Home জানার আছে অনেক কিছু জানার আছে অনেক কিছু

জানার আছে অনেক কিছু

শীতকাল ঠাণ্ডা কেন
উফ্! কী ঠাণ্ডারে বাবা! হাড়গোড় কাঁপছে ঠক্ ঠক্ করে। কিন্তু শীতকাল এত ঠাণ্ডা কেন? সব দোষ আসলে পৃথিবীর। তোমরা তো জানিই, সূর্যের চারপাশে ২৩.৫ ডিগ্রি হেলে ঘুরছে পৃথিবী। সোজাসুজি ঘুরলেও না হয় একটা কথা ছিল। এই হেলে ঘোরার কারণে পৃথিবীর কিছু এলাকা সূর্য থেকে অনেক দূরে আর কিছু এলাকা সূর্যের কাছাকাছি থাকে। যখন যে এলাকা সূর্য থেকে দূরে চলে যায়, তখনই সে এলাকায় শীত নামে। কারণ পৃথিবীর তাপমাত্রা নির্ভর করে সূর্যের আলোর ওপর। আরেকটা কারণ আছে। গ্রীষ্মকালে সূর্যের আলো পৃথিবীতে পড়ে একেবারে খাড়া হয়ে। এই খাড়া হয়ে পড়ার কারণে সূর্যের আলো খুব বেশি ছড়িয়ে যেতে পারে না। ফলে সূর্যের আলোয় থাকে প্রচণ্ড উত্তাপ। তার ওপর গরমের সময় দিনগুলো হয় বড়। সূর্যের উত্তাপও থাকে বেশি সময় ধরে। কিন্তু শীতকালে সূর্যের আলো খাড়া না হয়ে বেশ খানিকটা হেলে পড়ে। হেলে পড়ার কারণে আলো ছড়িয়ে পড়ে বেশি। তা ছাড়া শীতে দিনের দৈর্ঘ্যও কম। সূর্যের আলোও থাকে কম। পৃথিবী গরম হওয়ার সময়ই পায় না। এসব কারণ মিলেই শীতকাল এতো ঠাণ্ডা।

সাগরের মাছগুলো রঙিন হওয়ার কারণ
বিবর্তনের সবকিছুই যে অভিযোজন কিংবা ‘বাড়তি উপযোগিতা’ নির্ভর তা কিন্তু নয়। বহু কিছু উদ্ভূত হয়েছে অন্য অনেক কিছুর অভিযোজনের ‘বাই-প্রোডাক্ট’ হিসেবে, কিংবা ‘র‌্যান্ডম ড্রিফটের’ ফসল হিসেবে। যেমন, আমাদের হাড়ের যে সাদা রঙ এটাকে অভিযোজন বা এডাপ্টেশন দিয়ে ব্যাখ্যা করলে চলবে না। কারণ, অভিযোজনের দিক দিয়ে হাড়ের সাদা রঙের কোনো বাড়তি মূল্য নেই। আমাদের হাড় যে ক্যালসিয়াম দিয়ে তৈরি তার ফলে ‘বাই-প্রোডাক্ট’ হিসেবে এই সাদা রং তৈরি হয়েছে। আমাদের মানুষদের গায়ের রঙও কিন্তু ভিন্ন হয়। চুলের রং কারো সাদা, কারো কালো, কারো বা বাদামি। চোখের মণি কারো নীল, কারো কটা, কারো বা সবুজ। লাল, কমলা ইত্যাদি গাঢ় রঙের মাছগুলো মূলত থাকে হ্রদের নিচের দিকে, কারণ লাল রঙের আলো নীলচে আলোর চেয়ে হ্রদের অনেক বেশি গভীরে যায়। সাদা, সবুজ আর হালকা রঙের মাছগুলো থাকে পানির উপর দিকে। এভাবেই রঙের তারতম্য এবং পানির গভীরতাকে কাজে লাগিয়ে তারা শিকারিদের চোখ এড়িয়ে টিকে থাকে। ভিক্টোরিয়ান হ্রদে রঙের এই তারতম্যকে পুঁজি করে পৃথক প্রজাতিই তৈরি করে ফেলেছে মাছেরা। আলোর প্রতিসরণকে পুঁজি করে আফ্রিকার ভিক্টোরিয়া হ্রদের ভিন্ন গভীরতায় মাছেদের পৃথক প্রজাতি তৈরি হয়েছে।
হ জে হুসাইন

SHARE

Leave a Reply