Home খেলার চমক জার্সি নম্বর টেন

জার্সি নম্বর টেন

রাফিউল ইসলাম

যারা ফুটবল ভালোবাসো, সবার কাছেই ১০ নম্বর জার্সি বলতে কয়েকটি মুখ সামনে ভেসে ওঠে। আর্জেন্টিনার সাপোর্টাররা ম্যারাডোনা ও মেসিকে এবং ব্রাজিলের সাপোর্টাররা পেলে বা রোনালদিনহোকে নিয়ে গর্ব করো। এতো দেশের নাম বাদ দিয়ে এই দু’টো দেশের নাম বললাম কারণ বাংলাদেশে এই দু’টো দলের সাপোর্টারই বেশি।
আচ্ছা, এই ১০ নম্বর জার্সি নিয়ে কতটুকু জানি আমরা? চলো, ওদের সাথে আমরাও কিছুক্ষণ ফুটবল মাঠ থেকে ঘুরে আসি (অবশ্যই ১০ নম্বর জার্সি গায়ে দিয়ে)।
ফুটবলে ১০ নম্বর জার্সি
প্রথম দিকে ফুটবল খেলায় খেলোয়াড়দের পোশাকে (জার্সি) কোনো ক্রমিক নম্বর থাকত না। ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলে সর্বপ্রথম জার্সিতে নম্বরের প্রচলন হয়। সে সময় সব নম্বরের জার্সিই সমগুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু কালক্রমে সেরা খেলোয়াড়েরা ১০ নম্বর জার্সি গায়ে খেলতে শুরু করলে এই জার্সিটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এখন সাধারণভাবে ১০ নম্বর জার্সিটা তাঁকেই দেয়া হয়, যিনি দলের সবচেয়ে চৌকস খেলোয়াড় এবং জয় নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য বলে বিবেচিত। কিন্তু জার্সির নম্বরের সঙ্গে ভালো খেলোয়াড়ের সম্পর্ক কী? আসলে ফুটবল খেলার মূল আকর্ষণ হলো গোল। আর গোল করার সুযোগ সবচেয়ে বেশি তাঁরই, যিনি সেন্টার ফরোয়ার্ডে খেলেন।
পঞ্চাশের দশকে মাঠে ফুটবল খেলোয়াড়দের কৌশলগত অবস্থানের চিত্রটা ছিল এ রকম (২-৩-২-৩) : গোলকিপারের পর দুজন ব্যাক, এরপর তিনজন হাফব্যাক, পরের সারিতে দুই পাশে রাইট উইং ও লেফট উইং এবং এরপর সেন্টার ফরোয়ার্ডে তিনজন। আর গোল করার সুযোগ সবচেয়ে বেশী তারই, যিনি সেন্টার ফরোয়ার্ডে খেলেন। তখনকার দিনে দলের সবচেয়ে দক্ষ খেলোয়ারকে কেন্দ্রীয় অবস্থানে রেখে সব কর্মপরিকল্পনা নির্ধারিত হতো। তিনি ফুটবল নিয়ে জাদুকরের মতো কৌশলে প্রতিপক্ষের দুর্গ ভেদ করে গোল দেন। আর অন্যরা তাঁকে পাস দিয়ে গোল করতে সাহায্য করেন। ১৯৫৪ সালে জার্সিতে নাম্বারের নিয়ম প্রচলিত হয়। ২-৩-২-৩ ফর্মেশন অনুযায়ী গোল কীপারের জার্সি নাম্বার  যদি ১ হয় তাহলে সেন্টার ফরোয়ার্ডের মাঝখানের জনের জার্সি নাম্বার হবে ১০। আর এভাবেই ১০ নাম্বার জার্সি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে।
