Home খেলার চমক ক্রিকেটের যমজ ভাইয়েরা

ক্রিকেটের যমজ ভাইয়েরা

রাফিউল ইসলাম

মাতৃগর্ভে একসঙ্গে বাস, পৃথিবীর আলো দেখা কিছুক্ষণের ব্যবধানে। এরপর একসঙ্গে ক্রিকেট খেলা। শুধু বাড়ির আঙিনা বা পাড়ার মাঠে নয়, জাতীয় দল কিংবা স্বীকৃত কোনো পর্যায়ে! চলো শোনা যাক ক্রিকেটের কয়েকজন যমজ ভাইয়ের গল্প।
দুই ওয়াহ
ক্রিকেটে তো বটেই, সব খেলা মিলিয়েও যমজদের গল্প বলতে গেলে শুরুর দিকে রাখতে হবে ওয়াহদের। শুধু যমজই বা কেন, ক্রিকেটের সফলতম ভাই জুটিও দুই ওয়াহ। স্টিভের চার মিনিট পর পৃথিবীর আলো দেখেছেন মার্ক, আন্তর্জাতিক অভিষেকেও পেছনে মার্ক। ওয়ানডে অভিষেক স্টিভের তিন বছর পর, টেস্ট অভিষেক ছয় বছর। মার্কের টেস্ট অভিষেকটাও আবার ক্রিকেটের অমর এক গল্প। টেস্ট দলে সুযোগ পেয়েছিলেন যমজ বড় ভাই স্টিভের বদলে! তবে স্টিভ ফিরেছেন দ্রুতই। পরবর্তী প্রায় এক যুগ দুই ভাই ছিলেন অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে বড় ভরসা। দু’জনে মিলে ৮৬৫ আন্তর্জাতিক ম্যাচ, ৩৫ হাজারের বেশি আন্তর্জাতিক রান, ৪৩১ উইকেট, ৫১২টি ক্যাচÑ এই পরিসংখ্যানের পর ওয়াহদের নিয়ে আর কিছু বলার প্রয়োজন মনে হয় নেই। একসঙ্গে মাতৃগর্ভে থাকাই শুধু নয়, একই রুমে দীর্ঘদিন থেকেছেন দু’জন, বেড়ে উঠেছেন একই সঙ্গে। তার পরও খেলার ধরন, ব্যক্তিত্ব সবকিছুতেই দু’জন ছিলেন আলাদা। এই প্রেক্ষাপট থেকেই জন্ম ক্রিকেটের সবচেয়ে বিখ্যাত স্লেজিংগুলোর একটির। ২০০১ অ্যাশেজের ওভাল টেস্টে অভিষিক্ত ইংলিশ পেসার জিমি অরমন্ডকে মার্কের স্লেজিং, ‘মেট, তুমি এখানে কী করছ, তুমি তো টেস্ট খেলার যোগ্যই নও!’ অরমন্ডের জবাব, ‘হয়তো তোমার কথা ঠিক, তবে আমি অন্তত আমার পরিবারের সেরা ক্রিকেটার!’
