Home সাহসী মানুষের গল্প পবিত্রতম রাসূল আমার

পবিত্রতম রাসূল আমার

কায়েস মাহমুদ

রাসূল মুহাম্মাদ (সা)।
প্রাণপ্রিয় নবী।
মানুষ ও মানবতার মুক্তির দূত।
আলোর দিশারি।
আমাদের প্রাণপ্রিয় এই নবীকে (সা) একবার আলোর পাখিরা অর্থাৎ কিছু সাহাবী জিজ্ঞেস করলেন, হে দয়ার নবী! আপনার সম্পর্কে কিছু বলুন। আমরা শুনতে চাই। শুনে প্রাণ জুড়াতে চাই, তৃষিত প্রাণ।
নবী (সা) একটু মুচকি হাসলেন। তারপর বললেন, শোনো, আমি পিতা ইবরাহিমের (আ) দোয়ার ফল। আর ভাই ঈসার (আ) সুসংবাদের পরিণতি।
তারপর! তারপর!Ñ সাহাবীগণ ব্যাকুল কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন।
রাসূল (সা) বললেন, তারপর! তাহলে শোনোÑ আমি তখন মায়ের গর্ভে। আমার মা সৌভাগ্যবতী মা, আমিনা সেই সময়, হ্যাঁ ঠিক সেই সময় স্বপ্নে দেখেন, তাঁর মধ্য থেকে একটা জ্যোতি বেরুলো এবং সে জ্যোতির আলোকচ্ছটায় সিরিয়ার প্রাসাদসমূহ আলোকিত হয়ে গেল। আর তোমরা তো জানই, শৈশবে আমি দুধ-মা হালিমার গৃহে লালিত-পালিত হই।
এই সময়, একদিন আমার এক দুধ-ভাইয়ের সাথে বাড়ির পেছনে মেষ চরাতে যাই। আমরা দুই ভাই এক মনে মেষ চরাচ্ছি। ঠিক এমনি সময় দু’জন লোক আমার কাছে এলেন। তাঁদের পরনে ছিল একটা সোনার তশতরি। তশতরি ভর্তি বরফ। আমি তো দেখেই অবাক!
তারপর!Ñ সাহাবাগণ উৎসাহের সাথে জিজ্ঞেস করলেন।
রাসূল (সা) বললেন, তারপর!Ñ তারপর তাঁরা আমাকে একটু আড়ালে নিয়ে গেলেন। এরপর আমার পেট চিরলেন। আমার হৃৎপিণ্ড বের করে সেটাও চিরলেন।
হৃৎপিণ্ডের ভেতর ছিল এক ফোঁটা কালো জমাট রক্ত। সেই কালো রক্তের ফোঁটাটি বের করে তাঁরা ফেলে দিলেন। তারপর তশতরি ভরা বরফের পানি দিয়ে আমার পেট ও হৃৎপিণ্ড ধুয়ে পরিষ্কার করে তারপর আবার ঠিকঠিকভাবে লাগিয়ে দিলেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় যে, আমার পেট চেরা হলো, হৃৎপিণ্ড কলিজা বের করে আনা হলো, আবার তা পরিষ্কার করে ঢোকানো হলোÑ কিন্তু আমি এতটুকুও ব্যথা বা কষ্ট পেলাম না! তাঁদের কাজ শেষে একজন অপর জনকে বললেন, ‘মুহাম্মাদকে (সা) তাঁর উম্মতের দশজনের সাথে ওজন করো।’ তিনি আমাকে পরিমাপ করলেন।
কী আশ্চর্য!
আমি দশজনের চেয়েও ওজনে বেশি হলাম!
এবং বললেন, মুহাম্মাদকে (সা) তাঁর উম্মতের একশো জনের সাথে ওজন করো।
অপরজন নির্দেশ মতো তাই করলেন।
আমি এবারও একশোজনের চেয়ে ওজনে বেশি হলাম!
তারপর আমাকে এক হাজার জনের সাথে ওজন করা হলো।
কী বিস্ময়কর ব্যাপার! সেই এক হাজার জনের চেয়েও আমি ওজনে বেশি হলাম!
এরপর প্রথমজন দ্বিতীয়জনকে বললেন, আর নয়। এবার রেখে দাও।
আল্লাহর কসম! তাঁকে যদি তাঁর সমগ্র উম্মতের সাথেও ওজন করা হয়, তাহলেও তিনিই হতেন সবার চেয়ে ওজনে বেশি।
কেন হবেন না! দয়ার নবীজীর (সা) সমতুল্য আর কিইবা আছে?
আর কিইবা হতে পারে আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে!
তিনিই তো জগৎ-সেরা মহামানব!
তিনিই তো আলোর জ্যোতি ফুলের অধিক।
রাসূলের (সা) বক্ষ বিদারণের এই ঘটনা তিনি নিজেই ব্যক্ত করেছেন।
কেন এই বক্ষ বিদারণ?
কেন তাঁর পেট ও কলিজা সাফ?
বিষয়টি ভাবনা জাগায়।
চিন্তার দুয়ার খুলে দেয়।
ফেরেশতার মাধ্যমে মহান রাব্বুল আলামিন তাঁর প্রিয় হাবিবকে (সা) যেন তাঁর মধ্যে কোনো সন্দেহের চিহ্নমাত্র না থাকে, একেবারে পবিত্র, একেবারেই খাঁটি মহামানব হিসেবে রাসূল (সা) যেন তাঁর উম্মতদেরকে আলোর পথ দেখাতে পারেনÑ সেই জন্যই তো ছিল এই আয়োজন।
রাসূল (সা) আমার খাঁটি সোনা।
সৃষ্টিকুলের শ্রেষ্ঠ।
রাসূল আমার আলোর অধিক আলো।
ফুলের সুবাসের চেয়েও অধিক সুবাসিত।
তিনিই আমাদের মহান নেতা।
তিনিই আমাদের পথের দিশারি।
শিক্ষকের শিক্ষক। মহান শিক্ষক।
তিনিই আমাদের প্রাণের প্রাণ।
একেবারে আত্মার আত্মীয়।
আমাদের কী সৌভাগ্য! আমরা তাঁরই উম্মত।
সুতরাং তাঁর পথ অনুসরণ করলেই আমরা পেয়ে যাবো সোনালি সফলতা।
তাঁর আদর্শ বুকে ধারণ করে চললেই আমরা পৌঁছুতে পারবো আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য-মনজিলে।
এসো, রাসূলকে (সা) ভালোবাসি মনে-প্রাণে।
এসো, রাসূলের (সা) পথ অনুসরণ করি।
এসো, চলি রাসূলের (সা) দেখানো সেই আলোর পথে।

SHARE

Leave a Reply