বর্তমানে ২-৩-২-৩ বিন্যাস আর নেই। কিন্তু দলের সেরা খেলোয়ারের জন্য ১০ নাম্বার জার্সির এই নিয়মটা রয়ে গেছে। এখন সাধারণভাবে ১০ নম্বর জার্সিটা তাঁকেই দেওয়া হয়, যিনি দলের সবচেয়ে চৌকস খেলোয়াড় এবং জয় নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য বলে বিবেচিত।
বিগত দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার মেসি, ব্রাজিলের কাকা, ইংল্যান্ডের রুনি, স্পেনের ফ্যাব্রিগাস ১০ নম্বর জার্সি পরে খেলছেন। সাবেকদের মধ্যে ম্যারাডোনা ও পেলে  ১০ নম্বর জার্সি পরে খেলেছেন। এছাড়াও এই তালিকায় আছেন এ রকম নামকরা অন্য খেলোয়াড়েরা হলেন মাইকেল প্ল্যাটিনি, জিনেদিন জিদান, ডেভিড বেকহাম, জোহান ক্রুইফ, রবার্র্তো ব্যাজ্জিও, রোনালদিনহো, ফ্রানসিসকো টট্টি, লুই ফিগো, রাউল গনজালেস, জিকো, মাইকেল ওয়েন, জিওর্জি হ্যাজ্জি (রোমানিয়া), রিভালদো, মারিও কেমপেস (আর্জেন্টিনা), জে-জে ওকোচা (নাইজেরিয়া), ফিরেন্স পুসকাস (১৯৫৪) প্রমুখ।
যেভাবে শুরু
জার্সি নম্বর ১০ শুরু করেছিলেন পুসকাস। ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপের আগে বিশ্বজয়ী হয়ে ওঠা হাঙ্গেরি দলের প্রাণ ছিলেন তিনি, আর তিনি পরতেন বলেই এই ১০ নম্বর হয়ে গেল একটা ব্র্যান্ড, অনন্য শক্তি ও আস্থার প্রতীক। তারপর এই নম্বর গায়ে চাপালেন কিংবদন্তি পেলে, দুর্দান্ত ম্যারাডোনা, জিকো, প্লাতিনি, ম্যাথাউস, জিদান, মেসি, কাকা, রুনিরা।
ভিন গ্রহের ফুটবলার
২০০৫ সালে আন্তর্জাতিক অভিষেক। ২০০৬ সালের বিশ্বকাপে মাত্র এক গোল। জাতীয় দলের জার্সিতে খেলা ৪৪ ম্যাচে গোল করেছেন মাত্র ১৩টি। কিন্তু ফুটবলে সর্বকালের সেরা কে? পেলে-ম্যারাডোনাকে নিয়ে চলা এ বিতর্কের উত্তর এবার দিতে পারেন লিওনেল মেসিই! অন্য গ্রহের ফুটবল উপহার দিয়ে সারা বিশ্বকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখা ঐতিহ্যবাহী ১০ নম্বর জার্সিটা এই ‘আর্জেন্টাইন ছোট জাদুকর’-এর গায়েই!
আর্জেন্টাইন ফুটবল-ঈশ্বর ডিয়েগো ম্যারাডোনা, রুদ খুলিত, ইয়োহান ক্রুইফের মতো কিংবদন্তিরাও মেসির স্তুতিতে পঞ্চমুখ। ‘দি গার্ডিয়ান’ মেসিকে উৎসর্গ করেছে ৩৪টি বর্ণে সাজানো একটি শব্দ! অসাধারণ, অনন্যসুন্দর, আলৌকিক, নিখুঁতÑ এমন আরো ২০-২৫টি উপমা ব্যবহার করেও পড়েছে উপমা-সঙ্কটে। ‘স্পাইডারম্যান’, ‘সুপারম্যান’-এ মন ভরছে না, শেষে আশ্রয় নিয়েছে সনাতন আমলের শব্দে, ‘ঝঁঢ়বৎপধষরভৎধমরষরংঃরপবীঢ়রধষরফড়পরড়ঁং’! এই শব্দের অর্থ বের করতে গিয়েই গলদঘর্ম হওয়ার জোগাড়। পাঁচটি ইংরেজি শব্দের মিশেলে তৈরি শব্দটির রূপক অর্থ, ‘কিছু একটা বলতে হবে, যখন আপনার আর বলার কিছুই থাকবে না!’
