Home কুরআন ও হাদিসের আলো কুরআনের আলো নিয়ত বা ইচ্ছার কুরবানিই আল্লাহর কাছে কাম্য

নিয়ত বা ইচ্ছার কুরবানিই আল্লাহর কাছে কাম্য

 “আমি প্রত্যেক উম্মতের মানসাক বা কুরবানি নির্ধারণ করেছি, যাতে তারা আল্লাহর দেয়া চতুষ্পদ জন্তু জবেহ করার সময় আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে। অতএব তোমাদের আল্লাহ তো একমাত্র আল্লাহ। সুতরাং তারই আজ্ঞাধীন থাকো এবং বিনয়ীগণকে সুসংবাদ দাও।” (সূরা হজ : ৩৪)

বন্ধুরা, আশা করি ভালো আছ। আজ তোমাদের কাছে পবিত্র কুরআনের সূরা হজের ৩৪ নম্বর আয়াত নিয়ে আলোচনা করছি। সূরাটি মদিনায় অবতীর্ণ। সর্বমোট ৭৮টি আয়াত। মুসলমানদের সর্ববৃহৎ ঈদ উৎসব ঈদুল ফিতরের পর আরেকটি ঈদ ঈদুল আজহা বা কুরবানির ঈদ ঘনিয়ে আসছে। আল্লাহ প্রত্যেক উম্মতের জন্য কুরবানি নির্ধারণ করেছেন। আল্লাহপ্রদত্ত চতুষ্পদ জন্তুদের হালাল প্রাণীকে আল্লাহর নামে জবেহ করবেন প্রত্যেক সামর্থ্যবান ব্যক্তি। আরবি ভাষায় মানসাক ও নাসাক কয়েক অর্থে ব্যবহৃত হয়। এক. জন্তু কুরবানি করা, দুই. হজের ক্রিয়াকর্ম, তিন. ইবাদত। আলোচ্য আয়াতে তিন অর্থই হতে পারে। হজরত কাতাদাহ দ্বিতীয় অর্থ গ্রহণ করেছেন। অর্থাৎ হজের ক্রিয়াকর্ম যেমন এ উম্মতের ওপর ফরজ করা হয়েছে তেমনি পূর্ববর্তী উম্মতদের ওপরও ফরজ করা হয়েছিল। ইবনে আরাফা তৃতীয় অর্থ ধরে আয়াতের অর্থ করেছেন, ‘‘আমি আল্লাহর ইবাদাত পূর্ববর্তী উম্মতদের ওপরও ফরজ করেছিলাম।” হজরত ইবরাহিম (আ) তাঁর মহান স্রষ্টা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের জন্য তাঁর প্রিয়বস্তু কুরবানি দেয়ার জন্য আদিষ্ট হয়ে অবশেষে তাঁর প্রিয়সন্তান হজরত ইসমাইল (আ)কে জবেহ করতে উদ্যত হলেন। হজরত ইসমাইল (আ)কে এ কথা বলার সাথে সাথে রাজি হয়ে বললেন, “হে আব্বা আপনাকে যে আদেশ করা হয়েছে তা পালন করুন, আপনি আমাকে ধৈর্যশীলদের মাঝে পাবেন ইনশাআল্লাহ।” যেই কথা সেই কাজ। হজরত ইসমাইল (আ)কে নিয়ে গেলেন জবেহ করার জন্য। যথারীতি শুইয়ে দিয়ে তরবারি চালাতে লাগলেন গলায়। ধারালো তরবারি, মুহূর্তেই কেটে যেতে পারে। কাটা গেলে নিজের পুত্রসন্তান শেষ হয়ে যাবে- এ চিন্তা মাথায় আসছে না। কারণ তিনি আল্লাহর নবী, তাঁর সন্তানও আল্লাহর নবী হবেন। এখানে পিতৃত্ব, প্রেম, স্নেহ ইত্যাদির চেয়ে আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলাই বড় বিষয়। অনেকক্ষণ তরবারি চালানোর পর কাটা না যাওয়ায় বিরক্ত হয়ে তরবারি ছুড়ে মারলেন আর এতে পাথর টুকরো হয়ে গেল। ইবরাহিম (আ) বিস্মিত হয়ে বললেন, যে তরবারি ছোট্ট বাচ্চার কোমল চামড়া কাটতে পারে না, সেটি কী করে পাথর দ্বিখণ্ডিত করে? জবাব এলো- পাথর দ্বিখণ্ডিত করার অনুমতি আছে কিন্তু ইসমাইল (আ)-এর চামড়া কাটার অনুমতি ছিল না। এখানে ইসমাইল (আ)কে জবাই করা মূল উদ্দেশ্য ছিল না। বরং মূল উদ্দেশ্য ছিল ইবরাহিম (আ)-এর ইচ্ছাকে কুরবানি করা। পরীক্ষা করা যে কঠিনতম নির্দেশ এলেও আল্লাহর আনুগত্য করা যায় কি না? ইবরাহিম (আ) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেন। অতঃপর আল্লাহ আরেকটি জন্তু পাঠালেন। ইবরাহিম (আ) তা কুরবানি দিলেন। আমরা যে কুরবানি করি তার উদ্দেশ্যও গোশত নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আর্থিক কুরবানি দিয়ে পশু জবাই করার মাধ্যমে নিয়তের কুরবানি দেয়া। তিনিই শুধুমাত্র ইলাহ- কাজেই তাঁরই ইবাদাত ছাড়া অন্য মত, পথ, আদর্শ, ব্যক্তি- সব কিছু পরিহার করতে হবে। আল্লাহ আমাদের শুধু তাঁরই কাছে সবকিছু কুরবানি করার তৌফিক দিন, আমিন।

গ্রন্থনায় : মিজানুর রহমান

SHARE

1 COMMENT

Leave a Reply