Home সাহসী মানুষের গল্প জোসনা ধোয়া চাঁদ

জোসনা ধোয়া চাঁদ

চমৎকার এক সময়। চারপাশ কেমন আলোকিত। ঝলমলে।
এমনই সময় ছিল সেটি।
দিন যায়। মাস যায়। বছরও কেটে যায়। এমনি করে কেটে যায় কতটি কাল! রয়ে যায় কেবল স্মৃতির চিহ্ন। যে স্মৃতি মোছে না কখনও। হারায় না কখনও। বরং জ্বলতে থাকে সূর্যের কিরণের মতো।
হযরত আনাসও (রা) তেমনি এক ব্যক্তি। শুধু ব্যক্তি নন, ব্যক্তিরও অধিকÑ একজন মহান সাহাবী।
একবার এক দর্জি রাসূলকে (সা) আহারের দাওয়াত দিল। আনাসও (রা) সাথে গেলেন। যবের রুটি এবং শুকনো গোশত ও লাউয়ের তরকারি উপস্থিত করা হলো।
আনাস (রা) দেখলেন, রাসূল (সা) বেছে বেছে লাউ খাচ্ছেন। সেইদিন থেকে তিনিও লাউ খেতে শুরু করলেন। সেও বড় তৃপ্তির সাথে। ভালোবেসে।
আনাস (রা) বলেন, একবার এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহকে (সা) জিজ্ঞেস করলো : কিয়ামত কখন হবে? তিনি পাল্টা প্রশ্ন করলেন : তুমি তার জন্য কী প্রস্তুতি নিয়েছ? লোকটি বললো : কিছুই না। তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে মুহাব্বত করি। রাসূল (সা) বললেন : তুমি যাদের ভালোবাস তাদের সাথেই থাকবে। আনাস (রা) বলেন : সেদিন থেকে আবু বকর ও উমারকে বেশি বেশি ভালোবাসি এবং আশা করি এই ভালোবাসার বিনিময়ে আমি তাঁদের সাথেই থাকবো।
কালিমা তাওহিদের পর ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো নামাজ। হযরত রাসূলে কারীম (সা) যে খুশু-খুজু ও আদবের সাথে নামাজ আদায় করতেন সাহাবীরাও সেই পদ্ধতি অনুসরণের চেষ্টা করতেন। বহু সাহাবীর নামাজ তো ছিল প্রায় রাসূলে (সা) পাকের নামাজের কাছাকাছি। তবে রাসূলুল্লাহর (সা) নামাজের সাথে আনাসের নামাজের সাদৃশ্য ছিল বিশেষ বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত।
একবার তো হযরত আবু হুরাইরা (রা) আনাসকে (রা) নামাজ পড়তে দেখে বলেছিলেন, আমি ইবন উম্মে সুলাইমের নামাজ অপেক্ষা রাসূলুল্লাহর (সা) নামাজের সাথে অধিকতর সাদৃশ্যপূর্ণ আর কারও নামাজ দেখিনি।
নামাজ ছাড়াও রাসূলুল্লাহর (সা) প্রতিটি কথা ও কাজ সাহাবায়ে কিরামের সামনে ছিল।
হযরত আনাস (রা) দশ বছর ধরে রাসূলুল্লাহর (সা) সার্বক্ষণিক খাদেম ছিলেন। এই সময়কালে রাসূলুল্লাহর (সা) কোন কাজ আনাসের নিকট গোপন থাকতে পারে না। রাসূল (সা) যা কিছু বলতেন অথবা আমলের মাধ্যমে যা প্রতিষ্ঠিত করতেন তার সবই আনাস স্মৃতিতে ধরে রাখতেন এবং সেই অনুযায়ী আমল করতেন।
একবার খলিফার আমন্ত্রণে তিনি দামেশকে গেলেন। ফেরার পথে আইনুত তামার নামক স্থানে যাত্রাবিরতির ইচ্ছা করলেন। ছাত্র ও ভক্তদের কাছে সে খবর পৌঁছে গেল। তারা নির্ধারিত দিনে উক্ত স্থানে সমবেত হলো, লোকালয়ের বাইরে একটি বিস্তীর্ণ ময়দানের মধ্য দিয়ে তাঁর উট এগিয়ে আসছিল। তখন ছিল নামাজের সময়। লোকেরা দেখলো, তিনি উটের পিঠে নামাজরত; কিন্তু উটটি কিবলামুখী নয়। ছাত্ররা বিস্ময়ের সুরে প্রশ্ন করলেন : আপনি এ কেমনভাবে নামাজ আদায় করছিলেন?