স্প্যানিশ লিগসহ অন্যান্য লিগগুলোতেও একের পর এক গোল করে চলেছেন এই ক্ষুদে ফুটবলারÑ লিওনেল মেসি। চতুর্থবারের মতো জিতে নিয়েছেন ব্যালন ডি-অর-এর পুরস্কার।
পেলের ১০ নম্বরের রহস্য
১০ নম্বর জার্সিটাকে যারা ‘বিশেষ মর্যাদাবান’ করেছেন, পেলে তাদের অন্যতম। কিন্তু পেলে বলেন, তিনি ব্রাজিলের ১০ নম্বর জার্সিটা পেয়েছিলেন স্রেফ ঘটনাক্রমে! এত দিন পর অজানা গল্পটা বললেন পেলে নিজেই। বললেন, ৫৪ বছর আগে ১৯৫৮ বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিলের ১০ নম্বর জার্সিটা আকস্মিকভাবেই তার গায়ে উঠেছিল। ১০ নম্বর জার্সিটা গায়ে চাপিয়ে পেলে ১৯৫৮ সালে সুইডেন বিশ্বকাপে খেলতে যান মাত্র ১৭ বছর বয়সে। যদিও বিশেষ এই জার্সিটা সাধারণত দলের প্লেমেকারদেরই দেয়া হতো। ৭১ বছর বয়সী ব্রাজিল কিংবদন্তি জানিয়েছেন, কীভাবে তিনি বিখ্যাত ওই জার্সিটার অধিকারী হলেন, ‘১৯৫৮ বিশ্বকাপে ১০ নম্বর জার্সিটা আমাকে দেয়া হয়। আসলে ১০ নম্বর জার্সি পরার মতো গুরুত্বপূর্ণ কেউই ছিলেন না। এমনকি আমিও দলের সিনিয়র খেলোয়াড় ছিলাম না। আকস্মিকভাবেই বিশ্বকাপে জার্সিটা আমাকে পরতে হয়।’ ১৪ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে ৯২ ম্যাচে পেলে গোল করেন ৭৭টি।
নম্বর টেন কেবল ম্যারাডোনার
আর্জেন্টাইন ফুটবল ঈশ্বর দিয়েগো ম্যারাডোনার পদচারণায় একেবারে সাধারণ মানের একটি ক্লাব থেকে ইউরোপীয় ফুটবলের জায়ান্ট দলে পরিণত হয় ইতালিয়ান দল ন্যাপোলি। সিরিএ তো বটেই, ইউরোপ সেরার মুকুটও ম্যারাডোনার বল পায়ের জাদুতে জয় করে ক্লাবটি। যে কারণে ক্লাবটির ভক্তদের কাছে তুমুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। ন্যাপোলির নাম্বার টেন জার্সি পরে মাঠে নামতেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তী। এখনো পর্যন্ত ওই জার্সি অন্য কোনো ফুটবলারকে পরতে দেয়নি ইতালিয়ান ক্লাবটি। ম্যারাডোনার আগেও বিশ্বের অনেক ফুটবল তারকাই ১০ নম্বর জার্সি গায়ে মাঠে নেমেছিলেন। তারা সেরা খেলা খেলেছেন এই জার্সি পড়েই। তাই ১০ নম্বর জার্সির মহাত্ম্য অনেক। ম্যারাডোনা আর্জেন্টিনার কিংবদন্তী ফুটবলার। তিনি জাতীয় দলের হয়ে ১০ নম্বর জার্সি পড়ে মাঠ কাঁপিয়েছেন। এমনকি ইতালিয় লিগে ম্যারাডোনাকে চিনতেন ১০ নম্বর জার্সির ফুটবলার হিসেবে।
সম্প্রতি দারুণ নৈপুণ্যে ন্যাপোলি ভক্তদের মন জয় করেছেন তরুণ ফরোয়ার্ড লরেনজো ইনসি। অনেক ভক্তই এখন তাকে ম্যারাডোনার নম্বার টেন জার্সি দেয়ার আবেদন করছেন ক্লাবের কাছে। তবে খোদ লরেনজো রাজি নন ওই জার্সির দায়ভার নিতে। তিনি মনে করেন, ন্যাপোলির দশ নম্বার জার্সি কেবল ম্যারাডোনারই। অন্য কোনো ফুটবলারের ওই জার্সি স্পর্শেরও সাধ্য নয়।
