Home আইটি কর্নার মাইক্রোসফট ওয়ার্ড টিপস ও কম্পিউটারের সমস্যা সমাধান

মাইক্রোসফট ওয়ার্ড টিপস ও কম্পিউটারের সমস্যা সমাধান

নাজমুল হাসান
হ্যাপি নিউ ইয়ার কিশোরকণ্ঠের পাঠক বন্ধুরা! আরও একটা বছর চলে গেল, তোমরাও একটু বড় হলে। গত বছর কম্পিউটার ব্যবহার নিয়ে যা কিছু শিখেছো, নতুন বছরে শিখতে হবে তার থেকে অনেক বেশি। জানো তো, বর্তমান পৃথিবীতে কম্পিউটার ভালো মতো ব্যবহার করতে না পারা আর পড়ালেখা না জানা একই ব্যাপার। সুতরাং, পড়ালেখার পাশাপাশি কম্পিউটার আর ইন্টারনেট ব্যবহারে যেন আরও যোগ্য হয়ে উঠতে পারো সেটা নিশ্চিত করতে হবে। আজকের সংখ্যায় আমরা কম্পিউটারের মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ব্যবহারের কিছু টিপস জানবো এবং কম্পিউটারের একটি সমস্যা সমাধান সম্পর্কে জানবো।
মাইক্রোসফট ওয়ার্ড টিপস
(অফিস ২০০৭)
কলাম তৈরি করা
নিউজপেপারের পাতায় লেখাগুলো কিভাবে কলামে সাজানো হয় দেখেছো? মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে তুমিও এমনটি করতে পারো। এ জন্য তোমাকে মেনুবারের তৃতীয় ট্যাবে Page Layout-এ যেতে হবে। সেখানে Column-এ ক্লিক করলে কতগুলো অপশন আসবে। তুমি পছন্দ মতো কলাম সংখ্যা ও ডিজাইন ঠিক করে নিতে পারবে সহজেই। শুধু কলাম তৈরি করতে জানলেই হবে না, কেন কলাম তৈরি করতে হবে সেটাও বুঝতে হবে। সাধারণত একই পৃষ্ঠায় অনেক লেখা থাকলে তাকে কলামে সাজিয়ে নিলে পড়তে সুবিধা হয়। আবার যদি প্রত্যেক লাইনে শব্দসংখ্যা কম হয়, তখন কলামে সাজিয়ে নিলে এক পাতায় অনেক বেশি লেখা নিয়ে আসা যায়, পৃষ্ঠাও কম খরচ হয়।
ব্যাকগ্রাউন্ডের রঙ পাল্টানো অথবা
ছবি বসানো
সাধারণত তুমি যখন মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে লেখ তখন সাদা কাগজের ওপর কালো বা তোমার পছন্দের রঙে লেখ। তুমি চাইলে ব্যাকগ্রাউন্ড রঙটা তোমার পছন্দ মতো করে নিতে পারো। তখন দেখতে আরেকটু সুন্দর হবে। এ জন্য তোমাকে মেনুবারের তৃতীয় ট্যাবে Page Layout-এ যেতে হবে। সেখানে পাবে Page Color। ক্লিক করে যে কোনো রঙ তুমি ক্লিক করে সিলেক্ট করতে পারো। দেখবে ব্যাকগ্রাউন্ড আর সাদা নেই, তোমার পছন্দের রঙ হয়ে গেছে। রঙ পাল্টানোর পরিবর্তে তুমি তোমার পছন্দের একটি ছবিও সেখানে বসাতে পারো। সে ক্ষেত্রে Page Color-এ ক্লিক করে সবার নিচে Fill Effects-এ ক্লিক করতে হবে। একটু পরে বক্স আসবে। সেখানে থাকবে Gradient, Pattern, Texture, Picture। এগুলোর যে কোনোটিতে যে সব ছবি দেয়া আছে সেগুলো তুমি ব্যাকগ্রাউন্ডে ব্যবহার করতে পারো। আর যদি ছবি দিতে চাও তাহলে যেতে হবে সবার শেষ অপশন Picture-এ। ব্রাউজ করে তুমি যে ছবি দিতে চাও সেটা সিলেক্ট করে OK ক্লিক করো। ব্যাকগ্রাউন্ডে তোমার পছন্দের ছবি চলে আসবে। আর হ্যাঁ, এই রঙ বা ছবি কিন্তু প্রিন্ট দেয়ার সময় আসবে না, এটা শুধু মনিটরের পর্দায়ই দেখা যাবে।
বানান ভুল চিহ্নিতকরণ
