Home গল্প অনুবাদ গল্প উপহার

উপহার

মূল : অ্যারন শেফার্ড
অনুবাদ : হোসেন মাহমুদ

(পাক-ভারতের লোককাহিনী)

প্রতিদিনই ঘাস কাটে সে। সেই ঘাস বিক্রি করে বাজারে। মেলে সামান্য কিছু অর্থ। তা দিয়ে জোটে ওয়ালি দাদের পেটের আহার। এভাবেই তার দিন চলে।
শহর থেকে অনেক দূরে এক গাঁয়ে একটি কুটিরে থাকে সে। বুড়ো হয়ে গেলেও রোজ সকালে উঠে সে ঘাস কাটতে যায়। এটাই তার জীবিকার একমাত্র উপায়। সারা দিন ধরে মাঠ থেকে দীর্ঘ ঘাস কেটে আঁটি বাঁধে। বিকেলে মাথায় করে বাজারে নিয়ে যায় বিক্রি করার জন্য।
ওয়ালি দাদ প্রতিদিন ঘাস বিক্রি করে যে সামান্য অর্থ পায় তা তিন ভাগে ভাগ করে। এক ভাগ দিয়ে খাবার কেনে, এক ভাগ যায় প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনা বাবদ। বাকি এক ভাগ সে রাখে একটি মাটির পাত্রে। এটা তার সঞ্চয়। তার জীবনে অন্য কোনো চাহিদা নেই, তাই ঘাস কেটে ও বিক্রি করে তার দিনগুলো সুখে-শান্তিতে কেটে যাচ্ছে।
একদিন রাতে মাটির পাত্রটি বের করে আনে ওয়ালি দাদ। কে জানে এতদিনে ক’টাকা জমেছে। দেখা গেল, পাত্রটির গলা পর্যন্ত ভরে উঠেছে টাকায়। তার জন্য এ-ই অনেক টাকা। কিন্তু এ অর্থ দিয়ে কী করবে, বুঝে উঠতে পারে না। ভাবতে থাকে সে। অনেক ভাবার পর অবশেষে তার মাথায় একটা বুদ্ধি আসে।
পরদিন এতদিনের সঞ্চিত পয়সা একটি থলেতে ভরে নিয়ে সে বাজারে অলঙ্কারের দোকানে হাজির হয়। সুন্দর দেখে একজোড়া সোনার বালা কেনে।
ওয়ালি দাদ দেখা করে তার পরিচিত এক সওদাগরের সাথে। তিনি কিছুদিন পরপরই বাণিজ্য করতে নানা জায়গায় যান। এভাবে অনেক দেশ, নগর, শহর ঘুরেছেন তিনি। অসংখ্য মানুষ তাঁর পরিচিত। সে তাঁকে জিজ্ঞেস করে, জনাব, আপনি তো বহু জায়গার বহু মানুষকে চেনেন। আপনার চেনা-জানা নারীদের মধ্যে মানুষ হিসেবে সবচেয়ে ভালো কে?
তিনি একটুখানি চিন্তা করে জবাব দেন, আমার মতে খায়েস্তানের তরুণী রানীই সবার চেয়ে ভালো। আমি প্রায়ই তাঁর প্রাসাদে যাই। এখান থেকে পুব দিকে তিন দিনের পথ।
ওয়ালি দাদ বলে, আপনি দয়া করে আমার একটি উপকার করবেন। এর পর আপনি আবার ওদিকে গেলে এই দু’টি বালা আমার পক্ষ থেকে সামান্য উপহার হিসেবে তাঁকে পৌঁছে দেবেন।
সওদাগর তার কথায় অবাক হন। কিন্তু ছেঁড়াখোঁড়া পোশাক পরা গরিব মানুষটির মহৎ মনের কথা ভেবে তিনি রাজি হয়ে যান।
কিছুদিন পর খায়েস্তানের রানীর প্রাসাদে পৌঁছলেন সওদাগর। তাঁর হাতে তুলে দিলেন ওয়ালি দাদের পাঠানো উপহার। রানী অপূর্ব সুন্দর বালা দু’টি দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলেন। সওদাগরকে বললেন, এ উপহার যিনি পাঠিয়েছেন, আমিও তাঁকে কিছু উপহার দিতে চাই। আমার ভৃত্যরা এক উট বোঝাই উৎকৃষ্টমানের রেশম আপনার কাছে পৌঁছে দেবে। আপনি দয়া করে সেগুলো তাকে দেবেন।
সওদাগর দেশে ফিরে ওয়ালি দাদের কাছে রানীর উপহার নিয়ে হাজির হন। ওয়ালি দাদ তা দেখে আর্তনাদ করে ওঠে। বলে, হায় হায়, এ কী হলো! আমি আমার সঞ্চিত সামান্য অর্থের বোঝা থেকে মুক্ত হতে চেয়েছিলাম। এখন দেখছি আরো মূল্যবান সম্পদের দায় ঘাড়ে চাপল। এখন আমি কী করি!