সিগন্যাল
ক্রিকেটের বিখ্যাত যমজদের কথা অনেকেই জানো, কিন্তু একসঙ্গে টেস্ট খেলা প্রথম যমজের কথা ক’জন জানো? তথ্যটি তাই অনেকের জন্যই আসবে বিস্ময় হয়ে, একসঙ্গে টেস্ট খেলা যমজ কিন্তু ছেলে-ক্রিকেটার নন, মেয়ে-ক্রিকেটার! জন্মই শুধু একসঙ্গে নয়, লিজ ও রোজ সিগন্যাল নিউজিল্যান্ডের মহিলা দলে সুযোগই পেয়েছিলেন একসঙ্গে। ১৯৮৪ সালের ইংল্যান্ড সফরে দু’জনের টেস্ট অভিষেকও একসঙ্গে, হেডিংলিতে। দুই ইনিংসে ০ ও ৮ করার পর রোজ আর কোনো টেস্ট খেলতে পারেননি। তবে অলরাউন্ডার লিজ খেলেছিলেন আরও পাঁচ টেস্ট। ওই সিরিজেই ক্যান্টারবুরি টেস্টে ইংল্যান্ডের হয়ে অভিষেক হয়েছিল জেন পাওয়েলের। তাঁর যমজ বোন জিল একটি টেস্ট খেলেছিলেন বছর পাঁচেক আগে।
দুই মার্শাল
২০০৫ সালের অকল্যান্ড টেস্টে বড্ড বিপাকে পড়েছিলেন রিকি পন্টিং। নিউজিল্যান্ডের হয়ে একসঙ্গে ব্যাট করছিলেন মার্শাল যমজরা, অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক বুঝতেই পারছিলেন না কোন জন কে! দুই ভাই দুই ব্র্যান্ডের ব্যাট নিয়ে খেলছিলেন বলে শেষ পর্যন্ত রক্ষা। অবিকল চেহারা, প্রায় একই উচ্চতা, শারীরিক গঠন আর কোঁকড়ানো চুল মিলিয়ে হ্যামিশ ও জেমশ মার্শালকে আলাদা করতে গলদঘর্ম হতে হতো পরিচিত জনদেরও। ওয়াহরা ক্রিকেটের সবচেয়ে বিখ্যাত যমজ হতে পারেন, সিগন্যালরা প্রথম, একটা জায়গায় কিন্তু প্রথম মার্শালরা। একসঙ্গে টেস্ট খেলা প্রথম ‘আইডেন্টিক্যাল’ বা একই রকম চেহারার যমজ নিউজিল্যান্ডের এই দুই ভাই। এখন দু’জনের বয়স ৩৩, সর্বশেষ ওয়ানডেতে ১৬১ করার পরও (আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে) আর সুযোগ পাননি জেমস। তবে বয়সটা তাঁর পক্ষেই আছে। কে জানে, প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করতে আবারও হয়তো একসঙ্গে মাঠে দেখা যাবে দুই মার্শালকে!
দুই ডেন্টন
টেস্ট খেলতে পারেননি দু’জনের কেউই। তবে নর্দাম্পটনশায়ারের হয়ে দীর্ঘদিন ইনিংস ওপেন করেছেন বিলি ও জন ডেন্টন। দু’জনই খেলেছেন এক শ’র বেশি ম্যাচ। পরে এই যমজের ছোট ভাই ডন ডেন্টনও প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট খেলেছেন নর্দাম্পটনশায়ারের হয়ে।
দুই রিপন
কেনসিংটনে জন্ম, কিন্তু দু’জনই খেলেছেন সমারসেটের হয়ে। ডেন্টনদের মতো কখনো টেস্ট খেলা হয়নি ডাডলি ও সিডনি রিপনেরও। তবে এই দু’জনও ছিলেন ওপেনার, একসঙ্গে ব্যাট করার সময় যথেষ্টই গোলমাল বেধে যেত স্কোরারের। ১৯১৪ সালে নর্দাম্পটনে এক ম্যাচে স্কোরারের তো পাগল হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়ে গিয়েছিল। সমারসেটের ইনিংস ওপেন করেছিলেন রিপন যমজরা, নর্দাম্পটনশায়ারের ইনিংস শুরু করেছিলেন ডেন্টন যমজরা! ডাডলি ৩১টি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেললেও সিডনি খেলেছিলেন ১০৬টি। ১৯১৯ সালে এক ম্যাচে সিডনি দাদিমার পদবি নিয়ে খেলেছিলেন ‘এস ট্রিমনেল’ নামে। পরদিন স্থানীয় পত্রিকায় লেখা হয়েছিল, ‘নামটি যদিও নতুন, কিন্তু মানুষটি কাউন্টি ক্রিকেটে অপরিচিত কেউ নন!’
