Home স্বাস্থ্য কথা গরমে থাকতে হবে ভালো

গরমে থাকতে হবে ভালো

গরমে থাকতে
হবে ভালো
সোহেল আজিজ

গরমে স্বাস্থ্যের যতেœর প্রয়োজন। এ সময় খাওয়া-দাওয়া থেকে ফরু করে গোসল ও পোশাক নির্বাচনের সময় বিশেষ যতংবান হতে হবে। গরমে বড়দের তুলনায় তোমরা অনেক বেশি ঘেমে যাও। এ সময় মৌসুমজনিত নানা রকম ত্বকের সমস্যাও দেখা দেয়, তাই শরীরের প্রতি বিশেষ যতংবান হলে ত্বকের অনেক সমস্যা সহজেই এড়ানো সম্ভব।
প্রথমেই আসা যাক খাওয়া-দাওয়া প্রসঙ্গে। গরমে খেতে হবে প্রচুর পানীয় খাবার। ঘরে তৈরি নানারকম ফলের জুস, লেবুর সরবত ও ডাবের পানি এ জন্য ভীষণ উপকারী। এতে করে ঘেমে গিয়ে যে পরিমাণ পানি শরীর থেকে বের হয়ে যায় তার ঘাটতি পূরণ হয়ে যায়। অবশ্য এই সঙ্গে স্বাভাবিক খাবারও খেতে হবে।
অত্যধিক গরমে অনেক সময় খাওয়ায় রপচি থাকে না। ইচ্ছে করে না কিছু খেতে। তাই এ সময় খাওয়ার ব্যাপারে জোর করা যাবে না, যে খাবার খেতে মন সায় দেয় এমন খাবার খেতে হবে। আমাদের শরীরের যে ংবিধঃ মরধহফ আছে তা বাইরের উত্তপ্ত আবহাওয়ায় শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ করার জন্যই প্রচুর পরিমাণে ঘাম তৈরি করে এবং সরু সরু নালির জারা ঘর্মগ্রন্থি থেকে ছোট ছোট ছিদঝ দিয়ে ত্বকের বাইরে বেরিয়ে আসে। ফধু উত্তাপ নয়, এটা রেচনেরও একটি অ?। ঘেমে গেলে অবশ্যই শরীরের কাপড় পাল্টে নিতে হবে, ঘেমে যাওয়া শরীর পাতলা ও নরম কাপড় দিয়ে মুছে দিতে হবে। এ সময় তোমাকে প্রতিদিন গোসল করতে হবে। মনে রাখতে হবে, গরমকালে অত্যধিক সাবান ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকাই ভালো। শিশু-কিশোরদের কোমল ত্বকের ওপর এক ধরনের সাহায্যকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে, তা অত্যধিক সাবান ব্যবহার করে নষ্ট না করাই ভালো। কারণ এরা নানারকম সংক্রমণ থেকে ত্বককে রক্ষা করে। সব সময় হালকা সুতির জামা পরবে, এমনকি বেড়াতে যাওয়ার সময়ও। শরীরে আরাম পাবে এমন পোশাক নির্বাচন করা দরকার।
আজকাল বেশির ভাগ মা বেড়াতে যাওয়ার সময় শিফকে ডায়াপার পরিয়ে থাকেন। এ ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, শিফর ত্বকের যে স্থানে সবচেয়ে বেশি র‌্যাশ বা ফুসকুড়ি হয় তা হলো ডায়াপারে আবৃত স্থান। তাই ঘন ঘন ডায়াপার বদলে দেয়া প্রয়োজন, দীর্ঘক্ষণ ধরে এক ডায়াপার পরিয়ে রাখা যাবে না। কাপড়ের ডায়াপার ব্যবহার করলে সেটাকে পৎাস্টিকের প্যান্ট দিয়ে ঢাকা যাবে না। যদি ডায়াপার আবৃত স্থানটি লাল হয়, তাহলে ডায়াপার পরানো বন্ধ করতে হবে। ডায়াপার আবৃত স্থানটি যথাস¤?ব ফকনো রাখতে চেষ্টা করা দরকার। কোমল তúর্শ, নরম আচ্ছাদন উরধঢ়বৎ ৎধংয সেরে উঠতে সাহায্য করে।
গরমে অনেক মায়েরাই শিফকে ঘন ঘন পাউডার লাগিয়ে দেন, এমনকি তোমরাও পাউডার লাগাতে চাও। এটা অত্যন্ত ক্ষতিকর। অনেক সময় পাউডার কোমল ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে বিষক্রিয়া ঘটাতে পারে। গরমের সময় অধিক তেল ব্যবহার করাও ঠিক নয়। কারণ এতে শরীর আরো বেশি ঘেমে যায়। অহেতুক কৃত্রিম কসমেটিক বা পোশাক পরা উচিত নয়, এতে তúর্শজনিত নানারকম চর্মরোগ হতে পারে। তাই বন্ধুরা, তোমরা নিজেরাই নিজেদের সঠিক যতং নাও, তুমি এবং তোমার ছোট ভাই বা বোনকে  সুস্থ রাখো।

