Home তোমাদের গল্প ঈদ বন্ধু আকাশি

ঈদ বন্ধু আকাশি

মো: আনোয়ার হোসেন

দরিদ্র পরিবারের সন্তান মোবারক। দরিদ্র হওয়া সত্ত্বেও নিজের আদর্শের কাছে দরিদ্রতাকে হার মানিয়ে অন্য আট-দশটা ছেলের মতো সে-ও পড়াশোনা করে মানুষ হতে চায়। স্কুলের সময়টুকু ছাড়া সারাদিন সে বাবার সাথে ক্ষেতে খামারে কাজ করে।
প্রতিদিনের মতো সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে সন্ধ্যায় বাড়ি এসে পড়তে বসল মোবারক। কিন্তু একটা বোকা কষ্ট তার পড়ার মানসিকতাকে নষ্ট করে দেয়। তাই সে আজ একটু আগে ভাগেই ঘুমাতে যায়। বিছানায় শুয়ে পড়ার সাথে সাথে একটা অচেনা মলিন কষ্টের গ্লানি তার মনটাতে প্রবল বেগে নাড়া দিল। সে ভাবে সকাল হলেই অন্য ছেলেমেয়েরা নতুন পোশাকে ঈদ-আনন্দে নেচে উঠবে। অথচ আমার জন্য কিছুই কেনা হলো না। দরিদ্রতা বোধ হয় এর জন্য দায়ী।
সে মনে মনে বলে শার্ট-প্যান্ট কেনা হয়নি তাতে কী হয়েছে? মাদ্রাসা থেকে দেয়া পাঞ্জাবি পায়জামা তো আছে। বাবার টাকা পয়সা নেই। তাতে কিছু আসে যায় না। দরিদ্রের সহায় আল্লাহ আছেন। আমিও অন্যদের মতো ঈদ-আনন্দে নেচে উঠবো।
এসব ভাবতে ভাবতে সে ঘুমিয়ে গিয়ে তার স্বপ্নের ডানামেলা পরীর কাছে মনের কথা বলে। মোবারক পরীর পরিচয় জানতে চায়। পরী বলে আমার কোনো বাড়ি নেই। আমি আকাশে উড়ে বেড়াই।
মোবারক বলে তাহলে আমি তোমাকে আকাশি বলে ডাকবো। পরী বেশ খুশি হয়। আকাশি বলে, ঈদে বুঝি তোমার জন্য কিছু কেনা হয়নি তাই না মোবারক?
মোবারক বলে আকাশি তুমি জানলে কেমন করে?
আকাশি বলে, আমি বাতাসী হয়ে তোমার মনোভাব বুঝতে পারি। দুঃখ করো না। কালকেই তুমি প্যান্ট-শার্ট পেয়ে যাবে।
মোবারকের মুখে হাসি ফোটে।
আকাশি বলে ওঠেÑ
প্যান্ট দেবো শার্ট দেবো
দেবো সোনার ঘড়ি
চান্দের দেশে উড়বো দু’জন
বাঁধবো সেথায় বাড়ি।

হঠাৎ মায়ের ডাকে ঘুম ভাঙলো মোবারকের। সে অবাক হয়ে যায়। কোথায় গেল আকাশি? কোথায় তার প্যান্ট-শার্ট? এখন সে বুঝতে পারলো এটা তার স্বপ্ন। সে ব্রাশ করতে করতে পুকুরঘাটে যায়। হঠাৎ মায়ের ডাক। মোবারক দেখে যা কে এসেছে।
মোবারক তাড়াতাড়ি চলে এলো। দেখলো তার বন্ধু একটি শপিং ব্যাগ হাতে ঘরে বসে আছে। ঘরে ঢুকতেই সৈকত ওর দিকে ঈদ মোবারক ছুড়ে দিল এবং তার হাতে ব্যাগটি দিল। মোবারক খুলে দেখেলো তাতে প্যান্ট-শার্ট রয়েছে। এগুলো তার খুব পছন্দ হয়েছে। সে অবাক হলো গ্রামের সবচেয়ে বিত্তশালীর আলালের ঘরের দুলাল আজ এই দরিদ্রের ঘরে?
সে গোসল করে এসে শার্ট প্যান্ট পরলো। ওকে বেশ স্মার্ট দেখাচ্ছে। সে মনে মনে ভাবলো, এই প্রথম আমি শার্ট-প্যান্ট পরেছি। আর তা সম্ভব হয়েছে বন্ধু সৈকতের কারণে। সৈকত যেন আমার কাছে আজ স্বপ্নে আকাশি হয়ে এলো।
দু’জনে একসাথে বসে সেমাই খেল। এবার রওনা দিল ঈদগাহের দিকে। নামাজ শেষে একজন আরেক জনকে জড়িয়ে ধরে কোলাকুলি করলো। প্রমাণ করে দিল ঈদের শিক্ষা।
ঈদের এই মহা মূল্যবান শিক্ষাটি হলো রাজা-প্রজা, আমির-ফকির, ধনী-দরিদ্রের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই। সকলে এক আল্লাহর তৈরি রক্ত মাংসের গড়া মানুষ। এবং সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব বা আশরাফুল মাখলুকাত।

SHARE

Leave a Reply