হযরত আনাস (রা) বললেন : আমি যদি রাসূলুল্লাহকে (সা) এভাবে নামাজ আদায় করতে না দেখতাম, তাহলে কক্ষণও আমি এভাবে আদায় করতাম না।
একবার ইবরাহিম ইবন রাবিয়া হযরত আনাসের (রা) নিকট এলেন। হযরত আনাস (রা) একখানা কাপড়ের একপাশ পরে অন্য পাশ গায়ে জড়িয়ে নামাজে মশগুল ছিলেন। নামাজ শেষ হলে ইবরাহিম জিজ্ঞেস করলেন : আপনি এভাবে এক কাপড়ে নামাজ পড়েন?
আনাস বললেন : হ্যাঁ, আমি এভাবে রাসূলকে (সা) নামাজ পড়তে দেখেছিলাম।
উল্লেখ্য যে, হযরত রাসূলে কারীম (সা) জীবনের সর্বশেষ নামাজÑ যে নামাজ হযরত আবু বকরের (রা) পেছনে পড়েছিলেন, তা এক কাপড়েই ছিল।
হযরত রাসূলে কারীমের (সা) পবিত্র জীবনের প্রতিটি আচরণ ও পদক্ষেপ ছিল হযরত আনাসের (রা) জীবনপথের দিশারি। ফরজ ছাড়াও ওয়াজিব ও সুন্নাতসমূহেও রাসূলুল্লাহ (সা) ছিলেন তাঁর আদর্শ। তিনি ছোট-বড় সকলকে সালাম করতেন। সব সময় অজু অবস্থায় থাকতেন। তিনি বলতেন, আমাকে রাসূল (সা) বলেছেন : আনাস (রা), তুমি যখন ঘর থেকে বের হবে, তারপর যার সাথে দেখা হবে, সকলকে সালাম করবে। কারণ, তুমি জান না তোমার মৃত্যু কখন আসবে। প্রত্যেক সচ্ছল ব্যক্তির জন্য কোরবানি প্রয়োজন।
হযরত আনাস ছিলেন একজন বিত্তশালী রয়িস বা নেতা। যতগুলো পশু ইচ্ছা, কোরবানি করতে পারতেন।
কিন্তু খায়রুল কুরূনÑসর্বোত্তম যুগের লোকদের নিকট নাম-কামের চেয়ে রাসূলের (সা) অনুসরণ করা ছিল সব কিছুর ঊর্ধ্বে। সে যুগের লোকেরা খ্যাতির জন্য নয়; বরং সওয়াবের জন্যই কোরবানি করতেন। হযরত রাসূলে কারীম (সা) দু’টি পশু কোরবানি করতেন, এই জন্য হযরত আনাসও (রা) দু’টিই করতেন।
উমাইয়্যা শাসন আমলে হযরত উমার ইবন আবদুল আযীয (রা) যুবরাজ থাকাকালে একবার মদিনায় গভর্নর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। যুবরাজ যেহেতু শাহি খান্দানের সদস্য ছিলেন, এ কারণে জাতীয় জীবনের অনেক কিছুই তাঁর জানা ছিল না।
সে যুগের প্রচলন অনুযায়ী নিজেই নামাজের ইমামতি করতেন এবং মাঝে মধ্যে কিছু ভুল-ত্রুটিও হয়ে যেত। হযরত আনাস (রা) প্রায়ই তাঁর ভুল ধরিয়ে দিতেন। তিনি একবার হযরত আনাসকে (রা) বললেন, আপনি এভাবে আমার বিরোধিতা করেন কেন?
