Home জানার আছে অনেক কিছু ই-মেইল এলো যেভাবে

ই-মেইল এলো যেভাবে

ই-মেইল এলো যেভাবে

পুরোপুরি হারিয়ে না গেলেও চিঠির যুগটা আজ পিছিয়ে গেছে অনেক গুণ। সেই সঙ্গে মানুষের আবেগ-অনুভূতিগুলোকেও যেন নিয়ে গেছে বহুদূর। চিঠির যুগের সূচনা প্রথম হয়েছিল ১৭৭৪ সালে। তখন শুধু নির্দিষ্ট অঞ্চলের মধ্যে সার্ভিস প্রদানের জন্য চালু হয় একটি সমুদ্র ডাক সার্ভিস। এরপর যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ১৮৩০ সালে শুরু হয় রেলওয়ে ডাক সার্ভিস। ডাক বিভাগের সর্বশেষ প্রযুক্তি বিমান ডাক সার্ভিস চালু হয় ১৯১১ সালে। তবে এ নিয়েও সন্তুষ্ট ছিল না মানুষ। প্রয়োজন অনুভব করে এর চেয়েও দ্রুত কিছুর। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৬৫ সালে চালু হয় অনলাইনে চিঠি আদান-প্রদান সার্ভিস ই-মেইল। এরপর ধীরে ধীরে বিস্তৃতি পেতে থাকে ই-মেইলের। বিশ্বের অসংখ্য মানুষ দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানে ঝুঁকে পড়ে ই-মেইল সার্ভিসের দিকে।
ই-মেইল নিয়ে আজ প্রচণ্ড মাতামাতি থাকলেও এর প্রথম দিকের কথা আমাদের অনেকেরই হয়তো অজানা। ই-মেইল হচ্ছে এমন এক ধরনের পদ্ধতি, যার মাধ্যমে কম্পিউটার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বার্তা পাঠানো হয়। যখন ই-মেইলের প্রচলন শুরু হয় তখন প্রথম ই-মেইল পাঠানো হয়েছিল দু’টি কম্পিউটারের মধ্যে। আর দু’টি কম্পিউটারের মধ্যে ই-মেইল পাঠানোর সময় আরপানেট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হয়েছিল। আরও মজার ব্যাপার হলো ই-মেইলে প্রথম যে বার্তা পাঠানো হয়েছিল তা ছিল ছডঊজঞণটওঙচ। প্রথমদিকে অনেক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এতে প্রোগ্রাম লিখেছিল বার্তা আদান-প্রদান করার জন্য। সে সময় এতে বিভিন্ন টার্মিনালের সাহায্যে তাৎক্ষণিক চ্যাটও করা যেত। ১৯৬০ সালের শুরুর দিকে টাইম শেয়ারিং কম্পিউটার কোনো নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের ওপর বেশ সক্রিয় ছিল। ফলে বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান টেক্সট মেসেজ রূপান্তরে তাদের প্রোগ্রামকে সেভাবে তৈরি করে নিত। ১৯৭২ সালে ই-মেইল স্থানান্তরের জন্য মেইল এবং এমএলএফএল সংযুক্ত করা হয় এফটিপি প্রোগ্রামের সঙ্গে। উদ্দেশ্য আধুনিক মানের নেটওয়ার্ক চালু করা। এরপর বিভিন্ন গবেষক ই-মেইলের উন্নয়নে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকেন। ১৯৮০ সালে ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির গবেষকরা ই-মেইল প্রযুক্তিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেন। তারা এরিক অলম্যানের তৈরি প্রোগ্রাম ডেলিভারি মেইলের সংস্কার ঘটিয়ে নামকরণ করেন সেইন্ড মেইল। বাণিজ্যিকভাবে ই-মেইল সার্ভিস চালু হয় ১৯৮৮ সালে। ১৯৯৩ সাল থেকে এটি ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
বিশ্বের প্রথম ই-মেইল সার্ভিসটি চিঠির মতোই মেইলবক্সে জমা হতো। ১৯৬৫ সালে যখন প্রথম ই-মেইল সার্ভিস প্রবর্তন করা হয়, তখন এতে শুধু নির্দিষ্ট বার্তাই পাঠানো যেত। আর এর যোগাযোগ সীমাবদ্ধ ছিল একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের মধ্যে। এখন বিশ্বের অসংখ্য তথ্য মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পেঁৗঁছ যাচ্ছে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। তখন শুধু বার্তা পাঠানো আর বার্তা পড়ার মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিল এ সেবাটি। বর্তমান গ্রাহকরা বার্তার পাশাপাশি ছবি, ভিডিও, ভয়েস চ্যাট এমনকি ভিডিও চ্যাটও করতে পারছেন এই ইলেকট্রনিক মেইল সার্ভিসের মাধ্যমে।
জে হুসাইন

SHARE

Leave a Reply