Home কুরআন ও হাদিসের আলো কুরআনের আলো আল্লাহর প্রিয় হতে হলে বিনয়ী হতে হবে

আল্লাহর প্রিয় হতে হলে বিনয়ী হতে হবে

বিস্মিল্লাহির রাহমানির রাহীম
“রহমানের (আল্লাহর) বান্দা তারাই যারা পৃথিবীর বুকে নম্রভাবে চলাফেরা করে এবং মুর্খরা তাদের সাথে কথা বলতে থাকলে বলে দেয়, তোমাদের সালাম। তারা নিজেদের রবের সামনে সিজদায় অবনত হয়ে ও দাঁড়িয়ে রাত কাটিয়ে দেয়।” (সূরা ফুরকান, আয়াত ৬৩)

প্রিয় বন্ধুরা, মানুষ হচ্ছে পৃথিবীতে আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয় সৃষ্টি। মানুষ যেন আল্লাহর মর্জি মতো জীবন পরিচালনা করে পৃথিভীতে শান্তিতে বসবাস করতে পারে এবং আখিরাতে পরম সুখের জান্নাতে প্রবেশ করতে পারে সে জন্য পবিত্র কুরআনের মাধ্যমে সুন্দর পথ প্রদর্শন করেছেন তিনি। আলোচ্য আয়াতে এমনই একটি সুন্দর পন্থার কথা বলা হয়েছে। সেটি হলোÑ মানুষ পৃথিবীতে অহঙ্কারের সাথে বুক ফুলিয়ে চলাফেরা করবে না। গর্বিত, স্বৈরাচারী ও বিপর্যয়কারীর মতো  চলার মাধ্যমে নিজের শক্তি প্রকাশ করার চেষ্টা করবে না। বরং তাদের চালচলন হবে ভদ্র, মার্জিত ও সৎ স্বভাব সম্পন্ন ব্যক্তির মতো। তবে নম্রভাবে চলার মানে দুর্বল ও রোগীর মতো চলা নয়। কেননা, হযরত উমর (রা) সম্পর্কে হাদিসে বলা হয়েছেÑ তিনি এক যুবককে দুর্বলভাবে হেঁটে যেতে দেখে তাকে থামিয়ে জিজ্ঞেস করেন, তুমি কি অসুস্থ? সে বলে, না। তিনি তাকে ধমক দিয়ে বললেন, শক্ত হয়ে সবল ব্যক্তির মতো চলো।
এ থেকে জানা যায়, নম্রভাবে চলা মানে একজন ভালো মানুষের স্বাভাবিকভাবে চলা। কৃত্রিম বিনয়ের সাহায্যে যে চলার ভঙ্গি সৃষ্টি করা হয় অথবা যে চলার মধ্য দিয়ে বানোয়াট দীনতা ও দুর্বলতার প্রকাশ ঘটানো হয়, তাকে নম্রভাবে চলা বলে না।
এই আয়াতে আর একটি গুণের কথা বলা হয়েছে। সেটি হলোÑ যখন কোনো খারাপ লোক তাদের সাথে অশালীন ব্যবহার করে তখন আল্লাহর বান্দাদের ব্যবহার পদ্ধতি হচ্ছে, তারা ওই খারাপ লোকেদের অশালীন আচরণের বিপরীতে কোনো অশালীন অশোভন আচরণ না করে তাদের সালাম দিয়ে অগ্রসর হয়ে যায়।
সুতরাং বন্ধুরা এসো, আমরা অহঙ্কারী আচরণ পরিত্যাগ করি এবং মন্দ লোকদের ও মন্দ বন্ধুদের পরিত্যাগ করি। বরং সালাম দিয়ে তাদের থেকে নিজেদেরকে সরিয়ে আল্লাহর প্রিয় বান্দায় পরিণত হই।

SHARE

Leave a Reply