Home খেলার চমক বদলে যাওয়া বাংলাদেশ

বদলে যাওয়া বাংলাদেশ

রাফিউল ইসলাম
একদিনের ক্রিকেটে বাংলাদেশ অনেক ভালো দল। বিশেষ করে নিজেদের দিনে যে কোনো প্রতিপক্ষকে তারা হারিয়ে দিতে পারে। ইদানীং এ ঘটনা মাঝে মধ্যে নয়, প্রায় প্রত্যেক সিরিজেই দেখা যায়। সে তুলনায় টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স আহামরি কিছু নয়। এখন পর্যন্ত টেস্টে বাংলাদেশের ভালো করার অর্থ হলো ড্র করা। শ্রীলংকা সফরের আগেও এ রকম ধারণায় কোনো হেরফের ঘটেনি। তবে চলতি গল টেস্ট বোধহয় সেই ধারণা খানিকটা হলেও বদলে দিয়েছে। অবশ্য সাম্প্রতিককালে টেস্টে বড় স্কোর গড়াটা প্রায় অভ্যাসে পরিণত করেছে বাংলাদেশ। এ বছরের শুরুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজেও বড় স্কোর গড়েছিল স্বাগতিকরা। যদিও দুই টেস্টের সিরিজে শেষ পর্যন্ত হোয়াইটওয়াশই হয় বাংলাদেশ; কিন্তু উভয় টেস্টেই জোর লড়াই ছিল মনে রাখার মতো।
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সংগ্রহ করেছিল ৫২৭ রান। বড় স্কোরের চাপে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে মোটেই ভেঙে পড়েনি বাংলাদেশ। বরং প্রথম ইনিংসে লিড নিয়েছিল তারা। শেষ পর্যন্ত ৫৫৬ রান করে অলআউট হয় স্বাগতিকরা। স্কোর বোর্ডের দিকে তাকালেও দলের চারিত্রিক দৃঢ়তার প্রমাণ পাওয়া যাবে। সেদিন সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন কেবল নাঈম ইসলাম; কিন্তু বাংলাদেশ দলে হাফ সেঞ্চুরির সংখ্যা ছিল চারটি। নিজেদের মধ্যে অন্তত পাঁচটি জুটি গড়েছিলেন তারা। দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিং ব্যর্থতায় সেই টেস্টে বাংলাদেশকে হারতে হয়েছিল। সেই ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে মাত্র ১৬৭ রানে অলআউট হন মুশফিকরা। ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টেও টেম্পারমেন্টের নজির রাখে বাংলাদেশ। খুলনার আবু নাসের স্টেডিয়ামে শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১৯৩ রান তুলতেই ৮ উইকেট হারান মুশফিকরা। এ পরিস্থিতি থেকে নবম উইকেটে ঘুরে দাঁড়ান আবুল হাসান এবং মাহমুদুল্লাহ। বিশ্বরেকর্ড গড়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ নেন ৩৮৭ রানে। অভিষেক টেস্টে ১১৩ রানের ইনিংস খেলেছিলেন আবুল হাসান। ওয়েস্ট ইন্ডিজ অবশ্য ৬৪৮ রান তুলে লিড নেয়। পরে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটে ভালো করতে না পারায় হারতে হয়েছিল মুশফিকদের। টেস্ট গড়িয়েছিল পঞ্চম দিনে। যা ছিল ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত। চলতি গল টেস্টে সে ইঙ্গিতকেই আরও স্পষ্ট করলেন মোহাম্মদ অশরাফুল, মুশফিকুর রহিম