দুই মাতামবানাদজো
জিম্বাবুয়ের হয়ে মাত্র তিনটি টেস্ট ও সাতটি ওয়ানডে খেলেছেন। কিন্তু নামটাই তাঁকে মনে রাখা বা ভুলে যাওয়ার জন্য যথেষ্টÑ এভারটন ভিকমবোরেরো মাতামবানাদজো! প্রতিশ্রুতিশীল ফাস্ট বোলার ছিলেন, কিন্তু পিছু না ছাড়া চোটের কাছে হার মেনে মাত্র চব্বিশেই ছেড়ে দেন ক্রিকেট। পরে অভিবাসী হয়ে যান যুক্তরাষ্ট্রে। এভারটনের যমজ ভাই ডারলিংটন ছিলেন প্রতিশ্রুতিশীল অলরাউন্ডার। মাশোনাল্যান্ডের হয়ে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ভালোই করছিলেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাকাউন্টিং ও ইকোনমিকস পড়ায় মন দেয়ায় ছেদ পড়ে ক্রিকেটে। পরে ফিরেও আর সুবিধা করতে পারেননি। সেন্ট অ্যান্ড্রুস ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে ক্রিকেট শিক্ষকের দায়িত্ব নিয়ে এরপর পাড়ি জমান মালাবিতে।
দুই ভ্যারি
যমজদের একসঙ্গে খেলার নজির তো কতই আছে, কিন্তু দু’জন দুই দলে? এখানেই আলাদা হয়ে আছেন ডেভিড ও জোনাথন ভ্যারি। ডেভিড পড়তেন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে, জোনাথন অক্সফোর্ডে। এই বিশ্ববিদ্যালয় দু’টি ক্রিকেট মাঠে মুখোমুখি হতো নিয়মিতই, যমজ ভাইয়ের লড়াইও তাই জমত দারুণ। ১৯৮২ সালের এক ম্যাচে ডেভিডকে আউট করেন জোনাথন, কিন্তু ম্যাচ জিতে যায় কেমব্রিজ। অক্সফোর্ডের বাইরে আর ম্যাচ খেলা হয়নি জোনাথনের, ডেভিড অবশ্য পরে খেলেছেন ল্যাঙ্কাশায়ারের হয়ে।
দুই টেলর
মার্শালদের মতোই অবিকল চেহারার যমজ। তবে টেলরদের নিয়ে প্রতিপক্ষকে খুব বেশি ঝামেলায় পড়তে হয়নি। কারণ, দু’জন এক দলে কখনোই খেলেননি। মাইক টেলর ছিলেন পেস বোলিং অলরাউন্ডার, দেড় যুগেরও বেশি সময় প্রথম শ্রেণীর ক্যারিয়ারে খেলেছেন হ্যাম্পশায়ার, নর্দার্ন ট্রান্সভাল ও নটিংহামশায়ারের হয়ে। ডেরেক টেলর সমারসেট ও সারের হয়ে উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়েছেন ৩০২টি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচে। দুইবার উইকেটের পেছনে ক্যাচ নিয়ে যমজ ভাইকে ০ রানে ফিরিয়েছেন ডেরেক।
আরও দুই বেডসার
১৯৪৮ সালের ২০ মে দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্ট লন্ডনে বেডসার দম্পতির ঘর আলো করে এল যমজ সন্তান। উচ্ছ্বসিত বাবা-মাকে সন্তানদের নাম নিয়ে একটুও ভাবতে হয়নি। ইংল্যান্ডের বেডসার ভাইদের কথা তখন কে না জানত! অ্যালেক বেডসার তখন বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম বড় তারকা, এরিক বেডসার দাপটে খেলছিলেন কাউন্টিতে। দক্ষিণ আফ্রিকার বেডসার দম্পতি তাদের যমজের নাম রাখলেন অ্যালেক ও এরিক। এই দু’জনও এক সময় ক্রিকেটে এলেন, কিন্তু ইংলিশ বেডসারদের মতো সুবিধা করতে পারলেন না। বোর্ডারের হয়ে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট খেলতে পেরেছেন অ্যালেক, এরিক বোর্ডারের মূল দল পর্যন্ত আসতে পারেননি। ৩৩ বছর বয়সে এক সড়ক দুর্ঘটনায় অ্যালেকের দুঃখজনক মৃত্যুর পর ক্রিকেটই ছেড়ে দেন এরিক।
