Home খেলার চমক গোলের আলোয় আলোকিত

গোলের আলোয় আলোকিত

রাফিউল ইসলাম

ইউরোপিয়ান ফুটবলে এখন বাজছে বিদায়ের সুর। ইউরোপের শীর্ষ চারটি লিগের মধ্যে শুধু স্প্যানিশ লা লিগাই শেষ হয়নি এখনো। শিরোপার নিষ্পত্তি অবশ্য হয়ে গেছে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, বায়ার্ন মিউনিখ ও জুভেটাসের মতো ট্রফি নিয়ে উৎসবও সেরে ফেলেছে বার্সেলোনা। শিরোপার লড়াই-ই সবচেয়ে বড় আকর্ষণ, তবে শীর্ষ লিগগুলোর সর্বোচ্চ গোলদাতা নিয়েও আগ্রহটা কম থাকে না।
লা লিগায় টানা দুই মৌসুম পিচিচি ট্রফি হাতে নিচ্ছেন বার্সেলানার লিওনেল মেসি। তবে গতবারের সঙ্গে পার্থক্য হলো, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতাটা এবার ঠিক জমেনি। ৩৪ গোল নিয়ে বেশ পিছিয়েই রোনালদো। অথচ গতবার মেসির (৫০) সঙ্গে রোনালদোর ব্যবধান ছিল মাত্র চার গোলের (৪৬)। এবার ৯ ম্যাচ বাকি থাকতেই ৪৩ গোল করে ফেলেছিলেন মেসি, গতবারের রেকর্ডটা ভেঙে যাওয়াটা অবধারিত মনে হচ্ছিল তখন। কিন্তু চোটের কারণে মেসিকে থামতে হয়েছে ৪৬ গোলেই। টানা ২১ ম্যাচ গোল করে নতুন একটা রেকর্ড অবশ্য করে  ফেলেছেন তিনি।
প্রথম দুই ম্যাচ গোলবিহীন থাকার পর রোনালদো দেখা দিয়েছিলেন স্বরূপে। পরের ৭ ম্যাচে ১১ গোল, এরপরই আবার গোলখরা। পরের ৬ ম্যাচে মাত্র ২ গোল তো রোনালদোর মতো গোল-মেশিনের জন্য গোলখরাই! মেসি-রোনালদোর আলোতে একটু ঝাঁপসা হয়ে থাকলেও আরেকজন কিন্তু নিজেকে চিনিয়েই যাচ্ছেন। অ্যাটলেটিকো স্ট্রাইকার রাদামেল ফ্যালকাও ২৮ গোল করে বুঝিয়ে দিয়েছেন, তাঁকে পেতে কেন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছে বড় বড় সব ক্লাব। লা লিগায় এখনো দুই ম্যাচ করে বাকি, কিন্তু শীর্ষ তিনে রদবদলের সম্ভাবনা নেই।
স্পেনের মতো ইংল্যান্ডেও সর্বোচ্চ গোলদাতার মুকুটটা আগেরজনের কাছেই রয়ে গেছে। ২৬ গোল করে এবারও সবার ওপরে রবিন ফন পার্সি। তবে এবার বাড়তি একটা মহিমা আছে। আর্সেনাল ছেড়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দেয়ার পর নতুন ক্লাবে মানিয়ে নেয়ার ব্যাপার ছিল। সেটি যে ভালোই নিয়েছেন, তা তো বোঝাই যাচ্ছে। মাঝে টানা সাত ম্যাচ গোলখরায় না ভুগলে গোলসংখ্যাটা আরও বাড়তে পারত। তবে দ্বিতীয় লুইস সুয়ারেজ (২৩) নিজেকে কিছুটা দুর্ভাগা ভাবতেই পারেন। ইভানোভিচের কান কামড়ে নেয়ার জন্য দশ ম্যাচ নিষিদ্ধ না হলে পার্সিকে হয়তো ছাড়িয়েও যেতে পারতেন সুয়ারেজ। মজার ব্যাপার, এই দুজনকে ছাপিয়ে ইংল্যান্ড-সেরা হয়েছেন গ্যারেথ বেল। সেটি শুধু ২১ গোল করেছেন বলেই নয়, এই মৌসুমে টটেনহাম উইঙ্গার আসলেই দুর্দান্ত খেলেছেন।
লা লিগা ও প্রিমিয়ার লিগের সঙ্গে বুন্দেসলিগা ও সিরি ‘আ’র একটা মজার পার্থক্য আছে। স্পেন ও ইংল্যান্ডে সর্বোচ্চ গোলদাতারা শিরোপা জয়ের আনন্দটাও পেয়েছেন, কিন্তু অন্য দুই দেশে সেটা হয়নি। জার্মানি ও ইতালিতে শিরোপা লড়াইকে অনেক আগেই পানসে বানিয়ে জিতেছে বায়ার্ন মিউনিখ ও জুভেন্টাস। অথচ এই দুই লিগ শীর্ষ গোলদাতা দূরে থাক, প্রথম তিনজনের মধ্যেই নেই শিরোপাজয়ীদের কেউ। ব্যক্তিগত ঝলকের চেয়ে দলীয় সংহতিটাই যে বড়-পুরোনো এই আপ্তবাক্যটাকেই মনে করিয়ে দিয়েছে এই দুই ক্লাব।
বুন্দেসলিগায় সর্বোচ্চ গোলদাতার নামটা বিস্ময় জাগানোর মতো। এত সব স্ট্রাইকারের ভিড়ে এই মালাটা উঠল কিনা লেভারকুসেনের স্টেফান কিসলিংয়ের গলায়! গোল করেছেন ২৫টি। আরেক দিক থেকেই তিনি সবার ওপরে, ক্লাবের ৩৮ শতাংশ গোলই ২৯ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকারের। লড়াইটা ছিল রিয়ালকে লণ্ডভণ্ড করে দেয়া রবার্ট লেভানডফস্কির সঙ্গে। ডর্টমুন্ড স্ট্রাইকার হার মেনেছেন ন্যূনতম ব্যবধানে।
সিরি ‘আ’তে এডিনসন কাভানির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতাই হয়নি কারও। নাপোলি স্ট্রাইকারের চেয়ে ৬ গোল কম করে দ্বিতীয় স্থান উদিনেসের আন্তোনিও ডি নাতালে (২৩)। সিরি ‘আ’তে অবশ্য গত কয়েক বছর ধরেই শীর্ষ তিনে আছেন এই দুজন। জানুয়ারিতে এসেই ১৩ ম্যাচে ১২ গোল করেছেন মিলান স্ট্রাইকার মারিও বালোতেল্লি। পুরো মৌসুম খেললে কাভানিকে একটা চ্যালেঞ্জ জানাতেই পারতেন। সিরি ‘আ’তে গতবারের সর্বোচ্চ গোলদাতা এবারও ধরে রেখেছেন মুকুট। তবে সেটি সিরি ‘আ’তে নয়, জলাতান ইব্রাহিমোভিচের গোলক্ষুধার সাক্ষী এবার ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ান। ১৯ বছর পর পিএসজির শিরোপা জয়ে বড় ভূমিকা ইব্রার ২৯ গোলের।
ইউরাপের শীর্ষ চার লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা
(প্রথম তিনজন)
লা লিগা
৪৬ লিওনেল মেসি, বার্সেলানা
৩৪ ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, রিয়াল
২৮ রাদামেল ফ্যালকাও, অ্যাটলেটিকো
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
২৬ রবিন ফন পার্সি, ইউনাইটেড
২৩ লুইস সুয়ারেজ, লিভারপুল
২১ গ্যারেথ বেল, টটেনহাম
বুন্দেসলিগা
২৫ স্টেফান কিসলিং, লেভারকুসেন
২৪ রবার্ট লেভানডফস্কি, ডর্টমুন্ড
১৬ আলেকজান্ডার মেয়ার, ফ্রাঙ্কফুর্ট
সিরি ‘আ’
২৯ এডিনসন কাভানি, নাপোলি
২৩ আন্তোনিও ডি নাতালে, উদিনেসে
১৬ পাবলো অসভালদো, রোমা
১৬ স্টেফান এল শারাউয়ি, মিলান

