কাক ওকে তাড়া করতেই থাকে। এদিকে মা কোকিল কাকের দু-একটা ডিম ফেলে দিয়ে ডিম পাড়া শেষ হলে ওদের ভাষায় একটা সঙ্কেত পাঠায়। তার মানে হল, আমার কাজ শেষ, তোমার কুহু ডাক বন্ধ করো। মা কাক তখন বাসায় ফিরে ডিমের ওপর বসে তা দেয়। বোকা কাক বুঝতে পারে না এখানে কোকিলের ডিম আছে।
কোকিল আর কাকের বাসার ধারে কাছেও আসে না। কাকের বাচ্চা ফুটবার ১২-১৩ দিন এমনকি ১৮-১৯ দিন আগে কোকিলের বাচ্চা ফোটে। নরম তুলতুলে পালকবিহীন বাচ্চাকে নিজের বাচ্চা মনে করে কাক আদর যতœ করে, খাবার এনে খাওয়ায়, কোকিল জন্মের পর থেকেই স্বার্থপর, কাকের ডিম থেকে ছানা বের হলে কোকিলের ছানা গা দিয়ে ঠেলে ঠেলে নিচে ফেলে দেয়। কেন, জানো? কাকের পুরো আদর পাবার জন্য। কাকের আনা খাবার পুরোটা খাওয়ার জন্য।
আসিফ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে, পাখির জগতেও এত হিংসা, স্বার্থপরতা! তা মা কোকিল ডিমে তা দেয় না কেন? নিজের বাচ্চাকে খাবার দেয় না কেন?
উজ্জ্বল চোখে মোহিত বলেন, খুব বুদ্ধিমানের মত একটা প্রশ্ন করেছ। মা কোকিলের মাতৃত্ব বলে কিছু নেই। সন্তানের প্রতি ভালবাসা, সন্তানকে লালন পালন করা ওদের  ধৈর্যে নেই। আমরা বলি মার সাথে সন্তানের নাড়ির টান। ওদের সেটা নেই। ওরা কষ্ট করে বাসা বাঁধে নাÑ কাকের বাসায় ডিম পাড়ে। কিন্তু ডিমের ওপর বসে থেকে শরীরের উষ্ণতা দিয়ে ডিম থেকে ছানা বের করার ইচ্ছা বা ধৈর্য কোকিলের নেই। আসলে সব প্রাণীর মস্তিষ্কে একটা পদার্থ থাকেÑ তা থেকে হরমোন বের হয়। কোকিলের মস্তিষ্কে তা নেই। তাই ওদের মধ্যে অর্থাৎ মা কোকিলের মধ্যে মাতৃত্ব জাগে না। কোকিলের বাচ্চার ডানা একটু শক্তি হলেই বাসা ছেড়ে উড়াল দিয়ে সামনের ডালে বসে। সহজাত প্রবৃত্তির বশে পাতার আড়ালে আত্মগোপন করে থাকে। নিজেদের খাবার নিজেরাই খুঁজে নেয়। গাছের নরম পাতার নির্যাস দিয়ে তেষ্টা মেটায়। ছোট ছোট পোকা-মাকড় খেয়ে পেট ভরায়। কোকিলের প্রিয় খাবার হলো শুঁয়ো পোকা।
একথা শুনে শিউরে ওঠে আসিফ।
কোকিলের ডাক খুব মিষ্টি। কিন্তু মা কোকিলের নয়, বাবা অর্থাৎ পুরুষ কোকিল মিষ্টি স্বরে ডাকে। স্ত্রী কোকিল একটু ভিন্ন স্বরে ডাকে, শুনতে ভালো লাগে না। পাখির জগতে আরো একটি পাখি আছে, যে পাখি পেখম তুলে নাচে!
স্যার, ময়ূর।
হ্যাঁ আমরা বলি, ময়ূর পেখম তুলে নাচে। এ নিয়ে অনেক কবিতা ও গানও আছে। যেমন, নাচ ময়ূরী নাচরেÑ অথবা কবি বলেন, মন আমার আজ ময়ূরের মত নাচে। আসলে ময়ূরী নাচে না, নাচে ময়ূর।
সে যাক- আমরা কোকিলের কথায় ফিরে আসি। পৃথিবীর সর্বত্র প্রায় ১৩০ প্রজাতির কোকিল আছে। বাংলাদেশে আছে ২০ প্রজাতির কোকিল। এর মধ্যে ১৪টি স্থায়ী এবং ৬টি অস্থায়ী। এই ৬টি বিভিন্ন দেশ থেকে উড়ে আসে। মনে করে নাও, সময় বুঝে বেড়াতে আসে। বেড়ানো শেষ হলে চলে যায়। যেমন আমরা দেশের মধ্যে অথবা দেশের বাইরে বেড়াতে যাই।
আমি ছুটিতে মামার বাড়ি যাই। আসিফ চোখে আলো ফুটিয়ে বলে। আরো একটা কথা বলছি, কোকিলের রং কালো কুচকুচে। তবে স্ত্রী কোকিলের চেয়ে পুরুষ কোকিল দেখতে সুন্দর। মিশমিশে কালো কোকিল আছে বাংলাদেশ, ভারত এবং অস্ট্রেলিয়ায়। অন্যান্য দেশের কোকিলের রং খুব কালো নয়Ñ খানিকটা ধূসর রঙের। তবে সব কোকিলের স্বভাব প্রায় একই রকম।
স্যার চিড়িয়াখানায় কোকিল নেই।
মোহিত হেসে বলেন, আমি দেখিনি। তবে তোমার এ প্রস্তাব আমি চিড়িয়াখানার কর্তৃপক্ষকে জানাব।
মা কোকিল একেবারে হৃদয়হীন, স্যার?
