Home সায়েন্স ফিকশন মঙ্গলে প্রাণ

মঙ্গলে প্রাণ

আমিনুল ইসলাম

স্কুল থেকে ফিরে কেজি পাঁচেক ওজনের স্কুল ব্যাগটি টেবিলে আলতোভাবে রাখল রাহাত। এরপর ক্লান্ত শ্রান্ত শরীরটা বিছানায় এলিয়ে দিল। অন্য দিনের তুলনায় আজ সে অধিক টায়ার্ড। তার ওপর বিজ্ঞান ক্লাসের মুস্তাফিজ স্যার হোম ওয়ার্ক না করার দায়ে বকেছেন। কিছুক্ষণ শুয়ে থাকার পর অনুভব করল রাজ্যের একরাশ ঘুম এসে যেন তাকে আচ্ছন্ন করল। ঘুম থেকে উঠে নিজেকে আবিষ্কার করল এক অপরিচিত স্থানে। চারদিকে শ্বেত পাথরের তৈরি এক বিশাল কক্ষ। আর সে শুয়েছিল মেঝেতে। উঠে কিছু সময় ধরে কক্ষটি পায়চারি করল এবং খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখল কক্ষের দেয়ালে লাগানো পাথরগুলো। ভয় ও বিস্ময়ে রাহাতের বাকশক্তি হারিয়ে ফেলার অবস্থা। হঠাৎ এ সময় অদৃশ্য থেকে কক্ষে প্রবেশ করল সারা গায়ে সাদা আলখেল্লা পরিহিত তিনজন লোক। তাদের মধ্যকার নেতাগোছের লোকটি রাহাতের মুখোমুখি হয়ে আর বাকি দু’জন লোকটির বামে-ডানে দাঁড়ালো। এদেরকে দেখে রাহাতের হৃদপিণ্ড এক লাফেই যেন কণ্ঠনালীর নিকট এসে পৌঁছল। কিছুক্ষণ নীরবতার মধ্যে কাটল তাদের। এর মধ্যে অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে উঠল রাহাত।
তার সম্মুখে দাঁড়ানো লোকটিকে লক্ষ্য করে প্রশ্ন ছুড়ল, আমি এখন কোথায়? তোমরা কে আর আমাকে এখানে কেন এনেছ?
প্রতি-উত্তরে লোকটি বলল, সব জানতে পারবে, কিছুটা সবুর কর।
রাহাতের যেন তর সইছে না, মাথাটা তার ঝিমঝিম করছে। সামনের লোকটি যেন চেহারা দেখে রাহাতের সব কথা পড়ে নিচ্ছে। আবার সেই পূর্বের প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি করল। একরাশ বিরক্তি ভরা ঝাঁঝালো কণ্ঠ তার।
নেতাগোছের লোকটি বলল, তুমি এখন পৃথিবী থেকে অনেক দূরে, তবে পৃথিবীর সবচেয়ে নিকটবর্তী মঙ্গলগ্রহে। আমরা এই গ্রহের বাসিন্দা। আমর নাম ডেভিড ক্লার্ক। আর আমার ডান পাশে বিজ্ঞানী ড. মার্শ ও বাম পাশে দাঁড়ানো বিজ্ঞানী ড. ফার্গুসন।
দীর্ঘ এক স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল রাহাত। সাথে কিছুটা অবাকও হলো লোকটির মুখে স্পষ্ট ঝর ঝরা বাংলাভাষা শুনে। তোমরা ভিন গ্রহের প্রাণী হয়েও কিভাবে বাংলা ভাষায় কথা বললে, জিজ্ঞেস করল রাহাত।
বিজ্ঞানীর মধ্য থেকে একজন উত্তর দিল, তুমি যে ভাষায় কথা বলবে আমরা সেই ভাষায় কথা বলতে পারব।
মুহূর্তখানেক নীরবতার পর রাহাত আবার জিজ্ঞেস করল, আমাকে তোমরা এখানে কেন এনেছো?
তোমাদের পৃথিবী জনমানবপূর্ণ একটি আদর্শ গ্রহ। কিন্তু আমাদের এই গ্রহটি একেবারে জনমানবশূন্য। তাই আমরা এখানে প্রাণের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে চাই।
কিছুদিন পূর্বে তোমাদের নাসা থেকে তিনজন বিজ্ঞানী এসেছিলেন এই মিশন নিয়ে কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়ে ফিরে গিয়েছেন। তবে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ২০২০ সালের মধ্যে এটিকে পৃথিবীর ন্যায় একটি আদর্শ গ্রহে পরিণত করব। বললেন বিজ্ঞানী ড. মার্শ।
রাহাত যেন তার প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ জবাব পেল না। তাই সে আবার বলল, এখানে আমার কাজ কী?
তুমি আমাদের কর্মে সহযোগিতা করবে।
রাহাত কিছুটা অবাকের সুর বলল, আমি কিভাবে তোমাদের কর্মে সহযোগিতা করা?
মানুষের মস্তিষ্কে নিউরনের সংখ্যা বেশি। এবং তাদের মেধা আমাদের তুলনায় বহুগুণ শার্প। তাই আমরা তোমার মস্তিষ্ক সার্জারি করে আমাদের রোবটের মাথায় স্থাপন করবো। এরপর শুরু হবে আমাদের মিশন।
লোকটির কথা শুনে রাহাত অনেকটা প্রতিবাদের সুরে বলল, তোমাদের এই মিশন কখনো বাস্তবায়ন হবে না।
কিন্তু আমরা আশা করছি যে আমরা সফল হবো।
আশা করতে দোষ নেই। তবে বাস্তবতাকেও দূরে ঠেলে দেয়া যাবে না। বর্তমান আধুনিক বিজ্ঞান বলছে পৃথিবীতে প্রাণীর জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন রয়েছে। পৃথিবী পৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা ১৩.৯০০ সেলসিয়াস। এর ভূত্বকে প্রয়োজনীয় পানি রয়েছে । এক কথায় এটি জীবন ধারণের জন্য আদর্শ গ্রহ। আর মঙ্গল (গঅজঝ)  গ্রহের বায়ুমণ্ডলে শতকরা ৩ ভাগ নাইট্রোজেন ও শতকরা ২ ভাগ আরগন গ্যাস আছে। পানির পরিমাণ খুবই কম। এটি পৃথিবীর তুলনায় অনেকটা ঠাণ্ডা, গড় উত্তাপ হিমাঙ্কের অনেক নিচে। তাই এতে প্রাণের অস্তিত্ব কল্পনা করাও বৃথা।
বিজ্ঞানীগণ বাধ্য ছাত্রের মতো রাহাতের কথাগুলো গোগ্রাসে গিলছে। চোখে তাদের একরাশ বিস্ময় ও হতাশা। তারা সমস্বরে বলে উঠল, রাহাত তোমাকে অনেক ধন্যবাদ। তোমার মুখনিঃসৃত তথ্যগুলো আমাদের জানা ছিল না। তাই আমরা ভুলপথে পা বাড়িয়ে ছিলাম। এখন আমরা নির্দ্বিধায় স্বীকার করছি একমাত্র পৃথিবীই প্রাণিজগতের জীবন ধারণের জন্য আদর্শ গ্রহ।

SHARE

Leave a Reply