জার্সি নকল
ইংল্যান্ড ফুটবল দলের জার্সি বদলে যাচ্ছে। ১৯৫৪ সাল থেকে আমরো ছিল থ্রি লায়নরসর স্পনসর। নতুন স্পনসর হয়েছে নাইকি। তাদের ডিজাইন করা নতুন জার্সি দেখার পর অনেকেরই চোখ কপালে। ১৯৬৬ বিশ্বকাপে পশ্চিম জার্মানির জার্সির সঙ্গে এটার অদ্ভুত মিল। সেই কালো কলারের সঙ্গে সাদা জার্সি, লোগোটাও একই জায়গায়! জার্মানরা এতে বেজায় খেপেছে। জার্মান দৈনিক বিল্ড লিখেছে, ইংল্যান্ড জার্মানিকে অনুকরণ করেছে। তবে সবচেয়ে মজার কথাটা বলেছেন গ্যারি লিনেকার। সাবেক ইংল্যান্ড স্ট্রাইকার নাইকির বিজ্ঞাপনের কথা মনে করিয়ে দিয়ে টুইট করেছেন, ‘ওদের হারাতে না পারলে…। নাইকির বিখ্যাত বিজ্ঞাপনের কথা মনে আছে তোÑ ইফ ইউ কান্ট বিট দেম, জয়েন দেম।’
দ্বিধা
২৭ বছরে ৩৮টি শিরোপা। শুধু ক্লাবকেই নয়, অ্যালেক্স ফার্গুসন অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন নিজেকেও। অথচ ঘটনা একটু অন্যরকম হলেই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোচ হওয়াই হতো না তার। ফার্গুসনের স্ত্রী ক্যাথি স্কটল্যান্ডের অ্যাবারডিন ছেড়ে আসতে রাজি ছিলেন না, রাজি ছিল না তার দুই ছেলেও। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের বর্ষসেরা কোচের পুরস্কার নিতে গিয়ে ফার্গিই বলেছেন, ‘ইউনাইটেডের প্রস্তাব পেয়ে প্রথমে আমি লাফিয়ে উঠেছিলাম। পরক্ষণেই মনে হলো “আমি কী করেছি?” কারণ আমার স্ত্রী এবং দুই ছেলে যেতে চাইছিল না। জেসন ইউনাইটেডের সমর্থক, সে অবশ্য আমার সঙ্গে যেতে চাইছিল। ববি চার্লটন বুঝিয়ে-সুঝিয়ে আমাকে রাজি করিয়েছিলন।’

SHARE

Leave a Reply