ও নাসির। বিদেশ সফরে বড় স্কোরের তলায় চাপা না পড়ে এই ত্রয়ীর লড়াইয়ে বাংলাদেশ ৬০০ রানের গণ্ডি পেরিয়ে যায়। শ্রীলংকার ৫৭০ রানের সংগ্রহ টপকে ৬৩৮ রানে অলআউট হয়। এভাবে লংকার মতো শক্ত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লিড নেওয়াটা বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা। ভালোর দিকে বদলে যাওয়ারও ইঙ্গিত।
ক্রিকেটে বাংলাদেশের ব্রহ্মাণ্ড জয়, সেটা বিশ্বকাপ জিতলে বলা যায়। ক্রিকেট প্রকৃতির মহিমা জয়, সেটাও বলা যেতে পারে কোনো সিরিজ হাতে এলে। তাহলে মুশফিকুর রহিমের ২০০ রানের হিরণ্ময় ইনিংস, আশরাফুলের গর্বিত ১৯০ রানের ইনিংস, নাসির হোসেনের প্রথম প্রেমের মতো ১০০ রানের ইনিংসগুলোকে এক জায়গার জড়ো করে কী বলা যায়? ‘ইতিহাস’থ চারটি বর্ণের এই বন্ধনীতেই লুুকিয়ে আছে বাংলাদেশ ক্রিকেটের গরিমা আর লাবণ্যের যুগলবন্ধন। যে বাংলাদেশ বিশ্ব ক্রিকেটের নতুন সূর্যোদয় ঘটিয়ে প্রথমবারের মতো ছয়শ’ রানের গণ্ডি পার করেছে। প্রথমবারের মতো ইস্পাতের শানিত উজ্জ্বলতা এনে ২০০ রানের সুউচ্চ শৃঙ্গে দেশের পতাকা তুলেছেন একজন বাংলাদেশি। টেস্ট ক্রিকেটের রাজঐশ্বর্য স্পর্শ করে মুশফিকুর সেই মহোত্তম কীর্তি গড়েছেন, যা গত এক যুগে কোনো বাংলাদেশী করে দেখাতে পারেননি। লংকান দ্বীপে গিয়ে বাংলাদেশি ছেলেদের এ কীর্তি এতটাই গভীর, সত্য আর কালজয়ী যে, তাকে উপেক্ষা করা বা এড়িয়ে চলা বিশ্ব ক্রিকেটের সম্ভব হয়নি। আর তাই তো ভারতীয় দৈনিক দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়াতেও শিরোনাম হয়েছে, ‘নিউ লুকস অব বাংলাদেশ ক্রিকেট’।
সত্যিই, গল টেস্টে এগারো বাংলাদেশী বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের বাগধারা পরিবর্তনের সঙ্গে পাল্টে দিয়েছেন যোগ্যতার সংজ্ঞাও। আগে যেখানে প্রতিপক্ষ পাঁচশ’ রানের পাহাড় চাপা দিয়েই বাংলাদেশীদের নিয়ে চার দিনের মধ্যে ম্যাচ শেষ করে বিশ্রাম নিতে চাইতেন। সেখানে এবার লংকানরা ৪ উইকেটে ৫৭০ রান তুলেও ১৯৬ ওভার পর্যন্ত বোলিং করেছেন। প্রায় আড়াই দিন ধরে ফিল্ডিং করে রোদে পুড়েছেন কুমার সাঙ্গাকারারা। ধারণারও অনেক বাইরে ৬৩৮ রান করে বরং বাংলাদেশই ৬৮ রানের লিড নিয়েছে। দিন শেষে যখন ক্লান্ত লংকানরা দ্বিতীয় ইনিংস ব্যাট করতে নামেন, তখন শাহাদাত হোসেন রাজীব ফিরে পান তার ভেতরের জমে থাকা ক্রোধের বাষ্প। ফিরিয়ে দেন লংকান ওপেনার করুনারতেœকে। যদিও চতুর্থ দিন শেষে ১ উইকেট হারিয়ে শ্রীলংকা স্কোর বোর্ডে ১১৬ রান জমা রেখেছে, ৪৮ রানের লিডও রেখেছে। তার পরও গল টেস্টের শেষ দিনে আজ একটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই হবে শ্রীলংকাকে। বাংলাদেশ বদলে গেছে, নাকি শ্রীলংকা আগের মতো নেই?
