Home স্বাস্থ্য কথা সুস্থ দাঁত সুন্দর হাসি

সুস্থ দাঁত সুন্দর হাসি

ডা: সাবরিনা হোসেন হিরা

সুন্দরের জয় সর্বত্রই। আর তা যদি হয় সুস্থ, সুন্দর দাঁতের ভুবন ভুলানো…. তাহলে তো কথাই নেই। মনে হবে হাসিতে মুক্ত ঝরছে।
একটু সচেতনতা, সঠিক সময়ে সঠিক ব্যবস্থাপনায়ই পারে একজন মানুষ সুস্থ দাঁতের অধিকারী হতে। বিশ্বের সব উন্নত দেশের মতো আমাদের দেশও এখন অনেকটা এগিয়ে গেছে। তার পরও রয়ে গেছেÑ অদক্ষ চিকিৎসাব্যবস্থা, অপরিকল্পিত শিক্ষাব্যবস্থা, আর্থসামাজিক অবস্থা নানাবিধ বৈরী মানসিকতা ইত্যাদি।
একশ্রেণীর মানুষ দাঁতের চিকিৎসা করা বা দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার প্রয়োজন মনে করে না যতক্ষণ পর্যন্ত না চরম অসহ্য অবস্থায় পতিত হয়। দাঁতের চিকিৎসা অন্য চিকিৎসার চেয়ে ব্যয়বহুল হলেও সঠিক সময়ে চিকিৎসা করলে ব্যথা ও অতিরিক্ত অর্থব্যয়ের হাত থেকে বাঁচা যায়।
দাঁতের কিছু পরিচিত সমস্যার সমাধান এবং প্রয়োজনীয় টিপস সংক্ষেপে তুলে ধরা হলোÑ
ষ    মাঢ়ি দিয়ে রক্ত পড়া, মুখে দুর্গন্ধ, কালো বা হলদেটে দাগ যা দাঁত ব্রাশে যায় না তার জন্য স্কেলিং করা।
ষ    দাঁতের ছোট গর্ত হওয়া যা ক্যারিজ নামে পরিচিত তার জন্য ফিলিং করা।
ষ    দাঁতে জমে থাকা খাদ্যকণা অথবা প্লাক দূর করতে দিনে একবার উবহঃধষ ঋষড়ংং ঁংব করা।
ষ    নড়বড়ে দাঁত এবং শুধু গোড়া আছে সেগুলো তুলে ফেলা। পরবর্তীকালে ডেনচার বা ব্রিজ করা যায়।
ষ    দাঁতের মজ্জা পর্যন্ত ক্ষয় হওয়া, শিরশির করা, প্রচ- ব্যথা সে ক্ষেত্রে এক্স-রে করে রুট ক্যানাল নামে আধুনিক চিকিৎসা করে পরবর্তীকালে ওই দাঁতে ক্যাপ করে নেয়া।
ষ    আঘাত বা অন্যান্য কারণে দাঁতের স্বাভাবিক রঙ নষ্ট হয়ে গেলে সে ক্ষেত্রে ঝকঝকে করার জন্য ব্লিচিং করা। ব্লিচিং পদ্ধতি যেকোনো দাঁতের পাশাপাশি রুট ক্যানাল চিকিৎসা চলছে এমন দাঁতেও সম্ভব।
ষ    উঁচু-নিচু, আঁকাবাঁকা দাঁত অর্থোডোন্টিক চিকিৎসার মাধ্যমে সুন্দর করে তোলা।
ষ    মুখগহ্বরে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকলে বা বাঁকা হয়ে ওঠা আক্কেল দাঁত থাকলে সেগুলো সার্জিক্যাল অপারেশন করে তোলা।
ষ    দাঁতের শার্প অংশ কামড়ে কামড়ে গালে বা জিহ্বায় ক্ষত হলে সে ক্ষেত্রে গ্রাইন্ডিং করা।
ষ    তামাকসমৃদ্ধ দ্রব্য যেমনÑ সিগারেট, গুল, জর্দা ইত্যাদি ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। এগুলো মুখে ক্যান্সার ও দুর্গন্ধের অন্যতম কারণ।
ষ    মুখের আর্দ্রতার জন্য প্রচুর পানি পান করা।
ষ    দিনে অন্তত দু’বার নরম ব্রাশ দিয়ে ফু¬রাইডযুক্ত টুথপেস্ট দিয়ে হালকাভাবে দু-তিন মিনিট দাঁত ব্রাশ করা।
দাঁতের উপকারী খাদ্য
ষ    যেসব খাদ্য চিবুতে হয় যেমনÑ ফল, শাকসবজি, শস্যকণা।
ষ    ঈধষপরঁস সমৃদ্ধ খাবারÑ দুধ, পনির, দধি ইত্যাদি।
ষ    ভিটামিন ডিÑ সামুদ্রিক মাছ, কলিজা, ডিমের কুসুম ইত্যাদি।
ষ    আঁশযুক্ত খাদ্য, ভিটামিন সিÑ আমলকী, লেবু, কমলা, টমেটো, পেয়ারা ইত্যাদি।
দাঁতের অপকারী খাদ্য
ষ    মিষ্টি ও অন্যান্য আঠালো শর্করাজাতীয় খাদ্য।
ষ    প্রচুর পরিমাণে চিনিসমৃদ্ধ চা ও কফি, বিস্কুট, আইসক্রিম, পটেটো চিপস ইত্যাদি।
সুস্থ দাঁতের জন্য করণীয়
ষ    দু-তিন মাস পরপর নতুন টুথব্রাশ ব্যবহার করা।
ষ    নিয়মিত হালকা গরম পানিতে লবণ দিয়ে কুলকুচি করা।
ষ    বছরে অন্তত দু’বার দন্তচিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া ইত্যাদি।
মুখ বা মুখগহ্বরের সমস্যা হওয়া মাত্র অবহেলা না করে সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা করে নিলে বড় রকমের বিপদের হাত থেকে বাঁচা যায়।

SHARE

Leave a Reply