দুুই বেডসার
মুখাবয়বে যেমন, তেমনি সাদৃশ্য ছিল দু’জনের শারীরিক গড়নেও। দুই বেডসারই ছিলেন সুঠামদেহী, দূর থেকে আলাদা করা যেত না। দু’জনই ছিলেন বোলার, তবে একজন পেসার, আরেকজন স্পিনার। এ নিয়েও মজার এক গল্প আছে। ছেলেবেলায় নাকি দুই ভাই টস করে ঠিক করেছিলেন, কে পেস বোলিং করবেন আর কে স্পিন। অ্যালেক বেডসার টস জিতে বেছে নিয়েছিলেন পেস বোলিং। নিজের সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করে পরে ইংল্যান্ডের হয়ে খেলেছেন ৫১ টেস্ট। সর্বকালের সেরা মিডিয়াম পেসারদের একজন মনে করা হয় স্যার অ্যালেক বেডসারকে। এরিক বেডসার টেস্ট ক্যাপ পরার সুযোগ পাননি। তবে দুই দশক দাপটে খেলেছেন কাউন্টিতে। অফ স্পিনের পাশাপাশি তার ব্যাটের হাতটাও ছিল ভালো। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একসঙ্গে খেলা না হলেও ইংলিশ কাউন্টিতে সারের এই যমজ ছিলেন প্রতিপক্ষের জন্য ত্রাস। দুই ভাইয়ের বোলিং তা-বেই টানা সাতবার কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের রেকর্ড গড়েছিল সারে।
গোল নিয়ে বিতর্ক আর নয়!
ইন্টারনেটে ‘রাশিয়ান লাইন্সম্যান’ লিখে সার্চ দিলে মনে হতে পারে রাশিয়াতে বুঝি শুধু একজনই লাইন্সম্যান। গুগলের প্রথম কয়েক পাতায় শুধু তোফিক বাহরামভের নাম। ১৯৬৬ বিশ্বকাপ ফুটবল ফাইনালে দেয়া একটি মাত্র সিদ্ধান্তই তাকে দুনিয়াজুড়ে পরিচিতি দিয়েছে। কিন্তু বাহরামভের ওই সিদ্ধান্তটি ছিল ভুল। ওয়েম্বলিতে ইংল্যান্ড-পশ্চিম জার্মানি ফাইনালের অতিরিক্ত সময়ে ইংলিশ স্ট্রাইকার জিওফ হার্স্টের একটি শট ক্রসবারে লেগে গোললাইনে পড়ে বেরিয়ে আসে। বিভ্রান্ত সুইস রেফারি গটফ্রিড ডিনস্ট বল গোললাইন পেরিয়েছে কি না, জানতে চাইলেন বাহরামভের কাছে। বাহরামভ হ্যাঁ বলাতেই গোলের সঙ্কেত দিলেন রেফারি। ওই গোলটাই গড়ে দিল ব্যবধান। ২-২ সমতায় থাকা ম্যাচে ৩-২ গোলে এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড। পরে আরেকটি গোল করে বিশ্বকাপের ফাইনালের একমাত্র হ্যাটট্রিকটি পেয়ে যান হার্স্ট। আর ইংল্যান্ডও পেয়ে যায় আরাধ্য বিশ্বকাপটা।
তখন থেকেই যতবার গোলটি দেখানো হয়েছে টেলিভিশনে জার্মানরা অক্ষম ক্রোধে কেঁপেছে আর ইংলিশরা মেতেছে উল্লাসে। ৪৪ বছর পর দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে ওয়েম্বলির সেই ভূতটা যেন ফিরে আসে আরেকটি জার্মানি-ইংল্যান্ড ম্যাচে। তবে এবার ঘটল উল্টো ঘটনা। যার শিকার এবার ইংল্যান্ড। ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের শট ক্রসবারে লেগে গোললাইনের ভেতরে পড়ে বেরিয়ে আসে। রেফারি এবার গোল দিলেন না। আর ম্যাচটা ইংল্যান্ড হেরে গেলে ৪-১ গোলে।
