Home বিজ্ঞান নতুন বছরের প্রযুক্তি

নতুন বছরের প্রযুক্তি

সাকিব রায়হান

নতুন নতুন গবেষণা আর আবিষ্কারের মাধ্যমে মানব সভ্যতাকে প্রতিনিয়ত এগিয়ে নিচ্ছে বিজ্ঞান। ২০১২ সালে বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তির প্রসার হয়েছে ব্যাপক। নতুন বছরেও প্রযুক্তি বিশ্বকে রাঙাতে হাজির হচ্ছে অসংখ্য আবিষ্কার। আধুনিক বিশ্বে তথ্যপ্রযুক্তির প্রয়োগ সর্বক্ষেত্রে অনেক দূর এগিয়েছে। চলতি বছরে বিশ্বকে আলোকিত করবে এমন কিছু প্রযুক্তি নিয়ে এবারের লেখা।
গুগলের চশমা
গুগলের এই অভিনব প্রযুক্তিটি নতুন দুয়ার উন্মোচন করেছে। এটি চশমার ভেতর কম্পিউটারের মিনি সংস্করণ। গুগলের এ প্রজেক্টের মাধ্যমে চশমার কাচেই কম্পিউটার বা ফোনের ডিসপ্লের মতো যাবতীয় প্রয়োজনীয় তথ্য ভেসে উঠবে, ব্যবহারকারীরা সেখান থেকে ফটো শেয়ার, ভিডিও চ্যাট, ইন্টারনেট চালানো, ম্যাপ দেখা থেকে শুরু করে প্রায় সব কাজই করতে পারবেন। বর্তমানে এর পরীক্ষামূলক ব্যবহার চলছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ বাণিজ্যিকভাবে এটি বাজারে আসতে পারে। এটি পরতে হয় মাথায়। ডিভাইসটির ডান পাশে একটি ছোট ডিসপ্লে আছে। অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমে চালিত গুগল গ্লাসে ভিডিও দেখা যাবে। সাথে থাকবে ই-মেইল সুবিধা। চলার পথে ছবি তোলা বা ভিডিও করার অপশন রয়েছে। ভবিষ্যতে ম্যাপ এবং সেই সাথে কলিং ও মেসেজিং সার্ভিসও যুক্ত করার কথা জানিয়েছে গুগল।
লিট্রো ক্যামেরা
ডিজিটাল ক্যামেরা বিপ্লবের পর ফটোগ্রাফির জগতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন চলতি বছর আবিষ্কৃত লিট্রো ক্যামেরা। এতো দিন পর্যন্ত ক্যামেরায় ছবি তোলার সময় আলোর কেবল একটি তল প্রবেশ করত, যার ফলে ছবিকে উপযুক্ত করে তোলার জন্য কৃত্রিম জুম, ফোকাস ইত্যাদি ব্যবহার করতে হতো। কিন্তু এ লিট্রো ক্যামেরার লেন্সে সামনে থাকা বস্তুর সম্পূর্ণ আলোর ক্ষেত্রটি প্রবেশ করে, যার ফলে ছবির শতভাগ কোয়ালিটি ঠিক রেখে ফোকাস, জুমসহ বিভিন্ন পরিবর্তন করা সম্ভব। টেলিস্কোপে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে মহাকাশ বিজ্ঞানে নতুন মাত্রা আনা সম্ভব বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। নতুন বছরে একে কেন্দ্র করে পরবর্তী প্রজন্মের ক্যামেরা বাজারে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রথম প্রজন্মের ক্যামেরাগুলোয় সামান্য সমস্যা থাকলেও লিট্রোর মূল প্রযুক্তিটি যুগান্তকারী। এই লিপস্টিক আকৃতির ক্যামেরাটি ব্যবহারকারীকে দেবে চিন্তাহীন ছবি তোলার নিশ্চয়তা এবং পরে ফোকাস ঠিক করার বিশেষ বৈশিষ্ট্য। এ ছাড়া ফার্মওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে যুক্ত করতে পারেন ম্যানুয়াল শাটার কন্ট্রোল বৈশিষ্ট্যটি।
লিফ মোশন কম্পিউটার