না আসিফ, একেবারে হৃদয়হীন নয়। আমি শুনেছি, ওরা কাককে খুব ভয় পায়। কোকিল দেখলেই কাক তেড়ে আসে। মা কোকিল ভয়ে বাচ্চার কাছে যায় না। তবে কখনো কখনো সতর্কতার সাথে বাচ্চাকে খাবার খাইয়ে আসে। তা মা কোকিল কি বাবা কোকিল তা বলতে পারি না। ঐ যে তোমাকে বললাম, সব প্রাণীর মস্তিষ্কে প্রোল্যাকটিন বলে একটা পদার্থ থাকে। তা থেকে হরমোন ক্ষরিত হয়। আরো বড় হলে তুমি এসব জানতে পারবে। আমি কিছু কিছু মেয়ের মধ্যেও লক্ষ্য করেছি, ওদের মধ্যে মাতৃত্ব থাকে না। যেমন আমি আমার এক আত্মীয়ার কথা জানি, যে নাকি বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী, তার বিয়ে হয়েছে, সে মা হয়েছে কিন্তু ছেলেকে সে আদর করে না, কোলে নেয় না, তার পাশে শোয় না এমনকি বুকের দুধ খাওয়াতেও চায় না। বাচ্চাকে কোলে দিলে সেই মা তাড়াতাড়ি বাচ্চা রেখে অন্য জায়গায় চলে যায়। এটা সব বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীর বেলায় প্রযোজ্য কি না আমি জানি না। কারণ আমি তো এ নিয়ে গবেষণা করিনি। তুমি বড় হয়ে কী হবে?
বলতে পারি না,
কেন, তোমার কোনো ইচ্ছা নেই? স্বপ্ন নেই?
ইচ্ছা থাকলেই তো হয় না স্যার। যে বিষয়ে আমি পড়তে চাই, সেখানে পড়ার চান্স পেতে হবে তো?
ভালো করে পড়াশোনা করো, লক্ষ্য স্থির করো, তাহলেই মনের ইচ্ছা পূরণ হবে। তবে ভরসা রাখতে আল্লাহ তায়ালার ওপর।
স্যার এখন তাহলে আমার পড়া শেষ।
বাহ! আমি তো আজকে কিছু পড়ালামই না। শুধু গল্প করলাম।
স্যার গল্পের মধ্য দিয়ে আপনি আমাকে কোকিল সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা দিলেন।
এখন তোমার কাজ হবে সব গুছিয়ে লেখা, লিখে আমাকে একটু দেখিয়ে নিও। এখনো হাতে তিন দিন সময় আছে লেখা জমা দেয়ার।
স্যার, মনে হয় আমি পারব। আমার লেখা সবার চেয়ে ভালো হলে আমি বলধা গার্ডেন দেখার সুযোগ পাব।
তা হলে আরো একটা লেখার বিষয় পাবে তুমিÑ বলধা গার্ডেন। তাই না?
আসিফ মাথা নাড়ে। তারপর বই-পত্তর গুছিয়ে বলে, স্যার আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
তোমাকেও ধন্যবাদ আসিফ। তোমার খুব ধৈর্য আছে। এতক্ষণ মনোযোগ দিয়ে আমার কথা শুনলে। সব কিছু জানার জন্য ধৈর্য থাকা চাই। মোহিত বেরিয়ে গেলেন। বিদায়ী সূর্যের লাল আভা ছড়িয়ে পড়ছে তার পিঠে। আসিফ তাকিয়ে তাকিয়ে দেখলো। ভাবলো, স্যার কত কষ্ট করে পড়াশোনা করেন। হেঁটে হেঁটে অনেক দূর গিয়ে বাসে উঠবেন। নিউমার্কেট নামবেন। তার পর হেঁটে যাবেন হল পর্যন্ত।
আসিফের মা এসে তাড়া দিয়ে বলেন, তোমার স্যারের কথা অনেক শুনলাম, এখন হাত-মুখ ধুয়ে আল্লাহর নাম নিয়ে একটু পড়তে বসো।
আসিফ মার গলা জড়িয়ে ধরে আহলাদি গলায় বললো- স্যার গল্পচ্ছলে পড়িয়েছেন- আমার পড়া শেষ। এখন কোকিলকে আমি দাঁড় করাবো, পড়ে দেখব ঠিকঠাক হয়েছে কি না। আবার লিখব, ফ্রেস করব।  ব্যাস- আমার কোকিল কুহু কুহু করে ডেকে উঠবে।
মা আসিফের কপালে চুমু খেয়ে বলেন, পাগল ছেলে!

SHARE

Leave a Reply