সারাদিন যখন মুশফিক আর নাসির হোসেন তাদের একাগ্রতা দিয়ে লংকান বোলারদের খাটিয়ে মারছিলেন, তখন লংকান ধারাভাষ্যকার রঞ্জিত ফার্নান্দো একটি পরিসংখ্যান দেখানোর অনুরোধ জানান ব্রডকাস্টিংয়ে থাকা কর্মীদের। মুরালিধরন অবসর নেওয়ার পর শ্রীলংকার টেস্ট সাফল্য কেমন? উত্তরে জানা যায়, মুরালি-পূর্ব শ্রীলংকা টেস্ট জিতেছিল মাত্র দুটি, আর মুরালি-উত্তর গত ২৮ টেস্টে তাদের জয় মাত্র চারটি। এই পরিসংখ্যান দেখিয়ে ফার্নান্দো সাহেব যতই বোঝানোর চেস্টা করুন না কেন শ্রীলংকার বোলিং আগের মতো নেই, গোটা বিশ্ব কিন্তু মেনে নিয়েছে, শ্রীলংকা নয়, বাংলাদেশই বরং উন্নতির পথ ধরে এগিয়ে চলেছে। আর সে কারণেই গল টেস্টের প্রথম ইনিংসেই রেকর্ডবুকের বেশ কয়েকটি পৃষ্ঠা ভরে গেছে বাংলাদেশিদের সাফল্যে। এক যুগ আগে টেস্ট খেলা শুরু করা বাংলাদেশ তার ৭৬তম ম্যাচে এসে ছয়শ’ রানের বেশি স্কোর গড়তে পারল। এর আগে গত ডিসেম্বরে মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৫৫৬ রান তুলেছিল বাংলাদেশ, এবার প্রথম ইনিংসে ৬৩৮ রান তুলে সেটা ছাপিয়ে গেল মুশফিকের নতুন এই বাংলাদেশ। সে সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ ব্যাটিং করার অতীত রেকর্ডটাও ভেঙে গেল এই ম্যাচে। আগে ১৫৩.৩ ওভার পর্যন্ত এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ব্যাটিং করেছিল বাংলাদেশ, গল টেস্টের প্রথম ইনিংসে সেই বাংলাদেশই খেলল ১৯৬ ওভার। একই ইনিংসে বাংলাদেশের দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান তাদের ক্যারিয়ারসেরা সর্বোচ্চ রানও করলেন, প্রথমে আশরাফুল ১৯০ রান করে হেরাথকে এগিয়ে এসে চালাতে গিয়ে আউট হলেন, তা দেখেই সতর্ক মুশফিক পরে আশরাফুলকে ছাপিয়ে ২০০ রানের মাইলফলকে নিজের নাম লেখালেন। বিশ্ব ক্রিকেটের ডাবল সেঞ্চুরির তালিকায় ছয় নম্বরে নামা ব্যাটসম্যানদের তালিকার নবম স্থানে মুশফিক নিজেকে আবিষ্কার করলেন। মুশফিকের রেকর্ডের ঝুলিতে অবশ্য আরও কিছু জহরত যোগ হয়েছে এদিন। বিশ্ব ক্রিকেটে যেসব উইকেটকিপার এ পর্যন্ত ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন, মুশফিক সেই তালিকায় থাকা এখন সপ্তমজন। অধিনায়ক হয়ে দেশের হয়ে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির তালিকায় মুশফিক দ্বিতীয়তে। এ ছাড়া আশরাফুলের সঙ্গে গড়া তার ২৬৭ রানের জুটিটি তো এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সেরা হয়েই থাকছে।
অথচ এদিন এ জুটিতেই আরও বেশি রান আসতে পারত। যদি কি-না আশরাফুলের মাথায় হঠাৎই শট খেলার সেই ভূতটা না চাপত। আগের দিন তার ১৮৯ রানের ইনিংস দেখে মোহিত হয়েই গতকাল সকাল থেকেই গোটা দেশের ক্রিকেট শেয়ারবাজার চাঙ্গা ছিল। মাত্র ১১ রানের অপেক্ষায় আশরাফুলের সঙ্গে গোটা দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের নিঃশ্বাস পড়ছিল। অথচ যাকে ঘিরে এত চেষ্টা তিনিই কি-না ইনিংসের প্রথম বলেই দিলশানকে রিভার্স সুইপ খেলতে গেলেন। আগের দেড় দিন যিনি ধৈর্যের