কী বোর্ড আর মাউসের যুগ শেষ করার জন্য পুরো বিশ্ব উঠেপড়ে লেগেছে। তার সর্বশেষ প্রমাণ লিপ মোশন নামক প্রযুক্তি। ছোট্ট একটি ডিভাইস কম্পিউটারের ইউএসবি পোর্টে যুক্ত করলেই প্রবেশ করতে পারবেন ইশারার জগতে। মনিটরের সামনে হাত ও আঙুল নড়াচড়া করেই সারতে পারবেন সব কাজ। হাতের বিভিন্ন নড়াচড়া ও ইঙ্গিত বোঝার জন্য বিশেষ সেন্সর ব্যবহার করে থাকে যন্ত্রটি। ২০১৩ সালেই কী বোর্ড-মাউসের বদলে এ লিপ মোশনসংবলিত কম্পিউটার বাজারে আসতে পারে।
অ্যাপল আইওয়াচ
চলতি বছর অ্যাপল নিয়ে আসছে আই ওয়াচ, যেটি হাতঘড়ির মতো হলেও থাকবে আরো কিছু সুবিধা। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য এক কোটি ডলার ব্যয় করা হবে বলে জানিয়েছে কয়েকটি ওয়েবসাইট। ডিভাইসটিতে ইন্টেলের চিপ ব্যবহার করা হবে। সাথে থাকবে অ্যাপলের নিজস্ব ইন্টারফেস। শুধু হাতে করে বহন নয়, যাতে চশমা বা হাতঘড়ির মতোই প্রযুক্তিকে সহজে ব্যবহার করা যায় তা নিয়ে চলছে গবেষণা। ১ দশমিক ৫ ইঞ্চি স্ক্রিনের ডিভাইসটিতে মোবাইলের অপশন ছাড়াও নতুন লো পাওয়ার ব্লুটুথ টেকনোলজি ব্যবহার করা হবে। এতে থাকবে অত্যাধুনিক মিউজিক কন্ট্রোল সিস্টেম এবং ভয়েস কমান্ড দিয়ে প্রোগ্রাম চালাতে অ্যাপলের ভয়েস এসিসটেন্ট সিরি। ন্যানো টেকনোলজি ব্যবহারের কম এনার্জি খরচ হবে।
আই ট্র্যাকিং কম্পিউটার
কয়েক বছর আগেই চোখ দিয়েই উইন্ডোজ ৮ পিসিতে ট্যাব পরিবর্তন বা স্ক্রলিংয়ের উপযোগী আই-ট্র্যাকিং প্রযুক্তির উত্থান হয়েছে। তবে পিসিতে ব্যবহারের জন্য তৈরি বিশ্বের প্রথম আই-ট্র্যাকিং প্রযুক্তি পণ্য বাজারে আসছে এ বছরই। আই-ট্র্যাকিং প্রযুক্তিতে শুরুর দিককার প্রতিষ্ঠান টোবি ক্রেতাদের জন্য এ বছরেই বাজারে আনবে নতুন আই-ট্র্যাকিং ডিভাইস রেক্স, যা ব্যবহার করা যাবে উইন্ডোজ ৮ অপারেটিং সিস্টেমের পিসিতে।
টোবির তৈরি রেক্স ডিভাইসটি যুক্ত থাকবে ডেস্কটপ আর ল্যাপটপের মনিটরের নিচে। ডিভাইসটির সাথে পিসির সংযোগ স্থাপন করতে হবে ইউএসবি পোর্ট দিয়ে। আর ডিভাইসটি চালাতে প্রয়োজন হবে টোবি গেইজ সফটওয়্যারটির। সফটওয়্যারটির সাহায্য নিয়ে মনিটরের সামনে বসা ব্যক্তির চোখের নড়াচড়ার প্রতি লক্ষ্য রাখবে রেক্স। রেক্সের বদৌলতে কেবল চোখের দৃষ্টি দিয়েই উইন্ডোজ ৮ পিসিতে ট্যাব পরিবর্তন বা স্ক্রলিংয়ের মতো কাজ করতে পারবেন ব্যবহারকারী।
রেটিনা স্ক্যান
বিজ্ঞানীরা চোখের রেটিনা পরীার মাধ্যমে মাল্টিপল সেকরোসিস রোগটির অবস্থা নির্ণয় করার পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন। রেটিনার পেছনের অংশ স্ক্যানের মাধ্যমে মাল্টিপল সেকরোসিস রোগের অবস্থা নির্ণয় করার প্রযুক্তি আবিষ্কারের কথা জানিয়েছেন জনস হপকিনস ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের একদল গবেষক। এ জন্য অপটিক্যাল কোহেরেন্স টমোগ্রাফি (ওসিটি) স্ক্যানের মাধ্যমে চোখের মণির পেছনের আলোক সংবেদনশীল পর্দার অবস্থা পর্যবেণ করা হয়। এ জন্য প্রতি চোখের পরীা ও সার্জারি করতে সময় লাগবে মাত্র কয়েক মিনিট এবং ডাক্তারেরা এতে সহজেই রোগীর অবস্থা জানাতে পারবেন। পরীামূলকভাবে ১৬৪ জন রোগীর ওপর এ গবেষণা করা হয়। সাধারণ মানুষের তুলনায় মাল্টিপল সেকরোসিস রেটিনার আবরণ দ্রুত পাতলা হয়।

SHARE

1 COMMENT

Leave a Reply