Home কুরআন ও হাদিসের আলো হাদীসের আলো হাদিসের আলো

হাদিসের আলো

সন্তানের ওপর পিতা-মাতার হক

বিস্মিল্লাহির রাহমানির রাহীম
“হযরত মুয়াবীয়া ইবনে হায়দাতা আল কুশাইরী (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন : আমি বললামÑ ইয়া রাসূল (সা), আমার নিকট কে অধিক ভালো ব্যবহার পাবার অধিকারী? তিনি বললেন : তোমার মা। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম : তারপর কে? রাসূল (সা) উত্তরে বললেন : তোমার মা। রাবী বলেন, আমি বললাম : এরপর কে? রাসূল উত্তরে বললেন : তোমার মা। রাবী বলেন, এরপর আমি আবার বিজ্ঞাসা করলাম, অতঃপর কে? রাসূল (সা) উত্তরে বললেন : অতঃপর তোমার পিতা এবং তারপর যে অতি নিকটবর্তী, যে তারপর অতি নিকবর্তী সে।” (তিরমিজী)
এই হাদিসে রক্ত সম্পর্কের দিক থেকে আনুপাতিকভাবে সর্বাধিক নিকটবর্তী ব্যক্তির হক ও অধিকার আদায় করার জন্য অত্যন্ত বলিষ্ঠ ভঙ্গীতে তাকীদ করা হয়েছে।
আলোচ্য হাদিসের রাবীর প্রশ্ন, লোকদের মধ্যে কোন্ লোক আমার উত্তম ও মহৎ সাহচার্য সংস্পর্শ ও সহযোগিতা পাবার অধিক অধিকার সম্পন্ন? এই প্রশ্নের জবাবে রাসূল (সা) একবার নয় পর পর তিনবার একই উত্তর দিয়েছেন তা হলোÑ তোমার মা। এই দিক থেকে আলোচ্য হাদিস অনূসারে মা-ই সর্বাধিক ও সর্বাগ্রগণ্য অধিকারের মালিক। এর কারণ হলো মা-ই সন্তান গর্ভে ধারণ, প্রসব, লালন-পালন, স্নেহ মমতা ও আদর দান ইত্যাদি ব্যাপারে সর্বাধিক কষ্ট ভোগ করে থাকেন। এর পর পরই পিতার হকের কথা বলা হয়েছে। কেননা পিতার বাস্তব সাহায্য ও সহযোগিতা ছাড়া মাতার পক্ষে সন্তান প্রসব, লালন-পালন ইত্যাদি কাজ সম্ভব হয় না। আর এজন্যই কুরআনে পিতা-মাতার সন্তানের ওপর হকের ক্ষেত্রে একটি শব্দে এবং একই সঙ্গে বলা হয়েছেÑ “তোমার রব ফরমান জারী করেছেন যে, তোমরা কেবলমাত্র তাঁরই বন্দেগী করবে, তাঁকে ছাড়া কারও দাসত্ব করবে না এবং পিতা-মাতার সাথে খুবই উত্তম ব্যবহার ও আচরণ করবে। (সূরা বনী ইসরাঈল)
হাদিসে পিতা-মাতার সাথে ভালো ব্যবহার সম্পর্কে বলা হয়েছেÑ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা) হতে বর্ণিত, তিনি নবী (সা) হতে বর্ণনা করেছেন, রাসূল (সা) বলেন : আল্লাহর সন্তুষ্টি জন্মদাতার সন্তুষ্টিতে নিহিত এবং আল্লাহর ক্রোধ ও রোষ জন্মদাতার রোষ অসন্তুষ্টিতে নিহিত। (তিরমিযী, হাকেম)
রাসূল (সা) অন্য হাদিসে বলেন, নিঃসন্দেহে আল্লাহ তায়ালা মা (সেই সঙ্গে পিতা)র সাথে সম্পর্কচ্ছেদ ও দুর্ব্যবহারের অপরাধ করাকে হারাম করে দিয়েছেন। (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)
সুতরাং আলোচ্য আলোচনা থেকে আমাদের কাছে একথা স্পষ্ট যে, পিতা-মাতার অধিকার আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের (সা) অধিকারের পরেই। শুধুমাত্র আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের (সা) নির্দেশের সাথে সাংঘর্ষিক হয় এমন বিষয় ছাড়া প্রতিটি ক্ষেত্রে পিতা-মাতার আদেশ-নিষেধ মেনে চলা সন্তানের কর্তব্য। পিতা-মাতাকে সর্বতভাবে সাহায্য-সহযোগিতা এবং তাদের সর্বোচ্চ সেবা-শুশ্রƒষা করা সন্তানের ওপর পিতা-মাতার হক। তাছাড়া তাদের সাথে এমন কোনো ব্যবহার করা উচিত হবে না যার ফলে তারা ‘উহ্’ শব্দটি উচ্চারণ করেন।
প্রিয় বন্ধুরা, এসো আমরা সকলেই পিতা-মাতার যথাযথ হক আদায় করার মাধ্যমে আমাদের জান্নাতে প্রবেশের পথকে নিশ্চিত করি।
গ্রন্থনা : মোহাম্মদ ইয়াসীন আলী

SHARE

1 COMMENT

Leave a Reply