আলোচিত এই দুই ঘটনার মাঝে অনেকবারই দাবি উঠেছে বল গোললাইন পেরিয়েছে কি না, সেটা বোঝার জন্য প্রযুক্তির আশ্রয় নেয়া হোক। কিন্তু বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা বরাবরই প্রশ্নটা এড়িয়ে গেছে। ২০১০ বিশ্বকাপের পর অবশ্য নড়েচড়ে বসে সংস্থাটি। অনেক দিন না করার পর অবশেষে তারা সিদ্ধান্ত নেয় আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নেয়ার। গত দুই বছরে অনেক যাচাই-বাছাই করার পর আপাতত দু’টি প্রযুক্তি বেছে নিয়েছে ফিফা। যাদের চূড়ান্ত পরীক্ষা আগামী ৬ ডিসেম্বর থেকে জাপানে শুরু হতে যাওয়া ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপে। ফিফার লক্ষ্য আগামী ব্রাজিল বিশ্বকাপের জন্য একটি নির্ভুল প্রযুক্তি বেছে নেয়া।
আর কাকতালীয়ভাবে এখানেও মুখোমুখি ইংরেজ ও জার্মানরা। জার্মানদের গোলরেফ ও ইংরেজদের হক-আই প্রযুক্তি লড়ছে নিজেকে বেশি নিখুঁত প্রমাণ করার জন্য। চৌম্বক তড়িৎক্ষেত্র ব্যবহার করা গোলরেফ প্রযুক্তি স্থাপন করা হবে ইয়োকোহামা স্টেডিয়ামে। অন্য দিকে ক্রিকেট ও টেনিসে ব্যবহার হওয়া ক্যামেরানির্ভর হক-আই প্রযুক্তি স্থাপন করা হবে টয়োটা স্টেডিয়ামে। গোলরেফের স্রষ্টা জার্মানির গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফ্রনহফার ইনস্টিটিউট অব ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট এবং হক-আই তৈরি করেছে ব্রিটেনের হক-আই ইনোভেশন।
হক-আই কাজ করবে ছয় থেকে আটটি ক্যামেরা নিয়ে। স্টেডিয়ামের ছাদে বসানো ক্যামেরাগুলোর সার্বক্ষণিক দৃষ্টি থাকবে বলের দিকে এবং বলের সঠিক অবস্থানের ত্রিমাত্রিক ছবি দেখাবে। টেনিসের লাইনকল ও ক্রিকেটে এলবিডব্লিউর সিদ্ধান্তে অনেক দিন ধরেই ব্যবহৃত হচ্ছে এটি। গোলরেফের কাজের পদ্ধতিটা পুরোপুরিই অন্যরকম। এটি পুরোপুরিই একটি তড়িৎ-চুম্বকীয় পদ্ধতি। গোল পোস্ট ও ম্যাচ বলের ভেতরে সেন্সর বসানো থাকবে। বল পুরোপুরি গোললাইন অতিক্রম করেছে কি না, সেটা চুম্বকক্ষেত্রের সামান্য হেরফের থেকেই বোঝা যাবে। আর দুই ক্ষেত্রেই রেফারির কবজিতে বিশেষ একটি ঘড়ি থাকবে যেটি মুহূর্তেই রেফারিকে সঙ্কেত দেবে গোল হয়েছে কি না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ক্রিকেট ও টেনিসের মতো মোটেই সময় নষ্ট হবে না।
ক্লাব বিশ্বকাপে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর্যালোচনা হবে আগামী জানুয়ারিতে। এরপর ফিফা কনফেডারেশনস কাপে পরীক্ষা করা হবে তৃতীয় আরেকটি প্রযুক্তির। এরপরই নেয়া হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। তবে খুবই ব্যয়বহুল হওয়ায় ফিফা ফুটবল লিগগুলোতে এখনই এটাকে বাধ্যতামূলক করছে না।

SHARE

Leave a Reply