হযরত আনাস বললেন : আমি যেভাবে রাসূলুল্লাহকে (সা) নামাজ পড়তে দেখেছি আপনি যদি সেইভাবে নামাজ পড়ান তাহলে আমি সন্তুষ্ট হবো। অন্যথায় আপনার পেছনে নামায আদায় করবো না।
হযরত উমার ইবন আবদুল আযীয ছিলেন বুদ্ধিমান ও সৎ স্বভাববিশিষ্ট ব্যক্তি। হযরত আনাসের কথায় তিনি প্রভাবিত হলেন। তিনি আনাসকে উস্তাদ হিসেবে গ্রহণ করলেন।
কিছুদিন তাঁর সাহচর্য ও শিক্ষার প্রভাবে তিনি এমন সুন্দর নামাজ পড়াতে লাগলেন যে, খোদ আনাসই (রা) বলতে লাগলেন, এই ছেলের নামাজের চেয়ে আর কারও নামাজ রাসূলুল্লাহর (সা) নামাজের সাথে অধিকতর সাদৃশ্যপূর্ণ নয়।
একবার খলিফা আবদুল মালিক হযরত আনাসসহ আরও চল্লিশজন আনসারি ব্যক্তিকে দামেশকে ডেকে পাঠান। সেখান থেকে ফেরার পথে ফাজ্জুন নাকাহ নামক স্থানে পৌঁছলে আসর নামাজের সময় হয়ে যায়। যেহেতু সফর তখনও শেষ হয়নি, এই কারণে হযরত আনাস (রা) দুই রাকায়াত নামাজ পড়ান। তবে কিছু লোক আরও দুই রাকায়াত পড়ে চার রাকায়াত পুরো করেন।
এ কথা হযরত আনাস জানতে পেরে দারুণ ক্ষুব্ধ হন এবং বলেন, আল্লাহ যখন কসরের অনুমতি দিয়েছেন তখন এ সুবিধা গ্রহণ করবে না কেন? আমি রাসূলকে (সা) বলতে শুনেছি, এমন একটি সময় আসবে যখন মানুষ দীনের ব্যাপারে অহেতুক বাড়াবাড়ি করবে। আসলে তারা দীনের প্রকৃত রহস্য সম্পর্কে থাকবে গাফিল।
সত্য কথা বলা এবং সত্যকে পছন্দ করা ছিল হযরত আনাসের চরিত্রের এক উজ্জ্বল বৈশিষ্ট্য।
খিলাফতে রাশেদার প্রথম দুই খলিফার পর এমন অনেক যুবক সরকারের উচ্চপদে অধিষ্ঠিত হয় যারা ইসলামী শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত ছিল। এ জন্য তাদের অনেক কাজই কুরআন-সুন্নাহর পরিপন্থী হতো। যে সাহাবায়ে কিরাম জীবনের বিনিময়ে ইসলাম খরিদ করেছিলেন তাঁরা এটা সহ্য করতে পারতেন না। তাঁরা ভয়-ভীতির ঊর্ধ্বে ওঠে সব সময় সত্য কথাটি স্পষ্টভাবে বলে দিতেন।
হযরত আনাস (রা) রাসূলুল্লাহর (সা) ওফাতের পর দীর্ঘ দিন জীবিত ছিলেন। তাঁর দীর্ঘ জীবনে বহু স্বৈরাচারী শাসকের সাক্ষাৎ লাভ করেছেন যাদের তিনি প্রকাশ্যে জনসমাবেশে তাদের সতর্ক করে দিতেন।
ইয়াযিদের সময়ে আবদুল্লাহ ইবন যিয়াদ ছিলেন ইরাকের গভর্নর। তাঁর নির্দেশে হযরত ইমাম হুসাইনের পবিত্র মাথা সামনে আনা হলে তিনি হাতের ছড়িটি দিয়ে হযরত হুসাইনের চোখে টোকা দিয়ে তাঁর সৌন্দর্য সম্পর্কে কিছু অশালীন কটাক্ষ করেন। হযরত আনাস (রা) নিজেকে আর সম্বরণ করতে পারলেন না। ক্রোধে উত্তেজিত হয়ে বললেন : এই চেহারা রাসূলুল্লাহর (সা) চেহারার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