এমনিতে মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে বানান ভুল খুঁজে বের করা অনেক সহজ। লিখলেই বানান ভুল হলে তার নিচে লাল রঙের দাগ পড়ে যায়। মনে রাখতে হবে, কম্পিউটার বানানের জন্য আমেরিকান পদ্ধতি প্রয়োগ করে। কিন্তু আমরা সাধারণত ব্রিটিশ পদ্ধতি ব্যবহার করি। তাই Color লিখলেও ভুল বানান দেখাবে, কারণ আমেরিকান পদ্ধতিতে শুদ্ধ বানান হলো Color। আবার অনেক শব্দ যেমন মানুষের নাম বা কোনো জায়গার নাম কম্পিউটারের ডিকশনারিতে নাও থাকতে পারে, তাই বানান ভুল দেখাতে পারে। তুমি যদি নিশ্চিত থাকো বানানটা ঠিক আছে, তবে সেই শব্দের ওপর মাউসের কার্সর রেখে রাইট বাটন ক্লিক করে Add to Dictionary-তে ক্লিক কর। ভবিষ্যতে ওই বানান আর ভুল দেখাবে না। আবার লেখা শেষ করার পর া৭ কি চেপে তুমি ডিকশনারিতে এক সাথে সব বানান ঠিক করে ফেলতে পারো। তাহলে সময় বাঁচবে অনেক বেশি।
কম্পিউটারের সমস্যা
কম্পিউটারের ক্রাশ ও তার প্রতিকার
মাঝে মাঝে এরকম সমস্যায় তুমি নিশ্চয়ই পড়। হয়তো কাজ করছ, হঠাৎ প্রোগ্রামটা বন্ধ হয়ে গেল। তুমি সেভ করারও সুযোগ পেলে না, সব পরিশ্রম নষ্ট হয়ে যেতে পারে এভাবে। নানা কারণে এ সমস্যা হতে পারে। কম্পিউটারের হার্ডওয়ারের কোনো সমস্যার কারণে হতে পারে, আবার সফটওয়্যারের কোনো সমস্যার কারণেও হতে পারে। অনেক সময় এ রকম ক্রাশের ফলে কম্পিউটার রি-স্টার্ট করা ছাড়া উপায় থাকে না। ভাগ্য খুব খারাপ হলে হার্ডডিস্কও ক্রাশ করতে পারে। সে ক্ষেত্রে কম্পিউটারের সব ডাটাই নষ্ট হয়ে যাবে, নতুন হার্ডডিস্ক কেনা ছাড়া কিছু করার থাকবে না। একটু সচেতন থাকলে এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
তোমাদের জন্য কিছু টিপস :
১.    ভালো অ্যান্টিভাইরাসের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। দু’মাস-তিন মাস পরপর সেই অ্যান্টিভাইরাস আপডেট করতে হবে ইন্টারনেটের সাহায্যে। মাসে অন্তত একবার তোমার অ্যান্টিভাইরাস দিয়ে সম্পূর্ণ পিসি স্ক্যান করে নাও। ইন্টারনেট থেকে কোনো কিছু ডাউনলোড দেয়ার পর স্ক্যান করে নিয়ে তারপর ব্যবহার কর।
২.    গুরুত্বপূর্ণ ফাইলের ব্যাকআপ নিয়ে রাখতে হবে। মানে অন্য কোনো ড্রাইভে, কিংবা পেনড্রাইভ বা সিডিতে এমনকি ইন্টারনেটেও ব্যাকআপ নিয়ে রাখা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে কোনো ফাইল নষ্ট হয়ে গেলেও ব্যাকআপ থেকে খুঁজে পাওয়া যাবে।
৩.    সপ্তাহে অন্তত একবার কম্পিউটারের ড্রাইভগুলো ScanDisk দিয়ে স্ক্যান করিয়ে নিও। এর জন্য তোমার যে কোন ড্রাইভ-এর ওপর রাইট ক্লিক করে properties-এ ক্লিক করো। তারপর tools ট্যাব-এ প্রবেশ করে Scan Disk-এ ঢুকে ড্রাইভটি স্ক্যান করো। এটি তোমার হার্ডডিস্কটি চেক করে এররগুলো ঠিক করে দেবে।
৪.    প্রতি মাসে অন্তত একবার ড্রাইভগুলো Defragment করে  নেবে। এতে তোমার পিসির পারফরম্যান্স বাড়বে।
৫.    স্টার্ট আপ থেকে অপ্রয়োজনীয় প্রোগ্রামগুলো ডিলিট করে ফেলতে হবে। অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ইন্সটল করা যাবে না। এক সাথে বেশি প্রোগ্রাম চালু করা যাবে না।
৬.    ক্রাশ প্রটেক্টর সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারো। যখন কোনো প্রোগ্রাম ক্রাশ করার পর্যায়ে চলে আসে তখন এসব সফটওয়্যার অপারেটিং সিস্টেমকে জানিয়ে দেয়। অপারেটিং সিস্টেম তখন ওই প্রোগ্রামটিকে চালু রাখতে সাহায্য করে বা চেষ্টা করে। না পারলে আনসেভড ফাইলটিকে সেভ করার চেষ্টা করে। এরকম কিছু সফটওয়্যার হল- PC Medic, Norton Crash Guard, Crush Defender Deluxe, First Aid  ইত্যাদি।
ভালো থেকো বন্ধুরা। পরের সংখ্যায় আবার কথা হবে।

SHARE

1 COMMENT

Leave a Reply