Home সাহসী মানুষের গল্প আলোর মিছিলে

আলোর মিছিলে

কায়েস মাহমুদ..

আরবের এক বিখ্যাত কবি।
সর্বত্রই তাঁর নামের খ্যাতি।
এক নামে সবাই তাঁকে চেনে।
আরবের মানুষ প্রাণ দিয়ে ভালোবাসে তাঁকে।
নাম তাঁরÑকবি লাবিদ!
আরবের বিখ্যাত কবিকুলের মধ্যে একজন শ্রেষ্ঠ কবি।
গোটা আরব জুড়ে বইছে তার সুখ্যাতির সুবাতাস।
আরববাসীর মুখে মুখে তার নাম।
প্রতি মুহূর্ত উচ্চারিত হয় তার কবিতার পঙ্ক্তি।
সেই বিখ্যাত কবি লাবিদ।Ñ
তখনও আঁধার ফুঁড়ে আলো আসেনি তার সামনে।
সময়টা যে জাহেলী যুগ!
কিন্তু সত্য সন্ধানী লাবিদ। তিনি প্রতীক্ষায় প্রহর গুনেন। ঠিক একজন কবির মতই। আর ভাবতে থাকেন। ভাবতে থাকেন একূলÑদুকূল। এত খ্যাতি, এত নামডাক তাতেও কবির মন ভরে না। বরং কী এক তৃষ্ণার যাতনায় তিনি কেবল সারাক্ষণই তড়পান।
কী সেই তৃষ্ণা?
কী সেই যাতনা?
সে কেবল আলোর তৃষ্ণা।
তার আলো চাই। সত্যের আলো। যে আলোতে আলোকিত হতে পারেন কবি ও তার কবিতা!
লাবিদ তখন কবি খ্যাতির উচ্চাসনে আরোহণ করেছিলেন।
প্রাক-ইসলামী কাব্যজগতে তখন তাঁর সম্মান সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছিল।
তিনি আরব্য সংস্কৃতি ও সভ্যতার ধারক ও বাহকরূপে পরিচিত ছিলেন।
সেই সময় তাঁর কাছে ইসলামের আহ্বান পৌঁছে। প্রায় শতবর্ষ বয়সী কবি লাবিদ তাঁর গোত্রের বহু গণ্যমান্য ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে মদীনায় গমন করে রাসূলের (সা) দরবারে উপস্থিত হন। সেখানে পৌঁছে তিনি আল কুরআন এই সমস্ত আয়াতের আবৃত্তি মন দিয়ে শোনেন।Ñ
তারই সৎপথের বিনিময়ে ভ্রান্ত পথ ক্রয় করেছে, কাজেই তাদের ব্যবসা লাভজনক হয়নি, আর তারা সুপথগামীও নয়। তাদের উপমা ঐ ব্যক্তির মত, যে অগ্নি প্রজ্ব¡লিত করল, তা যখন তার চতুর্দিক আলোকিত করল, তখন আল্লাহ তাদের জ্যোতি অপসারিত করলেন আর তাদের ফেলে দিলেন ঘোর অন্ধকারে, যেন তারা কিছুই দেখতে না পায়। তারা বধির, মূক ও অন্ধ। সুতরাং তারা আর ফিরবে না। অথবা তাদের উপমা আকাশ হতে মুষলধারে ভারি বর্ষণের মত, যাতে থাকে অন্ধকার, বজ্রধ্বনি ও বিদ্যুৎ চমক। তারা বজ্রধ্বনি শ্রবণে মৃত্যুভয়ে তাদের কর্ণকুহরে আঙুল প্রবিষ্ট করায়। আর আল্লাহ সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের পরিবেষ্টন করে আছেন। বিদ্যুৎচমক তাদের দৃষ্টিশক্তি প্রায় অপহরণ করে নেয়, যখনই বিদ্যুতালোক তাদের সামনে উদ্ভাসিত হয়, তখন তারা সেই আলোতে পথ চলতে থাকে আর যখন তারা অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়ে যায়, তখন তারা সম্যক দাঁড়িয়ে যায়। আল্লাহ যদি ইচ্ছা করতেন তাহলে তাদের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিভঙ্গি হরণ করতেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ব বিষয়েই সর্বশক্তিমান। হে মানবম-লী। তোমরা তোমাদের সেই প্রতিপালকের ইবাদাত কর, যিনি তোমাদের ও তোমাদের পূর্ববর্তী ব্যক্তিদের সৃষ্টি করেন। যাতে তোমরা সংযমী হও। (সূরা আল বাকারা : ১৬-২১)
আল কুরআনের অনুপম ভাষা, অপূর্ব আলঙ্কারিক সৌন্দর্য, অপরূপ অর্থ ব্যঞ্জনা আর অসাধারণ প্রকাশ ক্ষমতা লাবিদকে এমনভাবে সম্মোহিত করে তুলেছিল যে, তখনই তিনি রাসূলের (সা) হস্তে পবিত্র ইসলাম গ্রহণ করে ধন্য হন।
আমাদেরও ভেবে দেখা দরকার যে, কিভাবে লাবিদ (রা)Ñএর মত একজন উঁচুমানের খ্যাতিমান কবিও কুরআনের সম্মোহনী শক্তি বলে প্রভাবান্বিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করলেন!
লাবিদ (রা)Ñএর ইসলাম গ্রহণের ঘটনা নিঃসন্দেহে কুরআনের প্রভাব বিস্তার ক্ষমতার এক জাজ্বল্যমান দৃষ্টান্ত।
ইসলাম গ্রহণের পর পুলকিত লাবিদ। তিনি সমান শিহরিত ও আনন্দিত। তিনি সন্ধান পেলেন এমন এক রতœ সম্ভারের, যার তুল্যমূল্য হিসাবের বাইরে। কি অসীম পাওয়া!Ñ
একেবারেই আসমানের চাঁদÑরাসূলকে (সা) পেয়ে গেলেন কাছে, খুবই কাছে। আপন করে।
পেয়ে গেলেন আল কুরআনের সম্মোহনী জাদুর স্পর্শ।
আর ইসলামের ছায়াতলে যিনি আশ্রয় নেন, মহান রব তো তার সাথেই থাকেন।
একই সাথে এত প্রাপ্তি!Ñ
আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। দু’চোখ বেয়ে নেমে আসে তার আরব সাগরের উচ্ছল ঢেউ।
মুহূর্তেই বদলে যান কবি। বদলে যায় তার কবিতার ধারাও।
যে হাত দিয়ে তিনি আগে লিখতেন শুধু আশাহত, স্বপ্নভঙ্গ, বিষাদ-বেদনা কিংবা প্রেমের কবিতাÑসেই হাতেই এবার লিখতে থাকলেন আলো আর আলোর কাহিনী।
রাসূল (সা) কবিতা পছন্দ করতেন।
ভালোবাসতেন কবিকেও।
রাসূলের (সা) সেই ভালোবাসার অতি প্রিয় কবিদের দলে যুক্ত হলেন আর এক বিখ্যাত কবি লাবিদ।
ফিরে এলেন গাঢ়তর অন্ধকার থেকে জোছনা প্লাবিত এক আশ্চর্য সুন্দর জীবনে।
শামিল হয়ে গেলেন প্রখ্যাত কবি লাবিদ আলোর মিছিলে।
কী সৌভাগ্যবান কবি!
তাঁর মতো আলোকিত জীবন গড়তে এসো আমরাও শপথ গ্রহণ করি।

SHARE

Leave a Reply