উমাইয়্যা রাজবংশের বিখ্যাত স্বৈরাচারী গভর্নর হাজ্জাজ ইবন ইউসুফ আস-সাকাফি নিজের ছেলেকে বসরার কাজী নিয়োগ করতে চান। হাদিস শরীফে বিচারক অথবা আমিরের পদের আকাক্সক্ষী হওয়ার নিষেধাজ্ঞা এসেছে।
হযরত আনাস হাজ্জাজের এই ইচ্ছার কথা জানতে পেরে বলেন : এমনটি করতে রাসূল (সা) নিষেধ করেছেন।
উমাইয়্যা শাসকদের আর এক আমির হাকাম ইবন আইউব। তাঁর নৃশংসতা মানুষের সীমা অতিক্রম করে জীব-জন্তু পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
একবার হযরত আনাস (রা) তাঁর বাড়িতে গিয়ে দেখেন, মুরগির পায়ে দড়ি দিয়ে বেঁধে তীরের নিশানা বানানো হচ্ছে। তীর লাগলে মুরগিটি ছটফট করছে। হযরত আনাস এ দৃশ্য দেখে খুবই মর্মাহত হলেন এবং মানুষকে তাদের এ কাজের জন্য ধিক্কার দিলেন।
একবার কিছু লোক জোহরের নামাজ আদায় করে হযরত আনাসের সাক্ষাতের জন্য আসে।
তিনি তখন চাকরের নিকট অজুর পানি চাইলেন।
লোকেরা জানতে চাইলো, এ কোন নামাজের প্রস্তুতি?
বললেন : আসর নামাজের।
এক ব্যক্তি বললো : আমরা তো এখনই জোহর পড়ে এলাম।
হযরত আনাস আমির উমরাহের দীনের প্রতি উদাসীনতা এবং জনগণের দীন সম্পর্কে অজ্ঞতা দেখে দারুণ ক্ষুব্ধ হলেন। তিনি বললেন : এ তো হবে মুনাফিকদের নামাজ।
মানুষ বেকার বসে থাকবে, তবুও নামাজের জন্য উঠবে না। যখন সূর্য অস্ত যেতে থাকবে তখন খুব তাড়াতাড়ি মোরগের মতো চারটি ঠোকর মেরে দেবে। সেই ঠোকরে আল্লাহর স্মরণ থাকবে অতি অল্পই।
প্রকৃত দীনদারের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সৎকাজের আদেশ দান করা। আর এ জন্যই কুরআন মজিদে উম্মাতে মুসলিমাকে সর্বোত্তম উম্মাত হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
হযরত আনাসের মধ্যে এই গুণটির বিশেষ বিকাশ ঘটেছিল।
একবার উবাইদুল্লাহ ইবন যিয়াদের একটি মজলিসে হাউজে কাওসার প্রসঙ্গে আলোচনা হয়। উবাইদুল্লাহ এর বাস্তবতা সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করেন। এ কথা হযরত আনাসের (রা) কানে গেল। তিনি সরাসরি উবাইদুল্লাহর দরবারে উপস্থিত হয়ে তাঁকে প্রশ্ন করেন : তোমার এখানে কি হাউজে কাওসার প্রসঙ্গে কিছু আলোচনা হয়েছিল?
বললেন : হ্যাঁ। কেন, রাসূল (সা) কি এ সম্পর্কে কিছু বলেছেন?
