Home কুরআন ও হাদিসের আলো ঈদ হলো আনন্দের দিন

ঈদ হলো আনন্দের দিন

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
“হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কুরবানি বা রোজার এক ঈদের দিন আবু বকর (রা) আমার নিকট আমার গৃহে আসলেন। ঐ সময় আমার নিকট দুইজন মদিনাবাসী বালিকা সেই সব পদ্য গাইছিল যেসব পদ্য মদিনাবাসীরা তাদের ইসলামপূর্ব ঐতিহাসিক বুয়াস যুদ্ধে উভয় পক্ষ নিজ নিজ গর্ব-রচনায় গেঁথেছিল। আয়েশা (রা) বলেন, বালিকাদ্বয় কোনো গায়িকা ছিল না। বালিকাদ্বয় দফ বাজাচ্ছিল এবং লাফালাফিও করছিল। নবী (সা) তখন বিছানায় অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে ছিলেন। আবু বকর (রা) আমাকে এবং বালিকাদ্বয়কে ধমকালেন এবং বললেন, রাসূলের (সা) গৃহে শয়তানের বাঁশি? তখন রাসূল (সা) চাদর হতে মুখ বের করে আবু বকরের দিকে তাকিয়ে বললেন, তাদেরকে ছাড়ো, তাদেরকে ছাড়ো। প্রত্যেক জাতিরই খুশির দিন আছে। আজকের দিন আমাদের খুশির দিন। (সহীহ বুখারী)

সুপ্রিয় বন্ধুরা, ঈদ অর্থ আনন্দ, ঈদ অর্থ খুশি। অপর একটি হাদিসের ঘটনা থেকেও ঈদের দিনে রাসূলের (সা) আনন্দ-উল্লাস করার অনুমোদন সম্পর্কে জানা যায়Ñ রাসূল (সা) মদিনায় আসার পর মদিনাবাসীদেরকে উৎসব পালন করতে দেখে জিজ্ঞেস করলেন, আজকে কিসের দিন? তারা জবাবে বললেন, আনন্দ-উৎসবের দিন। রাসূল (সা) বললেন, আল্লাহ আমাদের জন্য এর থেকে উত্তম দুইটি আনন্দের দিন নির্ধারণ করেছেন। এই দুই দিন হলো ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিন।
বন্ধুরা, ঈদ হচ্ছে বিশ্ব মুসলিমদের জন্য মহা আনন্দ ও উৎসবের দিন। এ দিনে হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে পরস্পর প্রেম-প্রীতি, ভালোবাসা ও কল্যাণের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে আমরা ঈদ উদ্যাপন করবো। তবে মনে রাখতে হবে যে, বর্তমানে ঈদকে কেন্দ্র করে যেসব অনৈসলামিক কাজ হয় যেমনÑ মশাল জ্বালানো, পটকাবাজি করা, অনৈসলামিক পন্থায় ঢাক-ঢোল পিটিয়ে গান-বাজনা করা এসব থেকে আমাদের বিরত থাকতে হবে। বরং ইসলামের সংস্কৃতি অনুসারে বৈধভাবে সকল নির্মল আনন্দ আমরা উপভোগ করবো।
আর পাশের অনাথ ও গরিব প্রতিবেশীর দিকেও সাহায্য-সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেব। তাহলে ঈদের আনন্দ সত্যিকারার্থে আনন্দময় হয়ে উঠবে।

গ্রন্থনা : মোহাম্মদ ইয়াসীন আলী

SHARE

1 COMMENT

  1. বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
    “হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কুরবানি বা রোজার এক ঈদের দিন আবু বকর (রা) আমার নিকট আমার গৃহে আসলেন। ঐ সময় আমার নিকট দুইজন মদিনাবাসী বালিকা সেই সব পদ্য গাইছিল যেসব পদ্য মদিনাবাসীরা তাদের ইসলামপূর্ব ঐতিহাসিক বুয়াস যুদ্ধে উভয় পক্ষ নিজ নিজ গর্ব-রচনায় গেঁথেছিল। আয়েশা (রা) বলেন, বালিকাদ্বয় কোনো গায়িকা ছিল না। বালিকাদ্বয় দফ বাজাচ্ছিল এবং লাফালাফিও করছিল। নবী (সা) তখন বিছানায় অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে ছিলেন। আবু বকর (রা) আমাকে এবং বালিকাদ্বয়কে ধমকালেন এবং বললেন, রাসূলের (সা) গৃহে শয়তানের বাঁশি? তখন রাসূল (সা) চাদর হতে মুখ বের করে আবু বকরের দিকে তাকিয়ে বললেন, তাদেরকে ছাড়ো, তাদেরকে ছাড়ো। প্রত্যেক জাতিরই খুশির দিন আছে। আজকের দিন আমাদের খুশির দিন। (সহীহ বুখারী)

    সুপ্রিয় বন্ধুরা, ঈদ অর্থ আনন্দ, ঈদ অর্থ খুশি। অপর একটি হাদিসের ঘটনা থেকেও ঈদের দিনে রাসূলের (সা) আনন্দ-উল্লাস করার অনুমোদন সম্পর্কে জানা যায়Ñ রাসূল (সা) মদিনায় আসার পর মদিনাবাসীদেরকে উৎসব পালন করতে দেখে জিজ্ঞেস করলেন, আজকে কিসের দিন? তারা জবাবে বললেন, আনন্দ-উৎসবের দিন। রাসূল (সা) বললেন, আল্লাহ আমাদের জন্য এর থেকে উত্তম দুইটি আনন্দের দিন নির্ধারণ করেছেন। এই দুই দিন হলো ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিন।
    বন্ধুরা, ঈদ হচ্ছে বিশ্ব মুসলিমদের জন্য মহা আনন্দ ও উৎসবের দিন। এ দিনে হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে পরস্পর প্রেম-প্রীতি, ভালোবাসা ও কল্যাণের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে আমরা ঈদ উদ্যাপন করবো। তবে মনে রাখতে হবে যে, বর্তমানে ঈদকে কেন্দ্র করে যেসব অনৈসলামিক কাজ হয় যেমনÑ মশাল জ্বালানো, পটকাবাজি করা, অনৈসলামিক পন্থায় ঢাক-ঢোল পিটিয়ে গান-বাজনা করা এসব থেকে আমাদের বিরত থাকতে হবে। বরং ইসলামের সংস্কৃতি অনুসারে বৈধভাবে সকল নির্মল আনন্দ আমরা উপভোগ করবো।
    আর পাশের অনাথ ও গরিব প্রতিবেশীর দিকেও সাহায্য-সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেব। তাহলে ঈদের আনন্দ সত্যিকারার্থে আনন্দময় হয়ে উঠবে।

Leave a Reply