আর বিশ্বকাপে তো অসারণ খেলা উপহার দেয়ার জন্য সারা বিশ্বে ম্যারাডোনা এক নামেই পরিচিত।
ওয়েসলে স্নেইজডার
নেদারল্যান্ড (সাবেক হল্যান্ড) এখনো পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন তো হয়ইনি, কখনো ফাইনালও খেলেনি বিশ্বকাপে। সেই দলের খেলোয়াড় ওয়েসলে স্নেইজডার। খেলেন ১০ নম্বর জার্সি গায়ে। স্নেইজডার খেলেন ইতালিয়ান ক্লাব ইন্টারনাশিওনালে। মিডফিল্ডার পজিশনে খেলেন এই ডাচ তারকা। এর আগে তিনি আরেক ইতালিয়ান ক্লাব অ্যাজাক্স ও পরে রিয়াল মাদ্রিদে খেলেছিলেন। ২০০৯ সালে তাকে রিয়াল মাদ্রিদের কাছ থেকে কিনে নেয় ইন্টারনাশিওনাল। আর তার প্রতিদান দিতেও দেরি করেননি এই মিডফিল্ডার। দুর্দান্ত খেলেছেন পুরো মৌসুমে। মিডফিল্ডার হয়েও ৩৪ ম্যাচে করেছেন ৮ গোল। প্রথম বছরেই তিনি ইন্টারনাশিওনালকে এনে দিয়েছেন তিন-তিনটি শিরোপা। সিরি এ, কোপা ইতালিয়া আর উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতিয়েছেন তিনি ক্লাবটিকে। আর জাতীয় দলের হয়েও তার পারফরমেন্স বলার মতো। শুধু ইউরো ২০০৮-এই তিনি ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ হয়েছেন ২ বার। ইউরোতে তার ফ্রান্সের বিরুদ্ধে করা গোলটিও হয়েছে ইউরোর সেরা গোল।

বাংলাদেশ প্রসঙ্গ
আচ্ছা, বাংলাদেশে কারা ১০ নম্বর জার্সি পরতেন? বা এখন পরেন? কে বেশি বিখ্যাত ছিলেন ১০ নম্বর জার্সিতে? কুইজের প্রশ্ন হতেই পারে। বাংলাদেশে এখন হয়তো ১০ নম্বরের আলাদা কোনো আবেদন নেই, কিন্তু একটা সময় ঠিকই লোকে ১০ নম্বরকেই আগে খুঁজে নিত।
স্বাধীনতার আগ থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে অনেকেই ১০ নম্বর পরেছেন। দর্শক মাতিয়ে গেছেন আবেগের স্রোতে। সেই তালিকায় জনপ্রিয়তম নাম অবশ্যই কাজী সালাউদ্দিন। এই জায়গায় কারোরই দ্বিমত নেই। সালাউদ্দিন ছিলেন প্রতিপক্ষের জন্য আতঙ্ক। তিনিই দেশের একমাত্র ফুটবলার, অবসরের পর আবাহনী যাকে দিয়েছে বিরল সম্মান। শুধু সালাউদ্দিনকে সম্মান দেখাতেই পরবর্তী ১০ বছর ১০ নম্বর জার্সিটা আর কাউকে দেয়নি আবাহনী।
১৯৮৪ সালে বুট জোড়া খুলে রাখেন সালাউদ্দিন। ১৯৭২ সালে আবাহনী দিয়ে শুরু, আবাহনীতেই শেষ। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পরতেন ১০ নম্বরই। জাতীয় দলে শুধু এক বছর ১০ নম্বর পাননি। ’৭৯ সালে ঢাকায় এশিয়া কাপের বাছাইয়ে সালাউদ্দিনের কাছ থেকে নিয়ে ১০ নম্বর দেয়া হয় মোহাম্মদ মহসিনকে। মহসিন জাতীয় দলের অধিনায়কত্বও পান সে বছর। তার নেতৃত্বে এশিয়ান বাছাইয়ে বাংলাদেশ গ্রুপ চ্যাম্পিয়নও হয়। ঘরোয়া ফুটবলে ’৭৩ থেকে ’৮৫ পর্যন্ত ব্রাদার্সের ১০ নম্বরটা বরাদ্দ ছিল মহসিনের নামেই।