হযরত আনাস (রা) হাউজে কাওসার সম্পর্কে রাসূলের (সা) হাদিস তাঁকে শুনিয়ে ফিরে আসেন। হযরত মুসয়াব ইবন উমাইর (রা) একজন আনসারি ব্যক্তির ষড়যন্ত্রের রিপোর্ট পেলেন। এই অপরাধের জন্য তিনি লোকটিকে পাকড়াও করার চিন্তা করলেন।
লোকেরা হযরত আনাসকে কথাটি জানালেন। তিনি সোজা মুসয়াবের কাছে গিয়ে বললেন : রাসূলুল্লাহ (সা) আনসারদের প্রতি ভালো ব্যবহার করার জন্য আমিরদের অসিয়াত করেছেন।
এই হাদিস শোনামাত্র মুসয়াব ইবন উমাইর (রা) খাট থেকে নিচে নেমে এসে মাটিতে কপাল ঠেকিয়ে বলেন : রাসূলুল্লাহর (সা) আদেশের স্থান আমার চোখের ওপর। আমি লোকটিকে ছেড়ে দিচ্ছি।
সাবিত আন-নাবানী বলেন : একদিন আমি বসরার যাবিয়া নামক স্থানে আনাসের সঙ্গে চলছিলাম। এমন সময় আজান শোনা গেল। সাথে সাথে আনাস (রা) মন্থর গতিতে চলতে শুরু করলেন এবং এভাবে আমরা মসজিদে প্রবেশ করলাম। তারপর তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন : নামাজের জন্য আমার পদক্ষেপ যাতে বেশি হয়, সেই জন্য।
হযরত আনাস ইলম হাসিলের চেয়ে অর্জিত ইলম অনুযায়ী আমলের ওপর বেশি জোর দিতেন। তিনি বলতেন : যত ইচ্ছা জ্ঞান হাসিল কর। তবে আল্লাহর কসম, আমল না করলে সে সব জ্ঞানের প্রতিদান দেয়া হবে না।
তিনি আরো বলতেন : প্রকৃত আলেমের কাজ বোঝা ও সেই অনুযায়ী কাজ করা। আর মূর্খদের কাজ শুধু বর্ণনা করা। তিনি রাসূলুল্লাহর (সা) সুন্নাতের প্রতি অপরিসীম গুরুত্ব দিতেন।
এ সম্পর্কে তিনি রাসূলুল্লাহর (সা) হাদিস বর্ণনা করেছেন। রাসূল (সা) বলেছেন : যে আমার সুন্নাত ছেড়ে দেবে সে আমার উম্মাতের কেউ নয়। তিনি আরো বলেছেন : যে আমার সুন্নাত অনুসরণ করবে সে আমার দলভুক্ত।
হযরত আনাস (রা) রাসূলুল্লাহর (সা) ব্যবহৃত বেশ কিছু জিনিস স্মৃতি হিসেবে সংরক্ষণ করেছিলেন, যেমন : জুতো, একটি চাদর, একটি পিয়ালা, তাঁবুর কয়েকটি খুঁটি ইত্যাদি। আনাস বলতেন : আমার মা উম্মু সুলাইম মৃত্যুকালে আমার জন্য রেখে যান রাসূলুল্লাহর (সা) একটি চাদর, একটি পিয়ালা যাতে তিনি পানি পান করতেন, তাঁবুর কয়েকটি খুঁটি এবং একটি শিলা যার ওপর আমার মা রাসূলুল্লাহর (সা) ঘাম মিশিয়ে সুগন্ধি পিষতেন।
এভাবে হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) সম্পর্কে টুকরো টুকরো তথ্য হাদিস ও সিরাতগ্রন্থসমূহে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে যা খুবই চমকপ্রদ এবং মুসলিম সমাজের জন্য কল্যাণকর।
শুধু কল্যাণকরই নয়, শিক্ষণীয় বটে।
হযরত আনাস (রা) মূলত ছিলেন একজন বড়ো মাপের সাহাবী। তিনি ছিলেন রাসূলের (সা) আদর্শ ও ভালোবাসায় উজ্জীবিত। তিনি ছিলেন উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো উদ্ভাসিত।
যেন নক্ষত্র নয়, প্লাবিত জোসনা। কিংবা তার চেয়েও অধিক কিছু। যে আলো ছড়িয়ে পড়তো জমিনে। যে আলো পৌঁছে যেত সাগরের তলদেশ। যেন সাগরতলে মানিক জ্বলে!
এমনি অনুকরণীয় ছিলেন হযরত আনাস (রা)।
ঠিক যেন জোসনা ধোয়া চাঁদ।

SHARE

Leave a Reply