সওদাগর এতক্ষণে এই নির্লোভ মানুষটিকে চিনতে পারলেন। তিনি বললেন, এক কাজ করো। অন্য কাউকে এগুলো দিয়ে দাও।
ওয়ালি দাদ কিছুক্ষণ কী যেন চিন্তা করল। তারপর বলল, আচ্ছা, আপনার দেখা পুরুষ লোকদের মধ্যে সবচেয়ে ভালো কে?
নেগাবাদের তরুণ সুলতান। তাঁর প্রাসাদেও আমার যাতায়াত আছে। এখান থেকে পশ্চিমে তিন দিনের পথ।
তাহলে দয়া করে আমার আরেকটি উপকার করবেন। এরপর আপনি আবার যখন সেখানে যাবেন, সুলতানকে এগুলো আমার পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে দেবেন।
সওদাগর রাজি হলেন। তিনি যখন নেগাবাদ গেলেন, ওয়ালি দাদের উপহার সুলতানের নিকট পৌঁছে দিলেন। সুলতান উপহার পেয়ে খুব খুশি হয়ে বললেন, আমার পক্ষ থেকে তাকেও তো কিছু উপহার দিতে হয়। আমার ভৃত্যরা আপনার কাছে সবচেয়ে ভালো বারোটি ঘোড়া পৌঁছে দেবে। আপনি সেগুলো তাকে দেবেন।
সওদাগর ঘোড়াগুলো এনে ওয়ালি দাদকে দিলেন। আবারো আর্তনাদ করে উঠল সে, হায় আল্লাহ্! এ যে আরো বিপদ হলো দেখছি। এ ঘোড়া দিয়ে আমি কী করব? কয়েক মুহূর্ত চিন্তা করল সে। তারপর চিৎকার করে উঠল, পেয়েছি। সমাধান পেয়ে গেছি। আমি জানি কী করতে হবে। সওদাগরকে সে বলে, আপনি দয়া করে আমাকে সাহায্য করুন। এখান থেকে দু’টি ঘোড়া আপনার জন্য রাখবেন। আর বাকি দশটি খায়েস্তানের রানীকে পৌঁছে দেবেন। বলবেন, তাঁর জন্য আমার সামান্য উপহার।
সওদাগরের কাছে বিষয়টা খুব মজার মনে হলো। পরবর্তী সফরে তিনি খায়েস্তানের রানীকে ঘোড়াগুলো পৌঁছে দিলেন।
রানীর এবার বিস্মিত হবার পালা। তিনি উজিরকে বললেন, এই ওয়ালি দাদ লোকটি আমাকে বারবার উপহার পাঠাচ্ছে কেন? আমি তো কখনো তার নামও শুনিনি।
উজির বললেন, এক কাজ করুন। এবার তাকে এমন দামি উপহার পাঠান যাতে সে পাল্টা আর কিছু দেয়ার সাহস না পায়।
ওয়ালি দাদের উপহারের প্রেক্ষিতে খায়েস্তানের রানী বারোটি খচ্চর বোঝাই করে রুপা পাঠালেন। সওদাগর সেগুলো নিয়ে তার কুটিরে হাজির হলেন। ওয়ালি দাদ চিৎকার শুরু করল, আমি ঘাস কেটে তা বেচে সেই পয়সায় দিন গুজরান করি। আমি এ সব দিয়ে কী করব? আপনি দয়া করে আমাকে এ থেকে রেহাই দিন। দু’টি রুপা বোঝাই খচ্চর আপনার নিজের জন্য রাখুন। আর বাকি দশটি নিয়ে যান। আপনি যখন নেগাবাদ যাবেন তখন আমার পক্ষ থেকে এগুলো সুলতানকে উপহার দেবেন।
সওদাগর তার অনুরোধে বিব্রত বোধ করলেও এবারও রাজি হলেন। অল্পদিনের মধ্যেই নেগাবাদের সুলতানের কাছে রুপা বোঝাই দশটি খচ্চর পৌঁছে দিলেন তিনি। সুলতানও আবার ওয়ালি দাদের উপহার পেয়ে বিস্মিত হলেন। কী করা যায় সে ব্যাপারে উজিরের পরামর্শ চাইলেন। উজির বললেন, আমার মনে হয়, সে যে আপনার চেয়ে সম্পদশালী সে কথাটাই বোঝাতে চাইছে। সুতরাং তাকে এমন উপহার দিন যাতে সে আর ফিরতি কিছু দেয়ার সাহস না পায়।
সুলতান বিশটি উট বোঝাই সোনার নূপুর, বিশটি ঘোড়া বোঝাই সোনার জিন ও রেকাব, বিশটি হাতি বোঝাই সোনার নির্মিত হাওদা এবং এসব সামলাবার জন্য বিশজন রাজকর্মচারী ওয়ালি দাদকে উপহার প্রেরণ করলেন।