পরীক্ষায় লেটার মার্কস পেয়ে উতরে গিয়েছিলেন, তিনিই কি-না এদিন ডাহা ফেল! আশরাফুলের বিদায়ের পর অবশ্য মুশফিক সতর্ক হয়ে যান, দিনের প্রথম বাউন্ডারির মুখ খোলেন তিনি ১৭ বল পর। দ্বিশতকের পথে মহার্ঘ্য ৪৮ রান করতে মাত্র চারটি বাউন্ডারির প্রয়োজন পড়ে মুশফিকের। দুইশ’ রানের এলিট ক্লাবে পৌঁছতে মুশফিক ৩২১ বল মোকাবেলা করেন, যার ১১৮টিই ছেড়ে দেন তিনি মাথা নিচু করে। আশরাফুল চলে যাওয়ার পর মুশফিকের সঙ্গে ‘লাভ ইন গল’ এপিসোডে যোগ দিয়েছিলেন নাসির হোসেন। শুরু থেকেই চালিয়ে খেলে নাসির তার সঙ্গী মুশফিককে সুযোগ করে দেন মাটি কামড়ে পড়ে থেকে সিঙ্গেলস বের করার। আদতে নাসিরের ছায়াতেই মুশফিক তার শান্তভঙ্গি ফিরে পেয়ে প্রথমবারের মতো দুইশ’র রানের সেই কাক্সিক্ষত নক্ষত্রের দেখা পান।
দুইশ’ রান করার পর গলের গ্যালারিতে হাততালি দেওয়ার মানুষ হয়তো কম ছিল, কিন্তু দেশের প্রতিটি কোণা থেকে ওই সময় মুশফিককে স্বাগত জানান সমর্থকরা। কুলাসেকারার বলে তার এলবিডব্লিউ হওয়ার পরও সবাই মনের অন্তঃস্থল থেকেই অভিবাদন জানিয়ে দেয় দেশের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিয়ানকে। মুশফিকের কাছ থেকে এ পাওয়াটাই ছিল অনেক, এরপর নাসির হোসেনের প্রথম টেস্ট অভিষেকটা ছিল সমর্থকদের কাছে বোনাসের মতো। যদিও সারা দুপুরে ক্রিকেটের মজে থাকা এসব মানুষকে বিমর্ষ করে দেয় বিকেলটা। দেশের রাজনৈতিক উত্তাপ-উত্তেজনা ছড়িয়ে না পড়লে হয়তো গল টেস্টে বাংলাদেশের এ অর্জনগুলো আরও রঙিন হয়ে ধরা দিতে পারত। তবে রাজনীতির এই কোপে কৌলীন্য হারায়নি ক্রিকেটের অর্জন। গলে যে সূর্যোদয় হয়েছে গতকাল, তার কিরণ উজ্জ্বল থাকবে আরও অনেক অনেক দিন।

ক্যাপ্টেন্স নক…
বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরি করলেন মুশফিকুর রহিম। ২০১০ সালের জানুয়ারিতে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের প্রেসবক্সের ছাদে বসে ভারতের প্রথিতযশা সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত মুশফিকের ব্যাটিং দেখে চমকে উঠেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এমন নিখুঁত টেকনিকের ব্যাটসম্যান আজকাল খুবই কম দেখা যায়। জমাট রক্ষণের পাশাপাশি মুশফিকের পুল, কাটের ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন কলকাতার ওই সাংবাদিক। ওই দিন জহির, ইশান্থ, শ্রীশান্থদের ঠেঙ্গিয়ে ১১৪ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন মুশফিক। তিন বছর পর গলে যেন আরও উজ্জ্বল হয়ে ফুটলেন মুশফিক। নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরিটাকে নিয়ে গেলেন ডাবল সেঞ্চুরিতে। তিন বছর আগে তিনি অধিনায়ক ছিলেন না। নেতৃত্ব পেয়ে যেন আরও পরিণত মুশফিক। অধিনায়কের এমন ব্যাটিংয়েই রানের পাহাড়ের পেছনে ছুটেও ড্রয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েছে বাংলাদেশ।
