Home তোমাদের কবিতা আবদুল হাই শিকদারের কবিতা সকালবেলার পাখি

আবদুল হাই শিকদারের কবিতা সকালবেলার পাখি

আবদুল হাই শিকদারের কবিতা
সকালবেলার পাখি

হিংস্র দাঁতের ঘষটানিটায় ভিমড়ি যখন সবাই খায়,
সেই আঁধারে রবির কিরণ তেলের মাথায় তেল লাগায়।
রৌদ্র যখন খুব প্রয়োজন তখন শীতল জোছনা ঝরে,
ব্রিটিশ রাজের বুটের তলায় লক্ষ কোটি মানুষ মরে।

সেই আকাশে বৈশাখী ঝড় খুবড়ি ওড়ায় সব শকুনের,
ঝুপড়িওয়ালা হাঁকায় আজান ভাঙ্ দারোজা সব জালিমের।
আগুন জ্বালায় অগ্নিবীণায় হুহুংকারে ভুবন কাঁপে,
ইসরাফিলের শিঙাটাকে জন্ম দিল কোন্ সে বাপে!
ভাঙ্গার তোড়ে বিশ্ব কাঁপে তার আঘাতের প্রবল তাপে,
দৃপ্ত খরায় ভূত জেগে যায় মজলুমানের কঠিন শাপে।

কসাইখানায় শাপলা ফোটায় একলা ব্যাকুল বিদ্রোহী সে,
বিশ শতকের শ্রেষ্ঠ বাণী ‘মানুষ বড়’ সেই বলে যে।
তার চে’ বেশি স্বাধীনতার কোন্ কথাটা বলছে কেরে,
সেই তো জাতির মূল পাটাতন সেই তো জাতির চেতনারে।
মানবতার বার্তাবাহক একটি বৃক্ষে ফোটাল ফুল,
হিন্দু এবং মুসলমানের সবার প্রিয় তাই নজরুল।

সর্বহারার জন্য তিনি সাম্যবাদীর আতর ছিটান,
দোলনচাঁপা ছায়ানটের সকল বাঁকে প্রাণ অফুরান।
সেই সে প্রাণের সোনার ফসল জগৎ সেরা গানের বাণী,
ভাদ্র মাসের আর্দ্র নদী সাহারাতে বহায় পানি।

সকাল বেলার পাখি সে যে ঝিযে ফুলের ফিঙে রাজ,
এ দুর্দিনে সেই কবিকে কোথায় এখন পাব রে আজ?
কে এসে আজ বলবে ডেকে দু’চোখ মেলো হয়েছে ভোর,
মস্ত বড় হওয়ার জন্য বিরাট করে খোলোরে দোর।

এক হাতে তার বাঁশের বাঁশি অন্য হাতে জুলফিকার,
ত^র্গ মর্ত্য পাতাল জুড়ে সবখানে তো তার অধিকার।
সেই বিশালের পরশ পেতে বুক খুলে তুই দাঁড়া,
দেখবি তখন মরা গাঙের এপার ওপার প্রাণের সাড়া।
নাইবা থাকুক বজঝ বিষাণ নাইবা থাকুক মায়ার কাজল,
জীবন তোদের ভরবে ফলে যুদ্ধটাও যে হবেই সফল।

SHARE

Leave a Reply