উপহার বহনকারী পশু ও তাদের দেখাশোনার জন্য প্রেরিত লোকদের নিয়ে সওদাগর ওয়ালি দাদের কুটিরে পৌঁছলেন। ওয়ালি দাদ তার পাশে এসে দাঁড়ায়। দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে, দুর্ভাগ্য থেকে আমার মুক্তি নেই দেখছি। আপনি আর এক মুহূর্তও বিলম্ব করবেন না। এসব কিছুই নিয়ে যান। উপহার বোঝাই দু’টি উট, দু’টি ঘোড়া ও দু’টি হাতি আপনার জন্য রেখে বাকি সব খায়েস্তানের রানীকে আমার পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে পাঠিয়ে দেবেন।
এবার বেঁকে বসলেন সওদাগর। জানালেন, রানীর যে মনোভাব দেখেছেন তাতে আর সেখানে যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু নাছোড়বান্দা ওয়ালি দাদের বারবার অনুরোধে তিনি আরেকবার খায়েস্তানে যেতে রাজি হলেন।
ওয়ালি দাদের বিপুল উপহার দেখে রানী স্তম্ভিত হয়ে গেলেন। আবার উজিরের পরামর্শ চাইলেন তিনি।
উজির বললেন, আমার ধারণা যে লোকটি আপনাকে বিয়ে করতে চায়। আপনি যাতে তার সাথে সাক্ষাৎ করেন সে জন্যই সে এত মূল্যবান উপহার পাঠাচ্ছে।
খায়েস্তানের রানী অসংখ্য উট, ঘোড়া ও হাতির সমন্বয়ে এক বিশাল কাফেলা সজ্জিত করার নির্দেশ দিলেন। এদিকে ভয়ে কাঁপুনি শুরু হয়ে যায় সওদাগরের। রানী কী করতে চাইছেন তা তিনি বুঝতে পারছেন না। রানী সওদাগরকে পথপ্রদর্শক করে ওয়ালি দাদের সাথে দেখা করার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলেন। তৃতীয় দিন তিনি যাত্রা বিরতি করে ওয়ালি দাদকে তাঁর আসার খবর দেয়ার জন্য সওদাগরকে আগে পাঠিয়ে দিলেন।
সওদাগরের কাছে খবর পেয়ে ওয়ালি দাদের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। চিৎকার করে সওদাগরকে বলতে থাকে, হায়, কী বোকামিই না করেছি আমি। এ বোকামির মূল্য এখন সবাইকে দিতে হবে। এখন উপায় কী, বলুন।
কিছু করার আছে বলে আমার মনে হয় না। সওদাগর রানীর কাফেলার কাছে ফিরে গেলেন।
পরদিন খুব সকালবেলা ঘুম থেকে ওঠে ওয়ালি দাদ। নিজের আজীবনের আশ্রয় পর্ণ কুটিরটিকে পানিভরা চোখে বিদায় জানায়। এখান থেকে চলে যাচ্ছে সে, আর কোনোদিন ফেরা হবে না।
কুটির থেকে কিছুটা এগোতেই অচেনা কেউ বলে, কোথায় চললে ওয়ালি দাদ?
অবাক হয়ে পেছনে ঘাড় ফেরায় সে। দেখে, সাদা পোশাক পরা ভারি সুন্দরী দু’টি তরুণী দাঁড়িয়ে আছে। এরা যে পরী তা বুঝতে দেরি হয় না তার।
ওয়ালি দাদ তাদের সামনে হাঁটু গেড়ে বসে। বলে, আমি এক নির্বোধ বৃদ্ধ। আমাকে চলে যেতে দিন। লজ্জায় কারো কাছে আমার মুখ দেখানোর উপায় নেই।
পরীদের একজন বলে, তোমার মতো লোকের কিসের লজ্জা! তোমার পোশাক গরিবের হলেও মন অনেক রাজার মনের চাইতেও বড়।
পরীটি তার একদিকের কাঁধ স্পর্শ করে। সাথে সাথে তার পোশাক নূতন ও দামি পোশাকে পরিণত হয়। মাথায় শোভা পেতে থাকে একটি রতœখচিত পাগড়ি। তার কোমরে গোঁজা মরচে ধরা কাস্তেটি ঝকমকে তরবারি হয়ে যায়।
অন্য পরীটি বলে, ফিরে এসো ওয়ালি দাদ, সব কিছু এখন অন্য রকম হয়ে গেছে।
