Home সায়েন্স ফিকশন রিটার্নিং

রিটার্নিং

আশিকুর রহমান

সকাল ৯টা বাজতেই ঘড়িতে এলার্ম বাজলো। ঘুম থেকে উঠেই কম্পিউটারের সামনে বসলেন মিস্টার টামাস। কিন্তু না, পৃথিবীর সাথে সকল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।
মঙ্গলগ্রহে পৌঁছে মঙ্গলের মাটিতে পা রাখলেন মি. টিমাস, মি. বন্ড, কর্নার এবং প্রফেসর জন। ৪ জনের একটি গ্রুপ ৫ দিন আগে অ৭৭জ নামক একটি রকেটে মঙ্গলগ্রহের উদ্দেশে যাত্রা করেন।
মঙ্গলগ্রহে পৌঁছে রকেটে যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দেয়। রকেট থেকে নেমেই কর্নার বলেন, আমি ইঞ্জিন রুমে যাচ্ছি। কিন্তু  বেশ কিছুক্ষণ পর মুখে হতাশার চিন্তা নিয়ে ইঞ্জিন রুম থেকে বেরোলেন মি. কর্নার। মি. বন্ড জিজ্ঞাসা করলেন, কোনো বড় ধরনের সমস্যা?
জবাবে কর্নার বলেন, রকেটের পাওয়ার সিস্টেম খারাপ হয়ে গেছে।
পাওয়ার সিস্টেম ঠিক করতে কত সময় লাগতে পারে? জিজ্ঞাসা করলেন টমাস।
কর্নার জবাবে বললেন, পাওয়ার সিস্টেম ঠিক করা সম্ভব নয়। এটা একেবারে ড্যামেজ হয়ে গেছে।
তাহলে উপায়? জিজ্ঞাসা করেন বন্ড।
কর্নার জবাবে বললেন, আমি জানি না।
অনেকক্ষণ পর প্রফেসর জনের মুখ খুলল। তিনি বললেন, এখানে সময় নষ্ট করে লাভ নেই। চলুন আমরা যে কাজে এসেছি সেই কাজে যাই।
এরপর তারা ৪ জন চলে গেলেন নমুনা সংগ্রহ করতে। নমুনা সংগ্রহ করে তারা চলে এলেন রকেটের কাছে। ৪ জনই তাদের রকেটটি ভালোভাবে আরো একবার দেখলেন। এরপর যে যার রুমে চলে গেলেন বিশ্রাম নিতে।
রাতে সবাই আবার একসাথে বসলেন। বন্ড জানালেন, আমাদের কাছে যে পরিমাণ অক্সিজেন আর খাবার আছে তাতে খুব বেশি হলে দুই থেকে তিন দিন চলবে।
সবাই বুঝতে পারলেন তাদের জীবন হয়তো আর মাত্র দুই-তিন দিন আছে।
প্রফেসর জন উঠে দাঁড়ালেন এবং বললেন, বিপদের সময় দিশেহারা হলে চলবে না। সমস্যা থাকলে তার সমাধানও আছে। শুধু আমাদের চেষ্টা করতে হবে। এই বলে তিনি তার রুমে চলে গেলেন।
এরপর দুই দিন কেটে গেল। আজ তৃতীয় দিন; হয়তো বা আজই তাদের শেষ দিন।
প্রফেসর জনের নেতৃত্বে তারা সবাই বেরিয়ে পড়লেন উপায় খুঁজতে। বেশ কিছুক্ষণ পর তারা একটা  উঁচু স্থানে এলেন। উঁচু স্থানের অপর প্রান্তে যেতেই তাদের মুখে আবার আলো জ্বলে উঠল। একজন আরেকজনের দিকে তাকাতে লাগলেন। সবার কাছেই মনে হচ্ছে স্বপ্ন দেখছে। প্রফেসর জন বলে উঠলেন, সমাধান আমাদের সামনে। এখন শুধু চেষ্টা করতে হবে।
আসলে সামনের জিনিসটি ছিল তাদের পূর্বের পাঠানো অক৪৭ নামের রকেট। কিন্তু এই রকেটটি যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে নষ্ট হয়ে যায়। এতে আসা ৬ জনেরই করুণ মৃত্যু হয়।
মি. বন্ড, টসাম আর কর্নার রকেটের ভেতরে গিয়ে প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে নেন কিন্তু এই রকেটের পাওয়ার সিস্টেম খুলতে গিয়ে বেশ বেগ পেতে হয়। অবশ্য শেষ পর্যন্ত তারা খুলে ফেলেন।
পাওয়ার সিস্টেম নিয়েই প্রফেসর জন এবং কর্নার ছুটে চলেন তাদের রকেটের কাছে। বেশ কয়েক ঘণ্টা পর কর্নার বললেন, ইটস ওকে।
চারজনই খুব দ্রুত কট্রোল রুমে চলে গেলেন। কম্পিউটার অন করতেই পৃথিবী থেকে মেসেজ আসলÑ অফ অন অফ ইউ ওকে?
জবাবে তারা জানালেন, ইয়েস উই আর রিটার্নিং।

SHARE

Leave a Reply