দেড়শ’ রানে অপরাজিত থাকার পরও আগের দিন কিছুটা যেন আশরাফুলের আলোয় ঢাকা ছিলেন মুশফিকুর রহিম। তবে গতকাল সবাইকে, সবকিছু ছাড়িয়ে গেছেন তিনি। গলে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাস নতুন করে লিখেছেন মুশফিক। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরির স্বাদ নিয়েছেন তিনি। অধিনায়কের এমন ব্যাটিংয়ে দলও গড়েছে নতুন রেকর্ড। প্রথমবারের মতো টেস্ট ক্রিকেটে ৬০০ রানের মাইলফলক অতিক্রম করেছে বাংলাদেশ।
দিনের শুরুতে আশরাফুল বাজে শট খেলে আউট হয়ে আসার পর শঙ্কা জেগেছিল, পুরনো জুজু আবার ভর করবে না তো! সে সঙ্গে ছিল মাত্র দশ রানের জন্য আশরাফুলের ডাবল সেঞ্চুরি না পাওয়ার হতাশা। কিন্তু অধিনায়ক মুশফিককে এসবের কোনো কিছু স্পর্শ করতে পারেনি। বরং আশরাফুলের প্রস্থানের পর আরও বেশি একাগ্র অধিনায়ক। তার ব্যাটে তরতর করে এগিয়ে চলে বাংলাদেশের ইনিংস। লংকানরা তখন একটু চেপে বসার চেষ্টা করলেও অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে হেরাথ-মেন্ডিসদের মোকাবেলা করেন মুশফিক। নাসিরের সঙ্গে জুটি বেঁধে দলের স্কোর শ্রীলংকার রানের কাছাকাছি নিয়ে যান। অবশ্য লাঞ্চের আগেই ডাবল সেঞ্চুরিটি পূরণ করে নিতে চেয়েছিলেন মুশফিক; তবে সেটা সম্ভব হয়নি। লাঞ্চের পর দ্বিতীয় ওভারে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। কুলাসেকারার ডেলিভারিটি কাভারে ঠেলে দিয়ে সিঙ্গেলস নিয়ে অন্য উচ্চতায় উঠে যান মুশফিক। তবে এমন একটি মহা অর্জনের পরও প্রচণ্ড উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েননি তিনি। বরং ডাবল সেঞ্চুরি পূরণের পরও আউট হয়ে বেশ হতাশা প্রকাশ করেন তিনি। কুলাসেকারার বলে এলবি হওয়ার পর হাতাশায় ব্যাট হেলমেটে ঠোকেন। কারণটাও স্পষ্ট, দল তখনও লিড নিতে পারেনি। আর লিড নিতে না পারলে তো টেস্ট বাঁচানোর সম্ভাবনা কম। সে চিন্তাতেই সম্ভবত ব্যাট কপালে ঠোকেন তিনি। সত্যিকারের অধিনায়ক বলেই নিজের অর্জন দলের স্বার্থে তুচ্ছজ্ঞান করেছিলেন। তবে তার অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করে এসেছেন নাসির হোসেন।
বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির পাশাপাশি অনেকগুলো মাইলফলক স্পর্শ করেছেন মুশফিকুর রহিম। তার আগে মাত্র ছয়জন উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান ডাবল সেঞ্চুরির ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছতে পেরেছেন। আর উইকেটকিপার কাম অধিনায়ক হিসেবে তিনি দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরিয়ান। তিনি ছাড়া ভারতের মহেন্দ্র সিং ধোনি এ কীর্তি গড়েছেন। আর লংকানদের বিপক্ষে উইকেটকিপার হিসেবে তার ইনিংসটিই সর্বোচ্চ।
মুশফিকের ডাবলটা ছিল যেন বাংলাদেশের জন্য ওয়ানডেতে ডাবল সেঞ্চুরি করার মতো। যেটাকে একসময় মনে করা হতো অসম্ভব, সেটাকেই সম্ভব করে দেখালেন শচীন। এরপর একই মাইলফলকে পৌঁছেছিলেন শেবাগও। বাংলাদেশও এখন মুশফিকের হাত ধরে পা রেখেছে ডাবলস যুগে। সে পথ ধরে এখন নতুন দিগন্তে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশের ক্রিকেট।

SHARE

Leave a Reply