১০ নম্বর পরে আলোড়ন তুলেছিলেন এনায়েতুর রহমানও (বর্তমানে কানাডা প্রবাসী)। তিনি ছিলেন অনন্য সাধারণ এক ফুটবলার। বিজেএমসি হয়ে মোহামেডানে এসেছেন, দু’দলেই খেলেছেন ১০ নম্বর নিয়ে। মেজর হাফিজ ’৭৩ সালে মোহামেডানের হয়ে ফের খেলা শুরু করে ১০ নম্বর পরতেন। তারপর ’৭৮ সালে এনায়েত মোহামেডানে এলেন। ’৭৯ সালে এনায়েত মোহামেডানে শুরুই করলেন ১০ নম্বর জার্সি নিয়ে।
পঞ্চাশের শেষ দিকে কবির-আশরাফ-মারী ত্রয়ী মোহামেডানের হয়ে মাঠে ত্রাস ছড়াতেন। কবির আহমেদ তখন ডান প্রান্তে খেলতেন আট নম্বর নিয়ে। আশরাফ (৯) ছিলেন সেন্টার ফরোয়ার্ড। লেফট ইনসাইড ফরোয়ার্ড মারী দা খেলতেন ১০ নম্বর নিয়ে।
জানা যায়, স্বাধীনতার আগে জার্সি নম্বর খেলোয়াড়দের জন্য নয়, পজিশনের জন্য বরাদ্দ থাকত। যেমন ১৯৬৯ সালে মোহামেডানে গোলরক্ষক সাহিদুর রহমান শান্টু খেলতেন এক নম্বর জার্সি নিয়ে। একই দলে গোলরক্ষক হিসেবে নূরন্নবীও (মেজর জেনারেল) পরতেন এক নম্বর জার্সি। মোহামেডানে রাইট ব্যাকে জহিরুল হক দুই নম্বর জার্সি নিয়ে খেললে তার জায়গায় অন্য কেউ খেলতে এলে তিনিও ওই দুই নম্বর জার্সিই পরতেন। সব দলেই একই চিত্র ছিল। আশির দশকের মোহামেডানে ১০ নম্বর পরেছিলেন বাদল রায়। মোহামেডানে এরপর বছর চারেক ১০ নম্বর পরেছেন সৈয়দ রুম্মন বিন ওয়ালি সাব্বির। ওই সময় জাতীয় দলেও ১০ নম্বর পেতেন এই স্ট্রাইকার। মোহামেডানে সাব্বিরের কাছ থেকে ১০ নম্বর পেয়েছেন আলফাজ। ক্যারিয়ারের বেশিরভাগই ১০ নম্বর জার্সিতে কেটেছে ইমতিয়াজ আহমেদ নকীবের। মুক্তিযোদ্ধায় ৫ বছর, মোহামেডানে ৭ বছর।
সালাউদ্দিনের পর আবাহনী ১০ নম্বর অবমুক্ত করল ১৯৯৪ সালে। পেয়েছিলেন ইরাকি স্ট্রাইকার নজর আলী। এরপর বিচ্ছিন্নভাবে আরও দু’জন পেয়েছেন। এমিলি আবাহনীতে থাকতে ১০ নম্বর, আলফাজ পরেছেন আকাশি-নীলের ১০ নম্বর। আবাহনীর ১০ পরেছেন রবীন। চোট আঘাতে মাঠেই ঠিকমতো নামতে পারেননি। ১০ নম্বরের উজ্জ্বলতাও তাই ছড়ায়নি।
ফেরা যাক এখনকার সময়ে। এখন কারা ১০ নম্বর জার্সি পরে খেলছেন, তা নিয়মিত খেলা দেখা দর্শকেরাও ঠিকভাবে মনে করতে পারবেন না। জাহিদ হাসান এমিলি ১০ নম্বর নিয়ে নিয়মিতই খেলছেন। যখন যে ক্লাবে যান, ১০ নম্বরটা তিনিই পান। এর বাইরে আর কোনো নাম সেভাবে নেই।
বাংলাদেশ লিগে বর্তমান নয় দলের পাঁচ দলেই ১০ নম্বর পরেন বিদেশিরা। আবাহনীতে নাইজেরিয়ার লাকি পল, তাঁরই স্বদেশি সানডের গায়ে শেখ জামালের ১০ নম্বর, বিজেএমসিতে গিনির ইসমাইল বাঙ্গুরা, ব্রাদার্সের বেনিনের ওয়াসিও ওলালেকান, আরামবাগে উগান্ডান ইদ্রিস কাসুরি।

SHARE

Leave a Reply