যে খাবারে মগজ খোলে
সত্যিই কি এমন কোনো খাবার আছে, যা মস্তিষ্কের জন্য ভালো? কীভাবে কাজ করে সেসব খাবার? এ ব্যাপারে গবেষণা হয়েছে অনেক। গবেষণা থেকে দেখা গেছে, শরীরকে শষিশালী ও সুস্থ রাখার জন্য যেমন ভিটামিন ও মিনারেল প্রয়োজন, তেমনি মস্তিষ্ক ও স্নায়ুগুলোকেও সচল রাখার জন্য এসব খাবারের প্রয়োজন। গবেষকেরা তাই এসব খাবারের নাম দিয়েছেন বেঝইন ফুড বা মস্তিষ্কের খাদ্য।
বেশির ভাগ বি-ভিটামিন এবং ফলিক অ্যাসিড গ্রহণের ফলে মস্তিষ্ক এবং স্নায়ুতšু বিশেষ লাভবান হয়।
ভিটামিন বি১ (থায়ামিন) : সুস্থ মস্তিষ্ক ও স্নায়ুকোষগুলোর জন্য এই ভিটামিন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। সম্পূর্ণ খাদ্যশস্য এবং খাদ্যশস্য থেকে তৈরি খাবার যেমন রুটি, ভাত ও পেস্তায় এই ভিটামিন থাকে।
ভিটামিন বি৫ (প্যানটোথেনিক অ্যাসিড) : এটা কো-এনজাইম গঠন করে, যা স্নায়ুর উউীপনা প্রেরণে সাহায্য করে। এই ভিটামিন তুমি পেতে পারো গোশত, মাছ, সম্পূর্ণ খাদ্যশস্য, শিম বা মটরফঁটি, দুধ, শাকসবজি ও ফল থেকে।
ভিটামিন বি৬ (পাইরিডক্সিন) : এই ভিটামিন টিঝপটোফ্যানকে সেরোটোনিনে রূপান্তর করে। সেরোটোনিন হলো মস্তিষ্কের রাসায়নিক উপাদান। এই ভিটামিন বিভিনং খাদ্যদঝব্যে পাওয়া যায়। যেমন মুরগির গোশত, মাছ, লিভার ও কিডনি। সম্পূর্ণ খাদ্যশস্য, বাদাম ও শিম থেকেও তুমি এই ভিটামিন পেতে পারো।
ভিটামিন বি১২ (সায়ানোকোবেলামিন) : এটা রষের লোহিত কণিকার পরিপক?তায় সাহায্য করে, প্রোটিন গঠনে সাহায্য করে এবং স্নায়ুকোষগুলোকে রক্ষণাবেক্ষণ করে। ডিম, গোশত, মাছ, দুধ এবং দুধজাত খাবার থেকে এই ভিটামিন পাওয়া যায়।
ফলিক অ্যাসিড : মস্তিষ্কের ফ্যাটি অ্যাসিডের বিপাকক্রিয়ায় এই ভিটামিন অপরিহার্য। ফলিক অ্যাসিড বিভিনং খাদ্যদঝব্যে পাওয়া যায়। যেমনঘ কলা, কমলার রস, খাদ্যশস্য থেকে প্রস্থতকৃত খাবার, লেবু, স্টঝবেরি, ফুটি বা তরমুজ, শাকযুষ সবজি, শিম, মটরফঁটি ইত্যাদি।


স্নায়ুকে রক্ষা করতে হবে : স্নায়ুগুলোর কাজ সঠিকভাবে পালন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে কিছু মিনারেল বা খনিজ উপাদান। তোমার স্নায়ু যদি ক্ষয় হতে থাকে, তা হলে তোমার মস্তিষ্ক তথা সারা শরীর অকেজো হয়ে পড়বে। তাই স্নায়ুর ক্ষয় রোধ করতে এবং স্নায়ুগুলোকে উষীবিত করতে তোমাকে নিচের মিনারেলগুলো গ্রহণ করতে হবেঘ ম্যাগনেশিয়াম : এটা পাওয়া যায় সম্পূর্ণ খাদ্যশস্য, শিম বা মটর-জাতীয় বীজ, বাদাম এবং সবুজ শাকসবজিতে। পটাশিয়াম : এটা পাওয়া যায় খুবানি, আভোকাদো, কলা, খরমুজ, মোসম্বি লেবু, কমলা, ফকনো খেজুর বা আলুবোখারা, স্টঝবেরি, আলু, গোশত, মাছ প্রভৃতি খাবারে। ক্যালসিয়াম : এটা পাওয়া যায় দুধ ও দুধজাত খাদ্য যেমন পনির ও দই; শিম, ফুলকপি, বিট, ভক্ষণীয় কাঁটাযুষ মাছ ইত্যাদি খাবারে।
মস্তিষ্কের শক্তি বাড়াতে খাবার খান : মস্তিষ্ক সচল রাখতে অবিরাম জ্বালানি প্রয়োজন। আর এ জন্য দিনে দু’বার বা তিনবার বড় ধরনের খাবারের বদলে বারবার অল্প করে খাবার খাবে। পানি পান করবে প্রচুর পরিমাণে। মস্তিষ্কের কাজের জন্য প্রচুর পানির প্রয়োজন। কোনো কারণে মানসিক চাপ সৃষ্টি হলে মস্তিষ্ক পানিশূন্য হয়ে পড়ে। তাই যখনই তুমি ক্লান্ত থাকবে কিংবা পড়াশোনা বা অন্য কোনো কারণে চাপের মধ্যে থাকবে তখন অতিরিক্ত পানি পান করবে। কফি এবং কোমল পানীয় থেকে এ সময় দূরে থাকায় ভালো।

SHARE

Leave a Reply