সে বাড়ির দিকে ঘুরে দাঁড়িয়ে অবাক হয়ে দেখে, তার কুটির আর নেইÑ সেখানে দাঁড়িয়ে আছে এক বিরাট প্রাসাদ। সকালে সূর্যের প্রথম আলোয় তা ঝলমল করছে। সে পরীদের দিকে ঘুরে তাকায়। কিন্তু অদৃশ্য হয়ে গেছে তারা।
ওয়ালি দাদ তড়িঘড়ি করে বাড়িতে আসে। বাড়িতে ঢুকতে রক্ষীরা তাকে অভিবাদন করে, ভৃত্যরা মাথা নুইয়ে সম্মান জানায়। তারপর অতিথিদের স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি চলতে থাকে।
প্রাসাদে অসংখ্য কক্ষ দেখে সে অবাক হয়। এগুলো দিয়ে কী করবে, তা তার মাথায় আসে না। এ সময় তিন ভৃত্য দৌড়ে আসে। একজন বলে, পুবদিক থেকে এক বিরাট কাফেলা আসছে।
আরেকজন বলে, না, পশ্চিম দিক থেকে এক বিরাট কাফেলা আসছে।
তৃতীয়জন বলে, না, দু’দিক থেকেই কাফেলা আসছে।
বাড়ির বাইরে এসে ওয়ালি দাদ দেখেÑ পুব দিক থেকে একটি কাফেলা এসেছে। সেখানে রয়েছেন একজন অসাধারণ সুন্দরী তরুণী রানী। পশ্চিম দিক থেকে আসা কাফেলার সাথে রয়েছেন এক তরুণ সুলতান। সে রানীর কাছে ছুটে যায়। তিনি মিষ্টি কণ্ঠে বললেন, তাহলে ওয়ালি দাদ, শেষ পর্যন্ত আমাদের দেখা হলো। কিন্তু এ তরুণ সুলতানটি কে?
সে জবাবে বলে, আমার মনে হয় ইনি নেগাবাদের সুলতান। মহামান্য রানী, আমি এখুনি আসছি।
ওয়ালি দাদ সুলতানের কাছে হাজির হয়। তাকে দেখে সুলতান বলেন, প্রিয় ওয়ালি দাদ! বিপুল পরিমাণ উপহারদাতা মানুষটিকে আমি দেখতে এসেছি। কিন্তু এই রানীটি কে?
ইনি খায়েস্তানের রানীÑ মৃদু হেসে বলে সে। আসুন, আপনার সাথে তাঁর পরিচয় করিয়ে দেই।
খায়েস্তানের রানী এবং নেগাবাদের সুলতান পরস্পরকে দেখে মুগ্ধ হন। দু’জনের সম্মতি নিয়ে নিজের প্রাসাদে তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করে বৃদ্ধ ওয়ালি দাদ। অনেক দিন ধরে চলে তাদের বিয়ের উৎসব।
একদিন সব অতিথি বিদায় নেয়। পরদিন ভোরের আগেই ঘুম থেকে ওঠে ওয়ালি দাদ। চুপিসারে প্রাসাদ থেকে বের হয়ে আসে। পা চালিয়ে হাঁটতে থাকে। আর ফিরবে না সে এখানে।
বেশি দূরে যায়নি ওয়ালি দাদ। পেছন থেকে কে যেন বলে, কোথায় যাচ্ছ ওয়ালি দাদ?
ঘাড় ফিরিয়ে তাকায় সে। সেই দুই পরী। তাদেরই একজন কথা বলেছে। সে তাদের সামনে গিয়ে হাঁটুু গেড়ে বসে সম্মান প্রদর্শন করে। তারপর বলে, দেখুন, আমি আগেই আপনাদের বলেছিলাম যে আমি এক অকর্মা বুড়ো মানুষ। আপনারা আমাকে যা দিয়েছেন তার জন্য অনেক ধন্যবাদ, কিন্তু…
আর কিছু বলতে হবে না। তোমার মনের ইচ্ছাই পূরণ হবেÑ পরীদের একজন এ কথা বলে আবার তার শরীর স্পর্শ করে।
ওয়ালি দাদ দেখে, সে তার আগের কুটিরের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। দুই পরী, আলিশান প্রাসাদ, অসংখ্য ভৃত্যÑ সব কোথায় মিলিয়ে গেছে। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে সে। আবার শুরু হয় তার আগের জীবন।
মাঝে-মধ্যে নেগাবাদের সুলতান ও খায়েস্তানের রানীর কথা মনে হয় তার। তারা যাতে সুখে-শান্তিতে থাকেÑ সে জন্য আল্লাহ্র কাছে দোয়া করে। কিন্তু এরপর ভুলেও তাদের জন্য কোনোদিন কোনো উপহার আর পাঠায়নি সে।

 

SHARE

5 COMMENTS

Leave a Reply